ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অপরাধের সাম্রাজ্যে এখনও দাপুটে গোল্ডেন মনির

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:২৬ পিএম
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ১১:০৩ পিএম
ফাইল ছবি

অপরাধের অন্ধকার জগতে অনেকটাই ভুলতে বসা এক নাম গোল্ডেন মনির। প্রকৃত নাম মনির হোসেন। গাউছিয়া মার্কেটের একজন সামান্য বিক্রয়কর্মী থেকে যিনি হয়ে উঠেছিলেন বাড্ডার মূর্তিমান আতঙ্ক। ২০২০ সালে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর প্রায় ৩ বছর জেল খেটে জামিনে বের হন রহস্যময় এ অপরাধী। কয়েকটি মামলায় খালাসও পেয়ে যান এর মধ্যে। তবে ৩ বছর জেল খেটেও অপরাধ জগতে তারা দাপট কমেনি সেই অর্থে। বরং নেমছেন সাম্রাজ্য ফিরে পাওয়ার নতুন মিশনে।

সরকার পতনের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটেও থেমে নেই তার সেই মিশন। সমানতালে জারি আছে তার দুর্বৃত্তায়ন ও অপকর্ম। বিভিন্ন অপরাধকাণ্ডে কলকাঠি নেড়ে জানান দিচ্ছেন, তিনি আছেন এখনও।

অপরাধ জগতের রহস্যময় এক চরিত্র এই গোল্ডেন মনির। মূলত বিএনপি আমলে উত্থান হলেও দাপট দেখিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের এক যুগেও। দুই আমলেই মন্ত্রী-এমপিদের হাত করে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বাগিয়েছেন রাজউকের ২০টি প্লট, গড়েছেন হাজার কোটি টাকার সম্পদ, বনেছেন স্বর্ণ চোরাচালানের জগতের মুকুটবিহীন সম্রাট। ক্যাসিনো আর হুন্ডি ব্যবসায়ও ছিল তার অবাধ বিচরণ। মনিরের সম্পদের পাহাড় গড়ায় সেই অর্থে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি আইন কিংবা প্রশাসন। এমনকি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও তার সামনে দাঁড়িয়েছে খুবই সাধারণ বিষয় হয়ে। যে-ই ক্ষমতায় বসেছে, কিনে নিয়েছেন টাকা দিয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নব্বইয়ের দশকে নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরেই মূলত উত্থান মনিরুল ইসলাম ওরফে গোল্ডেন মনিরের। পরবর্তীতে ২০০১ সালে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি ধূর্ত মনিরকে। আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন মন্ত্রীদের। পরবর্তীতে ওয়ান ইলেভেন এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের আগমনেও এতটুকু দাপট কমেনি তার; বরং বেড়েছে। রাজার মতোই বিচরণ করে বেরিয়েছেন গণপূর্ত আর রাজউকে।

২০২০ সালের এক অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় মনিরের ২০২টি প্লট রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পূর্বাচলে ৭ কাঠা, বাড্ডায় ১৯২টি প্লট, নিকুঞ্জ-২ নম্বরের ৫ নম্বর সড়কে ৭০ কাঠার বিশাল প্লট, বাড্ডায় স্কুল, উত্তরায় জমজম টাওয়ারে অংশীদার, উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে নির্মাণাধীন সাফা টাওয়ার অন্যতম। এ ছাড়া বারিধারার প্রগতি সরণির জে ব্লকের ৭৪ নম্বরে রয়েছে গোল্ডেন মনিরের আলিশান অফিস। সোনা চোরাচালান, জমি দখল, হুন্ডি বাণিজ্য, সরকারি দপ্তরের সিল জাল করে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন মনির।

২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর রাজউক থেকে ৭১টি প্লটের ফাইল বাসায় নিয়ে যান মনির। এ ঘটনায় রাজউকের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। তবে মামলা হলেও রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান ও সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিমন্ত্রীর প্রশ্রয়ে মনিরের বিরুদ্ধে করা মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। তারা দুজন মনিরকে বাঁচাতে ছায়া দেন বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিনিময়ে মনিরের কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের অর্থসহ বিভিন্ন ধরনের উপঢৌকন বাগিয়ে নেন। গণপূর্ত ও রাজউকে মনিরের রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বদলি, পদোন্নতিসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করত এ সিন্ডিকেট।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমানের বক্তব্য ছিল, আমি ২০১৯ সালের মে মাসে অবসরে গিয়েছি। প্লটের ফাইল চুরির ঘটনা তার পরে ঘটেছে। চেয়ারম্যান হিসেবে তার (গোল্ডেন মনির) সঙ্গে আমার সম্পর্ক থাকতেই পারে। তার মানে এই নয় যে, আমি তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা দিয়েছি।

বিক্রয়কর্মী থেকে গোল্ডেন মনির: নব্বইয়ের দশকে গাউছিয়া মার্কেটে একটি কাপড়ের দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন মনির হোসেন। পরে তিনি রাজধানীর মৌচাকের একটি ক্রোকারিজের দোকানে কাজ শুরু করেন। তখন ‘লাগেজ পার্টি’র একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর মনিরও লাগেজ ব্যবসায় যুক্ত হন।

এই লাগেজ ব্যবসা করতে গিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মুরগি মিলনের সঙ্গে পরিচয় হয়। চতুর মনির একটা সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী মুরগি মিলনের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেন, যে কারণে তাকে ক্যাশিয়ার হিসাবে নিয়োগ দেয়। শীর্ষ সন্ত্রাসী মুরগি মিলনের মৃত্যুর পর তার চোরাকারবারি সাম্রাজ্য মনিরের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এই নিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মুরগি মিলনের অনুসারীদের সঙ্গে গোলাগুলি পর্যন্ত হয় তার। এভাবেই লাগেজ পার্টি আর সোনা চোরাকারবারিদের গডফাদার হয়ে ওঠেন মনির; অপরাধ জগতে পরিচিত হয়ে ওঠেন গোল্ডেন মনির নামে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোল্ডেন মনিরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জানায়, মনির বিদেশ থেকে গাড়ি আমদানির আড়ালে গাড়ির তেলের টাংকির ভেতরে বিশেষ প্রক্রিয়ায় স্বর্ণ নিয়ে আসেন, পরে সেগুলো তার ডিআইটি প্রজেক্টের গ্যারেজে আনলোড করেন। এছাড়া শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের নামে দামি গাড়ি নিয়ে এসে যোগসাজশে বিক্রি করেছেন। দুবাই-সিঙ্গাপুরেও রয়েছে তার আলাদা সাম্রাজ্য, সেখানে দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করেছেন তিনি।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, মূলত ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ভারত রুটে ছিল তার মূল ব্যবসা। মুরগি মিলনের কাজ করার সময় স্বর্ণ চোরাকারবারে জড়িয়ে পড়েন গোল্ডেন মনির। অবৈধভাবে দেশে নিয়ে আসেন বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ। বায়তুল মোকাররম মার্কেটে তিনি একটি স্বর্ণের গহনার দোকানও দেন। চোরাচালানের স্বর্ণ ওই দোকান থেকে বিক্রি হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গে জড়িত এই গোল্ডেন মনির। তার মধ্যে রয়েছে-মনির বিল্ডার্স, গালফ অটোকারস লিমিটেড, উত্তরার গ্র্যান্ড জমজম টাওয়ার। এসব প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পরিচালক এই গোল্ডেন মনির। শুধুমাত্র জমজম টাওয়ারে মনিরের মালিকানার মূল্যমান প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

আরটিভি/এসএইচএম-টি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর টহল নিয়ে যা জানাল রিউমর স্ক্যানার
বাংলাদেশের একটি আদালত এলাকার ভিডিওকে ঢাকার রাস্তার দৃশ্য বলে প্রচার করেছে ভারতীয় গণমাধ্যমে ‘আজতক বাংলা’সহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। পরে সেই সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিও প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের পাঞ্জাবের সোয়াত টিমের সদস্যরা ঢাকায় এসে টহল দিচ্ছে। ভিডিওতে বাংলাদেশের আইনজীবী নিঝুম মজুমদার দাবি করেন, (৬ মিনিট ২০ সেকেন্ড থেকে), ঢাকার রাস্তাতে এই ধরনের পাকিস্তানি আর্মিরা এসে সোয়াতের ছদ্মবেশে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ছেলেরা বা পাকিস্তানি সৈন্যরা এসে বাংলাদেশের রাস্তায় নেমে মহড়া দিচ্ছে, এটা আমার কাছে নজিরবিহীন মনে হয়েছে।  একই ভিডিওর আরেকটি অংশে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে জঙ্গি সরদার বলে দাবি করেন নিঝুম মজুমদার। তিনি জানান, সেনাপ্রধানের শেরপুরের গ্রামের বাড়িতে তিনি খোঁজখবর নিয়ে জেনেছেন যে জেনারেল ওয়াকার ছাত্রজীবনে ক্যাডেট কলেজে পড়তেন। তিনি সে সময় শিবিরের সাথী ছিলেন। তবে এই ভিডিও সংবাদ সঠিক নয় বলে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার। রিউমর স্ক্যানার টিম অনুসন্ধান করে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভিডিওটি বাংলাদেশে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর টহলের কোনো দৃশ্য নয়। বরং, ভিডিওটিতে যে বাহিনীর সদস্যদের দেখা যাচ্ছে তারা বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত দল ক্রাইসিস রেসপন্স টিম বা সিআরটির সদস্য। এই সদস্যরা গত ১২ ডিসেম্বর রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ নেওয়ার সময় নিরাপত্তা প্রদানের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। রিউমর স্ক্যানার জানায়, ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর টহল দেওয়ার দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটি পর্যালোচনা করে রিউমর স্ক্যানার টিম ভিডিওতে থাকা একজন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের পোশাকের পেছনে CRT লেখা দেখতে পায়। পাশাপাশি আরেকজন সদস্যের পোশাকে বাংলাদেশের পতাকাও দেখতে পাওয়া যায়। এসবের সূত্রে National Dialogue Bangla (NDB) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৫ ডিসেম্বর এই সেই বাংলাদেশ CRT (Crisis Response Team) শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি শর্টস ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। রিউমর স্ক্যানার আরও জানায়, ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওর সঙ্গে এর হুবহু মিল রয়েছে। পাশাপাশি ভিডিওর শিরোনাম থেকে জানা যায়, ভিডিওটি রাজশাহী আদালত প্রাঙ্গণে ধারণ করা হয়েছে এবং ভিডিওটিতে দেখতে পাওয়া বাহিনীর নাম Crisis Response Team বা CRT। পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগোনিউজ২৪-এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৩ ডিসেম্বর প্রিজন ভ্যান ঘিরে উত্তেজনা- ডিম হামলার শিকার হন সাবেক এমপি আসাদ। মূলত সেই ঘটনার ভিডিও নিয়ে এডিট করে অপপ্রচার চালায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। মূল ভিডিওতে Jago News শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদকে রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ নেওয়ার সময় তার প্রিজন ভ্যানে হামলা করে বিএনপি-জামায়াতের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ সময় তাকে নিরাপত্তা প্রদানকারী বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর বাহিনীর পোশাকের হুবহু মিল রয়েছে। তাদের পোশাকের পেছনেও CRT লেখা রয়েছে। পরে CRT এর বিষয়ে অনুসন্ধানে জাগোনিউজ২৪-এর ওয়েবসাইটে ২০১৮ সালের ২৯ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, CRT বা Crisis Response Team হলো বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত দল। দলটি জঙ্গি দমন ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধসহ বড় ধরনের সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করে।  এ ছাড়া প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর পর সিলেটে আনুষ্ঠানিক মহড়ার মাধ্যমে এ যাত্রা শুরু করে পুলিশের এই বিশেষায়িত দলটি। অর্থাৎ পুলিশের বিশেষায়িত দল ক্রাইসিস রেসপন্স টিম বা সিআরটিকে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। এদিকে, আইনজীবী নিঝুম মজুমদার আজতক বাংলায় সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের বিষয়ে যেসব অভিযোগ করেছেন, তার বিপরীতে তিনি কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেননি বলে জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থাটি। গত জুনে জেনারেল ওয়াকার সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার খবর দিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ওয়েবসাইটে তার একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হয়। এই জীবনী পর্যালোচনা করে তার ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনার কোনো তথ্য মেলেনি, যা নিঝুম মজুমদার দাবি করছেন। এ বিষয়ে জানতে আইএসপিআর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা রিউমর স্ক্যানারকে জানায়, জেনারেল ওয়াকার কখনও ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করেননি। সুতরাং বাংলাদেশে পাকিস্তানের বাহিনী টহল দিচ্ছে দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা যেমন মিথ্যা তেমনি সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে নিয়ে আইনজীবী নিঝুম মজুমদারের অভিযোগও সত্য নয়। আরটিভি/কেএইচ
ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর টহল নিয়ে যা জানাল রিউমর স্ক্যানার
প্রধান বিচারপতি / নতুন বছরে বিচার বিভাগ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আশা প্রকাশ করে বলেছেন, নতুন বছরে দেশের বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ হতে সম্পূর্ণরূপে প্রভাবমুক্ত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে।  মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তার ঘোষিত রোডম্যাপ বাস্তবায়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে ২০২৫ সাল হবে বিচার বিভাগের জন্য নবযাত্রার একটি বছর। ২০২৫ সালেই বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণরূপে প্রভাবমুক্ত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে এবং রাষ্ট্রের একটি স্বাধীন অঙ্গ হিসেবে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে সক্ষম হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিচার বিভাগ সংস্কারের জন্য ২১ সেপ্টেম্বর রোডম্যাপ ঘোষণা করেন ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে স্বাধীন কাউন্সিল গঠন, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা প্রণয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ ছাড়া ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্গঠিত হয়েছে এবং এর কার্যক্রম চলমান আছে।  এ ছাড়া বিচারসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে নানামুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি-সংক্রান্ত একটি বেঞ্চে সম্পূর্ণ কাগজমুক্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করা হবে।  পর্যায়ক্রমে সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বেঞ্চে কাগজমুক্ত কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন জেলা আদালতগুলোতে সম্পূর্ণ কাগজমুক্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান বিচারপতি।  আরটিভি/একে/এআর
নতুন বছরে বিচার বিভাগ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে
সব কোচিং সেন্টার ২২ দিন বন্ধ
সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য বুধবার (১ জানুয়ারি) থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ভর্তি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা এই সিদ্ধান্ত অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/একে/এআর
সব কোচিং সেন্টার ২২ দিন বন্ধ
আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
থার্টি ফার্স্ট নাইটে দুর্ঘটনারোধে বাসাবাড়ির ছাদ ও সব ভবন, উন্মুক্তস্থান, পার্কে আতশবাজি, পটকা ফোটানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে সোমবার রাজধানীর বাসা-বাড়ির ছাদ ও সব ভবন, উন্মুক্ত স্থান, পার্কে আতশবাজি ও পটকা ফুটানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। জনসমাগম ও আতশবাজি ঠেকাতে ওই দিন রাত ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারির মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আশরাফ উজ্জামান এ রিট দায়ের করেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, ঢাকার পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে। এদিকে রাজধানী ঢাকায় থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত তিন হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। তারা যে কোনো জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চালাবে। আরটিভি/এফএ/এআর
আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকার সময় কমলো
সারাদেশের সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সময় কমানো হয়েছে। বুধবার (১ জানুয়ারি) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পেট্রোবাংলা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সময়কাল পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিএনজি স্টেশনে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সময়কাল ২ ঘণ্টা কমিয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হলো। গ্যাসের সংকট থাকা সত্ত্বেও গ্যাসের রেশনিং কেন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, সিএনজি স্টেশনগুলোর মালিকদের অনুরোধ এবং সিএনজিচালকদের আন্দোলন-ধর্মঘটকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরটিভি/একে/এআর
সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকার সময় কমলো
আরও পড়ুন
হাসিনাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মাইকেল চাকমার অভিযোগ
সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে গুম হয়ে ভারতের কারাগারে, যে বর্ণনা দিলেন সুখরঞ্জন
অপরাধী পুলিশ সদস্যদের শাস্তি চায় ৭১.৫ শতাংশ মানুষ
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি রোহিঙ্গা শিবিরে