ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদায়ী বছরের যত ভোগান্তি-দুর্ভোগ

শামীম আহসান

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:১০ এএম
ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের পাশাপাশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু নিয়ে খুবই আলোচিত ২০২৩ সাল। হাসপাতালে সিট না পেয়ে কি ভোগান্তিই না পোহাতে হয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের। আর রাজধানীজুড়ে যানজট ছিল নগরবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে চলে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। কোথাও মেট্রোরেল, এলিভেটর এক্সপ্রেসওয়ে, কোথাও বিদ্যুৎলাইন, কোথাও মাটির নিচে নেওয়া হচ্ছে তার, আবার কোথাও সুয়েজলাইন, কখনও ওয়াসার পানির লাইন সংস্কারে চলছে এই খোঁড়াখুঁড়ি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সড়কে সমন্বয়হীন খোঁড়াখুঁড়ির ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। এ ছাড়া বছরজুড়ে ঢাকার ফুটপাত দখল করে ব্যবসার কারণে চলাচলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারেনি নগরবাসী। এসব দুর্ভোগের পাশাপাশি বছরজুড়ে নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে দিশেহারা ছিল মানুষ। আর রাজনৈতিক দলগুলোর মিছিল, মিটিং, সমাবেশ ও বিক্ষোভে উত্তাল ছিল পুরো বছর। এসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ছিল অবর্ণনীয়। সর্বশেষ হরতাল-অবরোধে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আতঙ্ক আর জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলতে হচ্ছে। বিদায়ী বছরে জনদুর্ভোগের কিছু ঘটনা ফিরে দেখার চেষ্টা করেছে আরটিভি অনলাইন।

তেইশেও বিপর্যস্ত ডেঙ্গুতে

করোনাভাইরাসের পাশাপাশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু নিয়ে খুবই আলোচিত ছিল ২০২৩ সাল। দেশের ইতিহাসে রেকর্ড ডেঙ্গু সংক্রমণের বছরে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে রোগীদের। হাসপাতালগুলোতে নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ফ্লোরে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হয়েছে অনেক সংকটাপন্ন রোগীকে। এদিকে, রোগীর তুলনায় অবকাঠামো এবং জনবলের সীমাবদ্ধতা থাকায় চিকিৎসা দিতেও হিমশিম খেতে হয়েছে চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের। ফলে এবারও ডেঙ্গুতে বিপর্যস্ত হতে হয়েছে মানুষকে। ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এখন পর্যন্ত (২৩ ডিসেম্বর) ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫৮ জন রোগী। এরমধ্যে ঢাকায় ১ লাখ ৯ হাজার ৭৪৩ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার ৭১৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ লাখ ১৭ হাজার ২৭৩ জন। ঢাকায় ১ লাখ ৮ হাজার ৪০১ এবং ঢাকার বাইরে ২ লাখ ৮ হাজার ৮৭২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১৬৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ফুটপাত দখল : উপেক্ষিত আদালতের আদেশ

রাজধানীজুড়েই ফুটপাত ও সড়কে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করে যাচ্ছেন হকাররা। কোথাও কোথাও রাস্তার অর্ধেকই দখল করে নিয়েছেন তারা। হকাদের দখলের কারণে রাজধানীর ফুটপাত পথচারীদের জন্য হাঁটার জায়গা খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। পুলিশের সহায়তায় মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চললেও অভিযান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর তা আবার পুরোনো চেহারায় ফেরে। ২০১২ সালে হাইকোর্ট ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে আদেশ দিয়েছিল, পুলিশকে প্রতিমাসে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে এ প্রতিবেদন দেওয়া হয় দাবি করা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। গুলিস্তান ব্যস্ততম এলাকা হলেও চরম বিশৃঙ্খল একটি জায়গার নাম। যানবাহনের এলোমেলো চলা, আর ফুটপাতজুড়ে নানা পণ্যের পসরা- এই নিয়ে গুলিস্তান। জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এক যুগ আগে হাইকোর্ট আদেশ দিলেও তা প্রতিপালনের কোনো নামগন্ধ নেই। যানজটের ভোগান্তি দূর করতে এর প্রতিকার চেয়ে ২০১২ সালে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী ‘সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’–এইচআরপিবি হাইকোর্টে একটি রিট করে। শুনানি শেষে আদালত জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষকে। পাশাপাশি ভ্যান ও ঠেলাগাড়ি পার্কিং বন্ধ, রাস্তার পাশের ফুটপাত বা রাস্তায় দোকানের পণ্য রাখা বন্ধ, রাস্তা-ফুটপাতে যেন ফেরিওয়ালা ও ফলের দোকান বসতে না পারে, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে বলা হয় আদেশে। সেই আদেশের দশ বছরেও পরিবর্তন হয়নি ফুটপাতের চেহারা।

তীব্র যানজটে ভোগান্তি, দুর্ভোগ

বছরজুড়েই তীব্র যানজটে স্থবির ছিল ঢাকা। দিন যত যাচ্ছে যানজটের তীব্রতা তত বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে যানজট নিরসনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কমেনি যাটজট। তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ নগরবাসী দুঃসহ যন্ত্রণা যেন ভাগ্যের লিখন হিসেবেই মেনে নিয়েছেন। যানজটের কবলে পড়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা। বছরজুড়েই ছিল যানজটেরে এই ভোগান্তি। তবে সর্বশেষ উত্তরা থেকে মতিঝিল মেট্রোরেল, একাধিক ফ্লাইওভার তৈরিতে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার হয়েছে জনমনে।

উন্নয়নের খোঁড়াখুঁড়িতে জনদুর্ভোগ চরমে

রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। কোথাও মেট্রোরেল, এলিভেটর এক্সপ্রেসওয়ে, কোথাও বিদ্যুৎলাইন, কোথাও মাটির নিচে নেওয়া হচ্ছে ঝুলন্ত তার, আবার কোথাও সুয়েজ লাইন, কোথাও ওয়াসার পানির লাইন সংস্কারে চলছে এই খোঁড়াখুঁড়ি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সড়কে সমন্বয়হীন খোঁড়াখুঁড়ির ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। মূলসড়ক, অলিগলিসহ প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার সড়ক রয়েছে রাজধানীতে। এরমধ্যে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থাই খারাপ। বিভিন্ন সময় এসব সড়কে উন্নয়নের কাজ করছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এ ছাড়া মেট্রোরেল, এলিভেটর এক্সপ্রেসওয়ে, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, ওয়াসার লাইন, ডিপিডিসি, বিটিআরসি, ডেসকো, তিতাসসহ সেবা সংস্থার কাজ বছরজুড়ে লেগেই আছে। সমন্বয়হীনতার অভাবে রাজধানীর একই সড়কে বারবার চলে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির জন্য দুই সিটি করপোরেশনের একটি নীতিমালা রয়েছে, যেটা অনুসরণ করে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির অনুমতি দেওয়ার কথা। অথচ এসব নীতিমালা অনুসরণ না করেই প্রধান সড়কসহ অলিগলিতে যত্রযত্র খোঁড়াখুঁড়ি করা হচ্ছে। এতে করে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে।

বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা

বৃষ্টি হলেই রাজধানীতেজলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলের অলিগলিতে হাঁটুপানি জমে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। বৃষ্টিতে রাজধানীর সেগুনবাগিচা, কাকরাইল, মালিবাগ, শান্তিনগর, নয়াপল্টন, রাজারবাগ, দক্ষিণখান, বংশাল, নাজিরাবাজার, মুকিমবাজার, গোপীবাগ, উত্তরা, রামপুরা, নাখালপাড়া, হাতিরঝিল, মধুবাগ, আদাবর, সাতরাস্তা, মগবাজার, মিরপুররোড, পান্থপথ, গ্রিনরোড, কমলাপুর, পুরান ঢাকার বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গত ৩ বছরে ১৩৬টি স্থানের জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করা হয়েছে। আরও অনেক নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর নগরবাসীর ভোগান্তি আর কমে না।

বায়ু দূষণে ভুগছে সাধারণ মানুষ

ভৌগোলিক কারণে প্রতিবছর শীতের সময় ঢাকার বায়ুদূষণ বাড়ে। এবার দূষণের দিক থেকে প্রায়ই প্রথমদিকে থাকছে। বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচকে গত দুই মাসে ঢাকা একাধিকবার ৩০০’র বেশি একিউআই স্কোর নিয়ে সর্বোচ্চ দূষিতের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। অথচ কোনো স্থানের একিউআই স্কোর যদি ৩০১ থেকে ৪০০ এর মধ্যে থাকে, তবে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হওয়ার কথা। এমনকি এইএকিউআই স্কোর যদি পরপর তিন ঘণ্টা ৩০০’র বেশি থাকে, তবে সেখান স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করা যেতে পারে। এ বছরের নভেম্বর থেকে দেখা যাচ্ছে যে প্রতি তিন দিনের মাঝে যেকোনো একদিন দিনের কোনো না কোনো সময়ে ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত নগরীতে রূপান্তরিত হয়েছে। আর তার বায়ুর মান সূচক ৩৩০ এর ওপরে থাকছে। গত ৮ বছরের চেয়ে গড়ে এই বছরে ১০ ভাগের ও বেশি বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শ্বাসকষ্ট, হাপানিসহ নানা রোগে ভুগছে সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশে সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বায়ুর মান এতটাই খারাপ থাকে যে, এই পাঁচমাসে সারা বছরের প্রায় ৬৫ শতাংশ বায়ুদূষণ হয়ে থাকে। বায়ূ দূষণের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, ইটভাটা ও শিল্পকার খানার দূষণ, যানবাহনের কালোধোঁয়া, বর্জ্য পোড়ানো, ময়লা আবর্জনা পোড়ানো আর নির্মাণকাজকে। এ বছর ডিসেম্বরে বেশি বায়ুদূষণ হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে অন্যান্য বছরের চেয়ে তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাতকে। ভারত ও বাংলাদেশে যে বছর ভালো বৃষ্টি হয়, সে বছর বাতাস ভালো থাকে। তখন দিল্লি হয়ে যে বাতাস আমাদের দেশে আসে, সেই বাতাসে দূষিত কণা কম থাকে। জুলাই মাসে ভারত এবং বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা। কিন্তু ২০২৩ সালের জুন-জুলাইতে বৃষ্টিপাত কম হয়েছে।

লাগামহীন দ্রব্যমূল্য, দিশেহারা মানুষ

নিত্যপণ্যের বাজার ক্রমশই লাগামহীন হয়ে পড়েছে। বছরজুড়ে দেশে দ্রব্যমূল্য বাড়ার এই অস্বাভাবিক অবস্থায় দিশাহারা মানুষ। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে। সবকিছুর দাম বাড়লেও বাড়ছে না কেবল মানুষের আয়। এ অবস্থায় জীবনে টিকে থাকা দায় হয়েছে। শুধু খাদ্যদ্রব্য নয়, জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় সবকিছুর দামই হুহু করে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সব জিনিসের দাম বেড়েছে, এমন ঘোষণায় দাম আরও বাড়ে। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পায়, মানুষ আরও অসহায় হয়ে পড়ে। নিত্যপণের মধ্যে পেঁয়াজের লাগামহীন দাম মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি দুই দিনের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয় নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির।

হরতাল-অবরোধে, চরম ভোগান্তি

২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় দলটি। এরপর থেমে থেমে চলছে লাগাতার হরতাল অবরোধের কর্মসূচি। সর্বশেষ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয় বিএনপি। ‘সরকার পতনের’ এক দফা দাবিতে চলে নানা কর্মসূচি। টানা হরতাল-অবরোধ, অস্থিরতার কারণে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। গণপরিবহন কম থাকায় রাস্তায় তাদের চরম তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আবার নাশকতার ভয়ে থাকতে হচ্ছে। পরিবহনের চলাচল সীমিত হয়েছে। মালিকরা ভয়ে তটস্থ। কার গাড়ি কখন আগুনে পোড়ানো হয়, এই ভয়ে তারা গাড়ি রাস্তায় বের করছেন না। অবরোধের কারণে দূরপাল্লার বাস-ট্রাক পরিবহন ভীষণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। শুধু বাসেই নয়, এখন দুর্বৃত্তদের টার্গেট ট্রেন। ট্রেনে নাশকতা করছে তারা। তাই প্রতিদিন মানুষকে আতঙ্ক নিয়ে বাসা থেকে বের হতে হচ্ছে। সর্বশেষ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস নামে একটি ট্রেনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ট্রেনের একটি বগি থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। পুড়ে অঙ্গার হয়েছে নেত্রকোণার মা-ছেলে। সর্বশেষ শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীতে তিনিটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।এতে যাতে রাস্তায় গণপরিবহন কমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ে ঘরমুখো মানুষ।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বশেমুরবিপ্রবিতে বছরজুড়ে যা ছিল আলোচনায়
২০২৩ শেষ হয়ে ২০২৪ সালের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। বিগত ২০২৩ সালে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ঘটে গেছে নানা ঘটনা। এর মধ্যে কিছু সুখস্মৃতি, কিছু বেদনাদায়ক। সবকিছু মিলিয়ে তুলে ধরা হলো ২০২৩ এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।  জানুয়ারি বছরের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষার্থী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপে মনোনীত হয়। প্রতিষ্ঠার একযুগ পরে বশেমুরবিপ্রবি পায় প্রথম কোষাধ্যক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. মোবারক হোসেন এই পদে নিয়োগ পান। জানুয়ারি মাসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে কোনো বিভাগ মেয়েদের জন্য কমন রুম চালু করে। বাংলা বিভাগের এই উদ্যোগ ভূয়সী প্রশংসা পায়। ক্যাম্পাসে ইতিবাচক সংবাদের পাশাপাশি নেতিবাচক সংবাদও প্রকাশিত হয়, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষিত হয় শৌচাগারে। ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে ১৫তম সহকারী জজ নিয়োগে উত্তীর্ণ হন আইন বিভাগের আনিচ মুন্সী।  ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে নিয়োগের নামে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় খবর প্রকাশিত হয়। মাস্টাররোল কর্মচারীদের নিয়োগের নামে আকাশ শিকদার ও তার সিন্ডিকেট এই বাণিজ্য করেন। ১৩ই ফেব্রুয়ারী বশেমুরবিপ্রবি ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। দীর্ঘ প্রতিরক্ষার পরে চালু হয় কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া।  মার্চ এত এত খবরের মধ্যে মার্চের শুরুতে ঘটে বেদনাদায়ক ঘটনা, ভালোবেসে বিয়ের এক বছরের মাথায় পারিবারিক কলহের জেরে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নোভা ইয়াসমিন। ৪ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মত আয়োজিত হয় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন "বাঁধনের" আয়োজনে ৫ দিনব্যাপী বইমেলা। ৮ জানুয়ারি বিশ্ব নারী দিবসে ঋতুস্রাবকালীন নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলিন্টিয়ার ফর বাংলাদেশের উদ্যোগে স্থাপিত হয় প্যাড ব্যাংক। প্রকাশিত হয় পরিবহন খাতে অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে টাকা ভাগাভাগির খবর। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ৩ কোটি টাকার অডিট আপত্তি দেখানো হয়। দেশব্যাপী ১২টি আইসিটি পার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে বশেমুরবিপ্রবিতে উদ্বোধন করা হয় নলেজ পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।  এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত কমিটিহীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বশেমুরবিপ্রবি শাখা, কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্র থেকে নোটিশ দিয়ে ছাত্রলীগের পদপ্রার্থীদের সিভি আহ্বান করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। ছাত্রী হলে মেয়েদের পোষাক পরিহিত চোর আটকের ঘটনা ঘটে মাসের শেষের দিকে। মে মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয় ৪ শিক্ষার্থী, তদন্ত কমিটির দীর্ঘসূত্রিতায় এই পদক থেকে বঞ্চিত হয় কৃষি অনুষদ। মার্ক টেম্পারিং এর অভিযোগ উঠে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন সভাপতি ড. মো. আবু সালেহ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। তেল ক্রয় না করেও ভুয়া ভাউচারে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠে বাস চালক আতিকুর রহমান ঝন্টুর বিরুদ্ধে, প্রেসক্লাব থেকে অডিও রেকর্ড প্রকাশের পরে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।  জুন নিজ ক্যাম্পাসে বিয়ের গায়ে হলুদ হয় এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) বিভাগের শিক্ষার্থী মিমের। জুলাই তীব্র শিক্ষক সংকটে একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। শিক্ষক-কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান বশেমুরবিপ্রবির সাবেক ৩ শিক্ষার্থী। খবর প্রকাশিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত একমাত্র ইনস্টিটিউট নিয়ে, বঙ্গবন্ধুর নামে গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি ধুঁকতে থাকে অবহেলায়। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনে মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) নজরুল ইসলাম হীরা।  আগস্ট শোকের মাসের শুরুতেই ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি ভয়াবহ ঘটনা, লেকের পানিতে ডুবে প্রাণহানি ঘটে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের দুই শিক্ষার্থী হিয়া ও ঋতুর। শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আমরণ অনশন করে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা, একাত্মতা ঘোষণা করে বশেমুরবিপ্রবি প্রেসক্লাব। প্রথমবারের মত ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের উদ্বোধন হয়। বিজিই বিভাগ থেকে বৃক্ষরোপণের পুরস্কার হিসেবে বঙ্গবন্ধু কর্ণারের ঘোষণা দেওয়া হয়।  সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তৈরির জন্য ভেঙে ফেলা প্রধানমন্ত্রীর নামফলক, শেখ হাসিনা চত্বর নামে পরিচিত ফলকটি ভাঙার ঘটনায় তদন্তে গড়িমসি করে প্রশাসন। মার্ক টেম্পারিং ঘটনা ধামাচাপা দিতে তৎপরতা দেখা যায়, কোর্স শিক্ষক পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হালিমা খাতুন ও তৎকালীন ইইই (সি) বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ শাহজাহানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে। ল্যাব, শ্রেণি সংকটসহ পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার দাবিতে ৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করে ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থীরা।  অক্টোবর মাসের শুরুতে বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। ফার্মেসী বিভাগের আন্দোলনে বন্ধ হয় প্রশাসনিক কার্যক্রমও। বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় জায়গা করে নেয় বশেমুরবিপ্রবির দুই শিক্ষক। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপে ১১ জন শিক্ষার্থী মনোনীত হন। প্রতিষ্ঠার একযুগ পরে প্রথমবারের মত উপ-উপাচার্য নিয়োগ পায় বশেমুরবিপ্রবি, হযরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুল আলমকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।  নভেম্বর জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পায় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থী রিয়াজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম ব্যাচের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) শীত বরণ উৎসব "উষ্ণতার খোঁজে নবনীতক" অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বনের কারণে মনোবিজ্ঞান বিভাগের ৪ শিক্ষার্থী হয় সাময়িক বহিষ্কার।  ডিসেম্বর সাহসী ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার পুরস্কার পান বশেমুরবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি কে. এম ইয়ামিনুল হাসান আলিফ, ইউনিভার্সিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (ইউজেএফ) কর্তৃক এই পুরস্কার দেওয়া হয়। দুর্বৃত্তদের হামলায় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ গুরুতর আহত হয়। হাজবেন্ড্রি কাউন্সিল বাতিলের দাবিতে প্রাণিসম্পদ সচিবের কুশপুত্তলিকা দাহ করে ভেটেরিনারি বিভাগের শিক্ষার্থীরা, দেওয়া হয় মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুমকি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন চীফ ইঞ্জিনিয়ার এস এম এস্কান্দার আলী।
বশেমুরবিপ্রবিতে বছরজুড়ে যা ছিল আলোচনায়
বিচ্ছিন্নতার যুগে দারুণ এক মেলবন্ধনের গল্প
শীতের ভোর। কুয়াশা কেটে সূর্যের মিষ্টি রোদের আভাটা সবে শরীরে লাগতে শুরু করেছে। ধোঁয়া উঠতে শুরু করেছে গ্রামীণ মাটির চুলায়। তা ঘিরে বসে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বলছিলাম নোয়াখালির সূবর্ণচরের চরবাটা গ্রামের কথা। এখানে শীতের সকালগুলো এমনই। আধুনিকতার ছোয়া লাগলেও শীতের সময় গ্রামীণ আবহটা বেশ ভালো টের পাওয়া যায় এখানে। বাড়ির মুরুব্বি থেকে শিশুরা সবাই একসাথ হয়ে ধোয়া উঠা চুলার পাশে বসে অপক্ষায় থাকে গরম চিতই পিঠার জন্য। অবশ্য যে আধুনিকতার কথা বলছিলাম সেই আধুনিকতায় যৌথ পরিবারের এমন দৃশ্যগুলো এখন খুব একটা দেখা যায় না। জীবন, জীবিকার টানে পরিবারগুলো খণ্ড খণ্ড। কখনও দেখা হয় কখনও দেখা হয় না। পাশের বাড়ির আত্মীয়র খোঁজটাও এখন আর নেওয়া হয় না ব্যস্ত জীবনে।  সেই ব্যস্ত জীবনের পাশ কাটিয়ে দারুণ এক উদাহরণ এই গ্রামেই মিলেছে। এই গ্রামেরই হাজী নজির আহম্মদের বংশধররা ধরে রেখেছে দারুণ এক সংস্কৃতি। বিচ্ছিন্নতার এই যুগে এটিকে আপনি দারণ এক পারিবারিক মেলবন্ধন বলতে পারেন। বছরের একটা দিন ঘটা করে আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই বংশের সবাই একত্রিত হন একই স্থানে।  দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন শত কর্ম ব্যস্ত মানুষটাও। প্রিয়জনদের সাথে খোশ গল্প আড্ডায় কাটিয়ে দেন একটা দিন। হয় নানান স্মৃতি রোমন্থন। সেখানে বার বারই ফিরে আসে ফেলা আসা সেসব ঐতিহ্যের কথা। শিশু কিশোররা নানানভাবে জানতে পারে তাদের শিকড়ের কথা। পরিচিত হয় নিজেদের চাচাতো, খালাতো কিংবা ফুফাতো ভাই-বোনদের সাথে। এমন আয়োজনেই গিয়েছিলাম। সচোখে দেখা মিলেছে খুব কাছের আত্মীয়দের এখানে এসে নতুন করে পরিচিত হতে। পুরনো স্মৃতি রোমন্থনে চোখের কোনে পানি জমতে।
বিচ্ছিন্নতার যুগে দারুণ এক মেলবন্ধনের গল্প
এক বছরে ডেঙ্গুতে ১৭০৫ জনের মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু রোগের ধরন শনাক্তের পর থেকে এ রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে বিদায়ী বছর। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭০৫। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৬ জন।  রোববার (৩১ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫ জন। আর ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭১ জন।  এ ছাড়া সারদেশে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭২৫ জন রোগী। এর মধ্যে ঢাকায় ২৯৫ এবং ৪৩০ জন রোগী ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১১৭ জন। অন্যদিকে, চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছেন ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯ জন।
এক বছরে ডেঙ্গুতে ১৭০৫ জনের মৃত্যু
চিকিৎসক সমাবেশে বক্তরা / শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেই আজকের উন্নত বাংলাদেশ
সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেছি বলেই আজকের এই উন্নত বাংলাদেশ সম্ভব হয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনেও আমরা শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল।  আমরা অসাম্প্রদায়িক ও শান্তি নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।  রোববার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘শেখ হাসিনায় আস্থা’ শীর্ষক চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত আমাদের বাংলাদেশ সবসময় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হিসেবে থাকবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুধু যুদ্ধের ইতিহাস নয়, তার চেয়েও বিশাল কিছু। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস আজও রচিত হয়নি। ১৯৯১ ও ২০০১ সনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর কথা উল্লেখ করে তিনি আগামী নির্বাচনে সকলকে ভোট কেন্দ্র গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহবান জানান।  সমাবেশের প্রধান অতিথি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ডা. শারফুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবাইকে ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। সকলে মিলে ভোট কেন্দ্রে গেলেই ভোট বিরোধী ও দেশ বিরোধীরা ১% এ পরিনত হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তি তথা শেখ হাসিনা হবেন ৯৯ শতাংশ।  এসময় তিনি কোভিড ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহ থেকে শুরু করে অথ্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মানসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদানের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।  সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় চিকিৎসক সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামূল হক ভূঁইয়া, সম্প্রীতি বাংলাদেশের যুগ্ম আহ্বায়ক বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. উত্তম বড়ুয়া, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রেজাউল আমিন টিটু, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. রাহাত হোসেন, প্রামাণ্যচলচ্চিত্র নির্মাতা, সাইফ আহম্মেদ, বঙ্গবন্ধু গবেষক আফিজুর রহমান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ডা. অনুপম সাহা প্রমুখ।
শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেই আজকের উন্নত বাংলাদেশ
থার্টি ফার্স্ট নাইট সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
ইংরেজি নতুন বর্ষকে বরণ করার লক্ষ্যে প্রতিবছরই বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালন করা হয় থার্টি ফার্স্ট নাইট। এ রাতকে ঘিরে পশ্চিমাদের আয়োজনের কোনো শেষ নেই। পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন জমকালো উৎসব পালনের মাধ্যমে ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা নাগাদ উৎযাপিত হয় এই রাতটি। থার্টি ফাস্ট নাইট নিয়ে বাংলাদেশি ইসলামি ব্যক্তিত্ব, আলোচক ও সামাজিক সক্রিয় কর্মী শায়খ আহমাদুল্লাহ যুবক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে আবেগঘন ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। ভিডিও বার্তায় শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যে জাতিকে ২শ’ বছর গোলাম বানিয়ে রেখেছে ইংরেজরা। আমরা তাদের কালচারকে টাকা-পয়সা দিয়ে আমদানি করে প্রোমোট করি, সেটাকে আমরা ডেভেলপ করি। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আমাদের কী হতে পারে? নতুন বছরের সূচনা যদি আমাদের আনন্দের কারণ হয়, ঠিক একই সময়ে একটি বছরের বিদায়ও হয়ে যাচ্ছে। যুবকদের কাছে আমার প্রশ্ন- তুমি কি বিদায়ী বছরে কেঁদেছো? যদি না কেঁদে থাকো তাহলে তোমার বিবেকের কাছে প্রশ্ন করো- যে নতুন বছরের জন্য আনন্দ করছো, ঠিক তার আগ মুহূর্তে একটি বছর চলে গেলো তোমার জীবন থেকে; তখন কী তুমি কেঁদেছিলে? তিনি বলেন, তাহলে যার বিদায়ে আমার কান্নার কারণ হয় না, তাহলে আগমন কেনো আমার আনন্দের কারণ হতে পারে? যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই বিজাতীয় অপসংস্কৃতি তোমার না। এটা প্রকৃতি পূজারী পেগানদের কাছ ধার করে খ্রিস্টানরা নিয়েছে। আমাদেরকে আল্লাতায়ালা নিজস্ব সংস্কৃতি দিয়েছেন। আমরা অনেক সমৃদ্ধ; কোনো কিছুর অভাব নাই। আমাদেরকে দুটো উৎসব দেওয়া হয়েছে- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এই দুটি উৎসবকে পৃথিবীর সমস্ত উৎসবের চেয়ে অনেক বেশি নির্মল, আনন্দদায়ক, সমৃদ্ধ, পবিত্র। অন্য কোনো উৎসবে এটা পাবে না। তিনি বলেন, তোমার সমস্ত উৎসবের মধ্যে ভোগ আছে, উচ্ছৃঙ্খলতা আছে, উন্মাদনা আছে, অশ্লীলতা আছে, বেহায়াপনা আছে, অপব্যায় আছে; কিন্তু ঈদুল ফিতর-ঈদুল আজহাতে তুমি এগুলো দেখবে না। ঈদুল ফিতর-ঈদুল আজহার চেতনা কী? চেতনা হলো- তুমি আনন্দদিত হও, গরিবদের মুখে হাসি ফোঁটাও। ঈদগাহে যাও নামাজ পড়ো। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলাম বলছে- তুমি আনন্দ করবা ঈদগাহে গিয়ে, ভালো কথা। তার আগে তুমি গরীবের বাসায় গিয়ে হাসির ব্যবস্থা করো। তারপরে তুমি হাসো। তুমি হাসতে চাও, গোস্ত খেতে চাও; তবে তোমার গোস্তের একটা অংশ দিবে গরিবদের। তাদের মুখে হাসি ফোঁটাবে। তারপরে তুমি হাসবে। তিনি বলেন, আল্লাহ যে উৎসব আমাদের দিয়েছে, সেখানে ভোগ আছে, ত্যাগ আছে, সেখানে নৈতিকতা আছে। তুমি যে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নামছো; এখানে পশুদের মতো উন্মাদনা আছে, মাতলামি আছে, উচ্ছৃঙ্খলা আছে। এখানে মানবজাতির কোনো কল্যাণ দেখাতে পারবে না। যখন আকাশে ফানুস উড়িয়ে টাকা উড়াচ্ছে; তখন ওই বাড়ির ছাদ থেকে নিচে তাকালে দেখতে পাবে কোনো বনি আদম শুয়ে আছে। তার এই শীত নিবারণের কোনো কাপড় নাই। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর থার্টি ফার্স্ট নাইটে ফানুসের আগুনে বিভিন্ন জায়গায় আগুনের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সারাবছরের মধ্যে এইদিনে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করে। প্রতিবছর থার্টি ফার্স্ট আসার আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় যেনো ফানুস উড়ানো না হয়। তারপরও সে নির্দেশনা উপেক্ষা করে এগুলো করা হয়। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আমাদের দেশে ধর্মের নামে, রাজনীতির নামে, বিনোদনের নামে যে পরিমাণ শব্দ সন্ত্রাস হয়; পৃথিবীর কোনো সভ্য সমাজে এমন হয় না। আপনি অবাক হবেন, যেসব যুবকরা নিজেদেরকে বিজ্ঞানমনস্ক মনে করে, সেই সমস্ত যুবকরা যখন এইসব কাজে লিপ্ত হয়; তখন আমার কাছে অবাক লাগে এইসব শিক্ষা যাচ্ছে কোথায়? তিনি বলেন, এই কারণে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। যেনো থার্টি ফার্স্ট পার্টির নামে কোনো উচ্ছৃঙ্খলা করতে না পারে। সমাজের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতন হতে হবে।  
থার্টি ফার্স্ট নাইট সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
আরও পড়ুন
ওয়ার্নারের বিদায়ী টেস্টের অস্ট্রেলিয়া দল ঘোষণা
১৫ বছর বিএনপিকে সম্মান দিয়েছি, তারাও নৌকায় ভোট দেবে : এমপি তাজুল
নতুন বছরের জন্য যে বিশেষ বার্তা দিলেন জয়া
ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের জন্য আরটিভির অনন্য উদ্যোগ