ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

বালু দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, হতাশ উপকূলীয় জনগোষ্ঠী

বরগুনা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০৬ পিএম

প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর রক্ষাকবচ বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা ঘেঁষা বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪০/২ পোল্ডারের বেড়িবাঁধটি মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। যার ফলে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি উপকূলে বসবাসরত মানুষের মাঝে বিরাজ করছে চরম হতাশা।

ষাটের দশকে নির্মিত উপকূলীয় বেড়িবাঁধ যথাযথ সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাঁধের বেশির ভাগ এলাকা নাজুক হয়ে পড়ে। সুপার সাইক্লোন সিডর, আইলা, বুলবুল, মহাসেন ও আম্ফানের তাণ্ডবে একটা অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের কারণে উপকূলীয় এলাকার বেশ কিছু জনপদ ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায়। অনেক এলাকার বসতিরা হারায় সর্বস্ব। চরম ঝুঁকি নিয়ে বেঁচে থাকে উপকূলীয় জেলা বরগুনার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। সেই ঝুঁকি মোকাবিলা জন্য উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্যাকেজ (সিইআইপি-১) নামে নতুন মেগাপ্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে বরগুনা ও পাথরঘাটায় নির্মাণ করা হচ্ছে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ।

বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৭ সালে ৪০/২ পোল্ডারের ৩৪.২ কিলোমিটার দৈর্ঘের বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করেন চায়নার সিকো নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পাথরঘাটা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের অভ্যন্তরে ২৪.২ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ১৭টি স্লুইসগেট নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তেমন নজরদারি না থাকায়, ঠিকাদার সংশ্লিষ্টরা মাটির পরিবর্তে বাঁধের পাশ থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে স্লুইসগেটসহ বাঁধ নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন। যার ফলে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত পাউবোর বাঁধটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় জনগোষ্ঠী।

স্থানীয়রা জানায়, প্রতিটি স্লুইসগেট নির্মাণের পর তা মাটি দিয়ে ভরাট করার কথা থাকলেও তার পরিবর্তে লাখ লাখ সিএফটি নিম্নমানের বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। ওই গেইটগুলো ছেড়ে দেওয়ার পর তা থেকে পানি নিষ্কাশন শুরু হলে ভবিষ্যতে তা লিক করে ভেতরে পানি প্রবেশ করে বালু সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে স্লুইস গেটগুলো এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসবে না।

চরদুয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান জুয়েল বলেন, প্রকল্পের শুরুতে বেশ কিছু জায়গায় পুরাতন বেড়িবাঁধের মাঝখান দিয়ে বিশাল আকারের গর্ত করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বালু দিয়ে ভরাট করে। এ বিষয়ে এলাকার লোকজন নিয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। চরদুয়ানী ইউনিয়নে এক কিলোমিটারের মতো বালু দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করায় অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এলাকাবাসী। যেকোনো ধরনের দুর্যোগে এই বালু দ্বারা নির্মিত বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে এলাকায় ব্যাপকভাবে প্লাবিত করতে পারে।

প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বালু দেওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করলে, এখন আর বালু দেওয়া হচ্ছে না।

দাতা সংস্থা বিশ্ব ব্যাংকের কনসাল্টেশন সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণের বালু ব্যবহার করার কোন সুযোগ নেই। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিকো খামখেয়ালি করে যত্রতত্র গর্ত করে বালু ব্যবহার করছে। এ ব্যাপারে আমি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছি।

পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির জানান, বেড়িবাঁধ নির্মাণে চায়নার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিকো বালু ব্যবহার করছে। এজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহুবার অবহিত করেছি। কিন্তু কেউ কার্যকরী কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বালু দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে, তা হবে আমাদের জন্য একটা মরণ ফাঁদ।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমিও জেনেছি। এ ব্যাপারে আমিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে অবহিত করব। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকির কোন সুযোগ রাখা হয়নি।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, প্রজেক্ট সংশ্লিষ্ট লোকদেরকে ডেকে আমি সিডিউল দেখব। তারপরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেব।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন আরটিভির বার্তা সম্পাদক তাবিবুর রহমান তালুকদার। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ও হিমালয় গ্রুপের সহযোগিতায় ভূঞাপুর, গোবিন্দাসী ও পাথাইলকান্দি বাজারে গরীব, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়। এ সময় কম্বল পেয়ে খুশি হন ওই এলাকার গরীব-দুস্থ ও অসহায় মানুষরা। আরটিভির টাঙ্গাইল প্রতিনিধি কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা মুফাসসির পরিষদের সভাপতি মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এলেঙ্গা শাখা ব্যাবস্থাপক মো. হাফিজুর রহমান, ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহআলম প্রামানিক, সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলাম তালুকদার, নীড় ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুফতি মাওলানা ফজলুর রহমান। এ সময় তারা বলেন, সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে। সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই প্রতি বছর আমরা দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ
প্রেমিকাকে না পেয়ে মোবাইল টাওয়ারে প্রেমিক
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে হতাশায় নাফিজ (১৮) নামে এক তরুণ মোবাইল ফোনের টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।  শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন বিকেলে ওই ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের পিপলস ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যা চেষ্টা করা ব্যক্তি হলেন, উপজেলার মথুরাপুর এলাকার ইহান সর্দারের ছেলে নাফিজ।  স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেলে আত্মহত্যার জন্য নাফিজ ওই টাওয়ারে উঠেন। এ সময় খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নাফিজের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ নানা রকম মতবিনিময় করেন। পরে তাকে ফিরে আসতে অনুপ্রেরণা জোগায়। এ সময় ঘণ্টাখানেক চেষ্টার পর তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।  তারা আরও জানান, এলাকার অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি মেয়েকে ভালোবাসেন নাফিজ। প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। লাফিয়ে পড়তে সাহস না হলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় তাকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে তাকে আত্মহননের হাত থেকে রক্ষা করে পুলিশ। এ বিষয়ে ওসি মজিবুর রহমান জানান, প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে নাফিজ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে কৌশলে তাকে বুঝিয়ে উদ্ধার করা হয়। 
প্রেমিকাকে না পেয়ে মোবাইল টাওয়ারে প্রেমিক
‘নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত’
র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন বলেছেন, নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও আমাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে গুলশান ২ নম্বর মোড়ে নতুন বছর উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এম খুরশীদ হোসেন বলেন, নতুন বছরে জঙ্গিরা নতুন করে আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। তবে কোনো সংকট তৈরি হলে সেটি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুতি রয়েছি। আমরা সবসময় শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত। গুলশান নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এ এলাকায় দূতাবাস, ফাইভ স্টার হোটেল, সমাজের উচ্চবিত্তদের বসবাস। সবকিছু বিবেচনা করে আমরা বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছি। র‍্যাব প্রধান বলেন, ডিএমপি থেকে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সবাইকে মেনে চলার অনুরোধ করছি। উন্মুক্ত স্থান ও ছাদে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। তবে ফাইভ স্টার হোটেলের অনুষ্ঠানে বাধা নেই। মাদকসেবন ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ঠেকাতে আমরা মাঠে আছি। সারাদেশে মানুষ উৎসব করবে। কিন্তু নিয়মের মধ্যে থেকে তা করতে হবে। সারা বিশ্বের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নববর্ষের ভিন্ন আয়োজন থাকে। তেমনি আমাদের দেশেও গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মানুষের চাপ বেশি থাকে। এজন্যই আমরা এসব এলাকাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তিনি বলেন, তরুণরা গুলশানকেদ্রিক। তারা বিভিন্নভাবে এ এলাকায় আসতে চায়। আমরা কাউকে নববর্ষ উদযাপনে বাধা দিচ্ছি না। আমরা আধুনিকতা পছন্দ করি। কিন্তু এর নামে বেহায়াপনা করলে সেটাও সমাজ মেনে নেবে না। এসব বিষয় মাথায় রেখেই আমরা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। আমরা পারিবারিকভাবে এটি পালন করতে উৎসাহ দিচ্ছি।
‘নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত’
বাসের ধাক্কায় খালে প্রাইভেটকার, অতঃপর...
মাদারীপুরের ঘটকচর এলাকায় বাসের ধাক্কায় খালে পড়ে ডুবে গেল একটি প্রাইভেটকার। এ সময় প্রাইভেটকারে থাকা তিন যাত্রীসহ চালক আহত হয়েছে।  শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম মওলা রসুল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন বিকেলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ঘটকচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  আহত চালক চাপাইনবাগঞ্জের গোমস্তপুর উপজেলার সোনাপাড়া গ্রামের মিরাজ মণ্ডলের ছেলে জামিরুল ইসলাম মণ্ডল। স্থানীয়রা জানান, একটি পরিবারের তিন সদস্য শনিবার বিকেলে বরিশাল থেকে একটি ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকারযোগে ঢাকা যাচ্ছিল। এ সময় প্রাইভেটকারটি যখন ওই এলাকায় পৌঁছায়, তখন পিছন থেকে যাত্রীবাহী পরিবহন প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটি পাশের একটি খালে পড়ে ডুবে যায়।  তারা আরও জানান, প্রাইভেটকারটি থেকে তিন যাত্রী ও চালককে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। যাত্রীদের মধ্যে শিশু ও মহিলা ছিল। আহতদের বাড়ি ভোলা জেলায়। তারা ঢাকা যাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় চিকিৎসক দেখিয়ে যাত্রীরা চলে যায়। এরপর হাইওয়ে পুলিশ গিয়ে প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে।  ওসি মো. গোলাম মওলা রসুল জানান, শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। খালে পানি কম থাকায় বড় ধরণের দুর্ঘটনা থেকে যাত্রী ও চালক রক্ষা পেয়েছে। পরিবহনটিকে আটক করা যায়নি। 
বাসের ধাক্কায় খালে প্রাইভেটকার, অতঃপর...
জামায়াতের ৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৫
ঢাকায় গণমিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আট হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) করা এসব মামলায় মোট ৮ হাজার ২০২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ ও চারটি থানা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর মৌচাকে জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় পুলিশের ওপর হামলা করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। হামলায় ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় রমনা থানায় করা মামলার এজাহারে ৯১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাত তিন হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে। শাজাহানপুর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত ৯০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। রামপুরা থানায় করা মামলায় ৩০২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাত চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে জামায়াতের উত্তরার আমিরসহ তিনজনকে। খিলগাঁও থানায় করা পুলিশের ওপর হামলা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। তবে অজ্ঞাতদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই জনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে, শনিবার দুপুরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে জামায়াতের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্য মেনে নেব না। তারা অতীতে যে নৈরাজ্য চালিয়েছিল তা নতুন করে আর করতে দেওয়া হবে না। বগুড়ায় চাঁদে সাঈদীকে দেখা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের খুন করা হয়েছে। গাইবান্ধায় আগুন দেওয়া হয়েছে, পুলিশ সদস্যদের আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। অতীতে তারা যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় আবার পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নেব না। যত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তাই নেওয়া হবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, অবৈধভাবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে পুলিশের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করে। এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পুলিশের ১১ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। এ সময় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জামায়াতের অতীত ইতিহাস ফিরে আসুক এটা আমরা মেনে নেব না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ প্রস্তুত ছিল। তারা প্রথমে বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল বের করার তথ্য প্রচার করেছে, সেখানে আমাদের পুলিশ ছিল। সেখানে তারা মিছিল বের করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের বাধায় মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর তারা মৌচাক-মালিবাগ এলাকায় মিছিল বের করে। আপনারা জানেন ওই এলাকা তিন থানার মোড়, ফলে প্রত্যেক থানা নিজ নিজ এলাকায় প্রস্তুতি নেয়। এ সুযোগে তারা বিচ্ছিন্নভাবে একত্রিত হয়ে মিছিল বের করে। মৌচাকে পুলিশ তাদের বাধা দিলে সেখানে সংঘর্ষ হয়। জামায়াতের আমির গ্রেপ্তার আছে, কিন্তু হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে বাইরে থাকা শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকেই আমাদের অভিযান চলছে।
জামায়াতের ৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৫
আরও পড়ুন
রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রমাণ সংগ্রহ অব্যাহত আছে 
‘পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়’
‘প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সমঅধিকার নিশ্চিতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ’
\'দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বাবলম্বী হলে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে\'