কালবৈশাখী তান্ডবে সুনামগঞ্জ ব্যাপক ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুটিসহ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জেলার সদর উপজেলা, জামালগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ, জামালগঞ্জ, দিরাই, ধর্মপাশা, মধ্যনগরসহ বেশিরভাগ উপজেলা দুই দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল ২০২২) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বেশিরভাগ উপজেলায় বিদ্যুৎ সেবা চালু হয়নি।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে সুনামগঞ্জের সদর উপজেলা, শান্তিগঞ্জ, জামালগঞ্জ, দিরাই, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, মধ্যনগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকা দিয়ে প্রবলবেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এতে পল্লী বিদুৎ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লন্ডভন্ড হয়ে যায় বৈদ্যুতিক লাইন।
বিভিন্ন উপজেলা ২৬ টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়া জেলা ব্যাপী বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। হঠাৎ এমন তান্ডবে বিদ্যুৎ সেবা চালু করতে হিমশিম পড়তে হয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় বিদ্যুৎ সেবা স্বাভাবিক করতে সময় বেশি প্রয়োজন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ম্যানেজার সুজিত কুমার বিশ্বাস।
এদিকে টানা ৪৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ভোগান্তি চরমে বিদ্যুৎ নির্ভর সাধারণ গ্রাহকদের। রোজার ইবাদত বন্দেগীর সময় তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে থাকা মাছ, মাংস, সবজিসহ নষ্ট হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে মোবাইল সেবা। ২৭ রমজান কদরের রাত্রিতে বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচন্ড গরমে ইবাদত বন্দেগীতে করতে কষ্ট করতে হয় মুসল্লীদের।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা বীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আজিম উদ্দিন বলেন, দুইদিন ধরে বিদ্যুৎ নাই। রাতে অন্ধকার, আর গরমের কারণে কষ্টের শেষ নাই। অফিসকে ফোন দিলে কোনো উত্তর পাওয়া যায় না। কবে বিদ্যুৎ আসবে জানি না।
জুনেদ আহমদ বলেন,লাইলাতুল কদরের মহান রজনীতে বিদ্যুৎ নেই। মানুষ প্রচন্ড গরমে দিশেহারা। বিদ্যুৎ আসার নাম নেই।
বাসা বাড়িতে থাকা মাছ মাংস পঁচে যাচ্ছে। মোবাইলে চার্জ নেই। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিনা।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদুৎ সমিতির ম্যানেজার সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, আমাদের অনেক কর্মী রাতদিন কাজ করছেন। আমরা চেষ্টা করছি। প্রায় স্থানে বিদ্যুৎ সেবা চালু হয়েছে। আশা করছি আগামীকালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ সেবা চালু হবে।