ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পঞ্চব্রীহি ধান একবার রোপণে পাঁচবার ফলন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৪, ১০:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী একজন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী, ধান গবেষক ও লেখক। আধুনিক জীববিজ্ঞানের প্রথম সারির গবেষকদের একজন। তিনি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কানিহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বসবাস করছেন।

ড. আবেদ চৌধুরী উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে, যুক্তরাষ্ট্রের অরিগন স্টেট ইনিস্টিটিউট অফ মলিকুলার বায়োলজি এবং ওয়াশিংটন স্টেটের ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ ইনিস্টিটিউটে।

১৯৮৩ সালে পিএইচডি গবেষণাকালে তিনি রেকডি নামক জেনেটিক রিকম্বিনেশনের একটি নতুন জিন আবিষ্কার করেন যা নিয়ে আশির দশকে আমেরিকা ও ইউরোপে ব্যাপক গবেষণা হয়। অযৌন বীজ উৎপাদন (এফআইএস) সংক্রান্ত তিনটি নতুন জিন আবিষ্কার করেন, যার মাধ্যমে এই জিনবিশিষ্ট মিউটেন্ট নিষেক ছাড়াই আংশিক বীজ উৎপাদনে সক্ষম হয়। তার এই আবিষ্কার এপোমিক্সিসের সূচনা করেছে যার মাধ্যমে পিতৃবিহীন বীজ উৎপাদন সম্ভব হয়। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিজ্ঞান সংস্থায় বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে গঠিত গবেষকদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এযাবৎ তার সফল গবেষণা পঞ্চব্রীহি ধান। সম্প্রতি এই অভাবনীয় সাফল্য ঘটে গেছে বাংলাদেশে। জিনবিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী একটি নতুন জাতের ধানগাছ উদ্ভাবন করেছেন, যেটি একবার রোপণে পাঁচবার ধান দেবে ভিন্ন ভিন্ন মৌসুমে। তার উদ্ভাবিত এই ধানগাছের নাম দিয়েছেন ‘পঞ্চব্রীহি’। পঞ্চ মানে ‘পাঁচ’ আর ব্রীহি মানে ‘ধান’।

জিনবিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী ধান গাছের দ্বিতীয় জন্ম নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের অধিক সময় ধরে গবেষণা করেন। তিনি চেয়েছিলেন আম-কাঁঠালের গাছ যেমন দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে, ঠিক তেমনই ধানগাছগুলো দীর্ঘআয়ু পাক। দিনরাত কাজ করে যান ২০ প্রকারের ভিন্ন জাতের ধানগাছ নিয়ে। প্রথমে নতুন ধানের শিষ হয়, এমন ভিন্ন জাতের ১২টি ধানবীজ সংগ্রহ করেন। গেল কয়েক বছর ধরে এই ১২ ধরনের ধানের জাতগুলো চাষ করে তিনি নিজে পর্যবেক্ষণ করেন। যেখানে দেখা যায় নিয়মিতভাবে দ্বিতীয়বার ফলন দিচ্ছে এই ধানগুলো। অতঃপর তিনি একই গাছে তৃতীয়বার ফলনের গবেষণা শুরু করেন এবং তাতেও সফল হন। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে চারটি জাত ছাড়া অন্যগুলো চতুর্থবার ফলনের পর ধ্বংস হয়ে যায়। এই ৪ জাতের ধানের ওপর আবারও ১০ বছর ধরে গবেষণা চালান বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী।

কৃষির আধুনিকায়নে পঞ্চব্রীহি ধান দেশের কৃষকদের জন্য একটি আশার বিষয়। তার এই গবেষণাটি অতুলনীয় যা সামাজিক মাধ্যমে আমার দৃষ্টকটু হয়েছে। প্রবাসে থাকলেও দেশের ধানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনে কাজ করছেন তিনি। নিজের উদ্ভাবিত জাতের ধান উৎপাদনে জন্মস্থান কানিহাটি গ্রামের পারিবারিক জমিতে গড়ে তুলেছেন খামার। প্রথমবারের মতো একই গাছে এক বছরে পাঁচবার ফলন এসেছে।

বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ এমপির নেতৃত্বে আমস্টার্ডামে অনুষ্ঠিত রাউন্ড টেবিল অন বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার টোয়ার্ড এ প্রসপোরাস ফিউচার, সেমিনার টিমে ডেলিগেট হিসাবে তিনি অংশগ্রহণ করেন। সেখানে দ্য সিলেট পোস্ট-এর চিপ এডিটর সাংবাদিক নজরুল ইসলাম কথা বলেছেন জীন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীর সাথে তার সফল উদ্ভাবনি গবেষণা ‘পঞ্চব্রীহি’ ধান নিয়ে।

নজরুল ইসলাম: আপনি কেমন আছেন স্যার?
ড. আবেদ চৌধুরী: আমি বেশ ভাল আছি। তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

নজরুল ইসলাম: স্যার আপনি আমস্টার্ডাম কেন এসেছেন একটু জানতে পারি?
ড. আবেদ চৌধুরী: বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ এমপির নেতৃত্বে আমস্টার্ডামে বাংলাদেশের প্রতিনিধি টিম অংশগ্রণ করে। প্রতিনিধি টিমে ডেলিগেট হিসাবে আমি অংশগ্রহণ করি। একটি ইউনিভার্সিতে ‘রাউন্ড টেবিল অন বাংলাদেশ এগ্রিকালচার টোয়ার্ড এ প্রসপোরাস ফিউচার’ সেমিনারে আমি বাংলাদেশের কৃষি ও আমাদের সাফল্য নিয়ে কথা বলেছি। মন্ত্রী মহোদয়ের আমন্ত্রণে আপনিও এসেছেন। আপনাকে পেয়ে আমি বিষম খুশি।

নজরুল ইসলাম: একজন জীন বিজ্ঞানী হিসাবে দেশের কৃষকদের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন?
ড. আবেদ চৌধুরী: কৃষকদের সাথে আমার সম্পর্ক আত্মার। আমি দেখেছি আমারদের কৃষক ধান চাষ করেন তারা উন্নত জীবনযাপন করতে পারেন না। তাদের খরচ অনেক বেশি, খরচ করার জন্য যা ধান পান, ওটা বিক্রি করে তাদের পোষায় না। যারা ধানের উপর নির্ভরশীল, তারা দরিদ্র থেকেই যান। ধান বিক্রির টাকা, উৎপাদন খরচ দিয়ে খেয়ে-পরে বাঁচতে পারেন না। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারেন না। এটাই বাস্তবতা। এটা আমার জন্য খুব পীড়াদায়ক ছিল।

নজরুল ইসলাম: আমাদের দেশের লোকজন কৃষিনির্ভর, কৃষির আধুনিকায়ন মানে তাদের জীবন মান উন্নয়ন, আপনি কি ভাবছেন?
ড. আবেদ চৌধুরী: আমি দেখছি দেশে কৃষি নির্ভর পরিবার খুব অবহেলিত। মানুষ শুধু চায় কম দামে ধান পেতে। কিন্তু কৃষকরা যে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না, সেটা নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে ভাবছি কৃষিতে কিভাবে আয় বাড়ানো যায়, ব্যয় কমানো যায়, এটা নিয়ে আমি সারাক্ষণ চিন্তা করি। একটা ধান জমিতে থাকবে, বিশাল আকার ধারণ করে অনেক অনেক ধান দেবে। আমি এই জিনিসটাই করতে চেয়েছি। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় আমি ইতোমধ্যে এটা করতে পেরেছি।

নজরুল ইসলাম: পঞ্চব্রীহি ধানের চাষাবাদের জন্য কৃষকদের মাঝে কিভাবে জাগরণ তৈরী করা যায়?
ড. আবেদ চৌধুরী: কৃষি এমন একটি শিল্প যা কঠোর পরিশ্রম, স্থিতিস্থাপকতা, শক্তি এবং সহায়ক সম্প্রদায়ের জন্য পরিচিত। যাইহোক, খামার পরিবারগুলি প্রায়শই অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় যেমন কম পণ্যের দাম, অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অসময়ে সরঞ্জামের ভাঙ্গন, এবং দৈনন্দিন এবং মৌসুমী কাজগুলি সম্পূর্ণ করার সুযোগের একটি সংকীর্ণ উইন্ডো যা প্রায়ই খামার পরিবারের জীবনে চাপ সৃষ্টি করে। কৃষকদের আমার উদ্ভাবনি নতুন জাতের বীজ সংগ্রহের জন্য প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করি নতুন উদ্ভাবনকারী এই ধান ব্যবসায়িকভাবে ফলনে কৃষকরা অল্প পুঁজিতে অধিক লাভবান হবেন।

নজরুল ইসলাম: এযাবৎ আপনার সফল গবেষণা পঞ্চব্রীহি ধান, এ নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাই-
ড. আবেদ চৌধুরী: নতুন জাতের ধানগাছ উদ্ভাবন করেছি, যেটি একবার রোপণে পাঁচবার ধান দেবে ভিন্ন ভিন্ন মৌসুমে। এই পাঁচ প্রকার ধান হলো বোরো একবার, আউশ দুবার ও আমন দুবার। অর্থাৎ তিন মৌসুমে বা বছরজুড়েই ধান দেবে এই গাছ। তিনি উদ্ভাবিত এই ধানগাছের নাম দিয়েছেন ‘পঞ্চব্রীহি’। পঞ্চ মানে ‘পাঁচ’ আর ব্রীহি মানে ‘ধান’। বোরো হিসেবে বছরের প্রথমে লাগানো এ ধান ১১০ দিন পর পাকঁবে। ওই একই গাছেই পর্যায়ক্রমে ৪৫ দিন পরপর একবার বোরো, দুইবার আউশ এবং দুইবার আমন ধান দিবে। কম সময়ে পাকা এই ধানের উৎপাদন বেশি, খরচও কম। তবে, প্রথম ফলনের চেয়ে পরের ফলনগুলোতে উৎপাদন কিছুটা কম। কিন্তু পাঁচবারের ফলন মিলিয়ে উৎপাদন প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। আপাতত এর নাম পঞ্চব্রীহি রেখেছি। পরবর্তী সময়ে চিন্তা ভাবনা করে নাম নির্ধারণ করবো। ‘ষষ্ঠবার ফলনে সফল হলে এই জাতের নামকরণ ‘ষষ্ঠব্রীহি’ করা যেতে পারে। আবার ‘বর্ষব্রীহি’ বলা যায়, যেহেতু বছরজুড়ে ফলন হয়। ‘চিরব্রীহি’, ‘অমরব্রীহি’ নামও রাখা যেতে পারে, যেহেতু গাছটি মরছে না। আবার আমার গ্রাম কানিহাটির নামেও রাখতে পারি।

নজরুল ইসলাম: আপনার গবেষণালব্ধ এ ধান কি পরিবেশবান্ধব?
ড. আবেদ চৌধুরী: এ ধরনের ধান গাছকে পরিবেশের জন্য আশীর্বাদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক জমি একাধিকবার চাষ দিলে মিথেন গ্যাস ও কার্বনড্রাইঅক্সাইড প্রচুর নির্গত হয়, যা পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কিন্তু এ ধান একবার চাষে উৎপাদন খরচ অনেকটা কম হবে। চাষাবাদ অন্য ধানের মতোই সহজ। এজন্য একে পরিবেশবান্ধব, জলবায়ু পরিবর্তন বান্ধব বলে থাকি আমি। আমার উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ধানের নাম আমার গ্রামের নামে কানিহটি ১ থেকে ১৬ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।

নজরুল ইসলাম: আপনার গ্রামের কৃষি খামার কে দেখাশুনা করেন?
ড. আবেদ চৌধুরী: স্থানীয়ভাবে কৃষকরা আমার খামার দেখাশুনা করছেন। তারা প্রতিবেশী কৃষকদের উৎসাহিত করছেন। তাদের সাফল্যের গল্প শুনে অন্যরা উৎসাহিত হচ্ছেন।

নজরুল ইসলাম: পঞ্চব্রহী ধান চাষ করেছেন, ফসল ঘরে তুলেছেন এমন দুই একজন কৃষকের কথা শুনতে চাই-
ড. আবেদ চৌধুরী: আমার খামার দেখভাল করেন রাসেল মিয়া নামের একজন। তার সাফল্যের কথা আপনার সাথে শেয়ার করতে পারি। রাসেল, পরীক্ষামূলকভাবে দুই বিঘা জমিতে ধান রোপণ করে সফলভাবে পাঁচবার গাছ থেকে ধান কেটেছেন। প্রথমবার উৎপাদনে যে খরচ হয়, পরের বার উৎপাদনে তেমন খরচ নেই বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কৃষকরা খুব কম খরচে এই ধান উৎপাদন করতে পারবেন। আরেক কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেছেন, আমাদের এলাকায় জন্ম নেওয়া আবেদ চৌধুরী একটি ধান আবিষ্কার করেছেন। ধানটা খুবই ভালো। একবার রোপণ করলে পাঁচবার কেটে নেওয়া যায়। আমিও এই ধান এনেছি। এই ধানটার জন্য আমি গর্বিত। আমরা সবাই আগ্রহী যাতে এই ধান আরও বেশি বেশি উৎপন্ন হয়।

ড. আবেদ চৌধুরী আমস্টার্ডামে আপনার ব্যস্ত সময়ে আমাকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ড. আবেদ চৌধুরী: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বছরের প্রথম দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া
এ বছর ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রথম ধাপে শৈত্যপ্রবাহের পর সারাদেশে শীতের প্রকোপ কমলেও আগামীকাল বছরের শুরু থেকে শীতের প্রকোপ বাড়তে পারে। ঘন কুয়াশা থাকতে পারে দুপুর পর্যন্ত। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানার দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নদী পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বুধবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নদী পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নদী পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। এ ছাড়া আগামী পাঁচদিনের মধ্যে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আরটিভি/একে/এআর
বছরের প্রথম দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি: ধর্ম উপদেষ্টা
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদে প্রেরণ এবং প্রধান উপদেষ্টার অনুমতিক্রমে গেজেট প্রকাশ করা হবে। বেতন কাঠামো হবে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী। এতে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বাসা এবং উৎসব ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ব্যবসা করার জন্য বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। রোগে আক্রান্ত ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া হবে, যা ফেরত দিতে হবে না। তিনি আরও বলেন, গ্রুপিং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের মধ্যেও আছে। কখনো শুনেছেন তারা মারামারি করেছে। আমরা মুসলমানরা একদল আরেক দলকে পিটিয়ে মেরে ফেলি। আপনারা (ইমাম-মুয়াজ্জিনরা) যখন মিথ্যা বিবৃতি দেন তখন আমাদের মন ভেঙে যায়। এতে আমাদের ভাবমূর্তি বিদেশে বিনষ্ট হচ্ছে। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সরকার দেশ সংস্কারের কাজ করছে। সংস্কার শেষ হলে নির্বাচনের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হবে তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করব এবং আমরা বিদায় নেব। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঐক্য। প্রতিটি মানুষের অধিকার সমান। অধিকার সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। আরটিভি/এফএ
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি: ধর্ম উপদেষ্টা
বাংলাদেশে শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টির গুরুত্ব
শিশুরা একটি জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্বাস্থ্য এবং সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সমাজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও অনেক শিশু পুষ্টিহীনতার কারণে তাদের সম্ভাব্য শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। পুষ্টিহীনতা একটি অদৃশ্য চ্যালেঞ্জ, যা ধীরে ধীরে শিশুর বিকাশ ও জাতীয় উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। সুষম পুষ্টি একটি শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে। এটি শুধু তাদের ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য নয়, বরং সমগ্র জাতির অগ্রগতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিশুদের সুস্বাস্থ্য এবং সঠিক বিকাশের উপর। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশে এখনও অনেক শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। সুষম পুষ্টি শুধু একটি শিশুর সুস্থতার জন্য নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষম পুষ্টি কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ সুষম পুষ্টি বলতে শরীরের সকল প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের যথাযথ মাত্রায় গ্রহণকে বোঝায়। এর মধ্যে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন, মিনারেল এবং পানি অন্তর্ভুক্ত। শৈশবকালীন সুষম পুষ্টি শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দৈহিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। যে শিশুরা পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না, তাদের মধ্যে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি দেখা দিতে পারে ১. শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া: পুষ্টির অভাবে শিশুদের উচ্চতা এবং ওজন গড় মানের চেয়ে কম হতে পারে। ২. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব: অপুষ্ট শিশু সহজেই নানা রোগে আক্রান্ত হয়। ৩. মস্তিষ্কের বিকাশের ঘাটতি: পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়া শিশুদের শেখার ক্ষমতা এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ৪. দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা: পুষ্টিহীনতার কারণে ডায়বেটিস, হৃদরোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাংলাদেশে পুষ্টিহীনতার বর্তমান চিত্র বাংলাদেশে পুষ্টিহীনতা একটি গুরুতর সমস্যা। ইউনিসেফের মতে, দেশের প্রায় ৩৬% শিশু অপুষ্টির শিকার। অনেক শিশুর মধ্যেই ভিটামিন এ, আয়রন, এবং জিঙ্কের অভাব রয়েছে। এই অভাবের কারণে শিশুরা শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পিছিয়ে পড়ছে। পুষ্টিহীনতার পেছনের মূল কারণগুলো হলো ১. ক্রয়ক্ষমতার অভাব: অনেক পরিবার তাদের শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত এবং পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করতে পারে না। ২. অজ্ঞতা: পুষ্টির বিষয়ে সচেতনতার অভাবে অনেক অভিভাবক সঠিক খাবার নির্বাচন করতে পারে না। ৩. পরিবেশগত সমস্যা: নিরাপদ পানি এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভাবে শিশুদের মধ্যে রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়, যা পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। ৪. খাদ্য বৈচিত্র্যের অভাব: অনেক শিশুর খাদ্য তালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকে। সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য কী কী করা যেতে পারে বাংলাদেশে শিশুদের সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে ১. পুষ্টি শিক্ষা প্রদান: অভিভাবক এবং সমাজের অন্যান্য সদস্যদের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি চালানো জরুরি। ২. স্কুল পর্যায়ে খাবার সরবরাহ: প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পুষ্টিকর মধ্যাহ্নভোজ চালু করা যেতে পারে, যা শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। ৩. জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচি: গর্ভবতী মা এবং শিশুদের জন্য বিশেষ পুষ্টি সরবরাহ কর্মসূচি চালু করা প্রয়োজন। ৪. দারিদ্র্য হ্রাস: দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়ানো প্রয়োজন। ৫. নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা: পরিচ্ছন্ন পানি এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ শিশুদের পুষ্টি শোষণ ও স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশের শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা একটি মৌলিক প্রয়োজন, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে। এটি শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনের উন্নতি নয়, বরং একটি জাতির টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। পুষ্টিহীনতার সমস্যা মোকাবিলায় সরকার, পরিবার এবং সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। সচেতনতা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের মাধ্যমে আমরা শিশুদের জন্য একটি সুস্থ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে পারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা একটি মেধাবী ও সমৃদ্ধিশালী প্রজন্ম গড়ে তুলতে সক্ষম হব, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করবে। বাংলাদেশের শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা জাতির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এটি শুধু তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখে। পুষ্টিহীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে সরকার, পরিবার, এবং সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা একটি স্বাস্থ্যকর এবং মেধাবী প্রজন্ম তৈরি করতে পারব, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করবে। আরটিভি/একে/এআর startTime=0; function calculateUserTimeSpent(){const endTime=performance.now(); const timeSpentInMinutes=(endTime - startTime) / 1000 / 60; let timeSpentInSeconds=1; timeSpentInSeconds=Math.max(0, Math.floor(timeSpentInMinutes * 60)); return timeSpentInSeconds;}function startTrackingTime(){startTime=performance.now();}async function getUserIP(){try{const response=await fetch("https://api.ipify.org?format=json"); const data=await response.json(); return data.ip;}catch (error){console.error("Error getting user IP:", error); return "127.0.0.1";}}function sendPixelTrackerOnUnload(){const userTimeSpent=calculateUserTimeSpent(); getUserIP().then((userIp)=>{const campaign_uid='c131cb9c-6d27-466d-8a05-d495274a84cc'; const publisher_uuid = '35fd5036-a36f-44b8-9def-a6bcbafa01e2' ; const client_uuid='dcc5856c-f95b-4435-8b27-04116fbe2d95'; const apiUrl=`https://pr.reachableads.com/api/pixel_tracker/?campaign_uid=${campaign_uid}&publisher_uuid=${publisher_uuid}&client_uuid=${client_uuid}&user_ip=${userIp}&user_time_spent=${userTimeSpent}&url=${window.location.href}`; const image=new Image(); image.src=apiUrl; console.log("Pixel Tracker API request sent.");});}window.addEventListener("load", startTrackingTime); setTimeout(function (){sendPixelTrackerOnUnload();}, 1000); window.addEventListener("beforeunload", sendPixelTrackerOnUnload); document.addEventListener("visibilitychange", handleVisibilityChange); function handleVisibilityChange(){if (document.visibilityState==="hidden"){sendPixelTrackerOnUnload();}}
বাংলাদেশে শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টির গুরুত্ব
‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু
শুরু হচ্ছে যাচ্ছে সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন ‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে সম্প্রচার শুরু করছে চ্যানেলটি। এদিন বিকেলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ফেসবুক পেজে জানানো হয় খবরটি। ‘বিটিভি নিউজ’র লোগো প্রকাশ করে ওই পোস্টে বলা হয়, নতুন প্রত্যয়ে সংবাদভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবে আজ সন্ধ্যা ৭টা থেকে যাত্রা শুরু করবে ‘বিটিভি নিউজ’।  বাংলাভাষায় বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন ‘বিটিভি’। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু হয় চ্যানেলটির। ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশন করপোরেশন ও ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে (পি.ও নং-১১৫) বাংলাদেশ টেলিভিশন নামে রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে পরিণত হয় এটি।  দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচার সুবিধার মাধ্যমে বিটিভির অনুষ্ঠান দেখতে পাচ্ছে। বর্তমানে বিটিভিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারিত হয়। এবার শুধু সংবাদের জন্য বিশেষায়িত চ্যানেল হিসেবে যাত্রা শুরু করছে বিটিভি নিউজ।  আরটিভি/এইচএসকে/এআর  
‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু
যে কারণে হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যায়
অনেক কারণে হার্টের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হতে পারে, যা কার্ডিওমেগালি নামে পরিচিত। ডাইলেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি (ডিসিএম) হার্টের (হৃৎপিণ্ড) মাংসপেশির রোগ। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের দেয়াল পাতলা হয়ে যায় ও এর বাঁ দিকের চেম্বার অস্বাভাবিক রকম বড় আকার ধারণ করে বা ফুলে যায়। ফলে হৃৎপিণ্ডের পাম্পিং ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। হৃদপিণ্ড এর নিজস্ব গতিতে পাম্প করতে না পারায় রোগীর শরীরে, বিশেষ করে পায়ে পানি আসে ও অল্প পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়। কার্ডিওমেগালি বা হার্ট বড় হয়ে যাওয়া মোটেই কাজের কথা নয়। এতে বহু ধরনের শারীরিক অসুখবিসুখ হতে পারে। সাধারণত অন্য কিছু অসুখের কারণে, যেমন উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্টের আকার বড় হয়ে যায়। তখন আর হার্ট আগের মতো কাজ করতে পারে না। উপসর্গ: কোনো উপসর্গ না থাকায় রোগী বুঝতে পারেন না যে তার হৃৎপিণ্ডে ডিসিএম আছে। চিকিৎসা না হলে আক্রান্ত ব্যক্তি হৃৎপিণ্ড অকার্যকর হওয়া থেকে মৃত্যুঝুঁকিতে পড়তে পারেন। উপসর্গগুলোর মধ্যে শুরুর দিকে অতিমাত্রায় দুর্বলতা, স্বাভাবিক কাজকর্মে শ্বাসকষ্ট, পায়ের পাতায় ও গোড়ালিতে পানি আসে এবং বুকব্যথা ও বুক ধড়ফড় করতে থাকে। পরিবারে কারও এ রোগ হলে বাকি সবার পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উত্তম। কারণ: ডিসিএমের কারণ হিসেবে কিছু সুনির্দিষ্ট সংক্রমণ, প্রেগন্যান্সির শেষের দিকের জটিলতা, ডায়াবেটিস, হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিতে আয়রন জমা হওয়া (হিমাক্রমাটোসিস), উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, হৃৎপিণ্ডের আ্যরিদমিয়া ও ভালভ ঠিকভাবে বন্ধ না হওয়াকে দায়ী করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া অতিমাত্রায় মদ্যপান, সিসা, কোবাল্ট, পারদজাতীয় টক্সিনের সংস্পর্শে আসা, ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে এ রোগ হতে পারে। যাদের ঝুঁকি বেশি রক্তচাপ যদি ১৪০/৯০ বা এর থেকে বেশি থাকে পরিবারের নিকটাত্মীয়ের, যেমন ভাইবোন, যদি কার্ডিওমেগালির ইতিহাস থাকে করোনারি আর্টারি ডিজিজ জন্মগতভাবে ক্ষতিগস্ত হার্ট হার্ট ভাল্বের অসুখ হার্টঅ্যাটাকের ইতিহাস মাড়ির প্রদাহ বা জিনজিভাইটিসে আক্রান্ত রোগীর যদি হার্ট ভাল্বের ত্রুটি থাকে। ডায়রিয়া ও বাতজ্বরজনিত হৃদরোগে আক্রান্ত অল্প বয়সী শিশু-কিশোর। ডিসিএমে যা হয়: ডিসিএমের কারণে হৃৎপিণ্ডের চেম্বার, বিশেষ করে বাঁ দিকের ভেন্ট্রিকল বড় হয়ে যাওয়ায় ভালভ বন্ধ হওয়ার অ্যালাইনমেন্ট বদলে যায়। ফলে রক্তপ্রবাহের কিছু অংশ ব্যাক ফ্লো করে ও হৃৎপিণ্ডকে আরও বড় হতে সাহায্য করে। হৃৎপিণ্ড বড় হতে হতে একসময় পাম্প করতে ব্যর্থ হয়ে এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যাওয়ায় এটি তার পাম্প করার ছন্দ হারিয়ে ফেলে এবং এর ফলে অনিয়মিত হার্টবিট তথা অ্যারিদমিয়া দেখা দেয়। চিকিৎসা পুরোপুরি সুস্থতা ফিরে পাওয়া কঠিন। কিছু ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এ ওষুধগুলোর মধ্যে আছে ডাই-ইউরেটিক, এনজিওটেনসিন কনভার্টিং এনজাইম ইনহেবিটর, এনজিওটেনসিন রিসিপ্টর ব্লকার, বিটা ব্লকার, ডিজক্সিন, অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট, অ্যান্টি অ্যারিথমিক ইত্যাদি। সার্জিক্যাল পদ্ধতিতেও কিছু চিকিৎসা করতে হয়। হৃত্স্পন্দন কম থাকলে বা হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা কমে গেলে কখনো কখনো পেসমেকার বসাতে হয়। আইসিডি নামের ছোট একটি ডিভাইসও বসানো লাগতে পারে। হার্ট ভাল্বের সার্জারিও অনেক সময় লাগে। করোনারি রক্তনালির অসুখ হলে বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন হয় অনেক সময়। কিছু নিয়মকানুন মানলে কার্ডিওমেগালিসহ হার্টের অসুখ থেকে ভালো থাকা যায়। ধূমপান না করা অতিরিক্ত ওজন কমানো পাতে অতিরিক্ত লবণ না খাওয়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়মিত ব্যায়াম করা অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন পরিহার করা অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমানো মাড়ির অসুখের যথাসময়ে চিকিৎসা রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করতে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার বেশি গ্রহণ নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে না করা বাতজ্বর থাকলে তার চিকিৎসা। সূত্র : অনলাইন আরটিভি/এফআই
যে কারণে হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যায়
আরও পড়ুন
এবার ঘটানো হচ্ছে কৃত্রিম সূর্যগ্রহণ!
গাছ লতা-পাতাহীন পাথর জঙ্গলের রহস্য
১৮ ফুট লম্বা ঢেঁড়স গাছে ফল, পাড়তে লাগবে মই!  
সাঁতারের বদলে মানুষের মতো হাঁটে যে মাছ!