চুয়াডাঙ্গায় নীলমনিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তরিকুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করা হয়েছে।
রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার নীলমনিগঞ্জ বাজারে ওই বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেয় শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ কয়েক শ এলাকাবাসী। একই দিন সকালে নীলমনিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এলাকায় হঠাৎ কিশোর গ্যাং চাঙা হয়ে উঠেছে। একজন স্কুলশিক্ষকের ওপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা যাকে ইচ্ছা তার ওপর হামলা চালাচ্ছে। অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
গত ৩০ আগস্ট বুধবার বিকেলে নীলমনিগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক তরিকুল ইসলাম স্কুল শেষে খেলার মাঠে বসে ছিলেন। হঠাৎ স্কুলে প্রবেশ করে ২০-২৫টি মোটরসাইকেলের একটি কিশোর গ্যাং। প্রতিটি মোটরসাইকেলে ২-৩ জন করে আরোহী ছিল। তাদের হাতে ছিল লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র। এ সময় শিক্ষক তরিকুল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করে জখম করে তারা। পরে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ওই ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন শিক্ষক তরিকুল ইসলামের বাবা রবিউল হক।
মামলায় আসামি করা হয় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বোয়ালমারি গ্রামের মৃত আশান আলী মাস্টারের ছেলে মোহাম্মদ প্রান্ত (২৮), একই গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে রাখা আলী (৩৫), মামুন আলীর ছেলে চন্দন আলী (২৫), মোমিনপুর গ্রামের নবিছদ্দিন চৌধুরীর ছেলে সেতু রহমান (২৪), একই গ্রামের শাহ নেওয়াজের ছেলে রাশেদ আরেফিন রাতিন (২৪) ও বোয়ালমারি গ্রামের হিল্লাল আলীর ছেলে সোয়েব রহমান (২২)। আসামি করা হয় অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে। তবে, এখনও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।