তার জন্মের পরে দাই যখন তার চেহারা মাকে দেখায় তখনই তার মায়ের মৃত্যু ঘটে। প্রথম যেদিন ব্যবসাপ হাল ধরতে বাবা হোসেন আলীর আড়তে পা রাখে সেদিনই লাগে আগুন। তখন থেকে মানুষ তাকে দেখলে টিটকারী মেরে বলে অভাগা যেদিকে চায় সেদিকেই সাগর শুকায়। কিসমত এর কথা হলো অভাগার জন্য একটা মস্ত সাগর শুকাবে কেন? তাই সে সাগর নামের লোকের সাথে সে কোনোদিন বন্ধুত্ব করেনি। গ্রামে রাস্তায় টং দোকানে কাউকে সাগর কলা খেতে দেখলে উড়াধুরা মাইর দিয়ে সবরি কলা খাওয়ার পরামর্শ দেয়। কোথাও কোনো জায়গায় "নীল সাগর পাড় হয়ে তোমার কাছে এসেছি" এই গানটি শুনলেই সেখানে গিয়ে ভাংচুর করে।
গ্রামের বন্ধুবান্ধবের শত অনুরোধ শর্তেও সাগর দেখতে কখনো কক্সবাজারও যায়নি। সেই কিসমতের আজ বিয়ে। এই বিয়ে নিয়ে সে পড়লো জীবনের আরেক অনিশ্চয়তায় যখন বিয়ের কার্ডটি হাতে পেল। যে মেয়েটির সাথে বিয়ে তার ডাক নাম আঁখি জানলেও কিসমত জানতোনা তার আসল নাম সাগরিকা। তখনই সে নিশ্চিত হয় তার বিয়েটা নিয়েও একটা ঘাপলা হবে। সে যেদিকে চায় যেহেতু সেদিক পুড়ে খাঁক হয়ে যায় তাই সে মেয়েটিকে হারানোর ভয়ে মিথ্যের আশ্রয় নেয় যে তার বাপ দাদারা কনের মুখ দেখে বিয়ে করেনি। সেই রেওয়াজটা অক্ষুন্ন রাখতে গিয়ে সেও কনের মুখ দেখবেনা। এই আধুনিক যুগে এইরকম একটা বিষয় যে হতে পারে মামার সংসারে মানুষ আঁখির কাছে তা অবিশ্বাস্য লাগে। সে নিশ্চিত কোন মানসিক রোগীর সাথেই তার মামা তার বিয়ে দিচ্ছে। বিয়ের তিনদিন বাকি। আঁখি এইবার সেই পাত্রের সামনাসামনি হতে চায়। গ্রামের বড় ব্রিজটাতে কিসমতের সাথে দেখা করতে এসেই এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় আঁখি। কিসমত দুই হাতে তার মুখ আড়াল করে রেখেছে। সে কেন এমন করছে সে প্রশ্নের উত্তরে কিসমত বলে এটা তাদের ফ্যামিলীর ট্যাডিশন। বাসর রাত ছাড়া সে কনের মুখ দেখবেনা। আঁখি এবার পুরোপুরি কনফার্ম হয় লোকটির মাথায় কিঞ্চিৎ গন্ডগোল আছে। নিশ্চয় তার মামা কোনকিছুর বিনিময়ে এই লোকটির হাতে তাকে তুলে দিচ্ছে। আর এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকের গল্প।
জুয়েল এলিনের গল্পে ‘মিস্টার অভাগা’ শিরোনামের নাটকটি নির্মাণ করছে রাকেশ বসু। নাটকটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, কেয়া পায়েল।
একক এ নাটকটি মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাত ৮টায় আরটিভিতে প্রচারিত হবে।
আরটিভি/এএ