ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ফিরে দেখা ২০২৪

রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ, শঙ্কা ও সংকটে আওয়ামী লীগ

এস এ পলাশ

প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:০১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর চলতি বছর (২০২৪) ছিল দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত বছর। কারণ, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বৈরশাসকের পতন হয়েছে এ বছরই।

সমালোচিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচন ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের রাতের ভোটের নির্বাচনের পর ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনটা ছিল আরও অগ্রহণযোগ্য। এই নির্বাচনে দেশের প্রধান বিরোধীদল বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি। আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে বেশিরভাগ দল অংশ না নেওয়ায় দলীয় নেতাদের সতন্ত্রপ্রার্থী বানায় দলটি। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২২৩টিতে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পায় ৬১টি আসন। মাত্র ১১টি আসন পেয়ে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হয় জাতীয় পার্টি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘একতরফা’ ও ‘ডামি নির্বাচন’ আখ্যায়িত করে বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখে বিএনপি। সরকারকে ‘অবৈধ’ দাবি করে দ্রুত পদত্যাগ ও অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি করে দলটি।

নির্বাচনের কয়েকদিনের মধ্যে কোনো পশ্চিমা দেশ শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানায়নি। এরপর ৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য করেছে ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী-লীগ সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন নিয়ে জয়ী হয়েছে। তবে, হাজারো বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীর গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনের দিনে বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরণের অনিয়মের খবরে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন।

বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

সংসদ নির্বাচন নির্বাচনের পর বিভিন্ন আন্দোলন ঠেকাতে বিএনপির নেতাকর্মীদের আটক করে জেলে পাঠাতে থাকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে দেশের কারাগারগুলোতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীদের জায়গা হচ্ছিল না। সেসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছিলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৫ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে কারাগারে আটক রেখেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

আওয়ামী লীগপন্থী আমলাদের দুর্নীতি ও টাকা পাচারের তথ্য প্রকাশে আসা

চলতি বছরের মার্চের দিকে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক আওয়ামী লীগ পন্থী আমলাদের দুর্নীতি ও টাকা পাচারের তথ্য গণমাধ্যমে উঠে আসে। তাদের মধ্যে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিয়ন জাহাঙ্গীর আলম উল্লেখযোগ্য। এসব বিষয় প্রকাশ্যে আসায় জনমনে আওয়ামী লীগ বিরোধী মনোভব সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে দলটির সাধারণ নেতাকর্মীদের মনেও প্রশ্ন উঠতে থাকে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ

২০১৮ সালের মার্চে কোটাভিত্তিক পদ কমানো, শূন্য পদে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা নির্ধারণের দাবিতে রাস্তায় নামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের বিক্ষোভ উপেক্ষা করে ২১ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটাব্যবস্থা বহালই থাকবে বলে ঘোষণা দেন। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সারাদেশে কয়েক হাজার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে, মিছিল বের করে এবং মহাসড়ক অবরোধ করতে শুরু করে। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে অন্তত ৭৫ জন আহত হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানীর শাহবাগ মোড় ও এর আশেপাশের এলাকা। ১১ এপ্রিল শেখ হাসিনা কোটাব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাতিলের ঘোষণা দেন। এরপর ৩ অক্টোবর সরকারের মন্ত্রিসভা সরকারি চাকরিতে নবম থেকে ১৩তম গ্রেডে (যেসব পদ আগে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরি বলে পরিচিত ছিল) নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

২০২৪ সালের ৫ জুন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, হাইকোর্ট সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে (নবম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এতে ফের রাস্তায় নেমে আসেন শিক্ষার্থীরা।গত ২-৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র ব্যানারে সংগঠিত হয় এবং সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে ২০১৮ সালের সরকারি বিজ্ঞপ্তি পুনঃবহালের দাবিতে টিএসসি এলাকায় একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করে। পরের কয়েকদিন দেশের অন্যান্য অংশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গত ৪ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ৫ জুলাই হাইকোর্টের রায় বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিন ৬ জুলাই শিক্ষার্থীরা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ডাক দেয়।

গত ১৪ জুলাই সব গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে গণপদযাত্রা করে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেন আন্দোলনকারীরা। সেদিন সন্ধ্যায় একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বিতর্কিত মন্তব্য করেন, মন্তব্যে তিনি আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’র সঙ্গে তুলনা করেন। এই মন্তব্যের পর রাতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন ‘তুমি কে, আমি কে, রাজাকার রাজাকার; কে বলেছে, কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার’। এরপর ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনে ছাত্রলীগ ও অন্যান্য ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায়। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে আহত বিক্ষোভকারীদের ওপরও হামলা চালায়। সেদিন উভয়পক্ষের তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়।

১৬ জুলাই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হয়। সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের হল খালি করতে বলা হয়েছে। সরকার ছয়টি জেলায় বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করে। সেদিন শিক্ষার্থীরা ঢাবি ও রাবির অধিকাংশ হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষ ভাঙচুর করে। রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। ১৮ জুলাই ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিসহ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। ১৯টি জেলায় সংঘর্ষের ফলে সহিংসতায় কমপক্ষে ২৯ জন নিহত হয়। অনির্দিষ্টকালের জন্য মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করা হয়। ১৯ জুলাই দিনব্যাপী সহিংসতায় কমপক্ষে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন কয়েকশ মানুষ। এদিনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা নয় দফা দাবি ঘোষণা করেন। যার মধ্যে ছিল শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে হবে, কয়েকজন মন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের পদত্যাগ করতে হবে, হামলায় জড়িত ছাত্রলীগ ও পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দিতে হবে, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও আন্দোলনকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। এদিন মধ্যরাত থেকে সরকার দেশব্যাপী কারফিউ ঘোষণা করে এবং সেনা মোতায়েন করে। ২০ জুলাই কারফিউয়ের প্রথম দিনে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। ২৩ জুলাই সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় ৯৩ শতাংশ নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে করার ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। তবে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়করা তা প্রত্যাখ্যান করে। গত ২৬ জুলাই পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) হাসপাতাল থেকে তিন সমন্বয়কে তুলে নেয়। এদিন জাতীয় ঐক্য ও সরকার পতনের আহ্বান জানায় বিএনপি। ২৮ জুলাই দেশব্যাপী পুলিশের অভিযান চলমান ছিল। শুধু ঢাকাতেই ২০০টিরও বেশি মামলায় দুই লাখ ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মোবাইল ইন্টারনেট সচল হলেও বন্ধ ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। গত ৩০ জুলাই কোটা আন্দোলন ঘিরে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে দেশব্যাপী শোক পালনের আহ্বান জানায় সরকার। এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে একক বা ঐক্যবদ্ধভাবে লাল কাপড় মুখে ও চোখে বেঁধে ছবি তোলা এবং অনলাইনে প্রচার কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা।

নির্বাহী আদেশে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ

গত ৩১ জুলাই সরকারের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই দিন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী জামায়াত ও ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয় আইনগত মতামত দেওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। আজ এই প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা থাকবে তাদের। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় জামায়াত ও এর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের জড়িত থাকার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনার ভারত পলায়ন

গত ৪ আগস্ট সারাদেশে আওয়ামী লীগের সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সহিংস সংঘর্ষ হয়। দেশব্যাপী অন্তত ৯৩ জন নিহত হন। এদিন মন্ত্রী-এমপিদের বাড়িতে হামলা শুরু হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে ‘শক্ত হাতে নাশকতাকারীদের প্রতিহত করার’ আহ্বান জানান।

সরকারের পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনার রূপরেখা দেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। বিক্ষোভকারীরা সারাদেশে নাগরিকদের ‘মার্চ টু ঢাকা’ করার আহ্বান জানান। শুরুতে ৬ আগস্ট 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচির আহ্বান জানানো হলেও পরে তা একদিন আগে ৫ আগস্ট করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

৫ আগস্ট এদিন হাজারো মানুষ কারফিউ ভেঙে ঢাকার একাধিক মোড়ে জড়ো হয়ে রাজধানীতে প্রবেশের চেষ্টা করে। দুপুর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। প্রধানমন্ত্রী আরও বল প্রয়োগ করে ক্ষমতায় থাকতে চাইলে তাকে জানানো হয় যে, এই ধরনের ব্যবস্থা অকার্যকর হবে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দেশব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ছিল। পরে সেনাপ্রধান দুপুর ২টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা করে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর পদত্যাগ করতে রাজি হন শেখ হাসিনা। তিনি হেলিকপ্টারে দেশ ছেড়ে যান। শেখ হাসিনার পতন উদযাপন করতে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। গণভবন, সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভাঙচুর চলে।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গা ঢাকা দেওয়া ও গ্রেপ্তার হওয়া

সাধারণ মানুষসহ ছাত্র-জনতার ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়ে পতিত হয়েছে আওয়ামী লীগ। রাজনীতির মাঠ থেকে কোনোরকম আগাম সতর্কতা ব্যতিরেকে বলয় থেকে ছিটকে গেছে তারা। যেখানে দেশের অনুমানিক ৮০ শতাংশ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে তো বটেই, উল্টো দলীয় বঞ্চিত ও নিগৃহীত হওয়া কর্মীসমর্থকরাও তাদের পাশে এগিয়ে আসেনি। এতে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়েছে যে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে একটা সিন্ডিকেট তাদের নিজস্ব অনুসারী ছাড়া আর কাউকে সুযোগ দিতেও রাজি ছিল না। এতে পদবঞ্চিত, সুবিধাবঞ্চিত বৃহৎ সমর্থকগোষ্ঠীর সমর্থন হারিয়েও ক্ষমতা আর আধিপত্য বজায় রাখতে দমনপীড়ন চালিয়ে নিজ দলীয় কর্মীদের জামায়াত-শিবির ট্যাগ দিয়ে দল ছাড়তে বাধ্য করাও ছিল বেশ লক্ষ্যণীয়। আবার দলে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে রাজনীতির মাঠে কোনঠাসা হয়ে পড়া জামায়াত-শিবিরকে কিংবা ভিন্ন দলের কর্মীদের দলে টেনে দল ভারী করে আধিপত্য কায়েম করতে দেখা গেছে। আর শেষমেশ সেটিই পরিলক্ষিত হয়েছে সরকার পতনের সফল অভ্যুত্থানের সময়।

শীর্ষ নেতারাও অনেকে দেশ ছেড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেউ কেউ দেশ ছাড়ার চেষ্টাকালে গ্রেপ্তারও হয়েছেন। অনেকের আদালতে বিচার চলেছে। এর বাইরে, নেতাদের মধ্যে এখনও যারা দেশে অবস্থান করছেন, তাদের প্রায় সবাই ‘আত্মগোপন’ করেছেন।

এমন অবস্থায় গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগে চরম নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দিয়েছে। এতে সাংগঠনিকভাবে দলটি রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। তাদের অনেকেই এখন উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। গণমাধ্যমে কথা বলার সময় কেউ কেউ তাদের নামও প্রকাশ করতে ইচ্ছুক নন।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, তাদের দলের এখন দিশেহারা বিপর্যস্ত অবস্থা হয়ে গেছে। কয়েক মাস হয়ে গেল, অথচ কেন্দ্র থেকে কার্যকর কোনো নির্দেশনা দেওয়া হলো না। ফোন দিলেও কেউ ধরে না। হামলা-মামলা সব মিলিয়ে নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নেতাকর্মীদের অনেকে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের এখনকার যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে, সেটার জন্য দলের সিনিয়র নেতাদের দায়ী করছেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। তৃণমূলের এক কর্মী বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা বানাইলো তারা; আর তাদের পাপের শাস্তি ভোগ করতে হইতেছে আমাদের মতো তৃণমূলের নেতাকর্মীদের।’

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শঙ্কা ও সংকটে আ.লীগ, সম্ভাব্য সুদিন বিএনপির
রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের বছর ২০২৪। শঙ্কা ও সংকটে আওয়ামী লীগ থাকলেও সম্ভাব্য সুদিন এখন বিএনপির। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ২০২৪ ছিল দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে ঘটনাবহুল বছর। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বৈরশাসকের পতন ঘটে এ বছরই। স্বস্তিতে রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি হয় ফেরারি বিএনপির। রাজনীতিতে ফিরেছে নিরুদ্দেশে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামেও। বছরের শুরু হয়েছিল সমালোচিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিয়ে। বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল অংশ না নেওয়ায় ডামি যা নির্বাচন নামে পরিচিতি লাভ করে। সংসদ নির্বাচন ঠেকাতে আন্দোলনে নেমে গ্রেপ্তার হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরুসহ ২৫ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী। সরকার পতনের পরদিন রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হাজার হাজার নেতাকর্মী ছেড়ে দেন জেল কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের মার্চের দিকে একের পর এক আওয়ামীপন্থী আমলাদের দুর্নীতি, টাকা পাচারের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হতে থাকে। বাদ যাননি পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ। তবে সাবেক এনবিআর সদস্য মতিউর রহমানের ছেলের ছাগলকাণ্ডই যে ঘটনার সূত্রপাত ঘটায় তা জোড় আলোচনায়। শেখ হাসিনার পিয়ন জাহাঙ্গীর আলমের ৪০০ কোটি টাকার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য।  কোটা কমিয়ে সরকারি চাকরিতে মেধায় নিয়োগের দাবিতে ২০১৮ সালে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, বিরতি দিয়ে ২০২৪-এ পরিণতি লাভ করে। ছাত্রদের দাবি উপেক্ষা করে বিতর্কিত মন্তব্য করে আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢালেন শেখ হাসিনা। ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ডাক দিলে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। প্রাণ বাঁচাতে পানি পান করাতে গিয়ে প্রাণ দেন মীর মুগ্ধ। আন্দোলন দমাতে কারফিউ ঘোষণা, সেনা মোতায়েন করেও সুবিধা করতে পারেনি স্বৈরচার সরকার। সমন্বয়কে তুলে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতন ও ২০০ এর বেশি মামলায় দুই লাখ ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়। এ অবস্থায় জাতীয় ঐক্য ও সরকার পতনের ডাক দেয় বিএনপি। সরকার পতনের সপ্তাহ খানেক আগে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হয় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরকে। ৫ আগস্ট কারফিউ ভেঙে ‘মার্চ টু ঢাকায়’ যোগ দেন লাখো জনতা। আন্দোলন দমাতে ব্যর্থ হয়ে বিমান বাহিনীর উড়োজাহাজে চড়ে ভারতে পালিয়ে যান প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতা আকড়ে থাকা আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। গণভবন, সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। গা ঢাকা দেন আওয়ামী লীগের জাদরেল নেতারা। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হন ক্ষমতাচ্যুত দলটির প্রভাবশালী কয়েকজন মন্ত্রী-এমপিরা। কায়দাকানুন করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান কেউ কেউ।  ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। প্রায় সাত বছর পর বিএনপির জনসভায় ভিডিও বার্তা দেন তিনি। এক যুগ পর গত ২১ নভেম্বর সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। টেলিভিশনে বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় তারেক রহমানের। ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তবর্তী সরকার। জেলে না গিয়ে সরকার গঠন করেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস। চাকরি চেয়ে রাজপথে আন্দোলন শেষে সরাসরি সরকারে যোগ দেন নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব। যদিও ফ্যাসিবাদ পতনে প্রাণ দিতে হয় প্রায় ২ হাজার ছাত্র জনতাকে। পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়েছে হাজার হাজার নিরীহ শিক্ষার্থীকে। যে তিনটি বড় গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতির বাঁক বদল ঘটেছে, তার সবগুলোতে লাভবান হয়েছে বিএনপি। এবারের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বিএনপির। তবে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াত। এদিকে নতুন দল গঠন করছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। নতুন বছরের দ্বিতীয় মাসেই তাদের দলের আত্মপ্রকাশের কথা রয়েছে।  আরটিভি/আরএ/এস
শঙ্কা ও সংকটে আ.লীগ, সম্ভাব্য সুদিন বিএনপির
এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতিতে এগোচ্ছে সরকার
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতিতে এগোচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে খরচ হয়েছে ৩৪ হাজার ২১৪ কোটি টাকা, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা কম। তবে খরচের এমন ধীরগতিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আগের সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া অহেতুক প্রকল্পে খরচ না করাই উত্তম। তথ্যমতে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাকিস্তান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ভুটান, ব্রুনেই ও সৌদি আরবে সাতটি চ্যান্সারি কমপ্লেক্স তৈরির প্রকল্প রয়েছে, যার বরাদ্দ মোট ১৪৩ কোটি টাকা। তবে অর্থবছরের প্রথম চার মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এক টাকাও খরচ করা সম্ভব হয়নি।  সরকারের প্রকল্প মনিটরিং করার একমাত্র সংস্থা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্যে জানা গেছে, জুলাই-নভেম্বর বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের খরচেও দেখা গেছে রক্ষণশীলতা। ২০২৩–২৪ অর্থবছরের এই সময়ে খরচ হয়েছিল ৪৬ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থ বছরে খরচ হয়েছে মাত্র ৩৪ হাজার ২১৪ কোটি। যা মোট বরাদ্দের ১২ দশমিক ২-৯ শতাংশ। বেশি বরাদ্দ পাওয়া ১৫ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ বরাদ্দ বা ৭ হাজার ৭১১ কোটি টাকা খরচ করতে পেরেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বিভাগটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। আর ১০ শতাংশের কম খরচ হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং সেতু বিভাগে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির জানান, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে অনেক ঠিকাদার পালিয়ে গেছে, আবার অনেক প্রকল্প পরিচালক সম্পদ বিক্রি করে বিদেশ চলে গেছেন। যার ফলে কিছুটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রশাসন, সেখানকার ঠিকাদার ও কেনাকাটার জায়গাগুলোতে এখন কিছুটা অচল অবস্থায় আছে এবং সেটা আরও কয়েক মাস থাকবে। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) সহ-সভাপতি এম এস সিদ্দিকী বলেন, শুধুমাত্র আমলাদের নিয়ে নয়, প্রাইভেট অথবা অন্য পেশা থেকেও দক্ষ লোক নিয়ে এ প্রকল্পগুলো মেনেজম্যান্ট করা উচিত, তাহলে হয়তো আরেকটু গতি আসবে।  উল্লেখ্য, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। আরটিভি/আরএ/এস
এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতিতে এগোচ্ছে সরকার
ছবির মতো সুন্দর হয়েও পর্যটক যায় না যে দেশে
ছবির মতো সুন্দর এক দেশ। প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুদ, সোনা-রুপার ঝলমলে প্রাসাদ, আর মনোমুগ্ধকর স্থাপত্যের অপরূপ সমাহার—সব মিলিয়ে যেন এক স্বপ্নপুরী। কিন্তু, এত বৈচিত্র্য, এত ঐশ্বর্যের মাঝে যেন এক অদৃশ্য পর্দা টাঙানো। কোথাও কোনো পর্যটকের আনাগোনা নেই। যেখানে আরব আমিরাত, আমেরিকা, কিংবা থাইল্যান্ড পর্যটকদের পদচারণায় মুখর, সেখানে এই অনন্য সৌন্দর্যের দেশ যেন পড়ে আছে একাকী, নিস্তব্ধ।  প্রশ্ন হলো, কেনো? এতো সৌন্দর্য থাকা সত্ত্বেও কেনো পর্যটকদের কাছে এই দেশটি এক রহস্য? এর পেছনে কি কোনো গোপন কারণ লুকিয়ে আছে? কোনো অজানা রহস্য যা পর্যটকদের দূরে রাখছে? চলুন তবে জেনে নিই। মধ্য এশিয়ার এক রহস্যময় এই দেশ তুর্কমেনিস্তান, যা ক্যাস্পিয়ান সাগরের পূর্বে অবস্থিত। দেশটির রাজধানী আশগাবাত, যা সাদা মার্বেলের শহর হিসেবে পরিচিত। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, আশগাবাত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সাদা মার্বেলের ভবনসমৃদ্ধ শহর। শহরটির স্থাপত্যশৈলী ও নকশা মনোমুগ্ধকর।  দেশটির আরেকটি আকর্ষণীয় স্থান হলো দারভাজা গ্যাস ক্রেটার, যা "নরকের দরজা" নামে পরিচিত। এটি একটি বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাসের গর্ত, যা ১৯৭১ সাল থেকে জ্বলছে। এই অগ্নিগর্তটি পর্যটকদের জন্য এক বিস্ময়কর স্থান, তবে সেখানে পৌঁছানো কিংবা ভ্রমণ করা সহজ নয়। মূলত মরুভূমি আর প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, এই দেশটি সারা বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। যেখানে ভ্রমণ করতে চাইলেও ভিসা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন, আর পেলেও নেইস্বাধীনভাবে ঘোরার অনুমতি। পর্যটকদের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট গাইডের সঙ্গে চলার বাধ্যবাধকতা। অনেক এলাকায় ফটোগ্রাফি নিষিদ্ধ, এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগেও বিধিনিষেধ রয়েছে। এই কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে দেশটি বিশ্বের অন্যতম বন্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। তুর্কমেনিস্তানের সরকার জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে দেশের নাগরিকরাও স্বাধীনভাবে যেখানে-সেখানে ঘুরতে পারেন না বলে জানা যায়। তুর্কমেনিস্তান এমন এক দেশ, যেখানে দেশের মানুষও বাইরের পৃথিবীর অনেক কিছু থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। দেশটির সরকার নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে পানি, বিদ্যুৎ এবং গ্যাসসহ কিছু সুবিধা প্রদান করে। তবে দেশে পর্যটন খাতের অবকাঠামো প্রায় নেই বললেই চলে। আন্তর্জাতিক মানের হোটেল বা রেস্টুরেন্টের অভাব থাকায় যারা যেতে চান তাদেরও ভ্রমণ করতে হয় নানা অসুবিধার মধ্যে দিয়ে। আরটিভি/এফআই
ছবির মতো সুন্দর হয়েও পর্যটক যায় না যে দেশে
৩ হাজার বছরের রহস্যময় পাতাল শহরের খোঁজ মিললো যেভাবে
আপনি যে ভিডিওটি দেখছেন, এটি মাটির নিচে বিস্তৃত এক রহস্যময় শহর। হাজার বছর ধরে এই শহর মানুষের চোখের আড়ালে ছিল, কিন্তু একসময় এটি অন্য আট দশটি শহরের মতোই নানা কোলাহলে মুখরিত থাকত। সময়ের পরিক্রমায় যা হারিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ১৯৬৩ সালে এক ব্যক্তির ঘর সংস্কারের সময় তিনি হঠাৎই আবিষ্কার করেন এই অবিশ্বাস্য স্থাপত্য। যা তুরস্কের ডেরিনকুয়ু পাতাল নগরী নামে পরিচিত। ডেরিনকুয়ু তুরস্কের কাপাডোশিয়া অঞ্চলের নেভশেহির প্রদেশে অবস্থিত। এটি কোনো প্রাকৃতিকভাবে গঠিত গুহা নয়, বরং মানুষের হাতে খনন করা একটি পাতাল শহর। এই শহরটি খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৭ম থেকে ৮ম শতাব্দীতে নির্মিত হয় এবং এটি তখনকার সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হত। এটি প্রায় ২৫০ ফুট গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং ধারণা করা হয়, এখানে একসময় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষ এখানে আত্মগোপন করত—যেমন, শত্রুর আক্রমণ বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়। শহরের ভেতরে অসংখ্য সুড়ঙ্গপথ, ৬০টির মতো গোপন দরজা এবং বাতাস চলাচলের জন্য নির্মিত শ্বাসনালী রয়েছে। এ শহরটি এতটাই জটিল যে, একজন সহজেই ভেতরে ঢুকে পথ হারিয়ে ফেলতে পারে। এই পাতাল নগরী প্রথমে হিট্টাইটদের দ্বারা তৈরি করা হয় বলে ধারণা করা হয়, তবে পরে ফ্রিজিয়ান ও বাইজেন্টাইনরাও এটি ব্যবহার করে। আরব-বাইজেন্টাইন যুদ্ধের সময় যোদ্ধারা শত্রুর হাত থেকে বাঁচার জন্য এই গুহাগুলোতে লুকিয়ে থাকত। বাইজেন্টাইনদের পরাজয়ের পর, উসমানীয় সম্রাজ্যেল শাসকগণ এই শহরকে নিজেদের বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহার করে বলে কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে, যখন উসমানীয় সাম্রাজ্য তার পতনের মুখে, তখন এই অঞ্চলের গ্রিকরা শহরটি ত্যাগ করে। ১৯২৩ সালে তুরস্ক-গ্রিস যুদ্ধের পর, ডেরিনকুয়ু শহর সম্পূর্ণ জনশূন্য হয়ে পড়ে। বহু বছর ধরে এটি ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পড়ে ছিল, যতক্ষণ না ১৯৬৩ সালে এটি পুনরায় আবিষ্কৃত হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে ছুটে যান এবং শুরু করেন গভীর গবেষণা। একে একে আবিষ্কৃত হয় শহরের অভ্যন্তরে থাকা আস্তাবল, তেলের ঘাঁনি, গুদামঘর, প্রার্থনাকক্ষসহ বিভিন্ন কাঠামো। এমনকি শহরের দ্বিতীয় তলায় খুঁজে পাওয়া যায় কিছু প্রাচীন সমাধি, যা বিশেষ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হত। ১৯৬৯ সালে, ডেরিনকুয়ু শহরটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়, যদিও এর কিছু বিপজ্জনক অংশ এখনো জনসাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এই প্রাচীন এবং রহস্যময় পাতাল নগরী প্রতিদিনই পর্যটকদের আকর্ষণ করে এবং এর প্রাচীন ইতিহাসের গোপন রহস্যগুলো এখনো অনেক গবেষণা ও মুগ্ধতার বিষয়। আরটিভি/এফআই
৩ হাজার বছরের রহস্যময় পাতাল শহরের খোঁজ মিললো যেভাবে
৬৫ দিনের অন্ধকারে ডুবেছে শহর, সূর্যের আলো দেখা যাবে আগামী বছর 
ভাবুন এমন একটি শহর যেখানে সূর্যের আলো পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। ৬৫ দিন ধরে শহরের চারপাশ ঢেকে থাকে শুধুই অন্ধকার। দিনের মধ্যে কয়েক ঘণ্টার জন্য মাত্র একটুখানি দেখা যায় মৃদু আলো, তাও সূর্যের আলো নয়। হয়তো ভাবছেন কোনো রূপকথার গল্প বলছি? কিন্তু এটি কোনো গল্প নয়, বরং বাস্তব! এমনই এক শহর হলো আমেরিকার উত্তরতম শহর উৎকিয়াৎভিক, যা এই মুহূর্তে অন্ধকারাচ্ছন্ন আছে। আর এই ঘটনাকে বলা হয় পোলার নাইট।  উৎকিয়াৎভিক, আলাস্কার এই ছোট্ট শহরটি প্রতি বছর ৬৫ দিনের জন্য সূর্যহীন সময়ের মুখোমুখি হয়। চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই অন্ধকার, যা চলবে আগামী বছরের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়ে সূর্য দিগন্তের ওপরে ওঠে না। তবে এই অন্ধকার পুরোপুরি রাতের মতো নয়। বাসিন্দারা দিনের মধ্যে কয়েক ঘণ্টার জন্য মৃদু আলো উপভোগ করেন। সূর্য দিগন্তের ঠিক নিচে থাকায় এক ধরণের ক্ষীণ আলো চারপাশকে কিছুটা আলোকিত করে তোলে। এটি দিন আর রাতের মাঝামাঝি একটি মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে পোলার নাইট কেন ঘটে? এটি হয় মূলত পৃথিবীর ঢালের কারণে। আমাদের পৃথিবী যখন সূর্যের চারপাশে ঘোরে, তখন এটি ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে থাকে। এই ঢালটির জন্য, শীতকালে পৃথিবীর উত্তর মেরু সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে না।ফলে, উত্তর মেরুর কাছাকাছি এলাকাগুলো সরাসরি সূর্যের আলো পায় না। সূর্য দিগন্তের নিচে অবস্থান করে, আর তাই সেখানে দিনের বেলাতেও রাতের মতো অন্ধকার থাকে।   এই দীর্ঘ অন্ধকারের সময় শহরের বাসিন্দারা তাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেন। তারা জানেন, এই অন্ধকার কেবল একটি ঋতুর অংশ। জানুয়ারির ২২ তারিখে দুপুরে আবার ফিরে আসবে, এবং আলোর এই ফিরে আসা তাদের জন্য হবে এক নতুন দিনের সূচনা। এটি কেবল শীতকালে ঘটে, যখন মেরু অঞ্চলের এলাকা সূর্য থেকে দূরে থাকে। এভাবেই প্রতি বছর পোলার নাইট হয় এবং কিছু কিছু জায়গা টানা কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সূর্যহীন থাকে। ৬৫ দিনের অন্ধকার কাটিয়ে যখন সূর্যের প্রথম কিরণ উৎকিয়াৎভিকের মাটিতে পড়বে, তখন এটি হবে কেবল আলোর নয়, নতুন জীবনেরও উদযাপন। আরটিভি/এফআই
৬৫ দিনের অন্ধকারে ডুবেছে শহর, সূর্যের আলো দেখা যাবে আগামী বছর 
আরও পড়ুন
আ.লীগ নিষিদ্ধ না হলে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই: সিইসি
বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন যেসব তারকা
আলোচিত ফুটবলারদের অবসর
বিএনপির পালে হাওয়া, রয়েছে নানামুখী চ্যালেঞ্জ