ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

করোনা মহামারিতে ঢাকা ওয়াসা গ্রাহকবান্ধব

ফারুক আলম

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০১ এএম
ঢাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান

পানির অপর নাম জীবন। নিত্যদিনের খাবার না খেয়ে মানুষ কিছুদিন বাঁচলেও পানি পান না ছাড়া বাঁচা সম্ভব নয়। শরীর সচল রাখা ও শারীরিক ফিটনেস অর্জনে খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণ পানি থাকতেই হবে। আর ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি মানুষের পানির যোগান দিচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। করোনা মহামারির এ সময়ে দৈনিক পানি সরবরাহের সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের কর্ম পরিকল্পনা সাজানোর নিয়ে আরটিভি নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। পাঁচ পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে শেষ পর্ব। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফারুক আলম।

আরটিভি নিউজ করোনা মহামারিতে গ্রাহকদের পানি সরবরাহে ঢাকা ওয়াসা কোন পরিকল্পনায় এগিয়েছে?

প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : বিশ্বজুড়ে আজ করোনা মহামারি চলছে। আমাদের দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ যখন করোনা রোগী শনাক্ত ও মারা গেলেন তখন সব মানুষ ছিলেন আতঙ্কে। ঢাকা ওয়াসার পানি নিরবিচ্ছিন্নভাবে সরবরাহের জন্য ৯ মার্চ থেকে আমরা একটা সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম হাতে নিলাম। কারণ আমরা জানি, ঢাকা ওয়াসা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে প্রায় দুই কোটি মানুষের সেবার বিষয় জড়িত। তাই সব কিছু বন্ধ থাকলেও ঢাকা ওয়াসা সেবা বন্ধ করতে পারবে না। তখন আমাদের স্টাফদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করলাম যে লকডাউন হলেও আমাদের অফিসে আসতে হবে, কাজ করতে হবে। ২০২০ সালের ২৬ মার্চ সরকার যখন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করল তখনও ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। খুব ভালোভাবে আমরা আমাদের সার্ভিস দিয়ে যেতে পেরেছি। কোনো সমস্যা হয়নি। এক দিনের জন্যও কাজ বন্ধ হয়নি।

আরটিভি নিউজ : করোনা মহামারি থেকে সুরক্ষা পেতে ঘন ঘন হাত ধোয়ার প্রয়োজন। এতে পানির চাহিদা বেড়ে যায়। ঢাকা ওয়াসা সেই পানির চাহিদা পূরণে কী করেছে?

প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘন ঘন হাত ধুলে পানি ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হবে না। কারণ ঢাকা ওয়াসার ৪টা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট সম্পূণরূপে চালু রাখা হয়েছে। পাম্প স্টেশন যেগুলো ভূগর্ভস্থ পানি নির্গমণ করে সেগুলোও চালু রাখা হয়। সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও ঢাকা ওয়াসা অত্যাবশ্যকীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান বিধায় আমরা আমাদের কাজ চলমান রেখেছি। নগরবাসীর নিরবচ্ছিন্ন পানি ও পয়ঃসেবাকে সমুন্নত রাখার জন্য ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন বিভাগ তাদের কাজ চালিয়ে যায়।

আরটিভি নিউজ : করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিতে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন কিনা?

প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : আমাদের প্রায় চার হাজার কর্মীর মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন শতাধিক। যারা পজিটিভ হয়েছেন তাদের সব সময় খোঁজখবর নেওয়াসহ সব ধরনের সহায়তার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা শহর ঘনবসতিপূর্ণ শহর হওয়ায় করোনার ভয় ছিল এখানেই বেশি। করোনার মধ্যে কোনো মানুষ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হয়নি। করোনার সংক্রমণ যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য সরকার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করে। করোনার ভয়াবহ আতঙ্ক ও লকডাউনের মধ্যেও ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রাহকদের নিরলসভাবে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রেখেছে। করোনার মধ্যে কোনো এলাকায় পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন কিংবা গ্রাহকের নতুন সংযোগের প্রয়োজন হলে মানুষ ঘরে বসে থেকে ঢাকা ওয়াসার জরুরি ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা মাত্রই সেখানে ওয়াসার কর্মচারীরা পৌঁছে যেতেন। করোনা মহামারির মধ্যেও ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আল্লাহ অনেক ভালো রেখেছেন। এই করোনার সময় ভালো থাকাটাই তো বড় কথা।

আরটিভি নিউজ : ঢাকা ওয়াসার ফের পানির দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কী?

প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : ঢাকা ওয়াসায় পানি সংকটের সমস্যা সমাধান হয়েছে। এখন সংস্থাটির বিভিন্ন উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে। ওয়াসা এমন একটি সংস্থা যা কিনা নিজেদের সক্ষমতার পাশপাশি গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা এবং সুযোগ-সুবিধা নিয়েও চিন্তা করে। সেখান থেকে আগামীতে এলাকাভিত্তিক পানির দাম নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে ঢাকা ওয়াসার। নিম্ন আয়ের মানুষের পানির দাম আর বাড়বে না, কমানো হয়তো সম্ভব হবে না, কিন্তু অন্যান্য জায়গায় পানির দাম বাড়বে। নিম্ন আয়ের মানুষ সময় মতো বিল পরিশোধ করায় তাদের আমরা সন্মানিত করেছি। তবে দুঃখজনক হচ্ছে- আমরা যারা অপেক্ষাকৃত অর্থনৈতিকভাবে ভালো এবং ব্যয়বহুল এলাকায় বসবাস করছি তারাও যে টাকায় পানি পাচ্ছেন, ঠিক একই টাকায় নিম্ন আয়ের মানুষও পানি পাচ্ছে। এটা উচিত না। এই শহরের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি যাদের টাকার কোনো অভাব নেই, তাদের ৭০ লাখ টাকা বিল বাকি থাকে কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের কারও ১০০ টাকাও বাকি নেই। ঢাকা ওয়াসা পানির উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম দামে পানি দিচ্ছে। বাকিটা সরকার আমাদের ভর্তুকি দিচ্ছে। সরকারের এই ভর্তুকির অর্থ ধনীক শ্রেণির মানুষ পাচ্ছেন, সেটা পাওয়া উচিত না। ঢাকা ওয়াসা এখন চিন্তা ভাবনা করছে সরকারের ভর্তুকির অর্থ নিম্ন শ্রেণির মানুষ পেলেও যাতে ধনীক শ্রেণির মানুষ কম পায় সেজন্য এলাকাভিত্তিক পানির দাম নির্ধারণ করবে। এব্যাপারে সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছি যাতে করে নিম্ন আয়ের মানুষ পানি ব্যবহারে অর্থ সাশ্রয় পান।

আরটিভি নিউজ : এলাকাভিত্তিক পানির দাম বাড়ালে ওয়াসার কী লাভ?

প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : অভিজাত এলাকা গুলশানের বাসা ভাড়া আর খিলগাঁওয়ের বাসা ভাড়া এক নয়। দুই এলাকায় পানির দাম একই। এটা যৌক্তিক নয়। যারা পানি বেশি খরচ করেন, তারা বিলাসি জীবনযাপন করেন। অপচয়ও করেন বেশি। ওই পর্যায়ে পানির দামও রাখা হবে বেশি। এ সিস্টেম চালু হলে পানিতে ভর্তুকিও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ঢাকা ওয়াসা দিনে দিনে সফলতার দিকে যাচ্ছে, সেদিক থেকে সংস্থাটি মনে করছে, ভর্তুকি দিয়ে কোনো সংস্থা দীর্ঘমেয়াদে টিকতে পারে না। এখন হাজার লিটার পানির উৎপাদন খরচ ২৫ থেকে ২৭ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। এলাকাভিত্তিক পানির দাম বাড়ালে আশা করা হচ্ছে এই ভর্তুকি কমে আসবে।

আরটিভি নিউজ : ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা’ কর্মসূচি কতটুকু সফলতা পেয়েছেন?

প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : ঢাকা ওয়াসার মূল লক্ষ্য পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও গণমুখী পানি ব্যবস্থাপনা। এ লক্ষ্য ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা’ কর্মসূচির আওতায় নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে। এখন ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা’ কর্মসূচির মধ্যদিয়ে প্রায় শতভাগ সফলতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। তবে ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা’ কর্মসূচি গ্রহণের পরে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছিল। এই কর্মসূচি নিয়ে মানুষ ঠাট্টা করেছেন। ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা’ কর্মসূচি প্রথমে ঢাকা ওয়াসায় ইউনিয়ন সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সব কর্মসূচি তাদের পছন্দ হয়নি। তখন কিছু কিছু কর্মকর্তা ঠাট্টা করা শুরু করলেন, স্যার এমন ঘুরে দাঁড়াইয়েন না, আমরা আওয়ামী লীগ সব বিএনপি হয়ে যাবু? আবার অনেকে বলেছেন যে, স্যার এমন বেশি ঘুরিয়েন না, যেন চিত হয়ে মাটিতে পড়ে যাই। চিত হয়ে পড়ে যাওয়া অর্থ তারা বুঝিয়েছেন- ঢাকা ওয়াসায় যা ছিল এই কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে তাও নষ্ট হয়ে যাবে। অর্থাৎ ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা’ কর্মসূচি নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। যেকোনো পজিটিভ কর্মসূচি হাতে নিয়ে অনেকে তা নেগেটিভ মনে করেন। যেমন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দিলেন তখনও অনেক মানুষ ঠাট্টা করেছেন। আজকে বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির প্রকোপ চলছে। বাংলাদেশের অনেক মানুষ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের কারণে বাড়িতে বসে অফিস করতে পারছেন। অনলাইনে যোগাযোগ করছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে ঢাকা ওয়াসাকে ডিজিটাল ওয়াসা বানানো হবে।

আরটিভি নিউজ : ঢাকা ওয়াসার মিটার রিডার ব্যবস্থা কেমন?

প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : ঢাকা ওয়াসার কিছু রাজস্ব পরিদর্শক (মিটার রিডার) মিটার রিডার ঘুরে মাসিক বিল কমিয়ে দিয়ে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করতেন। কিভাবে তারা মিটার রিডার ঘুরিয়ে পানির বিল কমাতেন সেই কৌশল জানার পর ওয়াসার পুরোন মিটার পরিবর্তন করা হয়। আগের মিটারের তুলনায় বর্তমানে ওয়াসার মিটার গুণগতমান ভাল। এখন যেসব মিটার রয়েছে, সেগুলো আর ঘুরিয়ে মিটার রিডার কমাতে পারেন না রাজস্ব পরিদর্শকরা। গ্রাহক যতটুকু পানি ব্যবহার করবেন ততটুকু বিল পরিশোধ করেন। তবে পুরনো মিটার নিয়ে অনেক সময় অভিযোগ আসতো যে মিটার রিডাররা যে মাসোহারা আদায় করেন, তার একটি বড় অংশ চলে যায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পকেটে। একারণেই অনিয়ম ও দুর্নীতি সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতো। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসায় যেসব মিটার রয়েছে সেগুলো আর ঘুরিয়ে বিল করার কোনো সুযোগ নেই। এতে একদিকে গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধ হয়েছে, অন্যদিকে ঢাকা ওয়াসার সুনাম বাড়ছে। একই সঙ্গে ওয়াসার রাজস্ব কয়েকগুণ বেড়েছে।

আরটিভি নিউজ : ঢাকা ওয়াসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : ঢাকা ওয়াসা পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান করেছে। ইতোমধ্যে পানির ক্ষেত্রে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন হয়েছে। শতভাগ মানুষকে পানি দিতে পারছি। মাস্টারপ্ল্যান ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছি। আর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ২০৫০ সাল পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যানে রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার রোড ম্যাপ পরিষ্কার। সরকারের একটি করপোরেট ম্যানেজমেন্ট ও বাণিজ্যিক সংস্থা। এ সংস্থার রয়েছে অত্যন্ত প্রগতিশীল একটি আইন। এ আইনের মাধ্যমে কাজ করলে আমাদের কেউ কোনোভাবে প্রভাবিত করতে পারে না।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রকৌশলী তাকসিম এ খান ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনার পরিচালকের দায়িত্ব পান। এরপর থেকে একটানা ষষ্ঠবারের মতো তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকা ওয়াসার এমডি পদে আরও তিন বছরের জন্য নিয়োগ পান প্রকৌশলী তাকসিম এ খান।

এফএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সালতামামি ২০২২ / প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টেনেছে যেসব সিনেমা
করোনা মহামারির প্রকোপ কাটিয়ে বিদায়ী বছরে এসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ঢালিউড। ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’র মতো সিনেমার সাফল্যে জোয়ার ওঠে বাংলা সিনেমায়। একের পর এক প্রশংসনীয় সিনেমার কারণে হলমুখী হয়েছেন দর্শকরা। চলুন এক নজরে জেনে নেওয়া যাক ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত কিছু সিনেমা প্রসঙ্গে- হাওয়া : মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘হাওয়া’। মুক্তির আগে থেকেই গানে গানে আলোচিত ছিলো সিনেমাটি। বিশেষ করে ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানে মেতেছিলেন শ্রোতারা। মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহগুলোতে হাউজফুল গেছে সিনেমাটি। পাশাপাশি বিক্রি হয়েছে অগ্রিম টিকিটও। সুস্থধারার বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের মাঝে সিনেমা হলে যাওয়ার আগ্রহের যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, সেটি ‘হাওয়া’ আরও এগিয়ে নিয়েছে বলে মনে করছেন দেশের সিনেমাবোদ্ধা ও অভিজ্ঞরা। তারকাবহুল এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি, শরিফুল রাজ, সুমন আনোয়ার, নাসির উদ্দিন খান, সোহেল মণ্ডল, রিজভী রিজু, মাহমুদ হাসান ও বাবলু বোস। অপারেশন সুন্দরবন : এক সময় সুন্দরবন ছিলো ডাকাতদের একতরফা দাপট। তাদের নির্যাতনে সবসময় তটস্থ থাকত জেলেরা। অপহরণ, মুক্তিপণ দিতে না পারলে হত্যা- সবই নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সুন্দরবনকে দস্যুমক্ত করার জন্য র‌্যাবের দুঃসাহসিক অভিযানের ঘটনা নিয়েই নির্মিত হয়েছে ‘অপারেশন সুন্দরবন’। র‌্যাব ওয়েলফেয়ার কো-অপারেটিভ সোসাইটির প্রযোজনায় সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন দীপংকর দীপন। ভিন্ন ধারার এই সিনেমা দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিয়াজ আহমেদ, সিয়াম আহমেদ, নুসরাত ফারিয়া, জিয়াউল রোশান, মনোজ প্রামাণিক, দর্শনা বণিক, তাসকিন আহমেদ, রাইসুল ইসলাম আসাদসহ অনেকে। শান : সত্য ঘটনা অবলম্বনে পুলিশি অ্যাকশন থ্রিলার গল্পের ‘শান’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে গত ৩মে। এম রাহিমের পরিচালনায় এতে মূখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। তার সঙ্গী হয়েছেন পূজা চেরি। ঈদুল ফিতরে দেশের সব বড় বড় হলে সিনেমাটি মুক্তি পায়। এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আমেরিকায় ‘শান’ দেখতে দর্শকদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও মালয়েশিয়া, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়াতে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হয়। দামাল : গত ২৮ অক্টোবর সারাদেশে মুক্তি পায় রায়হান রাফীর সিনেমা ‘দামাল’। মুক্তির পর থেকেই আলোচনার শীর্ষে ছিল সিনেমাটি। মূলত, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গঠিত স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে কেন্দ্র করে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম, সিয়াম আহমেদ, শরিফুল রাজ, সুমিত সেনগুপ্ত, রাশেদ অপু, সাঈদ বাবু, শাহনাজ সুমি প্রমুখ। গলুই : গত ৩ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে ঢাকাই কিং শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘গলুই’। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের আগ্রহের তালিকায় ছিল সিনেমাটি। ‘গলুই’-তে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি সহজ-সরল প্রেম কাহিনিও রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে নির্মিত সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এস এ হক অলিক এবং প্রযোজনা করছেন খোরশেদ আলম খসরু। এই সিনেমায় শাকিব খানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো জুটি বাঁধেন নতুন প্রজন্মের নায়িকা পূজা চেরি। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে ছিলেন আজিজুল হাকিম, ফজলুর রহমান বাবু, সুচরিতা, আলী রাজ, ঝুনা চৌধুরী, সমু চৌধুরী, পুষ্পসহ আরও অনেকেই।
প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টেনেছে যেসব সিনেমা
বর্ষবরণের রাত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে কতটা নিরাপদ
২০২২ শেষে চলে এলো ২০২৩। খ্রিষ্টীয় নতুন বছরকে বরণ করার বৈশ্বিক আয়োজন এখন বঙ্গদেশেও ‘প্রথা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষবরণের এই রাতে দেশের আকাশেও আলোর ফুলকি ছোটে। হাওয়ায় ভাসে ফানুস। চোখে ধরা পড়ে দৃষ্টিনন্দন সব আয়োজন। কিন্তু ঘনবসতির দেশে এসব আয়োজন নিরাপদ নয়। অনেক সময় নতুন বছর উদযাপনের এই আচরণ ঠিক সভ্যতার সীমার মধ্যেও থাকে না। নানান সব আয়োজনের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে বর্ষবরণের নতুন অনুষঙ্গ হিসেবে যোগ হয়েছে ফানুস ওড়ানো। রাতের আঁধারে হাজার হাজার ফানুস দৃষ্টিসীমাজুড়ে নান্দনিকতা তৈরি করলেও অগ্নি দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। আর রাজধানীর উন্মুক্ত স্থানে থাকা বিদ্যুতের তারে গিয়ে ফানুস পড়লেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর পুরান ঢাকায় রাসায়নিকের গুদাম থাকায় সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আরও বেশি। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, শীতের এই সময় আবহাওয়া ও নগরের অবকাঠামো শুষ্ক থাকায় এমনিতেই অগ্নিঝুঁকি বেশি থাকে। আর এ সময় যদি আনন্দের নামে এভাবে ফানুস উড়ালে, এ ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। শুভ ইচ্ছায় উড়িয়ে দেওয়া ফানুস, দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উড়ন্ত ফানুস কোথায় আটকে যাচ্ছে কিংবা জ্বলন্ত অবস্থায় কোথায় গিয়ে পড়ছে, তা হয়তো জানতেও পারছেন না। এভাবেই ‘দুর্ঘটনা’ ঘটে যেতে পারে যত্রতত্র। এতে ক্ষতি হতে পারে মানুষের জীবনের। তাই এবার রাজধানীতে এসব দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিশেষ করে ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে থার্টিফার্স্টের নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে কোথাও আতশবাজি, পটকা ফোটানো ও ফানুস ওড়ানো যাবে না।’ তিনি বলেন, ঢাকা শহর যেহেতু অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং এর আগেও আমরা দেখেছি ফানুস ওড়ানোর কারণে নানা ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, ফলে এবার আমরা ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছি। এর ব্যত্যয় হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। এজন্য থার্টিফার্স্টে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সাদাপোশাকে এবং নিজেদের পোশাকে পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হবে, যেন কোনো ধরনের নাশকতার উদ্দেশে জঙ্গি বা সন্ত্রাসীরা যাতায়াত করতে না পারে। পাশাপাশি উগ্র ও জঙ্গিগোষ্ঠী যেন কোনো ধরনের নাশকতার তৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য আমরা সতর্ক থাকব। সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল টিম এবং ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে।’ ২০২১-এর ৩১ ডিসেম্বর ইউসুফ রায়হান নামের এক বাবার ফেসবুক পোস্ট সবার মনে থাকার কথা। তবুও এখানে তুলে ধরছি- ‘কী ভীষণ শব্দে আতশবাজি! আমার ছোট্ট বাচ্চাটি এমনিতেই হার্টের রোগী। আতশবাজির প্রচণ্ড শব্দে শিশু বাচ্চাটি আমার ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠে। খুব ভয় পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। খুবই আতঙ্কের মধ্যে সময়টা পার করছি।’ পরে তার আরেক পোস্টে জানা যায়, শিশুটিকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিতে হয় এবং নতুন বছরের প্রথম দিনই মারা যায় সে। অন্যদের আনন্দ উদযাপন নতুন বছরের শুরুতেই একটি পরিবারে শোক ডেকে আনল। শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক আহমেদুর রহমান ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন- ‘একটা বাচ্চা এসেছে ফানুস ওড়াতে গিয়ে মোম পড়েছে চোখে-মুখে। একজন তরুণের সরাসরি চোখেই আগুন হালকা লেগেছে। একজন পথচারীর মুখ ফানুসের আগুনে পুড়েছে। এক মাদরাসাছাত্র ফানুসের আগুনে বৈদ্যুতিক তার পুড়ছে দেখে সেটা নেভাতে গিয়ে নিজের হাত ইলেকট্রিক বার্ন নিয়ে এসেছে (সেই হাতে একটা বড় অপারেশন লাগবে)। একজন ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু’ আতশবাজি কাছ থেকে দেখতে গিয়ে চোখ-মুখ পুড়িয়েছে; বেচারা তার সমস্যার কথা বলতেও পারছে না। এ রকম বেশ কয়েকজন এসেছেন যাদের পটকায় এক বা একাধিক আঙুল উড়ে গেছে।’ এসব চিত্র এক বছর আগের। এখন আরেকটি থার্টি ফার্স্ট নাইট সন্নিকটে। আমরা কি গতবারের থেকে শিক্ষা নেব? নাকি আগামীকালও শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট বা অন্য কোনো হাসপাতালে একই করুণ পরিস্থিতি দেখতে হবে? অবশ্যই সেটি কেউ-ই চাই না। কিন্তু আমাদের চাওয়া আর বাস্তবতার মধ্যে অনেক সময় ফারাক থেকে যায়, ফলে আশঙ্কা করতে হয়। হাজার হাজার মানুষ যদি আতশবাজি ফোটায় আর ফানুশ ওড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এরপরেও আমরা বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে সেটি পারে। ২০২২ সালের শুরুতে যে করুণ সংবাদ আমরা পেয়েছি, তার আর না আসুক! তাই ফানুস নামের অনুষঙ্গটিকে বাদ দিয়েই উৎসব করুন। সচেতন মানুষ হিসেবে এটি সকলের দায়িত্ব। তবে মনের আকাশে উড়াতে পারেন কল্পনার ফানুস।
বর্ষবরণের রাত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে কতটা নিরাপদ
‘নিজেদের স্বার্থে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে’
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেছেন, পৃথিবীর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের মতো এত বেশিসংখ্যক বিভাগ ও সেন্টার নেই। শিক্ষাকে দেশ ও বিদেশের কাছে অর্থবহ করার জন্য আউটকাম বেইজড এডুকেশন বা ফলনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার দিকে সরকার মনোযোগ দিয়েছে। তবে তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢালাওভাবে প্রফেসর সংখ্যা বৃদ্ধির কঠোর সমালোচনা করেন।  ‘রাষ্ট্রনীতিতে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা ও দর্শনের প্রয়োগ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটরিয়ামে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, ইউজিসি সদস্য ও ইআরডিএফবির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন। দেশের কিছু কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে দাবি করে ইউজিসি চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ওনারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে সরে আসছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। ছাত্র, অভিভাবকসহ সমাজে প্রতিনিয়ত আমাদেরকে এখন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এসময় তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার এবং গুণগত শিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এখন ঘরে ঘরে জিপিএ ফাইভ বা টপার আছে। অথচ তারা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগে ৫৪ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি প্রাপ্ত হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণি প্রাপ্ত হয়নি। অথচ আমার সময়ে মাত্র ১/২ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি পেতো।
‘নিজেদের স্বার্থে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে’
একাদশে ভর্তির সুযোগ পেল ১২ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী
প্রথম ধাপের ফলাফলে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছে ১২ লাখ ৭৮ হাজার ১১৪ শিক্ষার্থী। প্রথম ধাপে ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৪৬ জন আবেদন করেছিল। এর আগে, শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফল প্রকাশ করা হয়। অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রথম ধাপের ফল জানা যাচ্ছে। এ বছর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কলেজের ৭০ লাখ ২০ হাজারের বেশি আসন চয়েস দিয়েছে। অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (www.xiclassadmission.gov.bd) প্রবেশ করে ফলাফল জানা যাচ্ছে।
একাদশে ভর্তির সুযোগ পেল ১২ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক শ্যামল
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে শ্যামল দত্ত নির্বাচিত হয়েছেন। তারা দুজনই আওয়ামী লীগপন্থী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ফোরামের প্রার্থী ছিলেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়। এরপর ভোট গণনা শেষে রাত ৮টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা-ই-জামিল। ফলাফল অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি পদে জয়ী ফরিদা ইয়াসমিন পেয়েছেন ৫৬৭ ভোট। তার বিপরীতে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে কামাল উদ্দিন সবুজ পেয়েছেন ৪০১ ভোট। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী শ্যামল দত্ত পেয়েছেন ৪৯৬ ভোট। তার বিপরীতে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে ইলিয়াস খান পেয়েছেন ৪৭৪ ভোট। একইসঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে হাসান হাফিজ (৫৫৯ ভোট), সহ-সভাপতি রেজোয়ানুল হক রাজা (৫৮৩ ভোট), যুগ্ম-সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া (৫৪০ ভোট) ও আশরাফ আলী (৪৯১ ভোট) ও কোষাধ্যক্ষ পদে শাহেদ চৌধুরী (৫৭৬ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচিত ১০ সদস্য হলেন- ফরিদ হোসেন (৪৯৫ ভোট), কাজনী রওনক হোসেন (৪২২ ভোট), শাহনাজ সিদ্দীকি সোমা (৩৯০ ভোট), কল্যাণ সাহা (৩৮২ ভোট), শাহনাজ বেগম পলি (৩৬০ ভোট), সৈয়দ আবদাল আহমদ (৩৪৭ ভোট), জুলহাস আলম (৩৪৫ ভোট), বখতিয়ার রানা (৩৩০ ভোট) মোহাম্মদ মমিন হোসেন (৩৩০) ও সীমান্ত খোকন (২৮৯ ভোট)। নির্বাচিতরা আগামী দুইবছর জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃত্ব দেবেন। এবার কার্যনির্বাহী পরিষদের ১৭টি পদে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটার ছিলেন ১ হাজার ১০২ জন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক শ্যামল