ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

জোড়া উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় সেশন শেষে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ০২:৫০ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম সেশনটা ভালোই কেটেছিল বাংলাদেশ দলের। ২ উইকেট হারিয়ে ইনিংসের ২৭তম ওভারেই দলীয় শতরান পেরিয়ে যায় লাল-সবুজেরা। তবে প্রথম সেশনের শেষ দিকে অধিনায়ক শান্ত প্যাভিলিয়নে ফিরলে তৃতীয় উইকেটে আরেক ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের সঙ্গে জুটি গড়েন মমিনুল হক। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির দিকেই এগোচ্ছিলেন জয়। তবে হঠাৎই হোঁচট খায় লাল-সবুজেরা।

ইশ সোধির বলে কট-বিহাইন্ড হয়ে ফেরেন জয়। ফেরার আগে ১৬৬ বলে ১১ চারের মারে খেলেন ব্যক্তিগত ৮৬ রানের ইনিংস। এর আগের ওভারেই ফেরেন অভিজ্ঞ মুমিনুল হকও। পরপর দুই ওভারে দুই ব্যাটারকে হারিয়ে দারুণ খেলতে থাকা টাইগাররা আবারও ব্যাকফুটে চলে যায়।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮৫ রান।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন শান্ত। ওপেনিংয়ে মাহমুদুল হাসান জয়ের সঙ্গী হন জাকির হাসান। ওপেনিং জুটিতে তারা দারুণ শুরু এনে দেন। তবে এজাজ প্যাটেলের করা দারুণ এক বলে দলীয় ৩৯ রানে প্রথম উইকেটের পতনও হয়। তার ওভারের তৃতীয় বলে পরাস্ত হন জাকির। এতে মাত্র ১২ রানেই শেষ হয় এই ওপেনারের ইনিংস।

এরপর ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মনোভাবে খেলতে থাকেন অভিষিক্ত অধিনায়ক। সোধি, প্যাটেলদের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ক্রিকেটটাই খেলেন তিনি। জয়ও তাকে দারুণ সঙ্গ দেন।

এই জুটিতেই রানের চাকা সচল থাকে। তবে লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগমুহূর্তে প্রথম ইনিংসে নিজের শেষটা রচনা করে ফেলেন শান্ত। গ্লেন ফিলিপসের ফুল টস ডেলিভারিতে অতি আগ্রাসী শট খেলতে গিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। মিড-অনে ক্যাচ তালুবন্দি করেন কেন উইলিয়ামসন। ফলে ৩৫ বলে ৩৭ রান করেই শেষ হয় শান্তর ইনিংস।

তবে লাঞ্চ বিরতির আগে আর কোনো উইকেট হারায়নি লাল-সবুজ শিবির। ২৭ ওভারে ১০৪ রান তুলে টাইগাররা। প্রথম সেশনে ৭৭ বলে ৪২ রানে জয় এবং অভিজ্ঞ মমিনুল ৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।

শান্তকে হারানোর আক্ষেপ নিয়েই মধ্যাহ্নবিরতিতে যায় টিম টাইগার্স। এরপর দ্বিতীয় সেশনেও বেশ সাবধানী মেজাজে রানের চাকা সচল রাখেন ডানহাতি এই ওপেনার। একেবারে টেস্ট মেজাজে খেলে ব্যক্তিগত হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন জয়। ৯টি চারের সাহায্যে ক্যারিয়ারের চতুর্থ পঞ্চাশ ছুঁতে তাকে ৯৩ বল খেলতে হয়েছে।

এই জুটিতে ভর করে বড় সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। তবে দলীয় ১৮০ রানের মাথায় গ্লেন ফিলিপসের বলে কট-বিহাইন্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন মমিনুল। আউট হওয়ার আগে ৭৮ বলে খেলেন ৩৭ রানের ইনিংস।

অন্যদিকে ফিফটির পর ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় শতকের দিকে এগোচ্ছিলেন জয়। তবে তিনিও ফেরেন পরের ওভারেই। ইশ সোধির বলে স্লিপে ড্যারিল মিচেলের মুঠোবন্দী হয়েছেন তিনি।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আনচেলত্তির ইউটার্ন, ব্রাজিলের কোচ হওয়ার দৌড়ে যারা 
ব্রাজিল ভক্তদের জন্য গেল বছরটা কিছুটা দুর্ভাগ্যেরই বলা চলে। অবশ্য ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হারার পর থেকেই অবশ্য তাদের এমন দুরাবস্থা চলছে। কোচ তিতের বিদায়ের পর নতুন বছরেও আসেনি কোনো বড় পরিবর্তন। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঘরের মাঠে বাজে পারফরম্যান্স আর নেইমারের বড় ইনজুরি।  বছরের শেষদিকে এসে ফিফার কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞার হুমকিও পেয়েছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। দেশটির রিও ডে জেনিরোর এক আদালত ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি এদনালদো রদ্রিগেজকে সরে যাওয়ার আদেশ দেওয়ার পর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে শুরু হয়েছে জটিলতা। এরপরেই কার্লো আনচেলত্তিকে ব্রাজিলের ডাগআউটে দেখা নিয়ে শঙ্কা শুরু হয়। কারণ এদনালদোই আনচেলত্তিকে ব্রাজিলে আনার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন।  এদিকে বর্তমান ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের সাথে চুক্তি নবায়ন করেছেন আনচেলত্তি। স্বাভাবিকভাবেই নতুন বিকল্প খোঁজার দিকে মন দিতে হচ্ছে সিবিএফকে। আর এই তালিকায় আছেন বিশ্বকাপ জেতানো কোচ লুই ফিলিপ স্কোলারির নামটাও। তবে স্কোলারি ছাড়াও নাম আছে আরও কিছু কোচের। যাদের প্রত্যেকেই ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে বেশ পরিচিত মুখ। আর ব্রাজিলের নিজস্ব ধারার খেলার সঙ্গেও বেশ অভ্যস্ত তারা।  ১. লুই ফিলিপ স্কোলারি : ব্রাজিলের কোচের দৌড়ে শেষ দুই দিনে বারবার উঠে এসেছে স্কোলারির নাম। ব্রাজিল যে সবশেষ ২০০২ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল, সেটি এসেছিল তার হাত ধরেই। এমনকি ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে তার নেতৃত্বেই ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছিল। সেবার সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হতে হয় পর্তুগিজ এই মাস্টারমাইন্ডকে।  এ ছাড়া ব্রাজিলিয়ান ঘরোয়া লিগ সিরি আ জিতেছেন দুবার। পালমেইরাসে দুর্দান্ত আবেল ফেরেইরা দেশটিতে বেশ জনপ্রিয়। তাকেই কোচের পদে আগ্রহী বেশিরভাগ ব্রাজিলিয়ান।  ৩. হোর্হে জেসুস : ৬৯ বছর বয়সী কোচ হোর্হে জেসুস। ফুটবল নিয়ে ধারণা থাকলে লম্বা চুলের এই কোচকে চেনার কথা। বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালের দায়িত্বে আছেন জেসুস। তারই অধীনে খেলছেন নেইমার। ২০১৯ সালে ফ্লামেঙ্গো কোচ হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন জেসুস। কোপা লিবার্তোদোরেস জয়ের পাশাপাশি ইতিহাস গড়ে ফ্লামেঙ্গোকে জিতিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ।  অবশ্য ব্রাজিল জাতীয় দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দিনিজ এখনো বলার মতো সাফল্য পাননি। টানা চার ম্যাচ জয়শূন্য আছেন। শতকরা হিসেবে জয় ৪০ শতাংশের নিচে। তবে ব্রাজিল জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা দিনিজকে পছন্দ করেন। যার কারণে শেষ পর্যন্ত দিনিজই টিকে থাকতে পারেন ব্রাজিলের কোচ হয়ে। 
আনচেলত্তির ইউটার্ন, ব্রাজিলের কোচ হওয়ার দৌড়ে যারা 
২০২৪ সালে রেকর্ডসংখ্যক টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ
বিশ্ব ক্রিকেটে ২০২৩ সালে ব্যস্ত সময় পার করেছে বাংলাদেশ দল। এবারের মতো ২০২৪ সালেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় পার করবে তারা। নতুন বছরে ৪০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। এর মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক টেস্ট ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।   আইসিসির এফটিপি (ফিউচার ট্যুর প্ল্যান) অনুযায়ী, ২০২৪ সালে রেকর্ড ১৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এক বছরে এর চেয়ে বেশি টেস্ট এর আগে খেলার সুযোগ হয়নি টাইগারদের। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলবে শুধু ইংল্যান্ড (১৭) ও ভারত (১৫)।   নতুন বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ব্যস্ততা শুরু হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) দিয়ে। বিপিএল শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ সফরে আসার কথা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের। ফেব্রুয়ারি-মার্চে লঙ্কানদের বিপক্ষে তিন ফরম্যাটের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ২ টেস্ট, ৩ ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি খেলবে দুই দল। এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠের এই সিরিজে রোডেশিয়ানদের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজের পাশাপাশি আছে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও। তবে তাদের বিপক্ষে কোনো ওয়ানডে ম্যাচ থাকছে না। তারপরই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। আগামী জুনে অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে বসতে যাওয়া এই আসরে আগেই জায়গা নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। মূলত র‍্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে সরাসরি এই মেগা আসরে অংশ নিচ্ছে টাইগাররা। বিশ্বকাপ শেষে জুলাই-আগস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সমান ৩টি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে দুই দল। পাশাপাশি আফগানদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের একটি টেস্ট সিরিজও খেলবে টাইগাররা। এ সিরিজটি হতে পারে আরব আমিরাতে। আফগানিস্তানের হোম ভেন্যু হিসেবে আপাতত সেখানেই ম্যাচ খেলে তারা। আফগানিস্তানের পর বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। আগস্ট সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে টাইগাররা। পাকিস্তানের মাটিতে শুধুমাত্র ২ ম্যাচের একটি টেস্ট সিরিজ হওয়ার কথা রয়েছে। কোনো ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি নেই।  পাকিস্তান সফর শেষে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভারত সফর করবে বাংলাদেশ। এ সফরে দুই ম্যাচের একটি টেস্ট সিরিজের পাশাপাশি ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও খেলবে টাইগাররা। তবে কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নেই। অক্টোবর-নভেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসবে দক্ষিণ আফ্রিকা। ঘরের মাঠের এই সিরিজে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে শুধুমাত্র ২ ম্যাচের একটি টেস্ট সিরিজ খেলবে টাইগাররা। সীমিত ওভারের কোনো ম্যাচ নেই। নভেম্বর-ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করবে বাংলাদেশ। এ সফরে সমান ৩টি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে দুই দল। তাছাড়া ২ ম্যাচের একটি টেস্ট সিরিজও আছে।
২০২৪ সালে রেকর্ডসংখ্যক টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ
এই তরুণ দলটার কোনো ভয় নেই : হাথুরুসিংহে
ওয়ানডে সিরিজে মুশফিকুর রহিম ছাড়া এবার নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ দলটা তুলনামূলক তরুণই বলা যায়। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে এই দলই নিউজিল্যান্ডে প্রথমবার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে জয় এনে দিয়েছে বাংলাদেশকে।  রোববার (৩১ ডিসেম্বর) মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে প্রথমবার সিরিজ জয়েরও সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। যদিও শেষ পর্যন্ত আশা জাগিয়েও সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে বৃষ্টি আইনে ১৭ রানে হেরেছে টাইগাররা। সিরিজ জিততে না পারার কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও দলের পারফরম্যান্সে খুশি বাংলাদেশের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে লঙ্কান এই কোচ বলেন, ‘সিরিজের শুরুতেই আমরা বলছিলাম আগে এখানে কী করেছি। আর আমরা তার চেয়ে ভালো করতে চাই। এদিক থেকে এটা খুব সফল একটা সফর।’ হাথুরু বলেন, ‘আমার মনে হয় ক্রিকেটারদের মানসিকতা, এই তরুণ দলটার কোনো ভয় নেই। তারা মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, শান্তর নেতৃত্ব অসাধারণ ছিল। সে টেকটিক্যালি দারুণ ছিল। ক্রিকেটারদের সঙ্গে বার্তায় সে খুব পরিষ্কার ছিল। তাদের কাছে কী চায়, স্পষ্ট করে বলেছে।’ বোর্ড নাজমুলের অধিনায়কত্ব নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাববে বলেও মনে করেন হাতুরাসিংহে, ‘আমার মনে হয় তারা (বোর্ড) বেশ ভালোভাবেই চিন্তা করবে। অবশ্যই এটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। কিন্তু শান্ত যথেষ্ট প্রমাণ রেখেছে তাকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার।’
এই তরুণ দলটার কোনো ভয় নেই : হাথুরুসিংহে
অভিষেকেই নেতৃত্ব পেয়ে প্রোটিয়া অলরাউন্ডারের ইতিহাস
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এখনও কোনো সংস্করণেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি নীল ব্র্যান্ড। সেই ব্র্যান্ডই কিনা পেলেন টেস্ট অভিষেকে প্রোটিয়া দলের নেতৃত্ব! আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা দল। কিউইদের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে দলকে নেতৃত্বে দেবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষায় এই অলরাউন্ডার!  আগামী ১০ জানুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি লিগ (এসএটি-২০)। যে কারণে দলের নিয়মিত তারকাদের ছাড়াই এই সফরে টেস্ট খেলতে নামবে সফরকারীরা। ফলে শুধু নেতৃত্বেই চমক নয়, বলতে গেলে আনকোরা এক স্কোয়াড নিয়েই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের দল ঘোষণা করেছে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ)।   শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য ১৪ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। নতুন ও অনভিজ্ঞ মুখে ভরপুর এই স্কোয়াডে অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন সাতজন। এই স্কোয়াডের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হলেন ডুয়ান অলিভিয়ের। ২০১৭ সালে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ১৫টি টেস্ট খেলেছেন প্রোটিয়া এই পেসার।  দলের টেস্ট অভিষেকে যারা অধিনায়কত্ব করেছেন তাদের হিসেব থেকে বাদ দিলে গত ৫০ বছরে ব্র্যান্ড বাদে অভিষেকে টেস্ট অধিনায়কত্ব করার রেকর্ড আছে শুধু নিউজিল্যান্ডের লি জার্মনের। ১৯৯৫ সালে টেস্ট অভিষেকেই ভারতের বিপক্ষে কিউইদের নেতৃত্ব দিয়েছেন এই উইকেটকিপার। ফলে এই সময়ে মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট অভিষেকেই অধিনায়কত্ব করতে যাচ্ছেন নীল। টেস্ট ইতিহাসে ৩৪ জন খেলোয়াড় অভিষেকেই অধিনায়ক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১ জনের অভিষেকের দিনে তাদের দলেরও অভিষেক হয়েছিল। ব্যতিক্রম শুধু পাকিস্তানের অধিনায়ক আবদুল হাফিজ কারদারের বেলায়। পাকিস্তানের হয়ে অধিনায়কত্বের অভিষেকের আগেই ভারতের হয়ে টেস্ট খেলে ফেলেছেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে চলমান টেস্ট সিরিজের স্কোয়াডের মাত্র তিনজন আছেন দলে- কিগান পিটারসেন, ডেভিড বেডিংহ্যাম ও জুবাইর হামজা। এদের মধ্যে হামজা দলে এসেছেন ইনজুরিতে পড়া টেম্বা বাভুমার বদলি হিসেবে। তবে নিজেদের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এসএ টি-টুয়েন্টির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় মূল দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়কে পাচ্ছে না দক্ষিণ আফ্রিকা। এসএ টি-টুয়েন্টির টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার কারণে নিয়মিত অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা, এইডেন মার্করাম, ত্রিস্তান স্টাবস, কাইল ভেরেইনা, মার্কো ইয়ানসেন, উইয়ান মুল্ডার, জেরাল্ড কোয়েৎজি, টনি ডি জর্জি, নান্দ্রে বার্গার, কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি ও কেশব মহারাজকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাচ্ছে না প্রোটিয়ারা। আর ডিন এলগার ভারত সিরিজের শেষ টেস্ট খেলেই জাতীয় দলকে বিদায় বলবেন। অভিষেকে নেতৃত্ব পাওয়া নিল ব্র্যান্ড অবশ্য ফার্স্ট ক্লাসে বেশ অভিজ্ঞ। ২৭ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার এখন পর্যন্ত ৫১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৬ শতক ও ২০ অর্ধশতকে ২৯০৬ রান করেছেন। গড় ৩৯.২৭। বল হাতেও ৩০.৮১ গড়ে ৭২ উইকেট শিকার করেছেন। ৪ ফেব্রুয়ারি এই সিরিজ মাঠে গড়াবে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে জয় দিয়ে শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বক্সিং ডে টেস্টে ভারতকে ইনিংস ও ৩২ রানে হারিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে আছে তারা।  দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট স্কোয়াড : নীল ব্র্যান্ড (অধিনায়ক), ডেভিড বেডিংহ্যাম, রুয়ান দু সোয়াত, ক্লাইড ফোরটান, জুবাইর হামজা, টিশেপো মোরেকি, মিহালি এমপোংওয়ানা, ডুয়ান অলিভিয়ের, ডেন প্যাটারসন, কিগান পিটারসেন, ডেন পিট, রায়নার্ড ভন টন্ডার, শন ফন বার্গ, খায়া জন্ডো।
অভিষেকেই নেতৃত্ব পেয়ে প্রোটিয়া অলরাউন্ডারের ইতিহাস
ওয়ার্নারের বিদায়ী টেস্টের অস্ট্রেলিয়া দল ঘোষণা
পাকিস্তান সিরিজের পর টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। পার্থ ও মেলবোর্ন টেস্টে ব্যাট হাতে ভালোভাবেই কাটিয়েছেন তিনি, দলও দুই ম্যাচে পেয়েছে জয়ের দেখা। এবার সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে শেষবারের মতো ‘ব্যাগি গ্রীন’ ক্যাপ পরতে যাচ্ছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।  আগামী ৩ জানুয়ারি সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান। এই টেস্টের জন্য ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। যদিও ওয়ার্নারের বিদায়ী টেস্টের স্কোয়াডে কোনো পরিবর্তন আনেনি ক্রিকেট বোর্ড। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে টেস্টকেই সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন অর্জন হিসেবে গণ্য করা হয়। আর এই মর্যাদাসম্পন্ন ক্যাপকে ওয়ার্নার বিদায় জানাতে প্রস্তুত ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি, আমরা তার ঘরের মাঠ, সিডনিতে অসাধারণ ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচ উদযাপন করতে মুখিয়ে আছি। ইতোমধ্যে প্রথম দুই টেস্ট জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে অজিরা। তবে মেলবোর্ন টেস্টে লড়াই করে হেরেছে পাকিস্তান। একটা সময় তাদের জেতার সুযোগ থাকলেও, অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের বোলিং নৈপুণ্যে ম্যাচ ছিনিয়ে নেয় অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার ১৩ সদস্যের দল : প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার, উসমান খাজা, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, মিচেল মার্শ, ট্রাভিস হেড, নাথান লায়ন, মিচেল স্টার্ক, ক্যামেরুন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটকিপার), স্কট বোল্যান্ড, জস হ্যাজেলউড। 
ওয়ার্নারের বিদায়ী টেস্টের অস্ট্রেলিয়া দল ঘোষণা
আরও পড়ুন
ক্রিকইনফোর বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে বাংলাদেশের নাহিদা
বাংলাদেশের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা
বাংলাদেশ আমাদের উড়িয়ে দিয়েছে: কিউই অধিনায়ক
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টাইগারদের ঐতিহাসিক জয়