ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

করোনার মধ্যেও থেমে নেই কোচিং বাণিজ্য!

জহিররায়হান সোহাগ,চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২০, ০৯:২৮ এএম
ছবি সংগৃহীত

মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন পার করছে দেশের মানুষ। বন্ধ রয়েছে সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরীক্ষা অনিশ্চিত। কিন্তু এই মহামারির মধ্যেও চুয়াডাঙ্গায় থেমে নেই কোচিং ব্যবসা। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে খুব কৌশলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোচিং বাণিজ্য চালাচ্ছেন কয়েকজন শিক্ষক। এমনকি, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের অনুমতি নিয়ে ওই ব্যবসা চালানো হচ্ছে বলে এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন দামুড়হুদার নতিপোতা গ্রামের এক শিক্ষক। তার দেখাদেখি বসে নেই অন্যরাও। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কাউকে কোচিং চালানোর অনুমতি দেয়া হয়নি বলে জানান পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম।

গেল ১৫ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখার উপসচিব মোহাম্মদ আবু নাসের বেগ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞানে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার লক্ষ্যে পূর্বের বন্ধের ধারাবাহিকতায় আগামী ৬ আগস্ট ২০২০ তারিখ পর্যন্ত সকল ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকবে। এ সময়ে নিজেদের এবং অন্যদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীগণ নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের বাসস্থানে অবস্থানের বিষয়টি অভিভাবকবৃন্দ নিশ্চিত করবেন এবং স্থানীয় প্রশাসন তা নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ করবেন।

কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ওই এলাকায় কোচিং চলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা, হেমায়েতপুর, নতিপোতা, কালিয়াবকরী, চারুলিয়া, ভগিরথপুর, ছুটিপুর, গোপালপুর, কলাবাড়ি, রামনগর, ইব্রাহিমপুর, বিষ্ণুপুরসহ আশপাশের এলাকায় বহাল তবিয়তে চলছে কোচিং বাণিজ্য। সম্প্রতি ওই এলাকায় কয়েকজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও নতিপোতা গ্রামের জ্ঞানগৃহ কোচিং সেন্টারের পরিচালক দবির উদ্দিন, কালিয়াবকরী গ্রামের আশার আলো কোচিং সেন্টারের পরিচালক ইদ্রিস আলী, নতিপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাদ আহমেদ, চারুলিয়া গ্রামের শাকিল খান ও মিঠু খানসহ আশপাশের এলাকার কিছু অসাধু শিক্ষক কোচিং ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কয়েকদিন আগেও নতিপোতা গ্রামের কোচিং শিক্ষক দবির উদ্দিন প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে নতিপোতা ও পার্শ্ববর্তী কালিয়াবকরী গ্রামের কিছু সুযোগ সন্ধানী অভিভাবকের বাসা ভাড়া নিয়ে কোচিং চালাচ্ছিলেন। এখন নিজ কোচিং সেন্টারেই তিনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার তাকে কোচিং চালানোর জন্য অনুমতি দিয়েছেন বলে অভিভাবকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আশ্বস্ত করে শিক্ষার্থীদের কোচিং এ উপস্থিত করাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশকিছু অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, একাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিং চলায় বজায় থাকছে না সামাজিক দূরত্ব। যেখানে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কোচিং বন্ধের নির্দেশ দেয় সেখানে তারা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোচিং চালায় কিভাবে?

এর আগেও নতিপোতা গ্রামের কোচিং শিক্ষক দবির উদ্দিনকে দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন কোচিং সেন্টার বন্ধের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু তা না মেনে কোচিং চালাচ্ছেন তিনি। অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান তারা।

জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কিভাবে তারা কোচিং চালাচ্ছে? চুরি করে কোন কিছু করাও অপরাধ। আর কোচিং তো অবৈধ। অবৈধ জিনিস কিভাবে টিকে থাকে তাও আবার করোনার মহামারির মধ্যে? অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।

কোচিং সেন্টার চালানো বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোন অনুমতি দেয়া হয়েছে কি-না, এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জানান, কাউকে কোচিং চালানোর অনুমতি দেয়ার এখতিয়ার পুলিশের নেই। কোচিং চালানোর জন্য কাউকে অনুমতিও দেয়া হয়নি। সম্প্রতি কোচিং চালানোর বিষয়ে অভিযোগ আসলে নতিপোতা গ্রামের দবির উদ্দিন নামে এক কোচিং শিক্ষককে দামুড়হুদা মডেল থানায় হাজির করা হয়। ওই শিক্ষক কান্নাকাটি করলে তাকে দুই-তিনজন পড়ানোর জন্য বলা হয়। কোচিং চালানোর জন্য নয়।

করোনার সংক্রমণের মধ্যেও কোচিং সেন্টার চালানো প্রসঙ্গে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমান জানান, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কেউ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হবে। যদি কেউ দরিদ্র হয় তাহলে তাদের ত্রাণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু কোচিং বন্ধ থাকবে।

একই অভিমত প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, এই সংকটময় সময়ে কোচিং সেন্টার চালানোর তো কোন প্রশ্নই ওঠে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যারা কোচিং চালাচ্ছেন, সে যেই হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মাদারীপুরে একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগ ও তার পরিবারের নারী সদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।  বৃহস্পতিবার কালকিনি উপজেলার ডাসার থানাধীন দর্শনা বাজারে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে প্রধান শিক্ষক ও তার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদ জানানো হয়।  এ সময় বক্তারা দ্রুত এই ঘটনার সাথে জড়িত ও অভিযুক্ত ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজের বিচার দাবী করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের কমিটি করাকে কেন্দ্র করে কালকিনি উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের নারী সদস্যসহ প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরই প্রতিবাদ ও দোষীর বিচারের দাবীতে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন। উল্লেখ, ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর ইয়াবাসহ ডাসার থানা পুলিশের হাতে আটক হয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ। পরে পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। এর আগে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেফতার করে জেলার  গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রিসহ নানা অভিযোগে এনে পদত্যাগ দাবী করে একাধিকবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। তবুও টনক নড়েনি প্রশাসনের। জিএ
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়েছ। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে উপকূলীয় জেলা বরগুনায় নির্মাণ করা হয়েছে এ জাদুঘরের। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নকশার একশ’টি নৌকার অনুকরণে শুরু হল এই জাদুঘরের। বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন ৭৮ শতাংশ জমির ওপর স্থাপন করা হয়েছে জাদুঘরটি। বিশাল নৌকার আদলে তৈরি এ জাদুঘরটির দৈর্ঘ্য ১৬৫ ফিট এবং প্রস্থ ৩০ ফিট। এখানে থাকবে নৌকা গবেষণা কেন্দ্র, আধুনিক পাঠাগার, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশু বিনোদন কেন্দ্র এবং ফুড কর্নারসহ নানা আয়োজন। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টায় মহামারি করোনা প্রতিকূলতার মাঝেও মাত্র ৮১ দিনে সম্পন্ন হয় দেশের প্রথম নৌকা জাদুঘর নির্মাণের কাজ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীমাতৃক দেশের প্রধান বাহক হিসেবে হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে এই নৌকা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক বিভিন্ন অভিযানে নৌকা ব্যবহার করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে এই নৌকা। বঙ্গবন্ধু জাদুঘরটির মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন অনুকরণের নৌকার দেখা পাবে দেশের নতুন প্রজন্মরা- এমনটাই ভাবছেন স্থানীয় সচেতন মহল। জিএ 
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক হত্যকান্ডে জড়িত এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শহরের চন্ডিবের খাঁ বাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৮ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনার মুলহোতা এবং শহরের চিহ্নিত ছিনতাইকারী ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ইমন পৌর শহরের ভৈরবপুর মধ্যপাড়ার আড়াই বেপারীর বাড়ির মৃত মাসুদ মিয়ার ছেলে।  আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন।  জানা গেছে, শহরের দুর্জয় মোড়ের পূর্ব পাশে গত সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহত শ্রমিক সুনামগঞ্জের বিশম্ভপুর উপজেলার বাঘগাঁও গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে। বিয়ের মাত্র দুই মাস পর নিহত এহসানুল তার এক চাচাসহ তারা দু’জন গত দু’সপ্তাহ আগে ভৈরবে কাজের সন্ধানে এসে ছিলেন। পরে কয়েক দিন শ্রমিকের কাজ করে কিছু টাকা জমান। পরে জমানো টাকা নিয়ে গত সোমবার রাতে তারা দুর্জয় মোড় থেকে বাড়ী যাবার সময় বাসে উঠার আগে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। একই সাথে ছিনতাইকারীদের ধারালো ছুরির আঘাতে এহসানুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।  এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজিত শত শত কয়লা শ্রমিকরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ফেরিঘাট থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় প্রদক্ষিণ করে ভৈরব থানায় প্রবেশ করে। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যায় এবং কাজে যোগ দেয়।  এছাড়াও এদিন (মঙ্গলবার) রাতেই নিহতের চাচা আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দু’জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুঠোফোনে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নামে এবং প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জিএ
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুর ১১ সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঝিল এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ছুরি, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গত শনিবার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১৭ মামলার আসামি নুরুকে খুঁজতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় তার সহযোগীরা। এ সময় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় আটক করা হয় নুরুর সেকেন্ড ইন আজমকে।  আটককৃতদের মধ্যে হামলার ঘটনায় কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন আকবরশাহ থানার ওসি জহির হোসেন।   পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার রাতে আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঝিল এলাকায় সরকারী পাহাড়া কেটে আলিশান বাড়ী, সেমিপাকা ঘর, মসজিদ, এতিমখানা ও গরু-ছাগলের খামার তৈরি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে নুরুর বিরুদ্ধে। জিএ
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় চার মাস তদন্ত শেষে পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশ। তবে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তিতাস গ্যাসের অভিযুক্ত ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির নারায়ণগঞ্জ শাখার তদন্ত দল। চার্জশিটে প্রধান আসামি করা হয়েছে ওই মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর মিয়াকে (৬০)।  মামলায় প্রধান আসামি আবদুল গফুর মিয়া ছাড়াও অন্যান্য আসামিরা হলেন- সামসুদ্দিন সরদার (৬০), শামসু সরদার (৫৭), শওকত আলী (৫০), অসিম উদ্দিন (৫০), জাহাঙ্গীর আলম (৪০), শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল (৪৫), নাঈম সরদার (২৭), কাইয়ুম (৩৮), মামুন মিয়া (৩৮), আলমগীর সিকদার (৩৫), মাওলানা আল আমিন (৪৫), সিরাজ হাওলাদার (৫৫), নেওয়াজ মিয়া (৫৫), নাজির হোসেন (৫৬), আবুল কাশেম (৪৫), দেলোয়ার হোসেন, বশির আহমেদ (হৃদয়) (২৮), তানভীর আহমেদ (৪৫), আল আমিন (৩৫), আবদুল মালেক (৫৫), মনিরুল (৫৫), স্বপন মিয়া (৩৮), আসলাম আলী (৪২), আলী তাজম (মিল্কী) (৫৫), রিমেল (৩২), আরিফুর রহমান (৩০), মোবারক হোসেন (৪০) ও রায়হানুল ইসলাম (৩৬)।  তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। সিআইডি পুলিশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় তিতাসের অভিযুক্ত আট কর্মকর্তা-কর্মচারিকে আপাতত চার্জশীটে লিপিবদ্ধ করা না হলেও তাদেরকে মামলায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে  অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন পেলেই তাদেরকে আসামি হিসেবে চার্জশীটে সম্পৃক্ত করা হবে। তবে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, সিআইডি আদালত পুলিশের কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চার্জশিট জমা দিয়েছে। রোববার তা আদালতে পেশ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজ চলাকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মসজিদের অভ্যন্তরে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ থেকে স্পার্ক ও অবৈধ গ্যাস পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসের মিশ্রনে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি পুলিশ। এই বিস্ফোরণে ৩৭ জন গুরুতর দ্বগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের মধ্যে ৩৪ জন মারা যান। জিএ
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
আরও পড়ুন
মানিকগঞ্জে পথচারীদের ২০ হাজার মাস্ক বিতরণ
সিনোফার্মের করোনা টিকা অনুমোদন দিলো চীন
করোনায় চব্বিশ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলো
উহানের ৫ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল: গবেষণা