অমর একুশে বইমেলায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক মোশতাক আহমেদের চারটি নতুন বই প্রকাশ হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের মেলায় তার ১২০টি বই পাওয়া যাচ্ছে।
শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মেলায় ঘুরতে গিয়ে দেখা যায়, সবগুলো প্রকাশনায়ই কমবেশি বই বিক্রি শুরু হয়েছে। এরমধ্যে অনিন্দ্য প্রকাশে গিয়ে দেখা গেল সায়েন্স ফিকশন, প্যারাইসাইকোলজি, ভৌতিক, গোয়েন্দা উপন্যাসের বিশাল উচু স্তুপ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনিন্দ্য প্রকাশের স্বত্ত্বাধিকারী আফজাল হোসেন জানান, সব বই বহুমাত্রিক লেখক মোশতাক আহমেদের। পাঠকের কাছে তার উপন্যাসের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সব উপন্যাস একসঙ্গে জড়ো করে রাখা হয়েছে। অনিন্দ্য প্রকাশ হতে তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় নব্বইটি এবং মেলা উপলক্ষে ত্রিশটির অধিক উপন্যাস পুনর্মুদ্রণ করা হয়েছে। এ ছাড়া এবারের মেলায় মোশতাক আহমেদের নতুন চারটি উপন্যাস এসেছে। প্যারাসাইকোলজি উপন্যাসটির নাম- হারানো জোছনার সুর। এ ছাড়া সায়েন্স ফিকশন দ্যা ওল্ড ওয়ার্ল্ড, ভৌতিক মৃত্যুবাড়ি এবং শিশিলিন গোয়েন্দা সিরিজের রূপার সিন্দুক।
অনিন্দ্য প্রকাশের প্যাভিলয়নে দেখা মেলে লেখক মোশতাক আহমেদের। তিনি বইয়ের ক্রেতাদের অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন। লেখক জানান, এবারের বইমেলায় সবমিলিয়ে তার ১২০টি বই বিক্রি হচ্ছে।
কীভাবে এত উপন্যাস লিখেন জানতে চাইলে মোশতাক আহমেদ বলেন, প্রতিদিন সকালে ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত নিয়মিত লিখি। এজন্য বছরে চার থেকে পাঁচটি উপন্যাস লিখতে পারি। আমার স্বপ্ন দেশের সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিয়ে যাওয়া। ভালো অনুবাদকের অভাবে কাজটা করতে পারছি না। বইমেলায় পাঠক উপস্থিতি ও তাদের প্রতিক্রিয়ায় তিনি সন্তুষ্ট বলে জানান।
উল্লেখ্য, বাংলা সাহিত্যে মোশতাক আহমেদ বহুমাত্রিক লেখক হিসেবে পরিচিতি লাভ করছেন। কারণ তার লেখালেখি শুধু কোনো একটি ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি যেমন সামাজিক ও ভৌতিক উপন্যাস লিখছেন, তেমনই লিখছেন গোয়েন্দা ও সায়েন্স ফিকশন। নতুন ধারার প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। একই সঙ্গে ভ্রমণ ও মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস রচনায়ও তিনি সমাদৃত হচ্ছেন সর্বত্র। মোশতাক আহমেদ ২০১৮ সালে বাংলা একেডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন।