কোরবানিকে সামনে রেখে প্রতি বছর প্রচুর পশু আমদানি হয় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর থেকে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও পশুর জন্য কোটি কোটি টাকা মিয়ানমারের ওপারের ব্যবসায়ীদের দেয়া হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে পশু আমদানি বন্ধ হওয়াতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গরু ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, মিয়ানমারের ওপার থেকে গরু আমদানি অব্যাহত রাখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এসব পশুর চট্টগ্রাম অঞ্চলে কদর রয়েছে খুব বেশি। কোরবানিকে সামনে রেখে জুন মাস থেকে পশু আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছিল ব্যবসায়ীরা। এরই প্রেক্ষিতে গত মে ও জুন মাসে শাহপরীর দ্বীপ করিডোর হয়ে ২৫ হাজার ৮৬৮টি গরু ও ৪ হাজার ২৫৮টি মহিষ আমদানি হয়েছে। এর আগে গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে আসে ১১ হাজার ৮৮৬টি গরু ও ২ হাজার ৪২৪টি মহিষ। পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পশু আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছিল।
হঠাৎ করে ৪ জুলাই রোববার (১১ জুলাই) জেলা চোরাচালান প্রতিরোধ টাস্কফোর্স কমিটির অনলাইনের মাধ্যমে জুম সভায় শাহপরীর দ্বীপ করিডর দিয়ে নৌপথে মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। যা গত সোমবার (৫ জুলাই) থেকেই কার্যকর করার কথা ছিল। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।
তারপরেও গত ৮ জুলাই পর্যন্ত পশু আসা অব্যাহত ছিল। এই ৩ দিনে প্রায় ১৬ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ স্থল-বন্দর শুল্ক কর্মকর্তা মো. আব্দুর নুর। তিনি আরটিভি নিউজকে জানান, প্রতি বছরের মতো একটি ছাগল ২ শত টাকা ও গরু-মহিষ ৫ শত টাকা করে রাজস্ব আদায় করা হয়। গত ৫ তারিখ থেকে করিডোর আমদানি বন্ধ রাখার পরেও পশু আসার বিষয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত থেকে পশু প্রবেশের দায়িত্ব বিজিবির। এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ চৌধুরী আরটিভি নিউজকে জানান, দেশীয় খামারিদের কথা চিন্তা করে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বন্ধ রাখার। সে আলোকে পশু আমদানি বন্ধ করে দেয়া হয়। জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মাঝে বার্তাটি পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লেগেছে। পাশাপাশি এর আগে আসা পশু গ্রহণ করা সম্পন্ন করতেও সময়ের ব্যাপার রয়েছে। এখন থেকে অর্থাৎ গত শুক্রবার থেকে পশু আমদানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত পশু আমদানি করা হলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
জিএম