ঢাকাবৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

দুর্নীতির ৭৫৮ পৃষ্ঠার শ্বেতপত্র প্রকাশে প্রশাসনের প্রতিবাদ

রংপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৩ মার্চ ২০২১ , ০৮:৫৯ পিএম


loading/img
দুর্নীতির ৭৫৮ পৃষ্ঠার শ্বেতপত্র প্রকাশে প্রশাসনের প্রতিবাদ

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর দুর্নীতির বিষয়ে ৭৫৮ পৃষ্ঠার শ্বেতপত্রের প্রথম খণ্ড প্রকাশ করেছে শিক্ষক-কর্মচারীদের সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদ। আর এই শ্বেতপত্রের বিপক্ষে প্রতিবাদ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট।

বিজ্ঞাপন

৭৫৮ পৃষ্ঠার শ্বেতপত্রে ১১১টি খাতে দুর্নীতির পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। শনিবার এ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্যাফেটেরিয়ায় সাংবাদিক সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়- এটি দুর্নীতির শ্বেতপত্রের প্রথম খণ্ড। পরবর্তীতে দ্বিতীয় খণ্ডে উপাচার্যের দুর্নীতির আরও ভয়াবহ তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান।

তিনি বলেন, উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে জনবল নিয়োগ, শিক্ষক ও জনবল নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে দুর্নীতি, নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হয়েও উপাচার্যের অনুপস্থিতি থাকা, ইচ্ছামতো পদোন্নতি, আইন লঙ্ঘন করে একাডেমিক ও প্রশাসনিক পদ দখল, ক্রয় প্রক্রিয়ায় নীতিমালা লঙ্ঘন, উপাচার্যের অননুমোদিত ও অনিয়মতান্ত্রিক ফাউন্ডেশন ট্রেনিং, ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে অতিরিক্ত খরচ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, চরম শিক্ষক সংকটসহ নানান অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

লিখিত শ্বেতপত্রে উল্লেখিত ১১১টি অভিযোগের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ২০১৭ সালের ১৪ জুন যোগদান করার পর ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক অনুপস্থিত থেকে ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে বসে ব্যাপকভাবে একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, জালিয়াতি, ভর্তি বাণিজ্য, হয়রানি, নির্যাতন, নিপীড়ন আর স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে এ সংঘবদ্ধ দুর্নীতির চক্র তৈরি করেছেন তিনি।

জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. এহতেরামুল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার জন্য তথাকথিত শ্বেতপত্র প্রকাশের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের নামে ঘটানো ন্যক্কারজনক এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার দুপুরে উপাচার্যবিরোধী শিক্ষকরা ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের পর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানচর্চা, গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনাসহ শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করে দেশসেবার জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলার স্থান। কিন্তু এ বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি পক্ষ তথাকথিত পরিষদ তৈরি করে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একইসঙ্গে একেক সময় একেক কর্মসূচি গ্রহণ করে মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’ এর ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করে ভিসিবিরোধী শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয় আগামীকাল রোববার (১৪ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর একটি তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তদন্ত কাজে আসবে, সেটিকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই আজকের সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

এফএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিজ্ঞাপন


© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৬-২০২৫ | RTV Online |