নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে এক তরুণীকে হেনস্তা করার ঘটনায় এক যুবক আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২১ মে) দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে শুক্রবার (২০) রাতে আটকের পর নরসিংদী ডিবি পুলিশ ভৈরব রেলওয়ে থানায় হস্তান্তর করেন।
আটককৃত ব্যক্তি সদর উপজেলার বুদিয়ামারা এলাকার মৃত বাদল মিয়ার ছেলে ইসমাইল মিয়া।
নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকাল ঢাকাগামী ঢাকা মেইল ট্রেনের জন্য ১ নম্বর প্লাটফর্মে প্রায় তিনশতাধিক যাত্রী অপেক্ষা করছিলেন। পরে সোয়া ৫টার দিকে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পশ্চিম প্রান্তে পাবলিক টয়লেটের সামনে ভুক্তভোগী তরুণী ও দুই তরুণ দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় স্টেশনে বোরকা পরিহিত মধ্যবয়সী এক নারী ভুক্তভোগী তরুণীকে জিজ্ঞেস করেন, ‘এটা কি পোশাক পরেছো তুমি’। তরুণীও পাল্টা প্রশ্ন করেন, আপনার তাতে কি সমস্যা হচ্ছে?’ এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ভুক্তভোগী তরুণী ও দুই তরুণ সেখান থেকে তারা পূর্ব প্রান্তে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে মাঝামাঝি চলে আসেন। তারপরও বোরকা পরিহিত মধ্যবয়সী ওই নারী তাদেরকে হেনস্তা করতে আবারও তাদের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তার সঙ্গে যোগ দেন স্টেশনে অবস্থানরত আরও কয়েকজন ব্যক্তি।
এদিকে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীকে ঘিরে রেখেছেন একদল ব্যক্তি। এর মধ্যেই এক নারী উত্তেজিত অবস্থায় তার সঙ্গে কথা বলছেন। বয়স্ক এক ব্যক্তিও তার পোশাক নিয়ে কথা বলছেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তরুণী সেখান থেকে চলে যেতে উদ্যত হলে ওই নারী দৌঁড়ে তাকে ধরে ফেলেন। এ সময় অশ্লীল গালাগালি করতে করতে তার পোশাক ধরে টান দেন ওই নারী। কোন রকমে নিজেকে সামলে দৌঁড়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে চলে যান ভুক্তভোগী তরুণী। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দুই তরুণকেও মারধর করতে দেখা যায় ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন ব্যক্তিকে। পরে তারাও দৌঁড়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে চলে যান। এ সময়ও তাদের লক্ষ্য করে গালাগালি করছিলেন ওই নারী।
এরপরে কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার রেলওয়ে পুলিশ ও স্টেশনের নিরাপত্তা কর্মীদের খবর দেন। রেলওয়ে পুলিশ আসার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আসে। এ সময় মডেল থানার পুলিশ রেলস্টেশনে এসে তাদের ঢাকার ট্রেনে উঠিয়ে দেয়। তবে হেনস্তাকারীদের মধ্যে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদাউস আহমেদ বিশ্বাস বলেন, এই ঘটনায় আমাদের কাছে ভুক্তভোগী বা তার কোনো আত্মীয়-স্বজন এখনো পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেননি। তাই আমরা এই ঘটনায় কোন পদক্ষেপ নিতে পারছি না। তারপরও যেহেতু এই ঘটনা একটি সামাজিক অবক্ষয় তাই পুলিশের পক্ষ থেকে হেনস্তাকারীদের আটক করতে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ইসমাইল মিয়া নামে এক হেনস্তাকারীকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের আটক করতে অভিযান চলমান রয়েছে।