দেশের আলোচিত সাত খুন মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনের এবার অস্ত্র ও মাদক মামলায় বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের আদালত। এ সময় নূর হোসেনসহ মামলার অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রোববার (৭ আগস্ট) বিকেলে আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১) আদালতের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৯ মে সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলায় শিমরাইলের টোকপাড়ায় নূর হোসেন নিয়ন্ত্রিত ট্রাক স্ট্যান্ডের পেছনে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, ছোরা, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নূর হোসেন, তার ভাই কাউন্সিলর নূর উদ্দিন ও ভাতিজা শাহজালাল বাদলসহ ১১ জনকে আসামি করে মামলা করে। সেই মামলায় ওই বছরের ১৯ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ।
রাষ্টপক্ষের আইনজীবী মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান, ওই মাদক মামলায় অভিযোগপত্রে সব আসামির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আজ রোববার দুপুরে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন।
এ বিষয়ে আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, একটি দেশীয় অস্ত্র ও মাদক মামলায় আসামি নূর হোসনকে আজ রোববার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয়। এ সময় অন্য আসামিসহ তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজন অপহৃত হন। পরে ৩০ ও ৩১ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সিটি কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি আলোচিত এই মামলায় চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ২৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন নারায়ণগঞ্জের আদালত।