কুড়িগ্রাম পৌর শহরের প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ পাখিকে বাঁচাতে ছুটে আসেন মো. জহুরুল ইসলাম লিটু। শিকারির ছোড়া গুলিতে আহত পাখিটির ওপর তার এই ভালোবাসা নজর কাড়ে উপস্থিত সবার।
শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে কুড়িগ্রাম প্রাণিসম্পদ অফিসে হাড়গিলা (মদনটাক) পাখিটির প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আল মামুন।
জানা গেছে, জহুরুল ইসলাম লিটু ঠিকাদারি কাজে সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নে গিয়েছিলেন। কাজের ফাঁকে হঠাৎ পাখিটিকে একটি টিনের চাল থেকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখেন। পরে তিনি পাখিটির ডানার বামপাশে রক্তাক্ত দেখেন। ধারণা করা হচ্ছে কোনো শিকারি পাখিটিকে গুলি করে আহত করেছে। পরে জহুরুল ইসলাম লিটু পাখিটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পাখির প্রতি এমন মমত্ববোধে প্রসংশায় ভাসছেন তিনি।
স্থানীয় রবিউল ইসলাম নামের একজন বলেন, আমি দোকানে এসে দেখি জহুরুল নামের একজন একটা আহত পাখিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসছে। কেউ একজন পাখিটিকে গুলি করেছে। দেখে খুবই ভালো লাগছে, পাখিটিকে বাঁচাতে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। যেহেতু পাখি প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। দোয়া করি পাখিটি বেঁচে থাক।
পাখিটিকে উদ্ধারকারী জহুরুল ইসলাম লিটু বলেন, বিকেলের দিকে একটি পাখি পেয়েছি। কেউ হয়তো পাখিটিকে গুলি করেছে। তাকে বাঁচাতে কুড়িগ্রাম প্রাণিসম্পদ অফিসে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। ডাক্তার ওষুধ লিখে দিয়েছেন। খাওয়ানোর পর দেখি কী অবস্থা দাঁড়ায়। পাখিটি আমার হেফাজতে আছে। সুস্থ হলে ছেড়ে দেবো।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, আহত হাড়গিলা (মদনটাক) পাখিটিকে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কিছু ওষুধ লিখে দিয়েছি। আশা করা হচ্ছে পাখিটি স্বাভাবিক হবে।