ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সীমান্তে মানবপাচার : বন্দি ও নিখোঁজদের ফেরাতে স্বজনদের আহাজারি

নুরতাজুল মোস্তফা শাহীন শাহ

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২২, ১২:৩৪ পিএম

দেশের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ থেকে নীরবে চলছে মানবপাচার। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় সংঘবদ্ধ দালাল চক্র টেকনাফকে মানবপাচারের সবচেয়ে উপযোগী রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। একসময় গভীর সাগর দিয়ে ট্রলারযোগে সরাসরি মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু এখন আগে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে নেওয়া হচ্ছে থাইল্যান্ডে। তারপর সুবিধা মতো পাচার করা হয় মালয়েশিয়ায়।

একমাস অনুসন্ধান করে সরেজমিন থেকে আরটিভি নিউজ এই তথ্য পেয়েছেন। তিন পর্বের অনুসন্ধানের আজকে দ্বিতীয় পর্ব।

সম্প্রতি দালালদের খপ্পরে পড়ে টেকনাফের বিভিন্ন গ্রাম থেকে দলে দলে অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে সকল বয়সীরা। এদের মধ্যে যুবকদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কিশোরের সংখ্যাও বাড়ছে। যার মধ্যে গুটিয়েক মানুষ মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারলেও বেশিরভাগ থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের বিভিন্ন সীমান্তে অনিশ্চিত অবস্থায় দিন পার করছে। কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না এমন সংখ্যাও অনেক।

এদিকে, হদিস না পাওয়াদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আহাজারি চলছে। মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়া অনেকের পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও স্ত্রী-সন্তানদের মাঝে স্বজন হারানোর বিলাপ আর আর্তনাদ চলছে। টেকনাফের বেশ কয়েকটি গ্রাম গত কয়েক দিন সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।

মোহাম্মদ রিদুয়ান (১৬) লাতুরীখোলা গ্রামের আব্দুল মাবুদের ছেলে। হোয়াইক্যং উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। দালালের খপ্পরে পড়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি জমায় মাসখানেক আগে। দালালের মিথ্যা তথ্য ও প্রলোভনে পড়ে রিদুয়ানের বাবা-মা। ভিটেমাটি বিক্রি করে ৬ লাখ টাকা তুলে দেন দালালদের হাতে। কিন্তু এক মাস পার হলেও ছেলে মালয়েশিয়ায় পৌঁছায়নি। গত একমাস পর হঠাৎ ছেলে যোগাযোগ করে বাবা-মার সঙ্গে।

রিদুয়ানের বাবা-মা জানান, মালয়েশিয়া পাড়ি জমাতে গিয়ে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড সীমান্তের ইরাদ্দি বুগলি শহরে একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। এতে মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ট্রলারে থাকা মানুষদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে। আবার অনেকেই নিখোঁজ হয়ে যায়। বর্তমানে রিদুয়ান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিছুটা সুস্থ হয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

ছেলের সঙ্গে কথা বলার পর থেকে মা আসমা কেঁদে কেঁদে দিন পার করছেন। তিনি বলেন, সবকিছু তো গেল। অন্তত প্রাণের ধন ছেলেটাকে ফিরে পেলে জীবনটা বেঁচে যায় কোনো রকমে। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেন।

মো. জুবায়ের একই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। এক রোহিঙ্গা দম্পতি দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া গমনের উদ্দেশে প্রথমে টেকনাফ ত্যাগ করেন। নাফ নদী হয়ে প্রথমে ইয়াংগুনের চামিলা নামক একটি এলাকার একটি ঘরে অবস্থান করে। সেখানে হয় বিপত্তি। দালালসহ ১২১ জন মিয়ানমার পুলিশের হাতে আটক হন। এ তথ্য জানান জুবায়েরের পিতা আমান উল্লাহ। ছেলেকে ফেরাতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন বলেও জানান তিনি।

রাজমিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন যুবক মো. জসিম (২৪)। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী এ ব্যক্তি তিন বছর ও ১১ মাসের দুই সন্তান ও স্ত্রী জাহেদা বেগমকে নিয়ে তার সুখের সংসার। নিয়মিত কাজ পেতো না বলে ধার দেনা করে দালালদের হাতে মোটা অংকের টাকা তুলে দিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। কিন্তু মিয়ানমারের চামিলা এলাকায় দালালদের আস্তানায় অন্যান্যদের সঙ্গে আটক হন জসীম। এক মাসের বেশি হয়ে গেছে সেখানে তিনি বন্দি।

এদিকে তার বাড়িতে চালডাল নেই। অনাহারে অর্ধহারে চলছে জাহেদার সংসার। জাহেদা বলেন, দালালের খপ্পরে পড়ে সুখের জন্য স্বপ্নের দেশে পাড়ি জমাতে চেয়েছিলেন তার স্বামী। কিন্তু পারলেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে সংসারে কঠিন মুহূর্ত পার করছেন তিনি। অবুঝ ছেলে দু’টিকে নিয়ে স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় তার সময় পার হয়। ধার-দেনা পরিশোধের জন্য বসতবাড়িও বিক্রি করতে হবে বলেও জানালেন ভাগ্য বিড়ম্বিত এই গৃহবধূ।

কানজরপাড়ার আক্তার হোসেনসহ ছয় কিশোরকে বেড়াতে নিয়ে যাবে বলে নাফ নদী পার হয়ে মিয়ানমারের চামিলায় নিয়ে আটকে রাখে একটি দালাল চক্র। সেখানে তাদের বন্দি রেখে দেড় লাখ টাকা করে দাবি করেন দালালেরা।

আক্তার হোসেনের ভাই জাগির হোসেন জানান, বখতারের ছেলে দালাল সাইমুম- আক্তারসহ আরাফাত, গিয়াস, কালু, করাচিপাড়ার মুফিজ ও সাইফুলকে নিয়ে মিয়ানমারের একটি চক্রের হাতে তুলে দেন। দালালেরা ছয়জনের প্রত্যেকের কাছ থেকে মালয়েশিয়া যেতে হলে ৬ লাখ টাকা এবং বাড়ি ফিরতে চাইলে দেড় লাখ টাকা করে দাবি করে। অন্যথায় তাদের ফেরত দেয়া হবে না বলেও জানিয়ে দেয়। এখন নিরুপায় হয়ে অন্যদের মতো করে ধার-দেনা করে দেড় লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে দালালদের কাছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, হোয়াইক্যং ইউনিয়নে মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটির মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশে না যেতে নিয়মিত জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। তারপরেও দালালদের খপ্পরে পড়ে মালয়েশিয়া পাড়ি জমাচ্ছেন অনেক মানুষ। ফলে এখানে আইনশৃংখলা বাহিনীর কার্যকরী পদক্ষেপ জরুরি।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, মানবপাচারের বিষয়টি ইদানিং লক্ষ করছি। কয়েক দিন আগে দুইজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নতুন করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

টেকনাফস্থ বিজিবি’র (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) ব্যাটালিয়ন-২ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার বলেন, বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়া পাচারেরের বিষয়ে তাদের কোনো তথ্য নেই। সঠিকভাবে তথ্য উপাত্ত পেলেই তাদের ফেরত আনতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ডিজিটাল গুজব : বছরজুড়েই সক্রিয় ছিল সুযোগ সন্ধানীরা (ভিডিও)
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বছরজুড়েই সক্রিয় ছিল সুযোগ সন্ধানীরা। কখনও ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে, আবার কখনও আর্থিক অনিশ্চয়তার গল্প ফেঁদে ফায়দা লুটেছে তারা। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেও ছড়ানো হয় বিভ্রান্তিকর তথ্য। আর গুজবে কান দিয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ মানুষ। চলুন জেনে নেওয়া যাক, বিদায়ী বছরের উল্লেখযোগ্য কিছু গুজব ও তার পরিণতি- প্রযুক্তির বিকাশে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই এখন হাতের মুঠোয়। তবে সহজ এই প্লাটফর্ম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে অসাধু কিছু মানুষের কারণে। বছরের অন্যতম ক্ষতিকর তথ্য ছড়ানো হয় আর্থিক খাত নিয়ে। ব্যাংক দেউলিয়ার গুজবে কান দিয়ে দুই মাসে ৫০ হাজার কোটি টাকার আমানত তুলে নেন গ্রাহকরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অর্থনীতি। এই গুজব দেশ ও বিদেশ থেকে ছড়ানো হয়। মামলার পর কয়েকজনকে শনাক্ত করে পুলিশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। নিত্যপণ্য নিয়ে গুজবে পণ্যের দাম বাড়ায় ভুগতে হয় সাধারণ ভোক্তাদের। মার্চ-এপ্রিলে গুজব রটে শ্রীলঙ্কার মতো হবে দেশ। তবে পরিস্থিতি সেদিকে যায়নি। আইএমএফের ঋণ অনুমোদন সন্দেহ বাতিকগ্রস্তদের ভুল ভাঙায়। স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন নিয়েও ছড়ানো হয় গুজব। টোল প্লাজা কাজ করবে না, সংযোগ সড়কে স্থায়ী হবে যানজট, স্থবির হবে রাজধানী- এমন নানা প্রচারণা চলে। তবে সেসব ভুল প্রমাণ করে সচল হয় পদ্মা সেতু। উদ্বোধনের পরও অপচেষ্টা থামেনি। নাটবল্টু খুলে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা হয়। পরে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  ধারাবাহিক ছিল ধর্ম নিয়ে উসকানির গুজবও। ১৮ জুন ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে নড়াইলে পুলিশের উপস্থিতিতে শিক্ষককে জুতার মালা পরানো হয়। ওই মামলায় তার কোনো দোষ পাওয়া যায়নি। অথচ ঘটনার রেশ ধরে ১৫ জুলাই নড়াইলের সাহাপাড়ায় হিন্দু বাড়িতে হামলা ও আগুন দেওয়া হয়। একই সময় সামাজিকমাধ্যমে নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। একটি রাজনৈতিক দল এ নিয়ে বিবৃতিও দেয়। অথচ কারিকুলাম বোর্ড জানায়, ধর্ম শিক্ষা বাদ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। আলোচনায় ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরিয়ম মান্নানের মা’র নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। তাদের ধারণা, পারিবারিক বিরোধ কিংবা প্রতিবেশীকে ফাঁসাতেই স্বেচ্ছায় ঘর ছাড়েন তিনি।    বছরের শেষ ভাগে ব্যক্তিগত জমিতে চাষ না করলে তা খাস হবে বলে গুজন রটানো হয়। তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এই তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই। ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়ানো কোনো তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
ডিজিটাল গুজব :  বছরজুড়েই সক্রিয় ছিল সুযোগ সন্ধানীরা (ভিডিও)
অর্জনে-গর্জনে বাংলাদেশ এখন গোটা বিশ্বের বিস্ময় (ভিডিও)
যুদ্ধে যার জন্ম, অর্জনে-গর্জনে ৫১ বছরে সেই বাংলাদেশ এখন গোটা বিশ্বের বিস্ময়। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনার সাফল্য অভূতপূর্ব। কেবল তাই নয়, আর্থসামাজিক উন্নয়নের বেশিরভাগ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। তথ্যমতে, পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সঙ্গে টানা ৯ মাসের যুদ্ধে, ধ্বংসযজ্ঞের দেশে পরিণত হয় সোনার বাংলা। জিডিপির প্রবৃদ্ধি তখন মাইনাস ১৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। তবে, বাঙালির উদ্যমতায় অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেয়নি। পরের বছরই প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশে। স্বাধীনতাত্তোর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রথম বাজেট মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার। আর স্বাধীনতার ৫১ বছরে সেই বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৮৬১ গুণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৫০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। রপ্তানি আয় ২২ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। আর অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে। স্বাধীনতার ৫১ বছরে অনেকটাই সুরক্ষিত সামাজিক সুরক্ষা বলয়। ১৯৭২ সালে বার্ষিক মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ১১ হাজার টাকা। সাড়ে ২৫ গুণ বেড়ে যা এখন ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা। দারিদ্র্যসীমা ৮৮ শতাংশ থেকে নেমেছে প্রায় ২০ শতাংশে। আর গড় আয়ু ৫৩ বছর থেকে উঠেছে ৭২ বছর ৮ মাসে। স্বাধীনতার পর ৭ কোটি মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সাহায্য নিতে হয় বিদেশিদের কাছে। আর এখন প্রায় ১৭ কোটি মানুষের চাহিদা মিটিয়ে খাদ্যশস্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। প্রায় সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে নির্মিত পদ্মাসেতু চালু হয়েছে। নির্মাণ শেষে উদ্বোধনের অপেক্ষায় মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলের মতো বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প। মহাকাশে গেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। এ দিকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এখন বাংলাদেশ। অর্থনীতিবিদদের বিশ্বাস উন্নয়নের এ ধারা বজায় থাকলে ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের তালিকায় ঠিকই নাম লেখাবে বাংলাদেশ।
অর্জনে-গর্জনে বাংলাদেশ এখন গোটা বিশ্বের বিস্ময় (ভিডিও)
চার দশকে পাল্টে গেছে দেশের ওষুধ খাত (ভিডিও)
চার দশকে পাল্টে গেছে দেশের ওষুধ খাতের চেহারা। প্রায় পুরোটা আমদানি নির্ভর থেকে এখন ৯৮ শতাংশ ওষুধ নিজেরাই উৎপাদন করে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো। শুধু তাই নয়, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ ১৬০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে বাংলাদেশ। তবে এই খাতের আধুনিকায়ন নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে, প্রশ্ন আছে মান নিয়েও। ওষুধের কাঁচামালের বেশির ভাগই আমদানি নির্ভর। তথ্যমতে, বাংলাদেশে ওষুধ উৎপাদনের যাত্রা শুরু স্বাধীনতার পরপরই। শুরুতে এ খাতটি তেমন উন্নত ছিল না। চাহিদার মাত্র ২০ ভাগ উৎপাদন করা যেত, বাকি ৮০ ভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশের ওষুধের বাজারের ৭০ ভাগই বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরের বছর ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারির পর বিদেশি ওষুধ প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া বাণিজ্য থেকে এই খাত মুক্তি পায়। ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হতে থাকে বাজার।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আ ব ম ফারুখ বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানির প্রোডাক্টের মান নিয়ে দেশের মানুষ গর্ব করে। কিছু কোম্পানি আছে নিম্নমানের, বাজে ও নকল ওষুধ বানায়। এসব কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সবকিছু সুন্দরভাবে করতে পারলে গার্মেন্টস সেক্টরের পর দ্বিতীয় রপ্তানি ও আয় এই খাতে থেকে আসবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইদুর রহমান খসরু বলেন, পাঁচ দশকের পথ চলায় দেশের চাহিদার ৯৮ ভাগ পূরণ করে দেশের ওষুধ এখন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানিসহ ১৬০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। তবে, এ খাতের মান উন্নয়নে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত ওষুধের মান যাচাই, কাঁচামাল দেশে উৎপাদনসহ এই খাতকে আরও উন্নত করতে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্ট বা এপিআই পার্ক দ্রুত চালুর দাবি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।
চার দশকে পাল্টে গেছে দেশের ওষুধ খাত (ভিডিও)
আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নিয়ে জল্পনা (ভিডিও)
আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন যতই ঘনিয়ে আসছে, দলটির সাধারণ সম্পাদক কে হবেন—সেই আলোচনা ততই জোরালো হচ্ছে। নতুন মুখ নাকি ৭৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে টানা তৃতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হয়ে ইতিহাসে নাম লেখাবেন ওবায়দুল কাদের, এমন প্রশ্ন সবার মনে। সভাপতির পদ নিয়ে কারও প্রশ্ন নেই। দলের ঐক্য ও ভরসার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।   উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই আলোচনায় নতুন কমিটি। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বিস্তৃত হচ্ছে আলোচনার ডালপালা।  বরাবরের মতোই সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকেই দেখতে চান সব স্তরের নেতার্কীরা। ৪২ বছরে শত ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে দলটির অনিবার্য নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন সভাপতি শেখ হাসিনা। তার বিকল্প নেই বলেও মনে করেন সবাই।  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, আ.লীগের শতভাগ নেতাকর্মী, যারা কাউন্সিলে ডেলিগেট হবেন, তারা সবাই চান শেখ হাসিনা পুনরায় আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। টানা চার মেয়াদে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর টানা তিন মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জাতীয় নেতা তাজউদ্দিন আহমদ। এরপর আর কেউ টানা দুইবারের বেশি সাধারণ সম্পাদক হননি।   ২০১৬ সাল থেকে টানা দুইবার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। টানা তৃতীয় মেয়াদে তিনিই থাকবেন, নাকি নতুন মুখ দেখা যাবে সেই আলোচনা এখন সংগঠনে। নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের তৃতীয়বারের মতো তাকেই সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে বলে গুঞ্জন দলের মধ্যে। তবে এ নিয়ে মুখ খুলছেন না কেউ। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে সাধারণ সম্পাদক পদে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার বিধান নেই। ফলে কেউ নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেননি। তবে সাধারণ সম্পাদকের দৌড়ে অনেকেরই নাম শোনা যায়। এদের মধ্যে রয়েছেন— সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমানের মতো ডাকসাইটে নেতারা। আলোচনায় আছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ এবং আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমও। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাই এ টু জেড। তিনি যে কমিটি নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন, যে কমিটির কর্মকর্তাদের দিয়ে ওনার কাজ করতে সুবিধা হবে; দলকে একটি শক্তিশালী ও বেগবান করার জন্য যে পরিকল্পনা ওনার মাথায় আছে, তিনই করতে পারবেন। তিনিই বলতে পারবেন। তবে এটুকু বলতে পারি, আমাদের প্রত্যাশার বাইরে যাবে না। তবে শেষ পর্যন্ত কে হবেন সাধারণ সম্পাদক, তা নির্ধারণ হবে কাউন্সিলে। সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নিয়ে জল্পনা (ভিডিও)
নিত্যপণ্যের দাম আরও ২০ শতাংশ বাড়ার শঙ্কা (ভিডিও)
পাইকারী পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ার কারণে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আরও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, গণশুনানী উপেক্ষা করে পাইকারী পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক। এটি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আইন ভঙ্গ করেছে। এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব খুচরা পর্যায়েও পড়বে। তথ্যমতে, গত এক যুগে বিদ্যুতের দাম ৯ বার বাড়িয়েছে বিইআরসি। এ সময় পাইকারী পর্যায়ে দাম বেড়েছে ১১৮ শতাংশ, আর খুচরায় ৯০ শতাংশ। শেষবার ২০২০ সালে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রায় আড়াই বছর পর গত ২০ নভেম্বর পাইকারী পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো প্রায় ২০ শতাংশ।  এদিকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করতে গিয়ে এবার নিজেদের আইনকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো বিইআরসি। কোন ধরনের গণশুনানী বা জনগণের মতামত না নিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একেবারেই অযৌক্তিক। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলছেন, দাম বাড়ানোর বিষয়গুলো সবসময় গণশুনানীর মধ্যেই হয়ে থাকে। কিন্তু এবার একটা ঘোষণার মাধ্যমে দাম বাড়ানো হয়েছে। এটা মোটেই ঠিক হয়নি।  তিনি বলেন, বিশ্বে গ্যাস ও তেলের দাম কমছে। তাই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আগে আরও সময় নেওয়া যেত। তখন হয়তো এই দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না।  রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে তীব্র ডলার সংকটে অর্থনীতি। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমন বাস্তবতায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে বলে মনে করে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসেন। তিনি বলেন, পাইকারী পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব খুচরা পর্যায়েও পড়বে। এটি আমাদের মূল্যস্ফীতিকে আবারও উসকে দেবে। ফলে মূল্যস্ফীতি ২০ শতাংশের কাছাকাছি বাড়তে পারে।  পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং ব্যাপকহারে স্থল ও সমুদ্রে গ্যাসের অনুসন্ধানের তাগিদ দিলেন তারা।
নিত্যপণ্যের দাম আরও ২০ শতাংশ বাড়ার শঙ্কা (ভিডিও)
আরও পড়ুন
মুক্তিপণেই বাড়ি ফিরলেন সেই অপহৃত ৮ জন
কক্সবাজারে পৃথক অভিযানে মাদকদ্রব্য জব্দ, আটক ১
৮ বাংলাদেশিকে অপহরণ করেছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা, মুক্তিপণ দাবি
আসামির ঘুষিতে আহত পুলিশ কর্মকর্তা