ঢাকাশুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

ভৈরবে মেঘনার পানি আতঙ্ক বাড়াচ্ছে কৃষকের 

মো. আল আমিন টিটু, ভৈরব

রোববার, ১৭ এপ্রিল ২০২২ , ০৯:০৪ পিএম


loading/img
ছবি: আরটিভি

ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ভারী বর্ষণের ফলে মেঘনায় পানি বাড়ার সঙ্গে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের কৃষকদের আতঙ্ক বাড়ছে। কারণ, উপজেলার জোয়ানশাহী হাওরের একমাত্র ফসলি জমির ধান এখনও পাকার অনেক বাকি। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। 

বিজ্ঞাপন

তবে প্রতিবারের মতো এবারও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি) ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এ বাঁধ নির্মাণে রয়েছে অনিময়ের অভিযোগ। 

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শ্রীনগর, আগানগর ও সাদেকপুর ইউনিয়ন নিয়ে জোয়ানশাহী হাওরটির অবস্থান। এ হাওরে সাধারণত প্রতি একর জমিতে ৬০ থেকে ৭০ মণ ধান উৎপাদন হয়। ফলে কৃষি অর্থনীতিতে হাওরটি অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। উপজেলার এই জোয়ানশাহী হাওরের তিন হাজার একর জমিতে বছরে একবার বোরো ধান আবাদ করেন স্থানীয় কৃষকরা। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকদের স্বপ্নের ফসল এই বোরো ধান। 

বিজ্ঞাপন

এদিকে, মেঘনায় পানি বাড়ার খবর পেয়ে রোববার বিকেলে ডুবন্ত কাঁচা বাঁধ পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান সবুজ। এ সময় বাঁধ নির্মাণে জড়িতদের বাঁধে আরও মাটি ফেলার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বাঁধটি পাহারা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। 

স্থানীয় কৃষকরা জানান, হাওরে ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকরা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখলেও তারা রয়েছেন অবহেলিত ও বঞ্চিত। কারণ, হাওরের মাঝে মাত্র ৩০ ফুট প্রস্থের ওরাল খাল নামে একটি খাল রয়েছে। যে খালটি মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। কিন্তু খালটিতে কোনো স্লুইসগেট নেই। এ কারণে উজান থেকে নেমে আসা পানি হাওরে ঢুকে প্রায় বছরেই ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘ দিনের দাবি, হাওরের ফসল রক্ষায় একটি স্লুইসগেট নির্মাণের। এবার সেই দাবি পূরণে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি) ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি স্লুইসগেট নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত শুধু মাটি কাটার কাজ শেষ হয়েছে। কাজের তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় হাওরে পানি প্রবেশের আগে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

শ্রীনগর ইউনিয়নের বধুনগর গ্রামের কৃষক মুর্শিদ মিয়া, আঙ্গুর মিয়া ও ম্ক্তুার মিয়া জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবারও মাটি, বাঁশ ও মাটির বস্তা দিয়ে একটি ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণে ১২ লাখ টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু এ বাঁধ নির্মাণে রয়েছে অনিময়ের অভিযোগ। 

কৃষকদের দাবি, প্রতি বছর সরকার ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা বাঁধ নির্মাণে বরাদ্ধ দিলেও মাত্র দু-চার লাখ টাকা দিয়ে কোনো রকম বাঁধ নির্মাণ করে আসছে একটি মহল। ফলে বাঁধ নির্মাণের নামে বরাদ্ধের টাকা নয়-ছয় করে হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। এছাড়াও জোয়ানশাহী হাওরের একমাত্র ফসল রক্ষায় দ্রুত স্লুইসগেট নির্মাণ কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। একই সঙ্গে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম বন্ধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ এ অঞ্চলের কৃষকদের। 

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান সবুজ বলেন, আসলে জোয়ানশাহী হাওর রক্ষায় যে ডুবন্ত কাঁচা বাঁধ নির্মাণ করা হয়, সেটি ৩টি ধাপে করা হয়। তাছাড়া মেঘনায় পানি বাড়ার খবর পেয়ে তিনি রোববার বিকেলে ডুবন্ত কাঁচা বাঁধ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। এ সময় বাঁধ নির্মাণে জড়িতদের বাঁধে আরও মাটি ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাঁধটি পাহারা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। 

এছাড়া বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান তিনি।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিজ্ঞাপন


© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৬-২০২৫ | RTV Online |