ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ঘাম ঝরাচ্ছেন ট্রাম্প-কমলা, দিচ্ছেন যেসব প্রতিশ্রুতি 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:৪৮ পিএম
আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:১৩ পিএম
ফাইল ছবি

অপেক্ষার পালা ফুরিয়ে আসছে। আজকের দিনটা পেরোতেই নিজেদের প্রেসিডেন্ট বেছে নেবেন মার্কিন নাগরিকরা। রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস দুজনই দাঁড়িয়ে আছেন ইতিহাসের সামনে। ৫ নভেম্বর নির্বাচনের চূড়ান্ত দিনকে সামনে রেখে শেষ হয়ে আসছে প্রচারণার দিনক্ষণ। তাই ভোটব্যাংক নিজের দিকে টেনে নেওয়ার শেষ সুযোগ হিসেবে প্রচারণায় ঘাম ঝরাচ্ছেন দুই প্রার্থীই।

রোববার (৩ নভেম্বর) শক্তিশালী স্যুইং স্টেট হিসেবে পরিচিত মিশিগানে আরব আমেরিকানদের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন কমলা। আর ট্রাম্প গিয়েছিলেন আরেক সুইং স্টেট পেনসিলভেনিয়ায়। সেখানে সমাবেশে নির্বাচন ঘিরে ভুয়া সংবাদ সম্পর্কে সতর্ক করেন তিনি।

বিভিন্ন জনমত জরিপ বিশ্লেষণ করে এবারের মার্কিন নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দেখা গেছে, বিভিন্ন স্টেটে নারীদের শক্তিশালী সমর্থন পাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস। তবে, সার্বিক বিচারে শেষ মুহূর্তেও কিঞ্চিৎ ব্যবধানে এগিয়ে আছেন ট্রাম্পই। খবর রয়টার্সের।

রয়টার্স/ইপসস জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্প-কমলা দুই প্রার্থীই নিরঙ্কুশ সমর্থন যোগাতে ব্যর্থ হয়েছেন এবারের নির্বাচনে। ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব আছে দুজনকে নিয়েই। তবে, তাতে ভোটদানে কোনো ভাটা পড়েনি। বরং, এই শতাব্দীর সবচেয়ে বেশি ভোট কাস্টিংয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে এবারের মার্কিন নির্বাচনেই। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার ইলেকশন ল্যাব অনুসারে, ইতোমধ্যেই ৭৮ মিলিয়নেরও বেশি আমেরিকান আগাম ভোট দিয়েছেন। ২০২০ সালে মিলিয়ে ভোট পড়েছিল ১৬০ মিলিয়ন।

রোববার শক্তিশালী স্যুইং স্টেট হিসেবে পরিচিত মিশিগানের একটি ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ চার্চেও গিয়েছিলেন কমলা। ডেট্রয়েটের গ্রেটার ইমানুয়েল ইনস্টিটিউশনাল চার্চ অব গড ইন ক্রাইস্ট-এর প্যারিশনারদের তিনি বলেন, মঙ্গলবার আমরা আমাদের জাতির ভাগ্য পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নির্ধারণ করার ক্ষমতা অর্জন করব। সেজন্য আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। তাই শুধু প্রার্থনা করা যথেষ্ট নয়, শুধু কথা বলাও যথেষ্ট নয়।

পরে মিশিগানের ইস্ট ল্যানসিংয়ে একটি সমাবেশে প্রায় ২ লাখ আরব আমেরিকানদের উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি যুদ্ধে বেসামরিক হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কমলা বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি গাজার যুদ্ধ শেষ করতে আমার সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করব।

এ সময় গাজা ও লেবাননে হাজার হাজার বেসামরিক মৃত্যু ও লাখো মানুষের স্থানচ্যুতির জন্য ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থনের নিন্দা জানিয়েছেন কমলা।

অন্যদিকে শেষদিন তিনটি সমাবেশ করেন ট্রাম্প। প্রথম সমাবেশে হ্যারিসের পক্ষে অগ্রগতি দেখানোয় জরিপগুলোর সমালোচনা করেন তিনি। ডেমোক্র্যাটদের ‘শয়তানি দল’ বলে আখ্যায়িত করেন। পাশাপাশি ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে উপহাস করেন এবং আপেলের উচ্চমূল্যের বিষয়ে কথা বলেন। এ ছাড়া ডেমোক্র্যাট্রদের সমর্থন দেওয়ার জন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনাও করেন তিনি।

জুলাইয়ে এই পেনসিলভেনিয়ার বাটলারেই সমাবেশকালে হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছিলেন ট্রাম্প। রোববার প্রচারণার শেষদিনে সমর্থকদের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, তার চারপাশে বুলেটপ্রুফ কাচের ব্যবস্থায় ফাঁক ছিল। সংবাদমাধ্যমগুলোকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে আবারও গুলি করা হতে পারে। আর সেই গুলি আসতে পারে ভুয়া সংবাদের মাধ্যমে। তবে, আমি এটা নিয়ে খুব বেশি কিছু মনে করবো না।’

পরে নর্থ ক্যারোলিনার কিন্সটন এবং জর্জিয়ার ম্যাকনে গিয়েও ভাষণ দেন ট্রাম্প। সমাবেশে তিনি গত সপ্তাহের চাকরির প্রতিবেদনের বিষয়ে কথা বলেন। বর্তমান সরকারের সমালোচনা বলা হয়েছে, মার্কিন অর্থনীতি গত মাসে মাত্র ১২ হাজার চাকরি তৈরি করেছে। এই প্রতিবেদনটি প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘অবক্ষয়িত জাতি’। এ অবস্থা জারি থাকলে ১৯২৯ সালের মহামন্দার পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি!

মোটাদাগে এবারের নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের জন্য দেওয়া ট্রাম্প-কমলার মূল প্রতিশ্রুতিগুলো:

মূল্যস্ফীতি দমন

নির্বাচিত হলে প্রথম দিন থেকেই মার্কিন জনগণের জীবনযাত্রার খরচ কমানোর দিকে মনোযোগ দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস। এক্ষেত্রে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে খাদ্যসামগ্রীর মূল্য নিয়ন্ত্রণ, প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনার সুবিধা, আবাসনের ব্যবস্থা ও ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি।

অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রাকে সাশ্রয়ী করার অঙ্গীকার করেছেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী তেল উৎপাদন বাড়িয়ে জ্বালানির দাম কমানো হবে। যদিও সুদের হার কমানো এককভাবে প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণে নয়, তবুও তিনি এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে হ্যারিস তার দীর্ঘকালীন প্রসিকিউটরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন, যেখানে ট্রাম্প এরই মধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। অপরদিকে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে আমেরিকায় মাদক চক্র ও গ্যাং সহিংসতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী বা ন্যাশনাল গার্ড ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরের ‘বিপজ্জনক শত্রুদের’ মোকাবিলারও ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।

গর্ভপাতের অধিকার

কমলা হ্যারিস নির্বাচনী প্রচারে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অঙ্গীকার গর্ভপাতের অধিকার। মূলত এই একটি প্রতিশ্রুতির কারণেই মার্কিন নারীদের সমর্থন অনেকটা তার দিকে ঝুঁকে গেছে বলে মত বিশ্লেষকদের। পুরো যুক্তরাজ্যে এই অধিকারকে সুরক্ষিত করার জন্য আইন প্রণয়নের পক্ষে জোর দিচ্ছেন তিনি।

অন্যদিকে, ট্রাম্প এই বিষয়ে একক কোনো নীতিতে এগোতে পারেননি। তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন নিয়োগ দেওয়া তিনজন বিচারপতি ২০২২ সালে গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার (‘রো বনাম ওয়েড’ রুলিং) বাতিল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

রোববার পেনসিলভেনিয়ায় ভাষণের শেষের দিকে ট্রাম্প দাবি করেন, ২০২০ সালে তার পরাজয় হয়েছিল জালিয়াতির কারণে। ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলেন যে, নির্বাচনের ফলাফল নির্বাচন রাতেই ঘোষণা করা উচিত। তবে, একাধিক রাজ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত ফলাফল জানতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দেশটির সিউল ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্তের দায়িত্বে থাকা দ্য করাপশন ইনভেস্টিগেশন অফিস ফর দ্য হাই-র‌্যাঙ্কিং অফিশিয়ালস (সিআইও) নিশ্চিত করেছে, সামরিক আইন জারিকে কেন্দ্র করে তদন্তকারীদের অনুরোধে প্রেসিডেন্ট ইউনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে সিউল ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট।   স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলো।   প্রসঙ্গত, ৩ ডিসেম্বর দেশে সামরিক আইন জারি করেছিলেন ইউন। কিন্তু জনগণ এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানালে সামরিক আইন জারির ছয় ঘণ্টার মাথায় তা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। এর জেরে ১৪ ডিসেম্বর পার্লামেন্টে তিনি অভিশংসিত হন। তাকে বরখাস্ত করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
ভারতীয় ভিসা বন্ধে ভ্রমণ খাতে বিরূপ প্রভাব 
বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা বন্ধের জেরে যশোরের বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে দুই দেশের মধ্যে একেবারে কমেছে পাসপোর্টধারী যাত্রীর চলাচল। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে উভয় দেশের ভ্রমণ খাতে। বাংলাদেশের ক্ষতির পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পে অচলাবস্থা নেমে এসেছে।   সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে ভারতে গেছেন ১৪৭১ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী। এর মধ্যে বাংলাদেশি ছিলেন ১ হাজার ১৯৪ জন, ভারতীয় ২৭৪, জাপানের ২ ও একজন নেপালের পাসপোর্টধারী ছিলেন। এছাড়া খুলনা-কলকাতা রুটে ‘বন্ধন’ রেলে যাত্রীসেবা এখনও বন্ধ থাকায় নিরাপদ যাতায়াতে বেড়েছে ভোগান্তি। তবে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভিসা সীমিত ও দু’দেশের মধ্যে রেলপথে যাত্রী সেবা বন্ধ করে দেয় ভারত।   সূত্রমতে, যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ যান চিকিৎসা ও দর্শনীয় স্থান ভ্রমণে। অন্যদিকে, যেসব ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে আসেন, তাদের একটি বড় অংশ আসেন কম খরচে মেডিকেল শিক্ষার জন্য। বর্তমানে দেশের ১০৮টি মেডিকেল কলেজে ১০ হাজারের বেশি বিদেশি অধ্যয়নরত, যাদের বেশিরভাগ ভারতীয়। এছাড়া ট্যুরিস্ট ও ওয়ার্ক ভিসায় দেশে প্রায় ১০ লাখের মতো ভারতীয় চাকরি করছেন।  বাংলাদেশ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলেও নানান অজুহাত দেখিয়ে এখনও স্বাভাবিক ভিসা প্রদান ও রেল পথে বেনাপোল-পেট্রাপোল হয়ে যাত্রী সেবা বন্ধ রেখেছে ভারত সরকার। এতে একদিকে ভিসা না পেয়ে যাত্রী যাতায়াত যেমন কমে এসেছে, তেমনি স্বাভাবিক সময়ে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর ব্যবহার করে দুদেশের মধ্যে ৮ থেকে ১০ হাজার পাসপোর্টধারী যাতায়াত করলেও এখন তা কমে দেড় হাজারের ঘরে নেমেছে।  সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রে দুই দেশেই ক্ষতির শিকার হচ্ছে। কেবল বেনাপোল রুটে ভ্রমণ খাতে ভিসা ফি বাবদ বাংলাদেশিদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় করে থাকে ভারতীয় দূতাবাস। তবে এখনও ‘বন্ধন’ রেল পরিষেবা বন্ধ থাকায় এ পথে যাতায়াতকারী পাসপোর্টধারীদের ভোগান্তি বেড়েছে।  বিষয়টি নিশ্চিত করে বেনাপোল স্থলবন্দর প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ইনচার্জ আব্দুল হাফিজ জানিয়েছেন, ভিসা স্বাভাবিক না থাকায় যাত্রী একেবারে কমে এসেছে। আরটিভি/কেএইচ
ভারতীয় ভিসা বন্ধে ভ্রমণ খাতে বিরূপ প্রভাব 
হাসপাতালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার (২৯ ডিসেম্বর) তার প্রস্টেট অপসারণের অস্ত্রপচার হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অস্ত্রপচার সফল হয়েছে এবং তিনি ভালো আছেন। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের হাদাসাহ মেডিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জ্ঞান ফিরেছে, তিনি ভালো আছেন। শনিবার নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক ঘোষণায় জানিয়েছে যে, তিনি মূত্রনালীর সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। গত মার্চে নেতানিয়াহুর হার্নিয়ার অস্ত্রপচার হয়েছিল। এর আগে, গত ২৩ ডিসেম্বর দুর্নীতি মামলায় নিজের বক্তব্য পেশ করতে আদালতে হাজির হয়েছিলেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন অবস্থায় ফৌজদারি অপরাধের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করছেন তিনি। এদিকে গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫ হাজার ৫১৪ জনে পৌঁছেছে বলে রোববার অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। চলমান এই হামলায় আরও অন্তত এক লাখ ৮ হাজার ১৮৯ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে ৩০ জন নিহত এবং আরও ৯৯ জন আহত হয়েছেন।   আরটিভি/এস
হাসপাতালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে ৩০ জন নিহত এবং আরও ৯৯ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন। গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত এক লাখ ৮ হাজার ১৮৯ জন। এ ছাড়া দখলদারদের হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। উল্লেখ্য, ইসরায়েল ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। আরটিভি/আরএ
ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। স্থানীয় সময় রোববার (২৯ ডিসেম্বর) জিমি কার্টার সেন্টার এক বিবৃতি এই তথ্য জানিয়েছে। খবর এনবিসি নিউজের। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন কার্টার। কার্টার এক মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জর্জিয়ায় নিজ শহর প্লেইনসে জীবনের শেষ সময়ের সেবাযত্নে ছিলেন। এনবিসি নিউজের তথ্যমতে, জিমি কার্টারই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি তার ১০০তম জন্মদিনে পৌঁছেছিলেন।  যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিদিন বাঁচা প্রেসিডেন্ট কার্টার। ২০০২ সালে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন তিনি। কার্টারের যাত্রা শুরু হয়েছিল জর্জিয়ার প্লেইন্সের ছোট্ট শহরে। তিনি সেখানে ১ অক্টোবর, ১৯২৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে একজন অফিসার হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের পারমাণবিক সাবমেরিন বহরের উন্নয়নে সহায়তা করেছিলেন। নৌবাহিনীতে একজন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পরকার্টার পারিবারিক চিনাবাদাম চাষের ব্যবসা চালানোর জন্য ১৯৫৩ সালে তার নিজ শহরে ফিরে আসেন। তিনি ১৯৬০-এর দশকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত রাজ্যের ৭৬তম গভর্নর হওয়ার আগে জর্জিয়ার বিধায়ক হিসাবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্টার, একজন ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান ক্ষমতাসীন জেরাল্ড ফোর্ডের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যিনি ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে রিচার্ড নিক্সন পদত্যাগ করার পরে রাষ্ট্রপতির পদে অভিষিক্ত হন। কার্টার ফোর্ডকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট হন। আরটিভি/একে
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন
আরও পড়ুন
সিলেটে একটি কমলা বিক্রি হলো ২ লাখ টাকায়
ইতিহাস গড়ার লড়াইয়ে শেষ হাসি ট্রাম্পের
এবার ইইউ’র ২৭ দেশের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের 
ভোটের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে চান শলৎস