ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শনিবার বিরল ঘটনায় একই সরলরেখায় থাকবে পৃথিবী, সূর্য ও বৃহস্পতি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:০২ এএম
ছবি : সংগৃহীত

আগামী শনিবার (৭ ডিসেম্বর) পৃথিবী, সূর্য ও বৃহস্পতি একই সরলরেখায় অবস্থান করবে। এদিন বৃহস্পতি পুরো রাতজুড়ে আকাশে দৃশ্যমান থাকবে। এই অবস্থানকে ‘জুপিটারের বিপরীতমুখী (জুপিটারস অপজিশন)’ বলা হয়। বিজ্ঞানীরা এটিকে এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনা আখ্যা দিয়ে জানান, আকাশপ্রেমীদের জন্য এক দুর্লভ সুযোগ এনে দিয়েছে জুপিটারস অপজিশন।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিকে দেখার জন্য এই সময়ের আগে-পরে এক মাস ধরে এই বিস্ময়কর ঘটনা পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকবে। এমনকি একটি ছোট টেলিস্কোপ বা সাধারণ দূরবীন দিয়েও এই গ্রহের সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব। এমন বিরল মহাজাগতিক ঘটনা কেবল সৌরজগতের রহস্য ও সৌন্দর্যের প্রতি কৌতূহল বাড়ায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ৫টায় বৃহস্পতি পৃথিবী থেকে প্রায় ৬১১ মিলিয়ন কিলোমিটার বা ৩৮০ মিলিয়ন মাইল দূরে থাকবে। এই দূরত্বে বৃহস্পতি অত্যন্ত উজ্জ্বল দেখাবে। এটা টেলিস্কোপ ব্যবহারকারীদের জন্য এর মেঘবাহু এবং গ্যালিলিয়ান চাঁদগুলো (আইও, ইউরোপা, গ্যানিমিড, এবং ক্যালিস্টো) পর্যবেক্ষণের সেরা সুযোগ।

তবে শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পূর্ব-উত্তর-পূর্ব আকাশে বৃষ রাশির (টরাস) নিকটে বৃহস্পতি উঠতে দেখা যাবে। এটি সূর্যাস্তের পর ওঠা শুরু করবে এবং সূর্যোদয়ের আগে অস্ত যাবে। টেলিস্কোপ বা উচ্চ ক্ষমতার দূরবীন দিয়ে বৃহস্পতির মেঘবাহুগুলো এবং এর চারটি প্রধান চাঁদ সহজেই দেখতে পারবেন আকাশপ্রেমীরা।

এই বিরল ঘটনায় বৃহস্পতির প্রতিফলিত সূর্যালোক পৃথিবীতে পৌঁছাতে প্রায় ৩৪ মিনিট সময় নেবে। পৃথিবীর দ্রুতগতির কক্ষপথের কারণে বৃহস্পতি এবং সূর্যের মধ্যে পৃথিবীর অবস্থান তৈরি হবে, যা বৃহস্পতিকে সম্পূর্ণ গোলাকার অবস্থায় দেখা যাবে।

বিরল মহাজাগতিক এই ঘটনা কেবল সৌরজগতের রহস্য ও সৌন্দর্যের প্রতি কৌতূহল বাড়ায় না, জীবদ্দশায় এমন সময়ের সাক্ষী হয়ে থাকাটাও ভাগ্যের ব্যাপারও বটে।

আরটিভি/কেএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৪৮৯ আলোকবর্ষ দূরে নতুন সৌরজগতের সন্ধান, আছে তিনটি সূর্য
মহাবিশ্বে আরও একটি নতুন সৌরজগতের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, যার আছে তিন তিনটি সূর্য। পৃথিবী থেকে ৪৮৯ আলোকবর্ষ দূরে এর অবস্থান। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নতুন সৌরজগতটির নাম দিয়েছেন ‘জিজি টাও-এ’। এতে ভবিষ্যৎ গ্রহ তৈরির মৌলিক উপাদানের খোঁজ পেয়েছেন তারা। সৌরজগতটির উৎপত্তি আনুমানিক ৫০ লাখ বছর আগে; বর্তমানে গ্রহ গঠনের প্রাথমিক পর্যায় অতিক্রম করছে এটি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (এনআইএসইআর) একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী চিলির আতাকামা মরুভূমির উন্নত রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে নতুন এই সৌরজগতের সন্ধান পেয়েছেন। যেখানে একটি বিশাল প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্কসহ তিনটি সূর্যের অনন্য এক কাঠামো রয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্যাস ও ধূলিকণার ঘূর্ণমান ডিস্কটি নতুন নক্ষত্র ও নতুন গ্রহ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করছে। এর ফলে ভবিষ্যতে গ্যাস ও ধূলিকণার বিশাল বলয় থেকে সৌরজগৎটিতে গ্রহ তৈরি হবে। বর্তমানে এটিতে থাকা তারা ও গ্রহের গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা চলছে। ভারতের এনআইএসইআর’র জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ওই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন লিটন মজুমদার। নাসার পরিদর্শনকারী বিজ্ঞানী তিনি। গবেষণায় প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্ক থেকে শনাক্ত করা আণবিক সংকেতগুলো তারার সবচেয়ে ঠান্ডা ও ঘন অঞ্চল থেকে পাওয়া গেছে, যেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ২৫৭ দশমিক ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরটিভি/এসএইচএম
৪৮৯ আলোকবর্ষ দূরে নতুন সৌরজগতের সন্ধান, আছে তিনটি সূর্য
সাফল্যের সঙ্গে মহাকাশে গেল ইউরোপের ভেগা-সি রকেট
দুইবছর আগে এই রকেটের উৎক্ষেপণ সফল হয়নি। ফ্রান্স থেকে তার সফল উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে ভেগা-সি এর সফল উৎক্ষেপণ করা হয়। মহাকাশে পৌঁছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন উপগ্রহ প্রতিস্থাপন করবে এই রকেট। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের এই উপগ্রহটির নাম সেনটিনেল ১-সি। দীর্ঘদিন ধরে এই স্যাটেলাইট কী কাজ করবে, তা নিয়ে গবেষণার কাজ চলেছে। বস্তুত, ভেগা-সি-কে মহাকাশে পাঠানো নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা হয়েছে। প্রথমবার পাঠানোর চেষ্টা বিফল হওয়ার পর প্রায় দুই বছর এই উৎক্ষেপণ বন্ধ ছিল। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার তা সফল হলো। পৃথিবীর পরিবেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করবে নতুন এই উপগ্রহ। মহাকাশ থেকে পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের ছবি তুলবে এই উপগ্রহ। যেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। ভেগা সি রকেট বিজ্ঞানের বাজারে একটি বিশেষ নাম। হালকা উপগ্রহ মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার কাজ দীর্ঘদিন ধরে করছে এই ধরনের রকেট। ২০১২ সালে প্রথম ভেগা রকেট মহাকাশে যায়। তারপর একাধিক ভেগা রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানো হয়েছে।  তবে দুইবছর আগে এই রকেট ঠিক মতো উৎক্ষেপণ করা যায়নি। ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের বক্তব্য, ভেগা সি দুই টনেরও বেশি জিনিস নিয়ে মহাকাশে যেতে সক্ষম। যে উপগ্রহটি সে এবার নিয়ে গেছে, তার ওজন ৮০০ কিলোগ্রাম। অর্থাৎ, আরো বেশি জিনিস এই রকেটটি মহাকাশএ নিয়ে যেতে পারতো। মহাকাশে পৌঁছে পৃথিবীর কক্ষপথে বিভিন্ন অরবিটে এই রকেট স্যাটেলাইট প্রতিস্থাপন করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আরটিভি/এএইচ
সাফল্যের সঙ্গে মহাকাশে গেল ইউরোপের ভেগা-সি রকেট
এ যুগের গবেষকদেরও মুগ্ধ করা মায়া কোডেক্স
আকাশ আমাদের যুগ যুগ ধরে মুগ্ধ করে আসছে। এমনকি মধ্য আমেরিকার মায়া সভ্যতাও উপরের দিকে তাকিয়ে মহাকাশীয় ঘটনাবলী বোঝার চেষ্টা করেছে। তারা এক রহস্যময় নথিতে তাদের আহরিত জ্ঞান রেখে গেছে। সেই প্রাচীনকাল থেকেই রাতের আকাশ মানবজাতিকে মুগ্ধ করে রেখেছে। এমনকি আজও আমরা আকাশ পানে চেয়ে থাকি পৃথিবীর অতীত এবং ভবিষ্যৎ বুঝতে৷ প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ আমরা যা দেখি তা বুঝতে আমাদের সহায়তা করছে৷ আকাশ তাই এখন আর অজানা জগত নয়৷ এবং এখনো আমরা প্রাচীন সভ্যতার আবিষ্কার দিয়ে প্রভাবিত৷ যেমন মধ্য আমেরিকার মায়া৷ মায়ান জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই রহস্যময় নথি তাদের অনন্য সম্পদ হিসেবে রেখে গেছেন৷ এই পরিশীলিত হায়রোগ্লিফিকস মায়ার সঞ্চিত জ্ঞান বহন করছে৷ পরবর্তী সূর্যগ্রহণ কখন হবে? শুক্রগ্রহ কখন আবার শুকতারার রূপে দেখা দেবে? বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা এখনো মায়ার সূক্ষ্ম গণনা সমীহ করে চলেন৷ হুলিয়েটা বলেন,এটা বিস্ময়কর যে, তারা কয়েক হাজার বছর আগে এরকম হিসেব তৈরি করতে পেরেছিলেন৷ অ্যান্টনি বলেন, তারা পৃথিবীতে এটা কীভাবে করেছিলেন? তাদের যদি কম্পিউটার এবং টেলিস্কোপ না থেকে থাকে, তাহলে তারা এটা কীভাবে করেছেন? আন্তিয়ে মনে করেন, তাদের দিনে, মানে ১৪৯২ এর আগ অবধি, মায়া গণিত এবং জ্যোতির্বিদ্যায় ইউরোপীয়দের তুলনায় এগিয়ে ছিল৷ এই নথি ইউরোপে উপনিবেশবাদীরা লুট করে এনেছিল, নাকি উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছিল তা আজও অজানা৷ তবে এটি এখনো গবেষণার বিষয়৷ নথিটি রয়েছে জার্মানির ড্রেসডেনে৷ স্যাক্সনি স্টেট অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরিতে নথিটি রাখা হয়েছে৷ এটি আমাদের জানা মতে, পৃথিবীতে থাকা চারটি মায়ান কোডিসিসের একটি৷ কার্লোস পাজন গাজলের মতো গবেষকরা ড্রেসডেন কোডেক্স নামের নথিটি বুঝতে আমাদের সহায়তা করেছেন৷ এই পাঠোদ্ধারের মাধ্যমে মায়ান সংস্কৃতি সম্পর্কে আমাদের ধারনা বদলে গেছে৷ কার্লোস বলেন, ড্রেসডেন কোডেক্স মায়ান পুরাণ, ধর্ম, জ্যোতির্বিদ্যা এবং হায়রোগ্লিফিকস সম্পর্কে আমাদেরকে আরো সমৃদ্ধ করেছে৷ দুই পাশেই লেখা ৩৯ পাতার নথি ড্রেসডেন কোডেক্স৷ সাড়ে তিন মিটার লম্বা নথিটি ধর্মীয় আচারের পকেট বুক ছিল৷ কার্লোস বলেন, আমরা ধারণা করছি, একলিপ্সের টেবিলগুলো সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে আগাম ধারণা দিত৷ মানুষ এসব নিয়ে ভীত ছিল৷ অ্যান্টনির মতে, এটা সত্যিই ধর্ম সম্পর্কিত৷ সৃষ্টিকর্তাদের কাছে কিছু চাওয়ার উপযুক্ত সময় জানা যেতো৷ সম্ভবত রোগ নিরাময়ের সঙ্গেও সম্পর্কিত ছিল৷ নিরাপদ সন্তান জন্মদান৷ ভালো শস্য৷ কোনোকিছু করার জন্য উপযুক্ত সময় হিসেব করতে চাইতো মায়া৷ তার কোনো একটি ঘটনার সম্ভাব্য তারিখ আগাম ধারণা করতে পারতেন৷ আন্তিয়ে বলেন, তাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা যেটা ছিল, তা হচ্ছে, তারা একটি শূন্যর গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন... কারণ, শূন্যটি আমরা এই সংকেতে সুন্দরভাবে দেখতে পাচ্ছি৷ কোডেক্সে কালো সংখ্যাগুলোর মাঝখানে লাল আমাদের লম্বা সময় গণনায় সক্ষম করেছে৷ খুব লম্বা সময় - এমনকি আমাদের আধুনিক দিন অবধি৷ যেমন: ২০২৪ সালের এপ্রিলের পূর্ণ সূর্যগ্রহণের ব্যাপারটিও ড্রেসডেন কোডেক্স দেখে বোঝা সম্ভব৷ অ্যান্টনি বলেন, তারা অবশ্য কোথা থেকে পূর্ণ গ্রহণ দেখা যাবে বা গ্রহণের জ্যামিতি নিয়ে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না৷ হুলিয়েটা মনে করেন, মেসো আমেরিকান সংস্কৃতির কোনো বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য ছিল না৷ নির্ভরযোগ্য ক্যালেন্ডার পেতে আকাশ পর্যবেক্ষণ করতেন তারা৷ ড্রেসডেন কোডেক্স ক্যালেন্ডার দেখাচ্ছে কীভাবে বিজ্ঞান এবং ধর্ম হাতে হাত রেখে এগিয়েছিল, যা এখন আর তেমন একটা দেখা যায় না৷ তবে আশেপাশে কী ঘটছে, তা বোঝার আগ্রহ আমাদের মতো আগেও ছিল৷ আরটিভি/এএইচ
এ যুগের গবেষকদেরও মুগ্ধ করা মায়া কোডেক্স
চাঁদের নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা
মানুষ ভবিষ্যতে চাঁদ ও অন্যান্য উপযুক্ত গ্রহ-উপগ্রহে বসতি স্থাপনের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু নির্মাণ ও জ্বালানি উৎপাদনের উপকরণ পৃথিবী থেকে নিয়ে যাওয়া অবাস্তব হবে। তাই চাঁদের উপকরণ কাজে লাগানোর মহড়া চলছে। চাঁদের ধূলিকণা কাজে লাগিয়ে কীভাবে কাঁচ বা ইট তৈরি করা সম্ভব, বার্লিনে গবেষকরা তা জানার চেষ্টা করছেন। কারণ পৃথিবী থেকে চাঁদে এমন উপকরণ নিয়ে যাওয়ার ব্যয় মারাত্মক রকম বেশি। এয়ারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রো. এনরিকো স্টল বলেন, অনেক সংস্থা সত্যি চাঁদে মালপত্র সরবরাহ করতে চায়। চাঁদে এক কিলো মাল পাঠানোর জন্য তারা দশ লাখ ইউরো মাসুল চাইছে। পৃথিবীর বুকে চাঁদের ধূলিকণার মতো পদার্থ সৃষ্টি করার জন্য প্রয়োজনীয় বেজাল্ট এবং ফেল্ডস্পারের মতো উপকরণ আগ্নেয়গিরির কাছে পাওয়া যায়। তবে সেগুলি যতটা সম্ভব শুকনা হতে হবে। এক ভ্যাকুয়াম চেম্বারের মধ্যে ১,৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গরম করলে সেই উপকরণ অনেকটা লাভার মতো রূপ নেয়। গলানো সেই পদার্থের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বার্লিন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিমন স্টাপারফেন্ড বলেন, এর বিশেষত্ব হলো, এর আগে কেউ এমনটা করেনি। আমরাই প্রথম ভ্যাকুয়ামের মধ্যে সেটা করতে পেরেছি। এটা সত্যি বড় সাফল্য৷ প্রাথমিক স্তরে আমরা বাসস্থান, অর্থাৎ, বাড়িঘর, সোলার সেলের কাঠামো ইত্যাদি গড়ে তুলতে চাই। তবে এর কোনো সীমা নেই। মুনডাস্ট আরো দানাদার৷ পৃথিবীর মতো সেই ধূলিকণা তত মিহি নয়। বার্লিন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ুলিয়ান বাশ জানান, আমাদের হাতে দুটি মৌলিক উপাদান রয়েছে, অর্থাৎ, বেসাল্টিক উপাদান এবং অ্যানোর্টোসাইট উপাদান। কিন্তু দুইয়ের মিশ্রণে চাঁদের জন্য উপযুক্ত নির্দিষ্ট বেস সৃষ্টি করা যায়। মুনডাস্টের মধ্যে একেবারেই কোনো পানি নেই। তা সত্ত্বেও দেড় হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সেটি দিয়ে ইট তৈরি করা সম্ভব। বার্লিন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেফান লিংকে বলেন, যে চুলায় সেই ইট উৎপাদন করা হবে, সেটি আমাদের পৃথিবী থেকে নিয়ে যেতে হবে। এমন ওভেনের ওজন সম্ভবত ১০০ কিলোর মতো হবে। কিন্তু ভেবে দেখুন, সেটি কত টন উপাদান প্রক্রিয়াজাত ও উৎপাদন করতে পারবে। চাঁদের বুকে জ্বালানি উৎপাদনও অন্তত কাগজেকলমে সম্ভব। সেখানে সূর্যের আলো বেশ প্রখর, আকাশে কোনো মেঘ নেই৷ ফলে সোলার সেল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। বার্লিনের ছাত্ররা ইটের পাশাপাশি কাঁচও সৃষ্টি করতে সফল হয়েছেন। সেই কাঁচের মধ্য দিয়ে যতটা সম্ভব আলো চলাচল জরুরি। সেটিকে তখন সোলার সেলে রূপান্তরিত করা যাবে। পট্সডাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই কাজ চলছে৷ কাচ যতটা সম্ভব চিকন ও স্বচ্ছ হতে হবে। সেখানকার পদার্থবিদ ফেলিক্স লাং বলেন, আমরা মুনগ্লাসের উপর পেরোভস্কাইট সোলার সেল তৈরি করতে চাই। অর্থাৎ সেখানেই উপাদান গলিয়ে কাঁচ উৎপাদন করা হবে এবং তার উপর শুধু এক মাইক্রো-মাইক্রোমিটার পেরোভস্কাইট স্তর বসানো হবে। পেরোভস্কাইট এমন এক কৃত্রিম স্ফটিকের মতো উপাদান, যা একটি দ্রাবকের মধ্যে দ্রবীভূত করা যেতে পারে। কোনো ভ্যাকুয়াম চেম্বারে সেটিকে কাচের উপর সমানভাবে স্প্রে করাও সম্ভব। তারপর আরো কম তাপমাত্রায় তামাও প্রয়োগ করা হবে। প্রচলিত সিলিকনের তুলনায় পেরোভস্কাইটের অনেক সুবিধা রয়েছে। ফেলিক্স লাং বলেন, মহাকাশে মহাজাগতিক রশ্মি প্রতিবারই একটি পরমাণুকে তার অবস্থান থেকে ছিটকে বার করে দেয়। সেটা আসলে একটা ত্রুটি। এর ফলে সোলার সেল বিকল হয়ে যায়। পেরোভস্কাইট এতই নরম, যে একটি পরমাণু ছিটকে বেরিয়ে গেলেও আবার সেটি আগের অবস্থানে ফিরে আসে। ফলে মহাকাশে কয়েক দশক ধরে এর কার্যকারিতা অটুট থাকে। চূড়ান্ত সোলার সেল দুটি কাচের প্লেট দিয়ে তৈরি, যার মাঝে পেরোভস্কাইটের একটা স্তর রয়েছে। এবার সেটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখার পালা। ভ্যাকুয়ামের মধ্যে সেই সোলার সেল কৃত্রিম সূর্যের দিকে তাক করা হলো। কয়েক মূহূর্ত পর সেটি বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করলো। পট্সডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ ফেলিক্স লাং বলেন, আমরা এক কিলো পেরোভস্কাইট চাঁদে নিয়ে যেতে পারলে, সেটা দিয়ে ৪০০ বর্গ মিটার বড় স্তর সৃষ্টি করা যাবে, যা তিনটি ভলিবল কোর্টের সমান। সেখানে ৫০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদার্পণের প্রায় অর্ধ শতাব্দী পর মানুষ আরো বড় স্বপ্ন দেখছে। তারা চাঁদে বসবাস করতে চায়। আরটিভি/এএইচ
চাঁদের নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে দূষণমুক্ত করতে নতুন প্রযুক্তি
পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের পথে বাস্তব জগতে নানা বাধা রয়েছে। সহজেই সেই পথে এগোনোর কোনো সমাধান সূত্র বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকায় এমনই এক প্রকল্পকে ঘিরে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। চিলের আটাকামা মরুভূমিতে সেরো দোমিনাদোর নামের টাওয়ারের ওপর ১০,৬০০ আয়না সূর্যের আলো নিক্ষেপ করছে৷ সেই আলো প্রায় দশ হাজার সূর্যের শক্তির সমান। সোলার প্যানেলের বদলে আয়না সূর্যের আলো একত্র করে গলানো লবণ উত্তপ্ত করছে। পাম্পের সাহায্যে সেই মিশ্রণ টাওয়ারের উপরে পাঠানো হয়।তাপমাত্রা ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছুঁতে পারে। এই প্রণালীর বৈশিষ্ট্য হলো- লবণ সেই উত্তাপ ধারণ করতে পারে এবং এভাবে টাওয়ারের নিচে টার্বাইনগুলির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে৷ এমনকি আকাশে সূর্যের আলো না থাকলেও সেই প্রক্রিয়া চলতে পারে। সেরো দোমিনাদোরের প্রতিনিধি ইবান আবেইয়া বলেন, এটা এমন এক প্রযুক্তি, যার সাহায্যে আমরা দীর্ঘ সময়ের জন্য জ্বালানি ধারণ করতে পারি৷ দিনে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন সেই শক্তি কাজে লাগাতে পারি। সেই প্রযুক্তির সাহায্যে আমরা বিশেষ করে গ্যাস ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানির বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করতে পারি। পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির তুলনায় জীবাশ্ম জ্বালানির একমাত্র সুবিধাও তরল লবণ কেড়ে নিতে পারে। গ্যাস ও কয়লার মতো সেটিও স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য জ্বালানির উৎস, যা প্রকৃতির অস্থিরতায় ভারসাম্য আনতে পারে৷ লবণের মিশ্রণের অনুপাতের উপর সেই সাফল্য নির্ভর করে। আন্তোফাগাস্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গবেষকরা এখনো আদর্শ মিশ্রণ তৈরির লক্ষ্যে পরীক্ষানিরীক্ষা করছেন।স্টোরেজ ক্ষমতার আরো উন্নতি করাই তাঁদের লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি মাউরো এনরিকেস বলেন, বর্তমানে এমন এক মিশ্রণ ব্যবহার করা হচ্ছে, যাকে সোলার সল্ট বলা হয়। তার মধ্যে সোডিয়াম নাইট্রেট এবং পটাসিয়াম নাইট্রেট রয়েছে৷ উত্তাপ সঞ্চয়ের জন্য সেটি উপযুক্ত। সৌর শক্তি না থাকলেও ২৪ ঘণ্টাজুড়ে সেই লবণ শক্তির জোগান দিতে পারে। গ্রিন এনার্জি এখনো পর্যন্ত অর্থনৈতিক গুরুত্বহীন অঞ্চলকেও সোনার খনিতে রূপান্তরিত করতে পারে৷ এমনকি বিশ্বব্যাপী শক্তির ভারসাম্যেও পরিবর্তন আনতে পারে৷ অনাড়ম্বর এক কন্টেইনার চিলেকে গ্রিন এনার্জির ক্ষেত্রে শীর্ষে পৌঁছতে সাহায্য করতে পারে৷ ছোট হলেও এটাই বিশ্বের একমাত্র ভ্রাম্যমাণ হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র৷ সেই পরীক্ষামূলক কেন্দ্রটিকে মরুভূমির মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে বড় কারখানার জন্য আদর্শ জায়গার সন্ধান চালানো হচ্ছে। সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গার সন্ধান চলছে। সিসিটেম প্রকল্পের প্রধান লিন্ডলে ম্যাক্সওয়েল বলেন, আমাদের প্রধান কাজ হলো এমন এক মানচিত্র তৈরি করা, যার মধ্যে উচ্চ মানের দক্ষতাসম্পন্ন হাইড্রোজেন উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত থাকবে৷ সেখানে এমন জোন আঁকা থাকবে, যার মধ্যে হাইড্রোজেনের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন বিশেষভাবে কার্যকর হবে৷ পানি ভেঙে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন তৈরি করতে হলে শুধু অনেক জ্বালানির প্রয়োজন হয় না।সব জায়গায় বাতাস ও পানি মোটেই একই রকমের নয়। ম্যাক্সওয়েল মনে করিয়ে দেন, যে বাতাসের চাপ, তাপমাত্রা ও জলবায়ু পরিস্থিতি সেই প্রক্রিয়ার দক্ষতার উপর প্রভাব রাখে। চিলেতে এখনো পর্যন্ত বিদ্যুতের সিংহভাগ কয়লা চালিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আসে।ভবিষ্যতে কয়লা ছাড়াই সেগুলো চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তোফাগাস্তার উত্তরে আনগামোস-এ প্রথমবার এমন এক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে লবণ দিয়ে চালানোর উপযুক্ত করে তোলার কাজ চলছে। গ্রিনার ক্যাপাসিটি সংস্থার কর্ণধার হোয়াকিন মেলেন্দেস বলেন, এটা গোটা বিশ্বের কয়লা চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আদর্শ। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের রূপান্তরের পরেও কনট্রোল রুম, টার্বাইন, জেনারেটর আগের মতোই কাজে লাগানো হয়৷ সেটাই এই প্রকল্পের বড় সুবিধা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী তরল লবণের কল্যাণে ভবিষ্যতেও একই টার্বাইন চালু থাকবে। সৌরশক্তি সেই লবণকে দিনের বেলায় উত্তপ্ত করবে। এমন রূপান্তরকে বিপ্লব বলা চলে, গোটা বিশ্বের উপর যার প্রভাব পড়বে। এইএস আন্দেসের ম্যানেজার বানি বোজ্জো বলেন, সেটা সত্যি চললে ভবিষ্যতে বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। শুধু প্রযুক্তির নিরিখে দেখলে যে কোনো তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে লবণ চালিত কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে। তবে চিলের পরিবেশ বাকি বিশ্বের সঙ্গে হুবহু মেলে না।তা সত্ত্বেও সেখানে নতুন করে ভাবনার যে প্রক্রিয়া চলছে, তার ফলে বিশাল মাত্রায় বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত সমাধান সূত্র এবং অবশ্যই বিনিয়োগের সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকার বাইরেও তার প্রভাব পড়তে বাধ্য। আরটিভি/এএইচ
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে দূষণমুক্ত করতে নতুন প্রযুক্তি
আরও পড়ুন
সূর্যের কাছাকাছি পৌঁছে ইতিহাস সৃষ্টি নাসার 
বৃহস্পতিবার বরিশাল শিবিরে যোগ দেবেন নবি
৬৫ দিনের অন্ধকারে ডুবেছে শহর, সূর্যের আলো দেখা যাবে আগামী বছর 
পৃথিবীর কোথাও শতভাগ অপরাধমুক্ত সমাজ পাবেন না: এসি নজরুল ইসলাম