ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শ্রীপুরে কাঁঠালের ফলন ভালো, পৃষ্ঠপোষকতা চান বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৪, ০৬:২৯ পিএম
ছবি : আরটিভি

জাতীয় ফল হিসেবে সবার কাছে সমাদৃত কাঁঠাল। এটি শুধু পুষ্টিগুণে ভরপুর ফলই নয়, অর্থকরী ফল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। আবার কাঁঠাল কাঠের তৈরি আসবাবের কদর দেশজুড়ে। কাঁঠাল সুমিষ্ট গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে পরিচিত। গাজীপুরের শ্রীপুরের কাঁঠালের সুখ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। মাটির গুণে শ্রীপুরের কাঁঠালের ফলন ও স্বাদ বেশি। পাকা কাঁঠালের গন্ধে এখানকার শ্রীপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার প্রতিটি গ্রাম। শ্রীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাথে কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত এবং রপ্তানিকরণ নিয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।

স্বাদে-ঘ্রাণে মিষ্টি কাঁঠাল খুব সস্তায় বিক্রি করা হয়। শ্রীপুরে নোয়াখালী এবং সিলেট থেকে পাইকাররা এসে কিনে দেশের বিভিন্ন বাজারে নিয়ে বিক্রি করছে। কিন্তু সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ন্যায্যমূল্য পান না বাগান মালিকেরা। অনেক সময় আবার পচে নষ্ট হয়ে যায় কাঁঠাল।

বাগান মালিক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কাঁঠালের দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। তাদের অভিযোগ, কাঁঠাল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। তবে সরকারি-বেসরকারি কোনো পর্যায়ে প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিনেও সরকার বিদেশে কাঁঠালের বাজার সৃষ্টি করতে না পারায় সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে আশানুরূপ ফল আসছে না। শ্রীপুরের বাগান মালিকেরা এ ফল নিয়ে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

উপজেলার তেলিহাটি, কাওরাইদ, বরমী, রাজাবাড়ী, গোসিংঙ্গা, মাওনাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গাছগুলো ভরে গেছে ফলে ফলে। এসব বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভ্যানে করে কাঁঠাল আনা হয়েছে। আড়ত মালিকেরা ছোট-বড় কাঁঠালগুলো আলাদা করে বিভিন্ন দামে কিনছেন।

প্রতিটি গাছে ৫০ থেকে ১০০ পর্যন্ত কাঁঠাল ধরেছে। তবে শ্রীপুর শিল্প অধ্যুষিত হওয়ায় যেসব এলাকা কারখানা গড়ে উঠছে সেসব এলাকা থেকে দিনদিন বিলুপ্ত হচ্ছে কাঁঠাল গাছ। তাই বাগানের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। শিল্প কারখানা গড়ে ওঠায় অনেকেই কাঁঠাল গাছ বিক্রি দিচ্ছেন। আসবাব প্রস্তুতকারী ও ব্যবসায়ীরা নামমাত্র দাম দিয়ে কিনে ফায়দা লুটছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শ্রীপুরের সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাট তেলিহাটি ইউনিয়নের জৈনা বাজার। এ মৌসুমে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে পানির দরে। ১৫ কেজির ওপরে বড় সাইজের একটি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। আর মাঝারি সাইজের কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫-২০ টাকায়। ফলে দাম না পাওয়ায় এলাকার অনেকে কাঁঠাল তাদেও বাড়িতে গরু-ছাগলের খাবার হিসেবে খাওয়াচ্ছেন। বাজারে ইজারা পরিমাণ বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতা কাঁঠাল কিনতে চাচ্ছে না। এ কারণে কাঁঠালের দাম নেমে গিয়েছে।

কেওয়া গ্রামের কাঁঠাল বাগান মালিক আলমাছ উদ্দিন জানান, একসময় কাঁঠালের অনেক কদর ছিল। শ্রমিকদের মজুরি হিসেবে কাঁঠাল দেওয়া হতো। ৩/৫টি কাঁঠালের বিনিময়ে একজন শ্রমিক তার গৃহস্থের সারা দিন কাজ করে দিতেন। বর্তমান সমেয় কৃষকেরা তাদের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত ব্যবস্থা গড়ে তুললে এ উপজেলার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে আরও উপকৃত হবে।

কাঁঠাল ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, প্রায় মাস খানেক আগে থেকে বাজারগুলোতে পাকা কাঁঠাল উঠতে শুরু করেছে। দুই থেকে তিন মাস কাঁঠালের ভরা মৌসুম থাকে। এ সময় পাইকার ও শ্রমিক শ্রেণির লোকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়। এবার কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে। জাতীয় ফল কাঁঠাল আকারে বড়, পুষ্টি সমৃদ্ধ ও গুনমান অনেক বেশি। কাঁঠালের কোন অংশই ফেলনা নয়। পাকা কাঁঠালের কোশ সুস্বাদু খাবার, বাকল গবাদি পশুর খাদ্য, বীজ ও কাঁচা কাঁঠাল তরকারি হিসেবে খাওয়া যায়।

মাওনা ইউনিয়নের বারতোপা গ্রামের বাগান মালিক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কাঁঠাল গাছের খুব একটা যত্ন করি না। তবু এবার আমার বাগানের ৭০ থেকে ৮০টি গাছে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। গত ১৫ দিনে ছোট-বড় ৫০০-৭০০ কাঁচা কাঁঠাল বিক্রি করেছি। এ রকম ২০০টি মাঝারি ও ছোট্ট আকারের প্রতি পিস কাঁঠাল ২৫ টাকায় বিক্রি করেছি। বড় আকারের কাঁঠালগুলো প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কাঁঠালগুলো দ্রুত পেকে পচে যাওয়ার ভয়ে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।

কাওরাইদ এলাকার বাগান মালিক জুয়েল রানা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অন্যান্য ফল ও গাছ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়, কাঁঠাল নিয়ে তার সিকি ভাগও হয় না। অথচ কাঁঠাল একটি অর্থকরী ফসল ও জাতীয় ফল। কোনো পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় ও অবাধে কাঁঠাল গাছ নিধন হওয়ায় উপজেলায় কাঁঠাল বাগানের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এখন বাড়ির আঙ্গিনা ও সড়কের ধারে ছাড়া তেমান বাগান চোখে পড়ে না। সরকার একটু নজর দিলে অনেকেই কাঁঠাল-বাগানে উদ্বুদ্ধ হতো।

জৈনা বাজারের আড়তদার সোহেল রানা বলেন, এবারের বন্যার কারণে সিলেটে কাঁঠাল কেনাবেচা কম। কাঁঠালের বাজার অর্ধেকে নেমে এসেছে। উপজেলায় সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা থাকলে বাগান মালিকেরা ন্যায্য দাম পেতেন এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই লাভবান হতেন। নতুন করে অনেকে বাণিজ্যিকভাবে কাঁঠাল চাষে আগ্রহী হতেন।

জৈনা বাজারের ইজারাদার আব্দুল হান্নান বলেন, প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জৈনা বাজার চলে কাঁঠাল বেচা-কেনা। এ হাট থেকে প্রতিদিন ৪০-৫০ ট্রাক কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায়।

সিলেট থেকে আসা পাইকার রসুল মিয়া বলেন, শ্রীপুরের লাল মাটির উৎপাদিত কাঁঠালের স্বাদ অনেক ভালো। রসে টইটম্বুর মিষ্টি এসব কাঁঠালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই এখান থেকে প্রতি সপ্তাহে আট ট্রাকে কাঁঠাল নিয়ে বিক্রি করছি। ট্রাক দিয়ে কাঁঠাল নেওয়ার খরচসহ শ্রমিকদের খরচ বাদ দিলে খুব বেশি লাভ করা সম্ভব হয় না।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ইনজুর মেডিকেল অফিসার ও হৃদরোগ বিভাগের চিকিৎসক শ্রীপুরের বাসিন্দা ডা. মামুনুর রহমান কাঁঠালের গুণাগুণ ও পুষ্টিগুণ সম্বন্ধে বলেন, কাঁঠাল একটি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। কাঁঠালে কয়েক প্রকার ভিটামিন ও পুষ্টি রয়েছে। কাঁঠাল তরকারি হিসেবে খেলে আলাদা ভিটামিন পাওয়া যায়। কাঁঠালের বিচিতে পর্যাপ্ত পুষ্টি রয়েছে। তা ছাড়া কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে কাঁঠাল হয়ে থাকে। মৌসুমি ফল অনুযায়ী যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই ভালো।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বণ্যা বলেন, শ্রীপুরে বাণিজ্যিক ভিত্তিক কাঁঠাল-বাগান নেই। এ বছর উপজেলায় ২৮০০ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল গাছ রয়েছে। এসব গাছে বছরে ৬০ হাজার টন কাঁঠাল উৎপাদন হয়। স্থানীয়ভাবে চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

তিনি আরও জানান, হরটেক্স ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সঙ্গে কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত এবং রপ্তানিকরণ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, নারী উদ্যোক্তা গঠন, কাঁঠালের চিপস, বার্গার, আচার ঝুড়ি বাজা তৈরি করার জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এ বছর থেকে তারা এসব কার্যক্রম শুরু করেছে।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নরসিংদীতে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার
নরসিংদীর রায়পুরায় এক নবজাতক কন্যা শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের মরা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।  পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে শ্রীনগর ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে থাকা একটি মরা নদীর পাড়ে খেলতে যায় কয়েকজন শিশু। সেখানে ব্যাগে থাকা ওই নবজাতককে দেখতে পায় একজন। পরে খবর পেয়ে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের ধারণা গত রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাত ব্যক্তি ওই নবজাতককে কাদাপানিতে ফেলে রেখে গেছে।  এ বিষয়ে রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান বলেন, স্থানীয় লোকজন ও চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে দেখতে পাই শরীরে কাদাপানি লাগানো একদিন বয়সী একটি মেয়ে বাচ্চার মরদেহ। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়। আরটিভি/এফএ/এআর
নরসিংদীতে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার
পুকুরে ডুবে ২ বোনের মৃত্যু
কুমিল্লার চান্দিনায় পুকুরে ডুবে সামিয়া আক্তার (৩) ও হামিদা আক্তার (২) নামে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে।  মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) উপজেলার মাইজখার পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। মৃতরা মাইজখার গ্রামের সুজন মিয়ার মেয়ে। দুই শিশুর চাচা খোকন মিয়া জানান, মঙ্গলবার সকালের পরিবারের সদস্যদের অগোচরে খেলতে গিয়ে সামিয়া ও হামিদা বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। দীর্ঘসময় ধরে স্বজনরা তাদের না দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় দেখে তাদের উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাদের চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। বিস্তারিত পরে জানাতে পারব। আরটিভি/এফএ/এআর
পুকুরে ডুবে ২ বোনের মৃত্যু
টেকনাফে অপহৃত ১৮ বনকর্মী উদ্ধার
কক্সবাজারের টেকনাফে অপহৃত ১৮ বনকর্মীকে অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে।  মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে টেকনাফের গহীন পাহাড় থেকে তাদের উদ্ধার করে র‍্যাব। উদ্ধার হাওয়া বনকর্মীরা হলেন- ফরেস্টার সাইফুল ইসলাম (২২), সৈয়দ (৫০), রফিক, আইয়ুব খান (১৮), আইয়ুব আলী (৫০), আনসার উল্ল্যাহ (১৮), আয়াত উল্লাহ (২২), সামছু (৪৫), ইসলাম (২১), সামছু (৪০), ইসমাইল (৩৫), মোহাম্মদ হাসিম (৪০), নূর মোহাম্মদ (২১), সৈয়দ আমিন (৩০), সফি উল্লাহ (৩০), আইয়ুব (৫০), মাহাতা আমিন (১৮)। আরও দুজনের নাম পাওয়া যায়নি। এদের মধ্যে অনেকে রোহিঙ্গা আছেন বলে জানা গেছে।  র‌্যাব-১৫–এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান ও টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, সোমবার সকাল ১০টার দিকে জাদিমোরা পাহাড়ে বনে বন বিভাগের হয়ে গাছের চারা রোপণের কাজ করার সময় অস্ত্রের মুখে শ্রমিকদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণের শিকার শ্রমিকদের পরিবারের কাছে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। পরে তাদের উদ্ধারে মঙ্গলবার সকাল থেকে হ্নীলার জাদিমোরা পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরে মঙ্গলবার বিকেলে টেকনাফ গহীন পাহাড় থেকে ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়। অভিযান এখনো চলমান। এর আগে সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) টেকনাফের জাদিমুড়া এলাকায় পাহাড়ি এলাকা থেকে ১৯ বনকর্মীকে অপহরণ করে অস্ত্রধারীরা। অপহরণের পর থেকে মুক্তিপণ হিসেবে তাদের পরিবারের কাছে ফোন করে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে মোট ১৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। আরটিভি/এফএ/এআর
টেকনাফে অপহৃত ১৮ বনকর্মী উদ্ধার
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি: ধর্ম উপদেষ্টা
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদে প্রেরণ এবং প্রধান উপদেষ্টার অনুমতিক্রমে গেজেট প্রকাশ করা হবে। বেতন কাঠামো হবে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী। এতে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বাসা এবং উৎসব ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ব্যবসা করার জন্য বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। রোগে আক্রান্ত ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া হবে, যা ফেরত দিতে হবে না। তিনি আরও বলেন, গ্রুপিং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের মধ্যেও আছে। কখনো শুনেছেন তারা মারামারি করেছে। আমরা মুসলমানরা একদল আরেক দলকে পিটিয়ে মেরে ফেলি। আপনারা (ইমাম-মুয়াজ্জিনরা) যখন মিথ্যা বিবৃতি দেন তখন আমাদের মন ভেঙে যায়। এতে আমাদের ভাবমূর্তি বিদেশে বিনষ্ট হচ্ছে। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সরকার দেশ সংস্কারের কাজ করছে। সংস্কার শেষ হলে নির্বাচনের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হবে তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করব এবং আমরা বিদায় নেব। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঐক্য। প্রতিটি মানুষের অধিকার সমান। অধিকার সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। আরটিভি/এফএ
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি: ধর্ম উপদেষ্টা
ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ওভারটেক করতে গিয়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন মোটরসাইকেলচালকও। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  নিহত যুবকের নাম শাহিনুল ইসলাম শোয়াইব (২৪)। তিনি উত্তর আধুনগর বেপারি পাড়ার নাজিম উদ্দীনের পুত্র। শোয়াইব চট্টগ্রাম মহসিন কলেজের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শোয়াইবের বন্ধু মোটরসাইকেলচালক সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ গারাংগিয়া আলোরঘাট এলাকার মোহাম্মদ ইদ্রিসের পুত্র মোহাম্মদ তারেক (২৪)। তিনি উপজেলার বেসরকারি হাসপাতাল সাউন্ড হেলথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।  স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অভিমুখী মোটরসাইকেলটি দ্রুতগতিতে একটি সিএনজি অটোরিকশাকে ওভারটেক করতে গেলে মোটরসাইকেলচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে রাস্তার বাইরে পড়ে যান। মোটরসাইকেলের পিছনে থাকা আরোহী শোয়াইব কক্সবাজার অভিমুখী ট্রাকের পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে থেঁতলে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, সিএনজি অটোরিকশাকে ওভারটেক করতে গিয়ে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ট্রাকটি দোহাজারী হাইওয়ে থানার হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। আরটিভি/এফএ
ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
আরও পড়ুন
শ্রীপুরে লেপ-তোশকের দোকানে আগুন
মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলছাত্র নিহত
শ্রীপুরে বাসের ধাক্কায় নারী পোশাকশ্রমিক নিহত
পিকনিকের বাস বিদ্যুতায়িত হয়ে ৩ শিক্ষার্থী নিহত: তদন্ত কমিটি গঠন