গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঐতিহ্যবাহী বংশাই নদীতে বাঁধ দিয়ে ইটভাটায় যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণ করেছেন এসএমবি ইটভাটার মালিক খোরশেদ আলম।
শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা শেওড়াতলী এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
নদীতে আড়াআড়িভাবে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের ফলে নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে নদীর আশপাশের কৃষকসহ উপকারভোগীদের জমির কৃষি আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। নদীতে বাঁধ দেওয়াসহ নদীর মাটি কেটেও বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বংশাই নদীতে দেওয়া বাঁধটি দ্রুত অপসারণ করে নদীর পানি প্রবাহ চালু করার জন্য দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী বংশাই নদী। নদীটি কালিয়াকৈর হয়ে ঢাকার সাভার এলাকায় গিয়ে মিলিত হয়েছে। এক সময় এই বংশাই নদীর ওপর দিয়ে স্থানীয় লোকজন তাদের উৎপাদিত পণ্য ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করতেন। এ ছাড়াও কৃষকরা তাদের জমির আবাদ করতেন এই নদীর পানি দিয়েই। কিন্তু নদী খেকোরা বর্তমানে নদীর বিভিন্ন জায়গা দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে নদীটি সরু করে ফেলেছে। গত কয়েকবছর আগে নদীটি সরকারের পক্ষ থেকে খনন করে পানির গতিপ্রবাহ কিছুটা ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু বছরখানেক আগে স্থানীয় প্রভাবশালী খোরশেদ আলম বংশাই নদীর শেওড়াতলী এলাকায় বাঁধ দিয়ে তার এসএমবি-১ এবং এসএমবি-২ ইটভাটায় যাতায়তের রাস্তা নির্মাণ করেছেন। ওই রাস্তা দিয়ে ইটভাটার ইটসহ বিভিন্ন মালামাল আনা নেওয়া করছেন। এতে নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। একপাশের পানি অন্যপাশে যেতে পারছেনা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, বংশাই নদীতে বাঁধ দিয়ে ইটভাটার যাতায়াতের রাস্তা বানানো হয়েছে। এভাবে নদীতে বাঁধ দেওয়ার ফলে নদীর পানি একপাশ থেকে অন্যপাশে যেতে পারছেনা। নদী খেকোদের বিরুদ্ধে ভয়েতে কেউ কথা বলেন না।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি বলেন, নদীর পানিপ্রবাহ বন্ধ করে রাস্তা নির্মাণ করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ বাঁধটি অপসারণ করা হবে।