ঢাকাশুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

আগুন না লাগলেও বাংলাদেশ ব্যাংকে বাজল ‘ফায়ার অ্যালার্ম’

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ , ০৫:২৭ পিএম


loading/img
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকে ফায়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠে। খবর পেয়ে নেভাতে যায় ফায়ার সার্ভিসের চার ইউনিট। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনের কোনো আলামত পায়নি ফায়ার ফাইটাররা। 

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এতে আতঙ্ক ভর করে স্থানীয়দের মাঝে। অপরদিকে ব্যাংকে উপস্থিত কর্মকর্তারা হন বিভ্রান্ত।

সূত্র জানায়, রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ফায়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠে। এ খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তারা জানতে পারেন সেখানে অগ্নিকাণ্ডের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভুল করে কোনোভাবে ফায়ার অ্যালার্ম বেজে উঠেছিল। আর তাতেই আগুনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালেদ বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মতিঝিলে অবস্থানরত ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সঙ্গে আরও তিনটি ইউনিট যোগ দেয়। মোট চারটি ইউনিট গিয়ে দেখে আগুনের কোনো আলামত নেই।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফায়ার অ্যালার্ম বেজেছে ভুলক্রমে।

বিজ্ঞাপন

রাজধানী বাসীর মধ্যে আগুন এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গতকাল রাজধানীর মিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যু হওয়ার পর এ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতের বৃষ্টির পর মিরপুরের রাস্তায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ৯ মাসের শিশু হোসাইন।

স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির পর জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন মিজান (৩০), তার স্ত্রী মুক্তা বেগম (২৫), মেয়ে লিমা (৭) ও ছেলে হোসাইন (৯)। এ সময় হঠাৎ পানিতে পড়ে গেলে তাদের তুলতে এগিয়ে আসেন অনিক নামে একজন অটোরিকশাচালক। তিনি হোসাইনকে পানি থেকে তুলতে পারলেও লিমাকে তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।

অনেকটা অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় শিশু হোসাইন। মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে যাওয়ায় প্রাণে রক্ষা পায় শিশু হোসাইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, নয় মাসের শিশু হোসেনকে পানি থেকে পা ধরে টেনে তুলছেন একজন। পরে পাশে থাকা মহিলাদের কোলে তুলে দেন তিনি।

শিশুটিকে উদ্ধার করে দেওয়া হয় তৃতীয় লিঙ্গের বৃষ্টি নামে একজন ও আমেনার কাছে। তারা বলেন, শিশুটি ভাসছিল, দেখতে পেয়ে তাকে একজন পা ধরে ওঠান। পরে আশপাশের মহিলারা তাকে বাসায় নিয়ে রসুনের তেল মাখায়, যখন তার নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল তখন তাকে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বৃষ্টি বলেন, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের দায়িত্বরত ডাক্তার শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। রাতে তাকে সেখানে নিয়ে যাই, চিকিৎসকরা শিশুটিকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। চিকিৎসার পর সকালে ডাক্তার বলে হোসাইন এখন সুস্থ, তাকে বাসায় নিয়ে যেতে পারেন। পরে আমি জানতে পারি হোসাইনের দাদা ও নানা মিরপুর মডেল থানায় আছে, তখন আমি এখানে আসি।

আমেনা বেগম বলেন, হোসাইনকে অনিকের মাধ্যমে আল্লাহ বাঁচিয়েছেন। না হলে একই ঘটনায় তার মা-বাবা ও বোন এবং অনিক মারা গেছে, তার তো বাঁচার কথা ছিল না। এখন হোসাইনকে কোলে নেওয়ার বা দেখাশোনার লোক নেই। হোসাইনের নানা ও দাদা তার মা, বাবা ও বোনের মরদেহ নেওয়ার জন্য থানা ও হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করছে। তাই আমি তাকে আপাতত দেখাশোনা করছি। তাদের কাজ শেষ হলে আমি হোসাইনকে তার নানা ও দাদার কাছে বুঝিয়ে দেব।

নিহত মিজানের গ্রামের বাড়ি বরিশালের ঝালকাঠিতে। সে গত কয়েক বছর ধরে পরিবার নিয়ে মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডে ভাড়া বাসায় বসবাস করত। মিজান মিরপুর এলাকায় ভাসমান দোকানে শরবত বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গতকাল রাতে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ঝিলপাড় বস্তিতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে মৃত্যু হয়।

সত্যতা নিশ্চিত করেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া। শিশুটির বাসা মিরপুরে কমার্স কলেজের কাছে ঝিলপাড় বস্তির বিপরীত পাশে বলেও জানান তিনি।

মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার রুহুল আমিন বলেন, গতকাল রাতে বৃষ্টি চলাকালীন মিরপুর এগারোর শাহআলী থানাধীন কমার্স কলেজের বিপরীত পাশের রাস্তায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চারজনের মৃত্যু হয়।

জানা যায়, ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাসহ মিরপুরের সড়কও ডুবে যায়। পানিতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়লে বিদ্যুতায়িত হয়ে ওই চারজনের মৃত্যু হয়।

মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পানিতে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে একজন শিশু, একজন নারী ও দুইজন পুরুষ রয়েছে। চারজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিজ্ঞাপন


© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৬-২০২৫ | RTV Online |