‘রেড চিটাগাং’ বা লাল বিরিষ। কুরবানির বাজারে চট্টগ্রামের লোকজনের কাছে এই লাল বিরিষের চাহিদা থাকে বেশি। এসব গরুর গায়ের রং লাল। আকারে ছোট। ওজন হয়ে থাকে তিন থেকে সবোর্চ্চ ১০ মণ।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে উৎপত্তি ও বিস্তার লাভ করায় এটি ‘চাঁটগাইয়া গরু’ নামেও পরিচিত। তবে এ ধরনের গরু এখন কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
বর্তমানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাটে লাল বিরিষ উঠেছে এবং আরও তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন খামারিরা।
পশু বিশেষজ্ঞ ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নতমানের গরু হচ্ছে রেড চিটাগাং। দুধ উৎপাদন, মাংস উৎপাদন ও চাষাবাদের জন্য বেশ উপযুক্ত। এদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই বেশি। ফলে সহজে এরা রোগাক্রান্ত হয় না। এদের খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য আলাদা কোনও জোগাড়ের প্রয়োজন হয় না বিধায় লালন-পালনে খরচও খুব কম হয়।
লাল বিরিষ চট্টগ্রামের সব অঞ্চলেই কম বেশি পাওয়া যায়। তবে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, রাউজান, সাতকানিয়া, সীতাকুণ্ড আনোয়ারা, পটিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলায়।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মগপুকুর এলাকার গরু খামরি আবুল হোসেন কুরবানির ঈদে বিক্রির জন্য ১০টি বিরিষ লালন-পালন করেছেন। তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিরিষের চাহিদা বেশি থাকায় আমি এগুলো যত্ন নিয়ে লালন-পালন করছি। আশা করছি ভালো দাম পাবো।
-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : বাসের চাপায় প্রাণ গেলো রিকশা চালকের
-------------------------------------------------------
সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা হাসান মাহমুদ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রতিবছর মতো এবারও লাল বিরিষ কুরবানি দেয়ার আশা করছি। এখন থেকেই বিরিষ দেখা শুরু করেছি। পছন্দ হলে নিয়ে নিবো।
চট্টগ্রামের কোতোয়ালী এনায়েত বাজার এলাকার বাসিন্দা সারুয়ারে আলম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিরিষের চাহিদা চট্টগ্রামে সব সময় বেশি থাকে। আমি প্রতিবছর আল্লাহর রহমতে বিরিষ কুরবানি দিয়ে থাকি। এবারও বাজারে গিয়ে লাল বিরিষ আনার ইচ্ছে আছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেয়াজুল হক আরটিভি অনলাইনকে বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে কুরবানি ঈদে লাল বিরিষ জাতের গরুটির চাহিদা অন্য গরুর তুলনায় বেশি থাকে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে ৬ লাখ ৫৫ হাজার পশুর চাহিদা আছে। চট্টগ্রামে পশু আছে ৫ লাখ ৮২ হাজার। বাকি যে পরিমাণ ঘাটতি আছে তা দেশের অন্যান্য স্থান থেকে এসে পূরণ হয়ে যাবে। প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চট্টগ্রামে কুরবানির পশু এসে থাকে। তাই ঘাটতিটা সহজে পূরণ করা সম্ভব হবে, সংকট থাকবে না।
চট্টগ্রাম প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামে কুরবানিতে পশু জবাই করা হয়েছিল ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৮৩১টি।
ডা. রেয়াজুল হক বলেন, খামারে খামারে গিয়ে কৃত্রিম উপায়ে পশু মোটাতাজা করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তারপরও পশুর হাটে মেডিকেল টিম বিষয়টি তদারকি করবে।
এদিকে, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা জানিয়েছেন, প্রত্যেকটি বড় পশুর হাটে পুলিশ মোতায়েন থাকবে । এর পাশাপাশি জাল নোট শনাক্তে মেশিন বসানো হবে।
আরও পড়ুন :
এসএস