ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বিক্রেতারা এশিয়ার পোশাক কারখানাগুলো থেকে অর্ডার বাতিল করছে, চাকরি হারাবে কয়েক লাখ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২০, ০৮:৩৮ পিএম
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল থেকে নেয়া

চীনে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব কমে আসার মধ্যেই খুচরা বিক্রেতারা পোশাকের অর্ডার স্থগিত এবং বাতিল করছে, যার ফলে এশিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানার কয়েক লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

করোনার কারণে কনজিউমার শাটডাউনের প্রথম শিকার হয়েছে এইচঅ্যান্ডএমের মালিক হেনেস এবং মরির্টজ এবির মতো বিশ্বের ‘ফাস্ট ফ্যাশন’ জায়ান্টের সরবরাহকারীরা। তাদের ব্যবসায়িক মডেল হচ্ছে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কারখানা থেকে খুচরা আউটলেটগুলোতে অর্ডার পেতে সক্ষম হওয়ার ওপর নির্ভর করে। তারা এখন কারখানার অর্ডার স্থগিত করছে বা বাতিল করছে, এর ফলে অন্যান্য পণ্য যেমন কসমেটিকস, স্মার্টফোন ও গাড়ির এশিয়ান নির্মাতারাদের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, এসোসিয়েটেড ব্রিটিশ ফুডস পিএলসি’র মালিকানা প্রিমার্ক, যাদের ইউরোপজুড়ে দোকান রয়েছে এবং ইডব্লিউএম গ্রুপের মালিকানাধীন যুক্তরাজ্যের আরেকটি খুচরা বিক্রেতা পিককস স্টোর্স লিমিটেড প্রকাশ্য বিবৃতি ও নোটিশের মাধ্যমে তাদের অর্ডার স্থগিত বা বাতিল করেছে।

জিন্স প্রস্তুতকারক বাংলাদেশি একজন গার্মেন্টস মালিক মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, আমরা পিককসের জন্য প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার জিন্স তৈরি করেছি কিন্তু তারা একটি চিঠি দিয়ে অর্ডার বাতিল করেছে। তারা যদি এই পণ্য না নেয়, তাহলে আমার অনেক ক্ষতি হবে। আমি এগুলো দিয়ে কি করবো?

মোস্তাফিজ জানান, তিনি জিন্সের দাম পাওয়ার জন্য পিককসের সঙ্গে আলোচনা করছেন। বিক্রেতাদের সঙ্গে যাতে দূরত্ব তৈরি না হয় সেজন্য ফ্যাক্টরি মালিকরা সাধারণত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয় না।

গত ১৭ মার্চ মোস্তাফিজকে এক ইমেইলে নিজেদের এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করে পিককস। তবে অন্য কারও কাছ থেকে পণ্য নেয়া হবে না বলেও জানায় তারা। মোস্তাফিজ ফিরতি ইমেইলে তাদের জানায়, এখন ‘সহযোগিতা করার সময় এবং অংশীদারিত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া উচিত নয়। ওই কাপড়ের অর্ডারের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করার জন্য অনুরোধে সাড়া দেয়নি পিককস।

যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রেতা মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার গ্রুপ পিএলসি চলতি সপ্তাহে সরবরাহকারীদের কাছে একটি নোট পাঠিয়ে হস্তান্তরের জন্য অপেক্ষামান রয়েছে এমন অর্ডার স্থগিত করে।

মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সারের জন্য এশিয়ার সোর্সিংয়ের ব্যবস্থা করা জন ম্যাকক্লিউর লিখেছেন, যেহেতু যুক্তরাজ্যে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে তাই আমাদের এই জরুরি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। তিনি কারখানাগুলোকে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কাঁচামাল কিনে ‘সবার জন্য এই কঠিন সময় আরও জটিল করে না’ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এমঅ্যান্ডএস'র একজন মুখপাত্র বলেন, আমরা হাতে সময় থাকতে অর্ডার স্থগিত করার মতো পদক্ষেপ এবং আমাদের ‘অংশীদার এবং সরবরাহকারীদের সহায়তার’ যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

প্রিমার্ক ও এইচঅ্যান্ডএম বলছে তারাও নতুন অর্ডার স্থগিত করছে। এইচএন্ডএম বলছে, ‘সাম্প্রতিক অর্ডারগুলোর সম্ভাব্য পরিবর্তনের’ মূল্যায়ন করে দেখছে তারা। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৪০০ কারখানা থেকে ক্রয় করে, পোশাক চীন ও বাংলাদেশ থেকে কিনে থাকে।

এইচএন্ডএমের একজন মুখপাত্র উলরিকা আইজাকসন বলেছেন, ‘সরবরাহকারীদের প্রতি আমাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি অক্ষুণ্ণ থাকবে। তবে এই চরম পরিস্থিতিতে আমাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার।

এবিএফের একজন মুখপাত্র বলেছেন যে, পোশাকের অর্ডার বাতিল করা ছাড়া এই আর্থিক ক্ষতি কাটানো কারও পক্ষে সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, মাঝপথে থাকা ইনভেন্টরির জন্য তারা অর্থ দিচ্ছেন এবং আর্থিক ক্ষতি প্রশমনের জন্য বিভিন্ন পথ বের করতে সরবরাহকারীদের আলোচনা চলছে।

এদিকে এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র প্রেসিডেন্ট রুবানা হক খুচরা বিক্রেতারা ইতোমধ্যেই যেসব পণ্যের অর্ডার দিয়েছেন সেগুলোর অর্থ পরিশোধের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, খুচরা বিক্রেতারা বাংলাদেশি ফ্যাক্টরিগুলোকে সহায়তা না করলে বাংলাদেশের ৪১ লাখ গার্মেন্টস কর্মী চাকরি হারাতে পারে। এটি একটি সামাজিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মন্দাটি ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ বলে মনে হচ্ছে, তখন ক্রেতাদের কম ব্যয়ের কারণে ভুগতে হয়েছিল ব্র্যান্ডগুলোকে। ব্র্যান্ডগুলো সেসময় দাম কমিয়ে এবং অন্যান্য সুবিধা দিয়ে ক্রেতাদের ধরে রেখেছিল। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা কমে গেলেও কারখানাগুলো অর্ডার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছে।

ডেলাওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন এবং অ্যাপারেল বিভাগের অধ্যাপক শেঙ লু বলছেন, সময় এখন আগের চেয়ে ভিন্ন।কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বেশিরভাগ জায়গায় দোকান ও মল বন্ধ রয়েছে। এটা ব্যবসায়িক লকডাউনের সময়। ব্যবসার প্রভাব অনেক বেশি হবে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার উপাত্ত ব্যবহার করে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও চাকরির মধ্যে যে কার্যকরণ সম্পর্ক রয়েছে সেই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে লু বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশের ক্ষেত্রে রপ্তানি ১০ ভাগ কমে গেলে ৪ থেকে ৯ ভাগ লোক চাকরি হারাতে পারে।

ম্যাককিন্সিতে পোশাক, ফ্যাশন ও বিলাসবহুল গ্রুপের গ্লোবাল নেতা আছিম বার্গ বলেছেন, এশিয়ার সব কারখানার জন্য এটি খারাপ খবর। খুচরা বিক্রেতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, অনেক বড় প্রতিষ্ঠানই এখন নিজে বাঁচার চেষ্টা করছে।

মিয়ানমারের পোশাক শিল্প এসোসিয়েশনের প্রধান অং মায়ো হেইন বলেছেন, ইতোমধ্যে ১০ হাজার লোকের চাকরি চলে গেছে। তিনি নিজের কারখানার কর্মীদের আপাতত ছাঁটাই না করলেও তাদের কাজের সময় কমিয়ে এনেছেন।

চীনজুড়ে শাটডাউনের কারণে যখন অর্ডার ডাইভার্ট হচ্ছিল তখন ফেব্রুয়ারি মাসে মালয়েশিয়ার ফ্যাক্টরির মালিকরা আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু এখন পশ্চিমা ক্রেতারা অর্ডার বাতিল করতে ইমে্ইল পাঠাচ্ছে। মালয়েশিয়ান ফ্যাশন, টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলসের প্রেসিডেন্ট তান থিয়ান পোহ বলেন, আমাদের মধ্যে অধিকাংশকেই ফ্যাক্টরি বন্ধ করতে হবে।

হ্যানসব্র্যান্ডস ইনকরপোরেশনের ওয়ান্ডারব্রা’র জন্য পণ্য উৎপাদনকারী এক তরুণ বাংলাদেশি কারখানার মালিক রমিজ খালিদ-ইসলাম বলেন, আমি আমার শেষ অর্ডারের কাজ শেষ করছি এবং ১ এপ্রিল কারখানা পাঁচ সপ্তাহের জন্য বন্ধের পরিকল্পনা করছি। যেহেতু ইউরোপিয়ান খুচরা বিক্রেতারা তাদের অর্ডার বাতিল করেছে।

দুই সপ্তাহ আগে অন্য এক সমস্যার কারণে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তাকে নিয়ে খবর প্রকাশ করে। তার কোম্পানির চাইনিজ কর্মীরা কোয়ারেন্টিনে থাকায় এবং চীন থেকে কাঁচামাল না আসায় কারখানাটি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাকে।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকদের আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধাসহ বেতনের প্রায় অর্ধেক পরিমাণ টাকা পরিশোধ করতে হবে তার।

খালিদ ইসলাম জানান, তিনি কয়েক মাস নিজে বেতন না নেয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি জানেন না এটা কিভাবে বহন করা হবে।

এ/পি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
নতুন বছরের শুরু থেকে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকবে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় হাইকমিশন। হাইকমিশনের দূতাবাস প্রধান রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশটির সরকারি বিধি-নিষেধ অনুযায়ী কুয়ালালামপুরের আম্পাং শাখার পাসপোর্ট অফিসের কার্যালয় শুক্রবার (১ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী রোববার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত সাময়িকভাবে সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার পর পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম আরও বেগবান করার মাধ্যমে প্রত্যাশীদের সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, যারা অ্যাপয়ন্টমেন্ট নিয়ে রেখেছেন তাদের নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়। এক্ষেত্রে ১০ জানুয়ারির পর কাছাকাছি সময়ে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন পুনরায় নির্ধারণ করে যথাসময়ে অবহিত করা হবে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ২ ও ৩ জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়ার জহুর বারু প্রদেশে পাসপোর্ট ডেলিভারি সেবার কার্যক্রম অব্যহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এফএ
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভারতের আসাম প্রদেশে ৭০০ মাদরাসাকে স্কুলে রূপান্তর করবে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি সরকার বলছে, মসজিদের ঈমামের চেয়ে ভারতে ডাক্তার, পুলিশ, আমলা ও শিক্ষক বেশি প্রয়োজন। তাই মাদরাসার সিলেবাসকে নিম্নমানের শিক্ষা আখ্যায়িত করে স্কুলে রূপান্তরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।  এই সংক্রান্ত একটি বিল বৃহস্পতিবার আসামের আইনসভায় পাস হয়েছে। আসামের শিক্ষামন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মা প্রাদেশিক আইনসভাকে জানিয়েছেন, নতুন বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৭০০ এর অধিক মাদরাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর গার্ডিয়ান। হেমন্ত বিশ্বাসের দাবি মাদ্রাসায় পার্থিব বা বৈষয়িক কোনো বিষয় পড়ানো হয় না। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট দেশে মোদি সরকারের মুসলিমবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ওয়াজেদ আলী চৌধুরী নামে কংগ্রেসের একজন আইনপ্রণেতা বলেন, ‘এটা মুসলিমদের শেকড় উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত।’ এফএ
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে বেশ কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে নিজেদের তৈরি করা ভয়ংকর অত্যাধুনিক চতুর্থ প্রজন্মের  যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থানডার ব্লক-৩ প্রদর্শন করলো পাকিস্তান। গেলো বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির বিমানবাহিনীর দূরবর্তী উচ্চ রাডার প্রযুক্তি ও ফায়ারিং ক্ষমতা সম্পন্ন ১৪টি যুদ্ধবিমান পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স হস্তান্তর করা হয়। পাকিস্তানের প্রভাবশালী মিডিয়া ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মুজাহিদ আনোয়ার খান জানান, জাতীয় বহরে দেশের ইতিহাসে এটি গুরুত্বর্পূণ মাইলফলক। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনী যখন আঞ্চলিক ভূখণ্ড লঙ্ঘন করে, সেসময় জেএফ-১৭ থানডার যুদ্ধবিমান যুদ্ধক্ষেত্রে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।   একই সঙ্গে পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উৎপাদন ও চীনা বিমান শিল্পের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন। এম
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
মহামারি করোনা ভাইরাসকে সাথে করেই পেছনে ফেলতে হচ্ছে আরও একটি বছর। শুরু হবে নতুন বছর। ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করার জন্য বিভিন্ন রকম রীতি রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অবাক করার বিষয় হল, বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের বর্ষবরণ উদযাপনের রীতি একদমই ব্যতিক্রম। আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য ব্যতিক্রমী বর্ষবরণ উদযাপনের রীতিনীতি তুলে ধরা হল নিচে- ১. কলম্বিয়ায় খালি স্যুটকেস নিয়ে বেরিয়ে পড়া: দেশটির মানুষ ঘুরতে অনেক ভালোবাসেন। তাদের কাছে ভ্রমণ এতটাই পছন্দ যে, নতুন বছর উদযাপনেও তাদের প্রত্যাশা থাকে ঘুরতে যাওয়া। থার্টি ফাস্ট নাইটে রাত ১২টা বাজলে কলম্বিয়ার মানুষ একটি খালি স্যুটকেস হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। বাড়ির চারপাশে হাঁটাহাঁটি করেন তারা। নতুন বছরের কোনো এক সময় এই খালি স্যুটকেস পূর্ণ হবে- এ আশাতেই পালন করেন এই রীতি। ২. জাপানে প্রাকৃতিক সাজসজ্জা : জাপানে নতুন বর্ষবরণ করাকে বলা হয় ‘ওশোগাতসু’। দেশটিতে এই উৎসবটি পরিবারের সাথে উদযাপন করা হয়। সেখানে পরিবারের সবাই একসাথে ঘরকে পরিষ্কার এবং সজ্জিত করে। এরপর তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য  প্রাকৃতিক সাজসজ্জা যেমন পাইন শাখা, বরই ফুল এবং বাঁশগুলি প্রস্তুত করতে থাকে। ৩. ইকুয়েডরে বিখ্যাতদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো : ইকুয়েডরের মানুষরা বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাস্তায় বের হয়ে ‘কুশপুত্তলিকা’ পুড়িয়ে থাকে। দেশের রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড় এবং অভিনয়শিল্পীসহ বিখ্যাত সকল ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করা হয়। আগামী বছর এ উদযাপন ভাগ্য ফেরাবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৪. চীনে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা : দেশটিতে নতুন বছরে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা হয়ে থাকে। দেশটিতে লাল রঙকে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। আর এভাবেই দেশটিতে বরণ করা হয় নতুন বছর। ৫. জার্মানিতে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয় সিসার টুকরায় : জার্মানিতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য বছরের শেষ মুহূর্তে সবাই ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় মেতে উঠেন। ভাগ্য পরীক্ষার এই প্রক্রিয়াটিও ব্যতিক্রম। শুরুতে সিসার টুকরা গরম করে গলিয়ে তাতে পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করা হয়। পরে সিসার আকৃতি অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে বিশ্বাস জার্মানদের। সিসা হৃদয়ের মত হলে ভালোবাসা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর মুকুটের মত হলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হবেন- এমনটাই বিশ্বাস করেন তারা। ৬. সুইজারল্যান্ডে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রাখা : দেশটির মানুষজনের নতুন বছর উদযাপন এক অদ্ভুত সাংস্কৃতির। তারা নতুন বছর উপলক্ষে না খেয়ে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রেখে দেয় এবং তাদের বিশ্বাস নতুন বছরে ঐশ্বর্য আসবে। ৭. লাতিন আমেরিকায় অন্তর্বাসের রঙের ওপর ভাগ্য নির্ধারণ : লাতিন আমেরিকার দেশ অর্থাৎ মেক্সিকো, ব্রাজিল, বলিভিয়া ইত্যাদি দেশগুলোয় বছরের শেষ মুহূর্তে নতুন অন্তর্বাস কেনার জন্য সবাই মার্কেটে ভিড় জমায়। তাদের বিশ্বাস, বর্ষ বরণে নতুন অন্তর্বাস পড়নে থাকলে নতুন বছরে ভালো কিছু আসবে। তবে এই অন্তর্বাসের জন্য নির্দিষ্ট দুটি রঙও রয়েছে- লাল ও হলুদ রঙ। লাল পড়লে ভালোবাসা পাবে এবং হলুদ বয়ে আনবে সফলতা। ৮. ফিলিপাইনে অদ্ভুত খাবার খাওয়া : ফিলিপাইনে নতুন বর্ষবরণে সকল বয়সী মানুষ গোলাকার খাবার খায়। এছাড়াও তারা এদিন পকেটে মুদ্রা রাখে এবং প্রচুর পোশাক পড়েন। গোলাকার আকৃতি মূলত নতুন বছরে আর্থিক উৎসাহ বৃদ্ধি করবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৯. ইতালিতে ঘরের আসবাব ছুড়ে ফেলা: ইতালিতে নববর্ষে দেশটির নেপলস শহরবাসীরা উদ্ভটভাবে নতুন বর্ষকে বরণ করেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, তারা বছরের শেষ দিন ঘরের আসবাব, রান্নাঘরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলেন। পুরাতন সব কিছু ফেলে দিয়ে নতুন কিছু বরণ করে নেওয়ার প্রতীকী অর্থে এসব করেন ওই শহরের বাসিন্দারা। ১০. স্পেনে আঙুর খেয়ে বর্ষবরণ: স্পেনের নাগরিকদের বর্ষবরণ বলা যেতে পারে অনেক স্বাস্থ্যসম্মত। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ১২টি করে আঙুর খেয়ে থাকেন স্প্যানিশরা। নতুন বছরে উন্নতি হবে এমন আশায় নির্দিষ্ট-সংখ্যক আঙুর খাওয়ার রীতি পালন করে থাকেন তারা। ১৯০৯ সাল থেকে দেশটির আলিকান্তে শহরের ওয়াইন প্রস্তুতকারীরা ব্যতিক্রমী এই রীতি চালু করেন। যা এখনো প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে। এসআর/এমকে
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় রয়েছেন করোনা ভ্যাকসিনের টিকা প্রস্তুতকারী ফার্ম ও বোতলজাত পানি ব্যবসায়ী ঝং শানশান। ই–কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মাকে পেছনে ফেলেছে। ২০২০ সালেই ঝংয়ের সম্পদ বেড়েছে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। ঝং শানশানের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ৭ হাজার ৭৮০ কোটি মার্কিন ডলার। সূত্র বিবিসি ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় ঝং শানশান। যিনি বিশ্বের ১১তম শীর্ষ ধনী। ঝং পরিচিত বেশি লোন উলফ নামে। ঝংয়ের কর্মজীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। সাংবাদিকতা, মাশরুমের চাষ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করেছেন তিনি। এপ্রিলে ভ্যাকসিন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনার তিন মাস পর হংকংয়ের শেয়ারবাজারে আনেন তার বোতলজাত পানির প্রতিষ্ঠান নোংফু স্প্রিংকে। ১৯৯৬ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশে এটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে নোংফুর শেয়ার। বেইজিং ওয়ানটাই বায়োলজিক্যালের শেয়ার বেড়েছে দুই হাজার শতাংশের বেশি। করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো এটি। ৬৬ বছর বয়সী ঝং শানশান সেপ্টেম্বরে জ্যাক মাকে সরিয়ে চীনের শীর্ষ ধনীর অবস্থান নেন। এবার মুকেশ আম্বানিকে সরিয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন। এফএ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
আরও পড়ুন
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
কাফনের কাপড় পরে রোহিঙ্গা শিবিরে চাকরির দাবি
বাংলাদেশ ক্রিকেটে ২০২০-বিষ
মেয়েকে চাকরি দিতে রাত ১২টায় পরীক্ষা নিলেন অধ্যক্ষ বাবা!