আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বই নিয়ে একটা ব্যতিক্রমী আয়োজন হয়ে গেল রাজশাহীতে। ‘মাইন্ড ক্যাসেল’ নামের একটি সংগঠন বিনা টাকায় পাঠকদের দুটি করে বই দেওয়া হয়েছে। কেউ চাইলে সঙ্গে একটা ম্যাগাজিনও পেয়েছে। রাজশাহীর সিঅ্যান্ডবি এলাকায় সার্কিট হাউস সড়কের পাশে দ্বিতীয়বারের মতো এ আয়োজন করা হয়েছিল।
মাইন্ড ক্যাসেল রাজশাহীর বিভিন্ন স্কুলের ২৩ জন শিক্ষার্থীর অনলাইনভিত্তিক লেখালেখির একটি সংগঠন। মাইন্ড ক্যাসেলের অন্যতম লেখক নাইমা তাসনিম আভার প্রথমে এসেছিল বই নিয়ে এমন চিন্তা। আভা রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গতবছর মাত্র ১০ দিনের প্রস্তুতিতে মাতৃভাষা দিবসে প্রায় চার হাজার বই সংগ্রহ করে তারা তুলে দিয়েছিল পাঠকদের হাতে। এবার বই এসেছিল প্রায় ৯ হাজার। গতবারের মতো এবারও সিঅ্যান্ডবি এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।
মাইন্ড ক্যাসেল বই সংগ্রহে মাসখানেক আগে ফেসবুকে প্রচার চালানো হয়েছি। বিতরণের জন্য মানুষ স্বেচ্ছায় মাইন্ড ক্যাসেলকে বই দিয়েছে। নির্ধারিত জায়গায় জমা নেওয়ার পাশাপাশি ফোন করলেই বই সংগ্রহ করে এনেছেন মাইন্ড ক্যাসেলের স্বেচ্ছাসেবকরা।
ফেসবুকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল মাতৃভাষা দিবসে বই উৎসব শুরু হবে বেলা সাড়ে ১১টায়। কিন্তু পাঠকদের এত ভিড় বেড়ে যায় যে আধাঘণ্টা আগেই আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। অতিথি হিসেবে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ, শিক্ষক নেতা শফিকুর রহমান বাদশা ও বাবু রাজকুমার সরকার।
উদ্বোধনের পরই উত্তর দিক দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে বই নিয়ে দক্ষিণ দিক দিয়ে বেরিয়ে যেতে শুরু করেন পাঠকেরা। দীর্ঘ লাইন অতিক্রম করতে লাগে এক ঘণ্টারও বেশি সময়। তাও পাঠকেরা সেখান থেকে বিনে টাকায় বই নিয়ে গেছে।
আয়োজকেরা পাঠকদের বিনা টাকার বই দেওয়ার পাশাপাশি মাত্র দুই টাকায় রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা এবং চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতারও আয়োজন করেছিল। বিকেল ৫টায় বই উৎসব শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। এ আয়োজনে মাইন্ড ক্যাসেলের সদস্য ছাড়াও সহযোগীতার জন্য যুক্ত হয়েছিল ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবী। তারাও বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী।