হবিগঞ্জে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফেরার জন্য চা-শ্রমিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। আগামীকাল থেকে কাজে ফেরার আহ্বান জানালেও, চা-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ কাজে ফেরার জন্য কয়েকটি শর্ত দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) চুনারুঘাট উপজেলার চান্দপুর উচ্চবিদ্যালয়ে বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে চান্দপুর বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সাধন সাঁওতাল সাংবাদিকদের বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি তার কথা বলেছেন, আর আমরা আমাদের কথা বলেছি। আমরা ভ্যালির নির্দেশে আন্দোলনে নেমেছিলাম। দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছি।
এখন পর্যন্ত তারা কোনো অফিশিয়াল নির্দেশনা দেননি। ভ্যালি কমিটি যদি লিখিত নির্দেশনা দেয়, তাহলে আমরা সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করব। সেই আলোচনায় যদি কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে ফিরব। না হলে ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরির জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাব।
বৈঠকে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান চা-শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজে বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলে চা-শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য দাবিগুলো তুলে ধরা হবে। দুর্গাপূজার আগেই সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু চা-শ্রমিক নেতারা তাদের দাবিতে অনড়।
এ সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলি, চুনারুঘাট উপজেলা কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ ভৌমিকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। চা-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাবেক ইউপি সদস্য লক্ষ্মী চরণ বাকতি, খায়রুন আক্তার, সন্ধ্যা রানী ভৌমিক প্রমুখ।