ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সেদ্ধ ব্রকলিতে কমবে ভুড়ি, বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১:৪৩ পিএম

ব্রকলি হলো একটি সবুজ সবজি যা অত্যন্ত পুষ্টিকর একটা খাবার। এটি ব্রাসিকা পরিবারের অন্তর্গত। ফুলকপি, বাঁধাকপি এরা সবাই একই শ্রেণীর। ব্রকলিকে কাঁচা, রান্না বা সেদ্ধ করে খাওয়া যায়। শীতকালে এই সবজি খেলে ওজন নিয়ে খুব বেশি ভাবতে হবে না। ওজন কমাতে সাহায্য করে ব্রকলি। ব্রকলি হলো সুপারফুড। ব্রকলির মধ্যে ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, সেলেনিয়াম, ফোলেট, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে রয়েছে। এ ছাড়াও এই সবজির মধ্যে ডায়েটরি ফাইবার ও প্রোটিন পাওয়া যায়। ক্যালোরি থাকে নামমাত্র।

একটি ৮০ গ্রাম (সেদ্ধ) ব্রকলিতে ২২ কিলো ক্যালোরি, ২.৬ গ্রাম প্রোটিন, ০.৪ গ্রাম চর্বি, ২.২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২.২ গ্রাম ফাইবার, ৪৭৮ এমসিজি ক্যারোটিন, ৩৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে।

নিউট্রিশন রিসার্চের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত ব্রকলি খেলে শরীরের মোট কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে খাদ্যতালিকায় ব্রকলির মতো ব্রাসিকা শ্রেণীর সবজি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।

পুষ্টিকর এই সবজির গুণাগুণ জেনে নিন

ইমিউনিটি বাড়ায়: ব্রকলিতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন কে হাড়ের যত্ন নেয়। ফোলেট কোষ গঠনে ও কোষের ক্ষয় মেরামতে সাহায্য করে। পটাশিয়াম রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। এমনকী ব্রকলি খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। স্তনে ক্যান্সারের কোষ গঠনের ঝুঁকি ৭৫ শতাংশ কমিয়ে দেয়। এই সুপারফুড হজমে সহায়তা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। পাশাপাশি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করে।

ওজন কমাতে সহায়তা করে: ওয়েট লসের জার্নিতে ব্রকলি রাখুন। এক কাপ সেদ্ধ ব্রকলিতে ৫৫ ক্যালোরি ও ৫ গ্রাম ফাইবার থাকে। ব্রকলি খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভর্তি থাকে এবং মুখরোচক স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। এ ছাড়া ব্রকলিতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং কাজ করার এনার্জি জোগায়। এনার্জি বেশি থাকলে কায়িক পরিশ্রমও করতে পারবেন, যার জেরে ক্যালোরি পুড়বে। এ ছাড়া ব্রকলি খেলে মেটাবলিক রেটও বাড়ে, যা ওবেসিটির ঝুঁকি কমায়। এই সবজির গ্লাইসেমিক সূচকও কম। তাই ব্রকলি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে এবং ওজন কমানোও সহজ হয়।

ক্যানসার আটকানোর ক্ষমতা: যদিও কোনও একটা ‘সুপারফুড’ নেই যা ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে। আবার, ক্যানস্যারের জন্য ডায়েটকে বিশেষভাবে দায়ীও করা যায় না। তবে, একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট কিন্তু ক্যানস্যারের ঝুঁকি কমাতে পারে। ব্রকলির একটি মূল উপাদান হলো সালফোরাফেন। এটি একটি ফাইটোকেমিক্যাল, যা ব্রকলির সামান্য তেতো স্বাদের জন্যও দায়ী। গবেষণায় দেখা গেছে যে সালফোরাফেন একটি নির্দিষ্ট ক্যানস্যারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো: ব্রকলিতে রয়েছে ক্যারোটিনয়েডস, লুটিন এবং জেক্সানথিন যা বয়সজনিত চোখের রোগ যেমন ছানি এবং ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের ঝুঁকি কমাতে পারে। ব্রকলিতে বিটা-ক্যারোটিনও থাকে, যা শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। যার ঘাটতি রাতকানা রোগের জন্য দায়ী।

হরমোনের ভারসাম্য: ব্রকলির মতো ব্রাসিকা শাকসবজিতে ইন্দোল-৩-কার্বিনল (I3C) নামে একটি উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকে। এটা উদ্ভিজ্জ ইস্ট্রোজেন হিসেবে কাজ করে। আমাদের শরীরে এটা ইস্ট্রোজেনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। I3C এছাড়াও পুরুষ এবং মহিলাদের উভয়েরই স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

ইমিউন সিস্টেমের উন্নতি: সালফার সমৃদ্ধ হওয়ায়, ব্রকলি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে। ফলস্বরূপ সংক্রমণের বিরুদ্ধে আপনার ইমিউনিটিকে উন্নত করে। এর কারণ হলো সালফার গ্লুটাথিয়নের উৎপাদনে সাহায্য করে। যা অন্ত্রের ভেতরের আর বাইরের সুরক্ষা প্রদান করতে সক্ষম।

এভাবেই ব্রকলি আমাদের শরীরের বিভিন্ন দিকের উন্নতিতে সাহায্য করে। আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য ব্রকলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডায়েটে ব্রকলি যোগ করা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত।

আরটিভি/এফআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নিউ ইয়ার পার্টিতে ঘর সাজাবেন যেভাবে
দেখতে দেখতে একটি বছর বিদায় নিয়ে চলে এলো আরেকটি বছর। নতুন বছরকে বরণ করতে আমাদের যেন আগ্রহের শেষ থাকে না। নিজের সাজসজ্জা থেকে শুরু করে ঘরটাকেও আমরা সাজিয়ে তুলি মনের মতো করে। বাঙালি উৎসব উদযাপন করতে ভালোবাসে। আর তাই নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে বহু মানুষই নিউ ইয়ার পার্টির আয়োজন করে থাকে। সবারই ইচ্ছে থাকে এই পার্টি যেন স্মরণীয় হয়ে থাকে, এবং সেই জন্য ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। কিভাবে আপনার নিউ ইয়ার পার্টির পরিবেশটিকে আরও আনন্দমুখর এবং উজ্জ্বল করা যাবে, সেটাই আজকের আলোচনা। প্রথমেই, নতুন বছর উদযাপনের প্রধান থিম নির্বাচনের প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, সোনালী বা রৌদ্রিম আলো, স্নোফ্লেক বা আলোকিত ক্রিসমাস গাছের মতো রঙিন সাজসজ্জা ব্যবহার করা যেতে পারে। এই থিমের ওপর ভিত্তি করে আপনি রুমের সাজসজ্জা, আসবাবপত্র, এবং অন্যান্য ছোটখাটো উপাদানগুলি নির্বাচন করতে পারেন। তাজা ফুল দিয়ে সাজানো নতুন বছরের পার্টি শুরু করার জন্য তাজা ফুল একটি দারুণ উপায়। ঘরের প্রবেশদ্বার, খাবার টেবিল, বসার ঘর, বা সেন্টার টেবিলের উপর ফুলের তোড়া রাখা যেতে পারে। এতে পার্টি  প্রাণবন্ত এবং স্বস্তিদায়ক হবে। টুইঙ্কলিং বা ফেইরি লাইটস পার্টি এবং উৎসবের সজ্জায় টুইঙ্কলিং বা ফেইরি লাইটস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলি গাছ, বেঞ্চ, বা পার্গোলায় ঝুলিয়ে একটি জাদুকরী পরিবেশ তৈরি করা যেতে পারে। আপনি চাইলে উষ্ণ সাদা লাইট অথবা রঙিন লাইট ব্যবহার করতে পারেন যা পরিবেশকে উজ্জ্বল এবং উৎসবমুখর করবে। রঙিন থিমযুক্ত সজ্জা আপনি একটি রঙ নির্বাচন করে তার ওপর ভিত্তি করে পুরো পার্টির সাজসজ্জা তৈরি করতে পারেন। সোনালি, রুপালি, কালো, লাল, সাদা, ইত্যাদি রঙের সমন্বয় হতে পারে একটি দারুণ ঘর সাজানোর থিম। উদাহরণস্বরূপ, সাদা রঙ বেছে নিলে সাদা টেবিল ক্লথ, কাটলারি, ন্যাপকিন, এবং সাদা মোমবাতি দিয়ে সাজানো যেতে পারে। বোতল সজ্জা পুরানো বোতল ব্যবহার করে বাড়ির সজ্জা করতে পারেন। বোতলের ভিতরে ফেইরি লাইটস ঢুকিয়ে বা বোতলগুলো সাজিয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরি করুন। পুরানো ওয়াইন বোতলকে মোমবাতির হোল্ডার হিসেবে ব্যবহার করলে তা পার্টির জন্য এক ভিন্ন ধরনের শোভা যোগ করবে। বেলুন ও স্ট্রিমার বেলুন এবং স্ট্রিমার সবসময়ই পার্টি আমেজ তৈরি করতে সাহায্য করে। আপনি পার্টির রঙের থিম অনুযায়ী এগুলো বেছে নিতে পারেন, অথবা রঙের সমন্বয় করে সাজাতে পারেন। ব্যালকনি বা টেরেস পার্টি যদি আপনার বাড়িতে একটি বড় বারান্দা বা ওপেন স্পেস থাকে, তাহলে এটি নতুন বছরের পার্টির জন্য আদর্শ স্থান। এখানে বেলুন, ফেইরি লাইটস, এবং ডিস্কো বল দিয়ে সাজানো যেতে পারে। কাগজের লণ্ঠন কাগজের লণ্ঠন এক বিশেষ ধরনের আলো তৈরি করে, যা নতুন বছরের আনন্দ এবং আলোয় যোগ করা যেতে পারে। এগুলি বারান্দা বা খোলামেলা পার্টি স্পেসে সাজালে পরিবেশ বেশ সজীব দেখাবে। ডিস্কো বল নববর্ষের পার্টি মানেই আনন্দ, সঙ্গীত ও নাচ। ডিস্কো বল এই উৎসবের জন্য একটি দারুণ সাজসজ্জা। এটি পার্টির কেন্দ্রে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে, যা পার্টিকে এক নতুন প্রাণ দেবে। ভাসমান চা আলোর মোমবাতি পার্টিকে মার্জিত এবং সাধারণ চেহারা দিতে ভাসমান চা আলোর মোমবাতি ব্যবহার করতে পারেন। এটি পার্টির পরিবেশে এক শান্ত, অথচ শালীন অনুভূতি যোগ করবে। এলিগ্যান্ট আউটডোর সিটিং আপনার অতিথিদের জন্য আরামদায়ক এবং স্টাইলিশ সিটিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন, যাতে তারা সুস্থিরভাবে বসে পার্টি উপভোগ করতে পারে। সোফা, বীন ব্যাগ বা কাঠের বেঞ্চ ব্যবহার করা যেতে পারে এবং সেগুলোকে বিভিন্ন রঙের কুশন দিয়ে সাজানো যেতে পারে। এভাবেই আপনার বাড়ির পার্টি হতে পারে অতিথিদের জন্য এক দারুণ অভিজ্ঞতা, যা তারা বছরের পর বছর মনে রাখবেন। আরটিভি/জেএম/এআর
নিউ ইয়ার পার্টিতে ঘর সাজাবেন যেভাবে
সয়াচাঙ্ক দিয়ে ব্রকলির রেসিপি
চিকেন হলো প্রোটিনের সর্বোত্তম উৎস। কিন্তু যাদের মাছ-মাংস খাওয়া নিষেধ রয়েছে তারা কী করবেন? শুধু শাক-সবজি খেতে আর কতদিনই বা ভালো লাগে। তাদের জন্য রয়েছে এমন খাবার, যা চিকেনের মতোই প্রোটিনের জোগান দেয় শরীরে। এছাড়া পদের বৈচিত্রের দিক থেকেও আমিষ রান্নার সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দেয় নিরামিষ খাবার। কিছু-কিছু নিরামিষ পদের স্বাদতো মুখে লেগে থাকে আজীবন। সয়াবিন এমন একটি খাদ্যবস্তু যার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অসুস্থ রোগীদের জন্য সয়াবিন খুবই ভালো। মাছ, মাংসর থেকেও বেশি প্রোটিন আছে সয়াবিনে। যারা নিরামিষ খেতে পছন্দ করেন তাদের ৭ থেকে ৮টি সয়াচাঙ্ক খেতে বলা হয়। কুমড়া, পটল, ফুলকপি, ডিম, ব্রকলি এসবের সঙ্গে দারুণ সুস্বাদু লাগে এই সয়াচাঙ্ক। শীতকাল মানেই সবজির ভরা মরসুম। আর এই সময় অন্যান্য সবজির মতোই একটি স্বাস্থ্যকর সবজি হলো ব্রকলি, রয়েছে বহু পুষ্টিগুণও। ব্রকলি যেন গাঢ় সবুজ রঙের ফুলকপি। তুলনামূলক কম হলেও বিভিন্ন বাজারে ব্রকলি পাওয়া যায়। ব্রকলির স্বাদে চাইলেই আনা যায় বৈচিত্র্য। আর স্বাদে বৈচিত্র্য আনতে চাইলে চটপট বাড়িতে বানিয়ে ফেলতে পারেন ব্রকলি দিয়ে সয়াবিন কারি। চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে তৈরি করবেন- উপকরণ (৫ জনের জন্য) সয়াচাঙ্ক: ২ কাপ, ব্রকলি: ২ কাপ (লম্বা ডুমো করে কাটা), আলু: ১ কাপ (লম্বা ডুমো করে কাটা), হলুদ গুড়ো: ১ চা চামচ, মরিচ গুড়ো: ১ চা চামচ, কাঁচামরিচ: ৮-১০টা, লবণ: স্বাদমতো, চিনি: ১/২ চা চামচ, সরিষার তেল: পরিমাণ মতো, ঘি: ১ চা চামচ, ভাজা জিরার গুড়ো: ১/২ চা চামচ প্রস্তুত প্রণালী: প্রথমে একটি পাত্রে ৫-৬ কাপ পরিমাণ পানি ফুটিয়ে নিন। সয়াবিনগুলো ফুটন্ত গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিটের জন্য। ১০-১৫ মিনিট পরে পানি ঝরিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিন। সয়াচাঙ্ক গুলোর পানি ভালো করে হাত দিয়ে চেপে চেপে ঝরিয়ে নিন। এই কাজটি খুব ভালোভাবে করতে হবে যেন সয়াবিনে কোনও পানি না থাকে। আবার পানি দিয়ে চেপে পানি ঝড়িয়ে নিন। এভাবে অন্তত ২-৩ বার পানি দিয়ে আবার চেপে পানি শুকিয়ে নিন।  এবার একটি প্যানে পরিমাণ মতো তেল গরম করুন। তেলে ১/৪ চা চামচ হলুদ ও স্বাদমতো লবন দিয়ে তার মধ্যে সয়াবিনগুলো দিয়ে দিন। হালকা বাদামি লাল করে ভেজে তুলে ফেলুন। আবার পরিমাণ মতো গরম তেলে ১/৪ চা চামচ হলুদ ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে ব্রকলি ও আলু হালকা বাদামি লাল করে ভেজে তুলে ফেলুন।  এবার প্রয়োজনে প্যানে আরও কিছুটা তেল দিয়ে ফাঁড়ি করা কাঁচামরিচ দিন। ৩০ সেকেন্ড ভেজে সামান্য পানি দিন। বাকি ১/২ চামচ হলুদ, মরিচের গুড়ো ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে নাড়তে থাকুন। মসলা থেকে তেল ছেড়ে দিলে ভেজে রাখা সয়াবিন, আলু ও ব্রকলি দিন। ফুটন্ত গরম পানি দিন ২ কাপ পরিমাণ। মাঝারি থেকে কম আঁচে ঢেকে দিন ১০ মিনিটের জন্য। এই সবজিতে খুব সামান্য ঝোল থাকবে। নামানোর আগে দিয়ে দিতে পারেন  কয়েকটি আস্ত কাঁচামরিচ। সবশেষে ঘি, চিনি এবং ভাজা জিরার গুড়ো ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন।
সয়াচাঙ্ক দিয়ে ব্রকলির রেসিপি
কোকো বাটারেই দূর হবে ত্বকের বলিরেখা
আর্দ্রতা একদম কম। তার ওপর চারদিকে ধুলোবালি, দূষণ। ত্বক একদম শুষ্ক। এই অবস্থায় ত্বকের প্রাণ ফিরে পেতে কাজে আসতে পারে কোকো বাটার। কোকো বিনস থেকে তৈরি হয় কোকো বাটার। এই মাখনে ট্রাইগ্লিসারাইড, ফ্যাট রয়েছে। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও, ত্বকে মাখলে দুর্দান্ত উপকার পাওয়া যায়। শুষ্ক ত্বক থেকে ফাটা গোড়ালি ও ঠোঁটের যত্নে দারুণ কাজ দেয় কোকো বাটার। ত্বকের ওপর কোকো বাটারের জাদু— ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে: মধু যেমন প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে, একই কাজ করে কোকো বাটারও। শুষ্ক ও ডিহাইড্রেট ত্বকের ওপর কোকো বাটার মাখলে ত্বকের হারানো আর্দ্রতা ফিরে পাওয়া যায়। শীতকালে মুখের পাশাপাশি হাত-পায়েও ময়েশ্চারাইজেশনের জন্য কোকো বাটার মাখতে পারেন। অ্যান্টি-এজিং এফেক্ট: শুষ্ক ত্বকে তাড়াতাড়ি বলিরেখা দেখা দেয়। অল্প বয়সেই ত্বক বুড়িয়ে যেতে শুরু করে। কোকো বাটার মাখলে ত্বকের অকাল বার্ধক্য নিয়ে ভয় পেতে হবে না। কোকোর মধ্যে ফ্ল্যাভনয়েড ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ত্বকের ইলাস্টিসিটি ধরে রাখে এবং চামড়াকে টানটান রাখে। সহজে বলিরেখা পড়ে না ত্বকে। এ ছাড়া কোকো বাটারে ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা ত্বকে পুষ্টি জোগায় ও ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে। অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান: কোকো বাটার মাখলে ত্বককে সংক্রমণের হাত থেকেও রক্ষা করতে পারবেন। কোকো বাটারে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে, যা ত্বককে একজিমা, সোরিয়াসিসের মতো সমস্যা থেকে বাঁচায়। পাশাপাশি ব্রণ, ফুসকুড়ির হাত থেকেও মুক্তি মেলে। সূর্যালোক থেকে সুরক্ষা: যতই রোদের তেজ কম থাকুক, শীতকালেও সান প্রোটেকশন দরকার। সানস্ক্রিন তো মাখবেন। তার আগে ত্বকে মাখুন কোকো বাটার। এই প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যে ফটোপ্রোটেকটিভ ফাংশন রয়েছে, যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে।  ত্বকের যত্নে কোকো বাটার ব্যবহার করুন: আজকাল বাজারে এমন অনেক বডি লোশন, কোল্ড ক্রিম, ময়েশ্চারাইজার, লিপ বাম রয়েছে, যার মধ্যে কোকো বাটার রয়েছে। সেই সব পণ্য আপনি ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন। স্কিন কেয়ারের পণ্য কেনার আগে যাচাই করে নিন তার মধ্যে কোকো বাটার রয়েছে কিনা। আরটিভি/এফআই
কোকো বাটারেই দূর হবে ত্বকের বলিরেখা
যে কারণে হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যায়
অনেক কারণে হার্টের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হতে পারে, যা কার্ডিওমেগালি নামে পরিচিত। ডাইলেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি (ডিসিএম) হার্টের (হৃৎপিণ্ড) মাংসপেশির রোগ। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের দেয়াল পাতলা হয়ে যায় ও এর বাঁ দিকের চেম্বার অস্বাভাবিক রকম বড় আকার ধারণ করে বা ফুলে যায়। ফলে হৃৎপিণ্ডের পাম্পিং ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। হৃদপিণ্ড এর নিজস্ব গতিতে পাম্প করতে না পারায় রোগীর শরীরে, বিশেষ করে পায়ে পানি আসে ও অল্প পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়। কার্ডিওমেগালি বা হার্ট বড় হয়ে যাওয়া মোটেই কাজের কথা নয়। এতে বহু ধরনের শারীরিক অসুখবিসুখ হতে পারে। সাধারণত অন্য কিছু অসুখের কারণে, যেমন উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্টের আকার বড় হয়ে যায়। তখন আর হার্ট আগের মতো কাজ করতে পারে না। উপসর্গ: কোনো উপসর্গ না থাকায় রোগী বুঝতে পারেন না যে তার হৃৎপিণ্ডে ডিসিএম আছে। চিকিৎসা না হলে আক্রান্ত ব্যক্তি হৃৎপিণ্ড অকার্যকর হওয়া থেকে মৃত্যুঝুঁকিতে পড়তে পারেন। উপসর্গগুলোর মধ্যে শুরুর দিকে অতিমাত্রায় দুর্বলতা, স্বাভাবিক কাজকর্মে শ্বাসকষ্ট, পায়ের পাতায় ও গোড়ালিতে পানি আসে এবং বুকব্যথা ও বুক ধড়ফড় করতে থাকে। পরিবারে কারও এ রোগ হলে বাকি সবার পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উত্তম। কারণ: ডিসিএমের কারণ হিসেবে কিছু সুনির্দিষ্ট সংক্রমণ, প্রেগন্যান্সির শেষের দিকের জটিলতা, ডায়াবেটিস, হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিতে আয়রন জমা হওয়া (হিমাক্রমাটোসিস), উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, হৃৎপিণ্ডের আ্যরিদমিয়া ও ভালভ ঠিকভাবে বন্ধ না হওয়াকে দায়ী করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া অতিমাত্রায় মদ্যপান, সিসা, কোবাল্ট, পারদজাতীয় টক্সিনের সংস্পর্শে আসা, ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে এ রোগ হতে পারে। যাদের ঝুঁকি বেশি রক্তচাপ যদি ১৪০/৯০ বা এর থেকে বেশি থাকে পরিবারের নিকটাত্মীয়ের, যেমন ভাইবোন, যদি কার্ডিওমেগালির ইতিহাস থাকে করোনারি আর্টারি ডিজিজ জন্মগতভাবে ক্ষতিগস্ত হার্ট হার্ট ভাল্বের অসুখ হার্টঅ্যাটাকের ইতিহাস মাড়ির প্রদাহ বা জিনজিভাইটিসে আক্রান্ত রোগীর যদি হার্ট ভাল্বের ত্রুটি থাকে। ডায়রিয়া ও বাতজ্বরজনিত হৃদরোগে আক্রান্ত অল্প বয়সী শিশু-কিশোর। ডিসিএমে যা হয়: ডিসিএমের কারণে হৃৎপিণ্ডের চেম্বার, বিশেষ করে বাঁ দিকের ভেন্ট্রিকল বড় হয়ে যাওয়ায় ভালভ বন্ধ হওয়ার অ্যালাইনমেন্ট বদলে যায়। ফলে রক্তপ্রবাহের কিছু অংশ ব্যাক ফ্লো করে ও হৃৎপিণ্ডকে আরও বড় হতে সাহায্য করে। হৃৎপিণ্ড বড় হতে হতে একসময় পাম্প করতে ব্যর্থ হয়ে এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যাওয়ায় এটি তার পাম্প করার ছন্দ হারিয়ে ফেলে এবং এর ফলে অনিয়মিত হার্টবিট তথা অ্যারিদমিয়া দেখা দেয়। চিকিৎসা পুরোপুরি সুস্থতা ফিরে পাওয়া কঠিন। কিছু ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এ ওষুধগুলোর মধ্যে আছে ডাই-ইউরেটিক, এনজিওটেনসিন কনভার্টিং এনজাইম ইনহেবিটর, এনজিওটেনসিন রিসিপ্টর ব্লকার, বিটা ব্লকার, ডিজক্সিন, অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট, অ্যান্টি অ্যারিথমিক ইত্যাদি। সার্জিক্যাল পদ্ধতিতেও কিছু চিকিৎসা করতে হয়। হৃত্স্পন্দন কম থাকলে বা হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা কমে গেলে কখনো কখনো পেসমেকার বসাতে হয়। আইসিডি নামের ছোট একটি ডিভাইসও বসানো লাগতে পারে। হার্ট ভাল্বের সার্জারিও অনেক সময় লাগে। করোনারি রক্তনালির অসুখ হলে বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন হয় অনেক সময়। কিছু নিয়মকানুন মানলে কার্ডিওমেগালিসহ হার্টের অসুখ থেকে ভালো থাকা যায়। ধূমপান না করা অতিরিক্ত ওজন কমানো পাতে অতিরিক্ত লবণ না খাওয়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়মিত ব্যায়াম করা অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন পরিহার করা অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমানো মাড়ির অসুখের যথাসময়ে চিকিৎসা রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করতে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার বেশি গ্রহণ নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে না করা বাতজ্বর থাকলে তার চিকিৎসা। সূত্র : অনলাইন আরটিভি/এফআই
যে কারণে হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যায়
হার্ট অ্যাটাক কেন হয়, লক্ষণ ও তাৎক্ষণিক করণীয়
বিশ্বব্যাপী বাড়ছে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছেন হৃদরোগের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে। বর্তমানে জীবনযাত্রায় অনিয়মের ফলে কমবয়সীদের মধ্যেও বেড়েছে হৃদরোগের ঝুঁকি। হৃদরোগের এমন কিছু লক্ষণ আছে যা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। এই লক্ষণগুলোও অন্যান্য উপসর্গগুলোর মতই মারাত্মক। নানা কারণেই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক এর চিকিৎসা করাতে না পারলে তৈরি হয় ঝুঁকি। ফলে এর জন্য সচেতন থাকা অত্যাবশ্যক। তাই সবার উচিত এ নিয়ে সতর্ক থাকা। বিশেষ করে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো জেনে রাখা সবারই উচিত। হার্ট অ্যাটাক কী: হার্ট অ্যাটাক হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। রক্তের ধমনীতে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমার কারণে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে রক্তের ধমনীর ব্লক যদি সময় মতো অপসারণ না করা হয়, তাহলে অক্সিজেনের অভাবে হার্টের টিস্যু মরে যেতে শুরু করে। কেন হয়: হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য হার্ট অক্সিজেনযুক্ত রক্ত নেয় করোনারি ধমনির মাধ্যমে। করোনারি আর্টারি তিনটি—লেফট করোনারি আর্টারি, রাইট করোনারি আর্টারি ও লেফট অ্যান্টেরিয়র ডিজেন্ডিং আর্টারি। এই তিনটি আর্টারি বা ধমনির মধ্যে কোনো কারণে যদি কিছু অংশ বা পুরোপুরি ব্লক হয়, তাহলে হার্টের সমস্যা দেখা দেয়। পার্সিয়াল বা অংশত ব্লক হলে তাকে অ্যানজাইনা পেকটোরিস বলা হয়। আর সম্পূর্ণ ব্লক হলে তাকে বলা হয় হার্ট অ্যাটাক। হার্ট অ্যাটাক কাদের হয় ১. বংশগত বা জেনেটিক কারণে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। কারো বাবা-মা কিংবা কাছের স্বজনদের হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকলে তাদের ঝুঁকি বেশি। ২. অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও ধূমপান। ৩. অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস। ৪. অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ। ৫. অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা। ৬. শারীরিক ওজন কম, কিন্তু রক্তে কোলেস্টরেল বা অতিরিক্ত চর্বি বেড়ে গেলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। ৭. কায়িক পরিশ্রম, ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি না করা, শুয়ে-বসে থাকা। ৮. মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বয়স, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণেও হতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ১. হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণ বুকে ব্যথা হওয়া। দুই বুকের মাঝখানে মুষ্টিবদ্ধ হাত রাখলে যেটুকু জায়গা এটাকে রেট্রোস্টার্নাল পেইন বলা হয়। ভেতর থেকে ব্যথা হবে আর এই জায়গার ব্যথাকেই হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা বলে। ২. বুকের ব্যথা একসময় বাম হাত ও ঘাড়ের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। চোয়াল, পেটেও ব্যথা হতে পারে। ৩. হার্ট অ্যাটাকের তীব্রতা বেশি হলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে, কাশি হতে পারে। ৪. প্রেশার কমে গিয়ে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। ৫. বুকের ব্যথার তীব্রতা বেশি হলে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে রোগী। ৬. অনেক সময় বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া। ৭. বুক ধড়ফড় করা।  হার্ট অ্যাটাক হলে তাৎক্ষণিক করণীয়: চিকিৎসকরা বলেন, হার্ট অ্যাটাক এমন একটি সমস্যা যার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে রোগী যেকোনো সময় মারা যেতে পারে। বুকে ব্যথা অনুভূত হলে, হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ মনে হলে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনে জরুরি স্বাস্থ্য সেবায় (৯৯৯) ফোন করতে পারেন। আক্রান্ত ব্যক্তি যেন বেশি নড়াচড়া না করেন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শান্ত থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। রোগী যদি জ্ঞান হারায় বা শ্বাস নিচ্ছে না এমন হলে সঠিক নিয়মে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর দিতে হবে। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে সিপিআর কীভাবে দিতে হয় সেটি জানেন এমন কোনো ব্যক্তি ছাড়া না জেনে যে কেউ সিপিআর দিতে পারবেন না। আক্রান্ত ব্যক্তিকে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ অ্যান্টি প্লাটিলেট ড্রাগ দেওয়া যেতে পারে, যা রক্ত তরল করার জন্য ও ধমনিতে রক্ত প্রবাহে বাধা কমাতে সহায়ক। কারো যদি আগে থেকে হার্টের সমস্যায় নাইট্রোগ্লিসারিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসক, তাদেরকে তাৎক্ষণিক অবস্থায় জিহ্বার নিচে ওই ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। অন্যদের বেলায় দেওয়া যাবে না। হার্ট অ্যাটাক হলে পালস রেট কমে যায়। এ সময় কাশি দিলে রিফ্লেক্স হয়, যার ফলে প্রেশার বাড়ে এবং হার্ট রেটও বেড়ে যায়। সেজন্য কাশি দিতে বলা যেতে পারে রোগীকে। চিকিৎসা: চিকিৎসকরা বলেন, ইসিজি ও রক্ত পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত হবে। তাৎক্ষণিকভাবে রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে রক্ত যাতে জমাট না বাঁধে, চর্বি না জমে সেজন্য রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করা ও রক্ত তরল করার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয় রোগীকে। প্রেশার, গ্যাস্ট্রিক, ডায়াবেটিস, কোলেস্টরেল থাকলে, ঘুম না হলে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধ খেতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শে। একই সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে। এ ছাড়া আধুনিক চিকিৎসা হিসেবে অ্যানজিওগ্রাম করা হয়। হার্ট অ্যাটাকের পর অ্যানজিওগ্রাম করা যেতে পারে, আবার পরেও করা যেতে পারে। অ্যানজিওগ্রামের মাধ্যমে দেখতে হবে হার্টের ব্লক আছে কি না। যদি বেশি ব্লক থাকে, তাহলে বাইপাস করতে হবে। আর যদি কম ব্লক অর্থাৎ এক বা দুইটা ব্লক থাকে তাহলে রিং পরানো যেতে পারে। হার্টের চিকিৎসায় রক্তনালীর ব্লক দূর করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক বা পুনঃপ্রতিস্থাপন করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরোধ ১. জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। ২. সকালে ও বিকেলে নিয়মিত ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটা ও ব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে। ৩. অ্যালকোহল ও ধূমপান পরিহার করতে হবে। ৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, জাঙ্ক ফুড, অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করতে হবে। ৫. ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, প্রেশার, কোলেস্টরেল থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ৬. পরিবারে যদি হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস থাকে, তাদের ২০ বছর বয়সের পর থেকেই নিয়মিত চেক আপ করাতে হবে। ৭. উদ্বেগ, মানসিক চাপমুক্ত থাকতে হবে, ঝগড়া কিংবা জোরে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। তথ্যসূত্র : অনলাইন   আরটিভি/এফআই
হার্ট অ্যাটাক কেন হয়, লক্ষণ ও তাৎক্ষণিক করণীয়
আরও পড়ুন
সকালের ডায়েটে থাক একমুঠো ভেজানো মুগ
গাছের পরিচর্যায় কাজে লাগাতে পারেন এই উপকরণগুলো
ত্রিশের পরে যে কারণে মেয়েদের জন্য জরুরি কোলাজেন
ক্যাফেইনের ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে করণীয়