ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

আজ জীবন সুন্দর করার দিন

লামিয়া তানজিন মাহমুদ

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৩, ১০:৪৬ এএম
প্রতীকী ছবি

কেউ মন ভেঙে দিয়েছে। কেউ প্রতারণা করেছে। কেউ ফাঁসিয়ে দিয়েছে। কেউ খুব বাজেভাবে অপমান করেছে। কেউ-বা হাসাহাসি করছে। জীবনের এই নেতিবাচক অধ্যায়ে পা পড়েনি এমন মানুষ হয়তো হাতে গোনা যাবে। প্রায় প্রত্যেকেই কোনো-না কোনো বাজে অনুভূতির মধ্য দিয়ে পার করেছেন জীবনের অনেকটা সময়। একটু যদি জানতে যাই, এমন পরিস্থিতিতে কেমন লেগেছিল? কিংবা যারা এখনও এমন কোনো পরিস্থিতিতে পড়েননি, তাদের কেমন লাগতে পারে এমন কিছু হলে? প্রতিক্রিয়াটাই বা কেমন হবে?

দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা প্রত্যেকেই মানুষ। রাগ, জেদ, হাসি, কান্না, সব থাকলেও কখনও কখনও আমাদের আবেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে একটু লাগাম টানা লাগে। একটা বিষয়ে আমরা তখনই প্রতিক্রিয়া জানাই যখন বিষয়টা আমাদের দিকে তেড়ে আসে। এর মানে কোনোকিছুকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়েই আমরা প্রতিক্রিয়া জানাই। যার সবটা আমাদের মনে কখনও আনন্দ দেয়, কখনও জন্ম দেয় তিক্ততার। কিছু অনুভূতি আবার আমাদের ভাবায়, কিছু অনুভূতি জন্ম দেয় রাগের। এটাও ঠিক কোনো ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হয়তো আমাদের নেই কিন্তু নিজেদের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের ভারটা কিন্তু আমাদের আছে। অন্তত নিজের ভালো থাকার অধিকারটা তো আছে। ভালো থাকার কথা যেহেতু এসেই গেল, সেহেতু এই ভালো থাকাটা অবশ্যই জীবনের তাগিদেই হওয়া দরকার। অন্তত জীবনটাকে সুন্দর করার জন্য হলেও ভালো থাকা দরকার।

তারিখটা আজ জুনের ১১। দারুণ একটা দিবস আছে আজ। কী জানেন? Making Life Beautiful Day (মেকিং লাইফ বিউটিফুল ডে)। ২০১৫ সালের ১১ জুন থেকে পালিত হয়ে আসছে দিনটি। দেখুন, জীবন গঠনের পেছনে আমরা অনেকটা সময় ব্যয় করে ফেলি। এ সময়ের যাতাকলে বলতে গেলে ভুলতে বসেছি জীবন সুন্দর করার জন্যও একটু সময় প্রয়োজন।

আচ্ছা একটু ভেবে বলুন তো সৌন্দর্য কীসে? ৩০০ টাকার ওয়াটার প্রুফ কাজলে? না-কি হাতা গুটানো পাঞ্জাবিতে?
অন্তরের সৌন্দর্য নিয়ে চর্চার বালাই নেই বলেই হয়তো এ নিয়ে মাথা ঘামানোও হয় না অনেকের। ব্যস্ত দৌড়ঝাঁপ কেবল আমাদের বাহ্যিকটুকুর পরিপাটি থাকা নিয়ে।

সৌন্দর্যের অনেক রূপ। একটা সুন্দর মনের মানুষ একটা সুন্দর জীবন গড়ে নিতে পারেন। হয়তো সেখানে বিলাসিতা না-ও থাকতে পারে। ঘুরাঘুরি করার অবকাশ না-ও মিলতে পারে। বন্ধুদের সাথে দেখা না-ও হতে পারে। যা পারে তা হলো, হয়তো কাউকে মন থেকে সাহায্য করা। হয়তো লোকেরা তাকে বিশ্বাসযোগ্য ভাবতে পারে। হয়তো সে মানসিক শক্তিতে এতটাই বলীয়ান যে অন্যেরা তার কাছে এলে আলো খুঁজে পান। একজন আলোকিত মানুষ নিজেও আলোতে থাকেন, চারপাশের মানুষদের মাঝেও আলো ছড়ান। এত আলোর মাখামাখিতে তাকে বাহ্যিকভাবে আর বাড়তি আলোর ব্যবস্থা করতে হয় না।

অথচ চেহারা সুন্দর দেখাতে কত কী আয়োজন আমাদের। মেইক আপ, ক্রিম বা সার্জারি। কিন্তু জীবন সুন্দরের বেলায়? ভাবতেই পারেন, একটা দিনে কি আর জীবন সুন্দর হয়? আমাদেরও একই কথা, একটা মাত্র দিন জীবন সুন্দর করতে যথেষ্ট নয় কিন্তু জীবনটা সুন্দর করা প্রয়োজন কী না এটা ভাবার জন্য ২৪ ঘন্টা কিন্তু যথেষ্ট।

আচ্ছা, আপনার চারপাশের কারও সু-খবরে কি আপনার মনে আনন্দ আসে? অন্যের খুশিতে উদযাপন করতে ইচ্ছে হয়? অথবা আরেকজনের মুখের হাসি কি আপনাকে আনন্দ দেয়? এর সবক'টির উত্তর যদি না হয় তবে আপনাকে আপনার অন্তরের সৌন্দর্যের বিষয়ে আরেকটু ভাবতে হবে। ভেতর থেকে সুন্দর ভাবনা, সুন্দর ইচ্ছেগুলো আপনার জীবনকে সুন্দর করে দেয়, এ আপনি জানেন?

আহত শরীরের চেয়ে ভয়ঙ্কর কী জানেন? আহত হ্রদয়। ভগ্ন হৃদয়ের উপশম করে দেওয়া, ক্লান্তি দূর করতে এগিয়ে আসা, ভেঙে পড়া সময়ে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করার মতো কোন মানুষের সান্নিধ্য যদি পেয়ে যান, আগলে রাখুন। এ মানুষগুলো শুধু নিজের নয় বরং চারপাশের মানুষকে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখায়।

এমন কোন মানুষ যদি আপনার আশেপাশে থাকে তবে দোহাই আপনার, তাকে প্রয়োজনে ব্যবহার না করে যোগ্য সম্মান দিন। তাদের মূল্যায়ন করুন। যেমনটা সে করেছিল আপনার জন্য। ভালো হৃদয়ের কোন মানুষ পেলে আমরা তার কদর না করে পেয়ে বসি। কোন মানুষ যদি বুঝতে পারে তার ভালোমানুষির কারণে লোকেরা তাকে ব্যবহার করছে, সে নিজেকে গুটিয়ে নেবে বিশ্বাস করুন। আর যে মূহুর্তে ভালো মানুষগুলো নিজেকে গুটিয়ে নেয়, আমরাও দোষের খাতা খুলে বসে আরেকজনের কাছে বলে বেড়াই- 'সে আর আগের মতো নেই!' যুগের দোষ না মানসিকতার অধ:পতন বলা যায় একে?

একটু সময় নিন। ভুলে যান এখন কোথায় আছেন আর কী করছেন। একটু ভাবনায় ডুব দিন। বেশি না, অতি সামান্য সময় চোখ বুজে মন দিয়ে ভেবে দেখুন, আপনার জীবনে এমন সুন্দর মনের মানুষটা কে আছেন; যিনি আপনার জীবন সুন্দর করতে সাহায্য করেছেন।

এমন মানুষগুলো যদিও একটু আড়ালে থাকতে ভালোবাসে। তবে আপনি কিন্তু তাদের ব্যাপারে আপনার চারপাশকে জানাতেই পারেন। তাছাড়া বর্তমানে আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে কেউ সামান্য কিছু করেও সেটা আগ বাড়িয়ে জানান দিয়ে নিজের নামের পরিচিতি বাড়ায়। সেখানে কেউ নীরবে কিছু করে আড়ালেই থাকছে, এমন মানুষগুলোর পরিচয় অন্তত পৃথিবীকে জানানোর দরকার আছে।

ভাগ্য সবার সমান নয়। সবাই একইরকম সুবিধা পায় না। হয়তো সৃষ্টির আদিমতম রহস্য এটাই। কারও কাছে আপনি খুবই ভাগ্যবান। আবার আপনার জানামতে আপনার চেয়েও আরও বড়ো ভাগ্যবান আছে। যারা আপনার চেয়ে কম ভাগ্যবান, তাদের পাশে কিন্তু আপনি থাকতেই পারেন, অন্তত একটু সাহস দিতে। সম্ভব হলে কাউকে ভালো কথা বলে উৎসাহ দিন। খোটা, উপহাসমূলক কথা বলার জন্য চারপাশের লোকের তো অভাব নেই।

অনেকে অনেক ধরণের চাপে থাকে। জীবনের লক্ষ্য থেকে নিভৃতে সরে যায়। এমন সময় প্রত্যেকেই পার করে জীবনে। কেউ আগে, কেউ পরে। যদি এমন কোন সময় আপনিও পার করে আসেন তাহলে মনে করে দেখুন তো কে এই সময়টায় আপনাকে উৎসাহ দিয়েছে? ধরুন কেউ দেয়নি। অথচ, আপনি আশা করেছিলেন কেউ উৎসাহ দেবে আপনাকে। এক কাজ করুন না! নিজেই অমন কেউ হয়ে উঠুন যেমনটা আপনি চেয়েছিলেন কেউ একজন এমন হয়ে আপনার কাছে ধরা দেবে। যা আপনি কারো থেকে পাননি, তা না হয় নিজেই করে উদাহরণ সৃষ্টি করে নিন। দারুণ হবে না?

তবে হ্যাঁ, সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়াটা খুব ভালো গুণ হলেও কার দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন এটাও তো বোঝা লাগবে। যদি কেউ পেয়ে বসে? কিংবা আপনিই বারবার আগাবেন এই ভেবে কেউ যদি আপনাকে ব্যবহার করতে চায় তাহলে সহযোগী হওয়ার আগে আরেকবার ভাবুন।

লেখক : কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, ডিজিটাল অ্যান্ড সোশ্যাল মিডিয়া, আরটিভি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পার্টি ছাড়াই উদযাপন করুন বর্ষবরণ
বছরের শেষ দিনকে আনন্দের মাধ্যমে বিদায় জানাতে আশেপাশে যেন ধুম পরেছে পার্টির। বিভিন্ন পার্টি ডেস্টিনেশনে নানান আয়োজন। রাস্তাঘাট সেজে উঠেছে রঙিন সাজে। এ যেনো পুরো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুনকে স্বাগত জানানোর মহা আনন্দ। অনেক কিছু ভুলে আনন্দে মেতে ওঠার এই তো সময়। ফলে আয়োজনের কোনও ত্রুটি নেই। কিন্তু অনেকেই পার্টি বা পার্টির হইচই পরিবেশ পছন্দ করে না। কিন্তু নিউ ইয়ার সেলিব্রেশন থেকে তিনিই বা বঞ্চিত হবেন কেন। হ্যাঁ, পার্টি ছাড়াও সেলিব্রেশনের বহু উপায় আছে।  জেনে নিন টিপসগুলো- যদি বছর শেষের রাতে মন ভালো রাখতে চান, তবে নিজের ঘরটাই পছন্দমতো সাজিয়ে তুলুন। লাইটের আলো নিভিয়ে সেন্টেড ক্যান্ডেল জ্বালিয়ে দিন। মৃদু আলোয় মায়াময় পরিবেশ তৈরি হবে। মিউজিক সাউন্ডে হালকা করে পছন্দের কোনও গান চালিয়ে দিতে পারেন। পার্টির থেকে এই পরিবেশ কম আকর্ষক নয়। পরিবেশ তো তৈরি হলো। এবার করবেন কী? অনেক কিছু করার আছে। যদি একা একা সময় কাটাতে ভালবাসেন, তবে ২০২৩ সালের প্রিয় স্মৃতিগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করুন। ল্যাপটপের হার্ড ডিস্ক বা মোবাইল খুঁজে দেখুন। অনেক প্রিয় ছবি খুঁজে পাবেন। একটা অ্যালবাম বানিয়ে ফেলতে পারেন। কীভাবে বছরটা কাটল তার একটা কোলাজ তৈরি করে ফেলুন। এছাড়া পুরনো অ্যালবামগুলোও নাড়াচাড়া করে দেখতে পারেন। ব্যস্ত জীবনে খুব একটা সময় তো হয় না। অবসর কাটান মনের মতো। যদি সিনেমা দেখতে ভালবাসেন, তবে এই পরিবেশে পছন্দের একটা সিনেমা দেখে ফেলুন, সঙ্গে গরম কফির ব্যবস্থা রাখবেন। বন্ধুবান্ধব বা প্রিয়জনকে কাছে নিয়ে কফি আর পছন্দের স্ন্যাক্স নিয়ে মনের মতো একটা সিনেমা দেখার থেকে ভালো সময় আর কীভাবে কাটাবেন। আপনি যদি বইপোকা হন তবে তো কথাই নেই। এমন অনেক পুরনো বই আছে, যা একবার পড়েছেন, আবার পড়তে ইচ্ছে করে, কিন্তু সময়ের অভাবে হয়ে ওঠে না। এই অবসরে পড়ার টেবিলের আলোটা জ্বালিয়ে বই পড়ুন। দেখবেন, নিজের প্রিয় জগতের মধ্যে ডুবে থেকে সময়টা ভালোই কাটবে।  পার্টির হইচই পছন্দ হয় না। কিন্তু নাচ-গান তো ভালবাসেন। তাহলে সাউন্ড সিস্টেমে পছন্দের মিউজিক চালিয়ে নিজেই হালকা দুলে নিতে পারেন। দেখবেন সময়টাও ভালো কাটবে। নিজেকেও অনেকটা ঝরঝরে লাগবে। কাজের চাপে নিজেরই খেয়াল রাখতে পারেন না? এই অবসরে না হয় সেই কাজটি সেরে ফেলুন। কোনও স্পা সেন্টারে চলে যান। বছর শেষের মুহূর্তে নিজেকে নিয়েই না হয় একটু মেতে থাকলেন। তাছাড়া নতুন বছর, নতুন চাপ, নতুন করে ব্যস্ততা। তার আগে নিজেকে একটু চাঙ্গা করে নিতে পারবেন। এই শহরেই থাকেন। কিন্তু শহরের অনেকটাই তো অদেখা। হাতে যদি সময় থাকে, তখন না হয় একটু ঘুরেই আসুন। পছন্দের যে পোশাকটি অনেকদিন পরবেন পরবেন করেও পরতে পারছেন না, আজ সেটা পরে ফেলুন। তারপর বেরিয়ে পড়ুন চেনা শহরের অচেনা জায়গায়। মাঝে পছন্দের কোনও খাবার কিনে খেয়েও নিতে পারেন। চাইলে একটু শপিংও করে নিতে পারেন। শেষমেশ এ সব যদি কোনও কিছুই পছন্দ না হয় তাহলেও উপায় আছে। যে খাবার অনেকদিন খেতে পারছেন না তার অর্ডার করে ফেলুন। তার পর চিন্তাভাবনা ছাড়া টানা ঘুম দিন। হ্যাঁ, ফোনটি সুইচ অফ করে দিতে পারেন। এই সময়টা একেবারে নিজেকেই দিন।
পার্টি ছাড়াই উদযাপন করুন বর্ষবরণ
অফিসে বছরকে স্বাগত জানানোর মজাদার আইডিয়া
আর একদিন পরেই শুরু হবে ২০২৪ সাল। কীভাবে এই নতুন দিনটিকে কাটাবেন তা নিয়ে উৎসাহের শেষ নেই মানুষের মনে। কিন্তু যাদের এই বিশেষ দিনেও কাজ রয়েছে। তারা কীভাবে স্বাগত জানাবেন নতুন বছরকে?  আসুন জেনে নেওয়া যাক বিশেষ কিছু টিপস-  যাদের বছরের শেষ দিন বা প্রথম দিনেও অফিস রয়েছে তারা নতুন বছরকে ঠিক করে উদযাপন করতে পারেন না এক্ষত্রে কাজের মধ্যেই নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পারেন। অফিসের কলিগদের সঙ্গে এদিন একটু অন্যভাবে কাটানোর প্ল্যান করুন। সকলকে ভিন্ন ভিন্ন পদ রান্না করে আনতে বলতে পারেন। একসঙ্গে লাঞ্চ সারতে পারেন ক্যাফেটেরিয়ায়।  সময় পেলে বেশ কয়েকটা গ্রিটিংস হাতে বানিয়ে ফেলুন। উপহার দিন পছন্দের সহকর্মীকে। প্রতিটি গ্রিটিংস যেন আলাদা আলাদা হয়। চাইলে প্রত্যেকের চরিত্র বিশ্লেষণ করেও কিছু লিখতে পারেন কার্ডে।  বিশেষ দিন সেলিব্রেট করার জন্য বেশ কয়েকটি উপহার কিনে ফেলুন চাইলে চকোলেটও কিনতে পারেন এদিন অফিসে যার সঙ্গে কোনও একসময় বাকবিতন্ডায় জড়িয়েছেন তার সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা করুন। আশা করি বিশেষ দিনে তিনিও আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইবেন। দিনের শেষে একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা হবে। নিউ ইয়ারের দিনে রাতে অফিস থাকলে ঠিক ১২টার কয়েক মিনিট আগে কাজ থেকে উঠে পড়ুন। এই বিশেষ কিছুটা সময় নিজেকে সময় দিন পারলে চলে যান ব্যালকনিতে। মনের সমস্ত গ্লানি মুছে নিজেকে সারা বছর ভালো রাখার প্রতিশ্রুতি দিন। 
অফিসে বছরকে স্বাগত জানানোর মজাদার আইডিয়া
বাচ্চার দাঁত শক্তিশালী করবে যে খাবারগুলো 
শিশুর দাঁত–সংক্রান্ত যাত্রা শুরু হয় শিশুর দাঁতের সঠিক যত্নের সঙ্গেই। আপনার শিশুর দাঁতগুলো ঠিকমতো ব্রাশ করতে শিখলে তাদের দাঁতের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী উপকার দিতে পারে। আপনার শিশুর প্রথম দাঁত উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁত পরিষ্কার করা শুরু করুন এবং মৌখিক স্বাস্থ্যবিধিতে জড়িত মৌলিক অভ্যাসগুলো সম্পর্কে সচেতন হন। শিশু অবস্থা থেকেই দাঁতের যত্ন নেয়া এবং দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখা যে কতটা প্রয়োজনীয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দুধ সাদা কচি দাঁতের সারি যাতে শক্তিশালী ও সুন্দর হয়, তা দেখার দায়িত্ব কিন্তু মা-বাবার ওপরই বর্তায়। ভালো ব্রাশ-পেস্ট দিয়ে নিয়মিত দুবেলা দাঁত পরিষ্কার, খাওয়ার পরে ভালো করে মুখ ধোয়া ছাড়াও, কিছু কিছু খাবারও আছে যা বাচ্চার দাঁতকে সুস্থ রাখবে। কোন কোন খাবার বাচ্চার দাঁত শক্তিশালী করে তুলতে পারে, দেখে নিন একনজরে। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার- যে সব খাবারে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে, সেই সমস্ত খাবার খেলে বাচ্চার মাড়ি ও দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। মুরগীর মাংস এবং ডিম এই ক্ষেত্রে খুব উপকারী। এই মাংস, বাদাম আর ডিমের মতো প্রাণীজ প্রোটিনে উচ্চমাত্রায় ফসফরাস থাকে, যা দাঁতের জন্য খুবই ভালো। দুগ্ধজাত খাবার- দাঁত শক্তিশালী হওয়ার পেছনে ক্যালসিয়ামের ভূমিকা অনস্বীকার্য। দুধ ও বিভিন্ন দুগ্ধজাত খাবার এই ক্যালসিয়ামের অন্যতম উৎস। দুধ, দই, পনির এই সব খাবারে উপস্থিত ক্যালসিয়াম একদিকে যেমন হাড় শক্ত করে, আবার দাঁতের এনামেলের স্বাস্থ্যও ভালো করে। আবার কিছু কিছু দুগ্ধজাত দ্রব্য মুখের মধ্যে স্যালাইভা বা লালা নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়, যা বাচ্চার দাঁতকে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। দুধের সঙ্গে খুব বেশি চিনি গুলে দেবেন না। অতিরিক্ত চিনি খেলে দাঁতের ক্ষতি হয়। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার- বাচ্চাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে দিন। কমলালেবু, সবুজ তরিতরকারি, স্ট্রবেরি, আলু, পাতিলেবু ইত্যাদি ভিটামিন সি-এর অন্যতম উৎস। ভিটামিন সি মুখের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করে দেয়। মাড়ির রোগ থেকে শিশুকে রক্ষা করে। বাচ্চা এই ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার খেলে ভালো করে মুখ ধুইয়ে দিতে ভুলবেন না। কারণ, এই সব ফল অ্যাসিডিক হওয়ায় বেশিক্ষণ মুখে থাকলে দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাজা সবজি ও ফল- বাচ্চাকে গাজর, আপেল, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি খাওয়ান। এসব খাবার বাচ্চাকে চিবিয়ে খেতে হয়। চিবোনোর ফলে এই ফল বা সবজি ছোট ছোট টুকরোয় ভেঙে যায় ও পরোক্ষভাবে দাঁতের প্লাক দূর করে। আপেল কামড়ে খেলে দাঁতের গর্ত এবং দাগ চলে যায়; তাছাড়া মুখের লালার পরিমাণও বাড়ে। রাতে খাবারের পর শিশুকে আপেল খেতে দিন। এতে দাঁত পরিষ্কার ও সুস্থ থাকবে। পানি-শিশু যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। পানি দাঁত ও মাড়িতে লেগে থাকা খাদ্যকণা সরিয়ে দেয়। পানি মাড়িকে শুকনো হতে দেয় না এবং এনামেলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। পানিতে ফ্লোরাইড নামক একটি খনিজ থাকে, যা দাঁত ভেঙে যেতে দেয় না। ডার্ক চকলেট- ঠিক শুনেছেন, ডার্ক চকলেট দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ডার্ক চকলেটের কোকোয়াতে ট্যানিন থাকে, যা দাঁতের জন্য খুব উপকারী। মুখের ভেতরে অ্যাসিড তৈরি হওয়া কম করে, দাঁতের ক্ষয় হওয়া থেকে বাঁচায় ও মাড়ির রক্ত চলাচল বাড়ায় এই ডার্ক চকলেট। প্রত্যেকদিন অল্প পরিমাণে ডার্ক চকলেট খেলে দাঁতে প্লাক জমার প্রবণতা কমে। এছাড়া ডার্ক চকলেটে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সার্বিকভাবে দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো করে। এছাড়াও মিষ্টি, চিনি বা মিষ্টি চকলেট খেলে ভালো করে দাঁত, মাড়ি পরিষ্কার করা প্রয়োজন। বাচ্চাদের দাঁত নির্দিষ্ট সময় অন্তর দন্ত-চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
বাচ্চার দাঁত শক্তিশালী করবে যে খাবারগুলো 
গলায় মাছের কাঁটা আটকালে দলা ভাত খাওয়া ঠিক নয়!
খাবার খাওয়ার সময় যদি কোনও কারণে গলায় মাছের কাঁটা আটকে যায় তাহলে আপনারা কি করবেন? আপনাদের অনেকের মধ্যে এখনও একটি ধারণা রয়েছে যে, দলা পাকানো শুকনো ভাত, মুড়ি এবং কলা খেলে মাছের কাঁটা ভিতরে চলে যায়। হ্যাঁ এটা একদমই সত্যি যে অনেক সময় মাছের কাঁটাটা ভিতরে চলে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা একদম ভুল! এই বিষয়ে ডাক্তারদের মতএমত অনুযায়ী, আপনারা কখনোই এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করবেন না। সাধারণত অনেক বেশি তাড়াহুড়ো এবং অসাবধানতার কারণে আমাদের গলায় যে টনসিল থাকে সেই জায়গায় মাছের কাঁটাগুলো আটকে যায়। খাবার খাওয়ার সময় যদি আপনাদের গলায় মাছের কাঁটা আটকে যায়। সবার প্রথমে আপনাদের যেটা করতে হবে সেটা হলো, তৎক্ষণাৎ ঢোক গেলা বন্ধ করে দিতে হবে। মাছের কাঁটা আটকে যাওয়ার পরে আপনারা আর একবারও ঢোক গিলবেন না। আপনারা সঙ্গে সঙ্গে এক গ্লাস পানি নিয়ে গারগল করবেন এবং ওয়াক ওয়াক শব্দ তুলবেন। দেখবেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনাদের গলায় আটকে থাকা কাঁটাটি সহজেই বাইরে বেরিয়ে চলে আসবে। পরবর্তীতে যদি কাঁটা দেখা যায় তবেই আঙুল দিয়ে বের করার চেষ্টা করবেন। অন্যথায় কাঁটা দিকে আঙুল দিয়ে বের করার চেষ্টা একদমই করবেন না। যদি গার্গল করার পরেও মাছের কাঁটা বাইরে বের না হয় তাহলে আপনারা ওই রোগীকে নিয়ে হসপিটালের এমার্জেন্সিতে চলে যাবেন। এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। তবে যদি কোনও কারণে মাছের কাঁটা পেটের ভিতরে চলে যায় তাহলে সেটা নিয়ে ভয় পাবার কোনও কারণ নেই। কারণ পেটের মধ্যে অনেকগুলো এরকম এনজাইম আছে, যারা মাছের কাঁটাকে গলিয়ে ফেলতে পারে। সূত্র : নিউজ ১৮
গলায় মাছের কাঁটা আটকালে দলা ভাত খাওয়া ঠিক নয়!
চুইংগাম গিলে ফেললে স্বাস্থ্যে কী প্রভাব পড়ে? 
গালের ফ্যাট কমানো থেকে মুখের দুর্গন্ধ দূর করার সহজ উপায় হিসেবে অনেকেই চুইংগামের ওপর ভরসা করেন। অতর্কিতে বা অসাবধানতাবশত অনেক সময়ই চুইংগাম আমরা গিলে ফেলি। কিন্তু কখনও ভেবেছেন এই চুইংগাম পেটে চলে গেলে কী হয়? এর ফলে স্বাস্থ্যে কী প্রভাব পড়ে? 
চুইংগাম গিলে ফেললে স্বাস্থ্যে কী প্রভাব পড়ে?