এবারের বিপিএলে অন্যসব দলের চেয়ে তুলনামূলক কম শক্তির দল গড়েছিল সিলেট স্ট্রাইকার্স। তবে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার অসাধারণ নেতৃত্বগুণ আর লোকাল প্লেয়ারদের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ইতিহাস গড়ে প্রথমবার ফাইনালে উঠেছিল সিলেটের ফ্রাঞ্চাইজিটি। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তারকায় ঠাসা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে ৭ উইকেটে পরাজিত হয় মুশফিক-শান্ত-হৃদয়রা।
কিন্তু প্রথমবার শিরোপার কাছাকাছি গিয়েও সিলেটবাসী ট্রফি ছুঁতে না পারলেও মাশরাফীর দলের পারফরম্যান্সে বেশ সন্তুষ্ট। নাজমুল শান্ত-তৌহিদ হৃদয়রা ভক্ত-সমর্থকদের মন জয় করে নিয়েছেন। তাই এই পরাজয়কেও অর্জন হিসেবে ধরে নিয়ে দলের সকলের নিবেদনের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়েছে সিলেট ফ্রাঞ্চাইজির নতুন মালিকরা।
এবারের বিপিএলে রানার্সআপের প্রাইজমানি থেকে পাওয়া ১ কোটি টাকা দলের সকল খেলোয়াড় ও ম্যানেজমেন্টের সদস্যদের মধ্যে পুরষ্কারস্বরূপ ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে সিলেট স্ট্রাইকার্স ফ্রাঞ্চাইজি।
এদিকে শিরোপা জিততে না পারলেও মাঠে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ব্যক্তিগত অর্জনে এগিয়ে ছিল সিলেটের কয়েকজন খেলোয়াড়রা। এর মধ্যে মোট ১৫ লাখ টাকা পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আর মুশফিকের অর্জন পাঁচ লাখ টাকা।
এবার টুর্নামেন্টে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এক আসরে পাঁচশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। তাও সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পাঁচ লাখের পাশাপাশি টুর্নামেন্ট সেরার ১০ লাখ টাকার পুরস্কারও জিতে নেন পেয়েছেন জাতীয় দলের এই ওপেনার।
এছাড়া আসরের সেরা ফিল্ডারের পুরস্কার পেয়েছেন সিলেটের উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিম। এর জন্য গত বছর টি-টোয়েন্টিকে বিদায় জানানো বাংলাদেশ দলের উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যান পাঁচ লাখ টাকা অর্থ পুরস্কার পেয়েছেন।
এবার বিপিএলে প্রথম দল হিসেবে প্লে অফে জায়গা করে নিয়েছিল সিলেট স্ট্রাইকার্স৷ লিগে ১২ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে জিতে কোয়ালিফায়ার রাউন্ডে পৌঁছেছিল মাশরাফীরা। তবে গ্রুপ পর্বের মতো সুখকর ছিল না তাদের দলের পারফরম্যান্স।
তবুও প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে কুমিল্লার কাছে হারলেও শ্বাসরুদ্ধকর দ্বিতীয় ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে ফাইনালে পা দিয়েছিল সিলেট। কিন্তু সেই কুমিল্লার বিপক্ষে হারে শিরোপার স্বপ্ন মাটিতে মিশিয়ে যায় দলটির।