ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সেরা করদাতা হলেন যারা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০১৭, ১২:৪৪ পিএম

প্রতিবারের মতো এবারো সেরা করদাতাদের নাম প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এসব করদাতাকে বিশেষ সম্মাননা হিসেবে ‘ট্যাক্স কার্ড’ প্রদান করা হবে। করদাতাদের উৎসাহ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সর্বোচ্চ কর প্রদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৩ ক্যাটাগরিতে এবার মোট ১৪১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে এ সম্মাননা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্য ব্যক্তি শ্রেণিতে ৭৬ জন, কোম্পানি শ্রেণিতে ৫৫ ও অন্যান্য শ্রেণিতে ১০ করদাতাকে মনোনীত করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপ-সচিব সুরাইয়া পারভীন শেলী স্বাক্ষরিত ট্যাক্স কার্ড প্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বছর চিকিৎসকদের মধ্যে সেরা করদাতা হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারির অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত গেলো ১০ বছর ধরে এই স্থান ধরে রেখেছিলেন।

অভিনেতা-অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে গতবার সেরা করদাতা হয়েছিলেন সুবর্ণা মুস্তাফা। এবার এ জায়গা দখল করেছেন প্রয়াত সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন।

কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে এবার সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন রুনা লায়লা। গতবারের চেয়ে বেশি আয়কর দিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে এ শ্রেণি সেরা করদাতা হয়েছে তামিম ইকবাল।

বিভিন্ন পেশাজীবীদের মধ্য থেকে সেরা করদাতাদের চিহ্নিত করে গত সোমবার গেজেট জারি করে এনবিআর।

পেশার বাইরে বিশেষ শ্রেণি ও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা প্রতিষ্ঠানও জায়গা পেয়েছে তাতে। গেজেট অনুযায়ী, আইনজীবীদের মধ্যে গতবারের মতো এবারো সেরা করদাতা সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এই শ্রেণিতে অন্য সেরা করদাতারা হলেন অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, আহসানুল করিম, কাজী মোহাম্মদ তানজীবুল আলম ও মুহাম্মদ কবির উজ্জামান ইয়াকুব।

সাংবাদিকদের মধ্যে সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম। পরের অবস্থানে রয়েছেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুল মালেক, দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ এবং দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার।

অভিনেতা-অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে এ বছর সেরা করদাতা হয়েছেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। দ্বিতীয় সেরা করদাতা হয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা অভিনেতা শাকিব খান রানা। পরের অবস্থানে রয়েছেন অভিনেতা জাহিদ হাসান।

গায়ক-গায়িকাদের মধ্যে এবার সেরা করদাতা হয়েছেন উপমহাদেশের বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। পরের অবস্থানে রয়েছেন এস ডি রুবেল ও রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

সিনিয়র সিটিজেন : বিশেষ শ্রেণি হিসেবে সিনিয়র সিটিজেনদের মধ্য থেকে সেরা করদাতা হয়েছেন স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যামুয়েল এস চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আলী হোসাইন আকবর আলী, স্যামসন এইচ চৌধুরীর স্ত্রী অনিতা চৌধুরী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম আনিস-উদ-দৌল্লা।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা : গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সেরা করদাতা হয়েছেন আবু সালেহ্ মোহাম্মদ নাসিম, মো. আবদুল ওহাব, মো. নাসির উদ্দিন মৃধা, এস এম আবদুল ওয়াহাব ও মো. আবুল খায়ের।
প্রতিবন্ধী : প্রতিবন্ধী ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হয়েছেন আকরাম মাহমুদ, ডা. মো. মামুনুর রশিদ ও ডা. মো. জহিরুল ইসলাম।

মহিলা : মহিলা ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হয়েছেন লায়লা হোসেন, হোসনে আরা হোসেন, বুলা চৌধুরী, নিশাত ফারজানা চৌধুরী ও পারভীন হাসান।

তরুণ করদাতা : ৪০ বছরের নিচের করদাতাদের তরুণ করদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এনবিআর। তাদের মধ্যে সেরা করদাতা হয়েছেন রাজধানীর শাহজাদপুরের কনফিডেন্স সেন্টারের নাফিস শিকদার। এ ছাড়া রূপগঞ্জের রূপসী এলাকার গাজী গোলাম মূর্তজা, ঢাকার মৌলভীবাজারের মো. শাহনেওয়াজ, সিলেটের এ কে এম আতাউল করিম এবং চট্টগ্রামের সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর।

ব্যবসায়ী : সেরা করদাতা হয়েছেন জর্দা ব্যবসায়ী হাজি মো. কাউছ মিয়া। পরের অবস্থানে রয়েছেন নরসিংদীর ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির মোল্লা, গুলশানের খন্দকার বদরুল আহসান, মতিঝিলের কামরুল আশরাফ খান এবং চট্টগ্রামের মোহাম্মদ কামাল।

বেতনভোগী : চাকরিজীবীদের মধ্যে সেরা করদাতা হয়েছেন ঢাকা সেনানিবাসের মোহাম্মদ ইউসুফ, রুবাইয়াত ফারজানা হোসেন, খাজা তাজমহল, উত্তরার এম এ হায়দার হোসেন এবং গুলশানের আব্দুল মুক্তাদির।

প্রকৌশলী : চট্টগ্রামের আবুল খায়ের স্টিল মিলসের শ্যামল কান্তি ঘোষ, ঢাকার তেজগাঁওয়ের মো. কবির আহমেদ ভূইয়া ও চট্টগ্রামের চট্টেশ্বরী সার্কেলের এস এম আবু সুফিয়ান।

স্থপতি : ঢাকার মোহাম্মদপুরের মো. রফিক আজম, মনিপুরীপাড়ার মো. ইকবাল হাবিব এবং গুলশানের এনামুল করিম নির্ঝর।

অ্যাকাউন্ট্যান্ট : বনানীর মো. মোক্তার হোসেন, মো. জয়নুল আবেদীন এবং লালবাগের মনজুর আলম।

নতুন করদাতা : গুলশানের সিলভানা সিনহা, তানিয়া কাদের সিনহা, দক্ষিণ শাহজাহানপুরের নাবিলা মির্জা, চট্টগ্রামের সৈয়দ মোহাম্মদ তাহমির, মৌলভীবাজারের ছয়ফুল মিয়া, সিলেটের মো. শাহরব মিয়া এবং যশোরের সুহিতা আসরাফি।

অন্যান্য : এমএস স্পিনিংয়ের এম সাহাবুদ্দিন আহমেদ, এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং চট্টগ্রামের বাটালি হিলসের আবু মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন খান।

ব্যাংকিং খাত : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি), ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংক।

ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান : আইডিএলসি ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড, উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি।

টেলিকমিউনিকেশন : গ্রামীণফোন।

প্রকৌশল : বিএসআরএম স্টিলস, নাভানা ও পিএইচপি এবং কন্টিনিউয়াস গ্যালভানাইজিং মিলস।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক : নেসলে বাংলাদেশ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ।

জ্বালানি ক্যাটাগরি : তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, সিলেট গ্যাস ফিল্ড ও বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি।

পাটশিল্প : জনতা জুট মিলস, সুপার জুট মিলস ও টিমেক্স জুট মিলস।

স্পিনিং ও টেক্সটাইল : কোটস বাংলাদেশ, স্কয়ার টেক্সটাইলস, অ্যাপেক্স টেক্সটাইলস প্রিন্টিং মিলস, এনভয় টেক্সটাইলস, জিএমএস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ, বাদশা টেক্সটাইলস ও হামিদ উইভিং মিলস।

ওষুধ ও রসায়ন : ইউনিলিভার বাংলাদেশ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া : মিডিয়া স্টার, ট্রান্সক্রাফট, মিডিয়া ওয়ার্ল্ড ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ।

রিয়েল এস্টেট : বে ডেভেলপমেন্টস, স্পেস জিরো ও স্যানমার প্রপার্টিজ।

তৈরি পোশাক : দ্যাটস ইট স্পোর্টস ওয়্যার, রিফাত গার্মেন্টস, কেডিএস গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ, অনন্ত অ্যাপারেলস, প্যাসিফিক জিন্স, রিং শাইন টেক্সটাইলস ও অ্যাপেক্স ল্যানজারি।

চামড়াশিল্প : বাটা সু কোম্পানি (বাংলাদেশ), অ্যাপেক্স ট্যানারি ও লালমাই ফুটওয়্যার।

অন্যান্য : ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি, আমেরিকান লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি, দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন ও এমজেএল বাংলাদেশ।

ফার্ম : ওয়ালটন মাইক্রোটেক করপোরেশন, ওয়ালটন প্লাজা, মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও মেসার্স এএসবিএস।
ব্যক্তি ও সংঘ : আশা, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি।

অন্যান্য : ব্যুরো বাংলাদেশ, গ্রামসিকো, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) ও ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।

এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চেয়েছিলাম চালের দাম একটু বাড়ুক
সরকারই চালের দাম একটু বাড়াতে চেয়েছিল যেন কৃষক দাম কিছুটা বেশি পায়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেটা অনেক বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে। জানালেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।  আজ রোববার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদায়ী বছর-২০১৭ এবং নতুন বছর-২০১৮ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি একথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, চেয়েছিলাম চালের দাম একটু বাড়ুক। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেটা বাড়িয়ে ৬০ পর্যন্ত নিয়ে গেছে। এটা হওয়া উচিত না। ৩৮ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে থাকা উচিত ছিল। এক্ষেত্রে সরকারের কোনো গাফিলতি নেই। চালের দাম শিগগির কমে আসবে বলে জানান তিনি। আবুল মাল আবদুল মুহিত এসময় দেশের অর্থনীতি, রোহিঙ্গা ইস্যু, জাতীয় নির্বাচন, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা বিষয়েও কথা বলেন। অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সাল হবে অর্থনীতির জন্য একটি ভালো বছর। স্বস্তির বছর। আগামী বাজেট হবে গতানুগতিক, নতুন কোনো ট্যাক্স আরোপ করা হবে না। নতুন বছরে ব্যাংকিং খাত নিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে কোনো ঝুঁকি নেই। ব্যাংক ফেল করার কোনো চান্স নেই। সুতরাং আস্থার সংকট হবে না। এসআর/এসএস
চেয়েছিলাম চালের দাম একটু বাড়ুক
বৈদ্যুতিক গাড়ির যুগ শুরু ২০১৮ দিয়ে
গাড়ির জগতটাই এবার পাল্টে যাবে। পুরোনোকে পাল্টে জায়গা দখল করবে বৈদ্যুতিক গাড়ি। এ ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমান তালে এগুচ্ছে চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স। পদক্ষেপ নিচ্ছে জাপানও। চীন তো ঘোষণাই দিয়েছে তারা ডিজেল ও পেট্রলচালিত গাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা ২০৪০ সালের পর নতুন করে আর কোনো পেট্রলচালিত গাড়ি তৈরি বা বিক্রি করবে না। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অদূর ভবিষ্যতে বাজারে ডিজেল ও পেট্রলচালিত গাড়ির চাহিদা থাকবে না। গাড়ির জগতে এতদিন ধরে যে রীতি চলে আসছে, তা অনেকটাই পাল্টে যাচ্ছে আগামী বছরে। ২০১৮ সালটি হবে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য মাইলফলক। পরিবর্তনের ঢেউ সবচেয়ে বেশি লাগবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। বহু বছর ধরেই বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন করছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এসব গাড়ি বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও উচ্চ দামের কারণে সাধারণের নাগালের বাইরে ছিল। তবে এ বছরে সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠে নতুন করে গ্রাহকের হাতে পৌঁছাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া এসব গাড়ি পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর হওয়ায় বিভিন্ন দেশের সরকার এ ধরনের গাড়িকে প্রণোদনা দিচ্ছে। টেসলা, নিশানের মতো শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন মডেলের বৈদ্যুতিক গাড়ি আগামী বছর বাজার দখল করবে। আগামী বছর বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের পাশাপাশি সহজলভ্য হবে। বৃদ্ধি পাবে চাহিদাও। নেভিগ্যান্ট রিসার্চ নামের একটি গবেষণা দলের তথ্য বলছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবারের কাছে বিদ্যুতচালিত গাড়ি রয়েছে। তবে এই গাড়ির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দাম, গাড়ির সক্ষমতা ও সরবরাহ। রেবেকা লিন্ডল্যান্ড নামের এক বিশেষজ্ঞ বলছেন, আমেরিকানরা আগামী বছর সাশ্রয়ী মূল্যেই এ ধরনের গাড়ি কিনতে পারবেন। এ সময়ে গাড়ির উৎপাদনও ভালো থাকবে। কোনো চিন্তা ছাড়াই চলার পথে এসব গাড়ি ব্যবহার করা যাবে। শেভ্রোলেট বোল্ট প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসবে শেভ্রোলেট বোল্ট ইভির নতুন সংস্করণ। যদিও ইতোমধ্যে মডেলটির প্রায় ২ লাখ গাড়ি বিক্রি হয়ে গেছে। ৩৭ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের এ বৈদ্যুতিক গাড়ি পূর্ণ চার্জে ২৩৮ মাইল চলতে সক্ষম। নিশান লিফ অন্যদিকে নিশানের পুনরায় নকশা করা নিশান লিফ আগামী বছর বাজারে আসবে। তবে এ বৈদ্যুতিক গাড়ি শেভ্রোলেট বোল্ট ইভির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামছে না। নিশান বহুদিন ধরেই লিফ মডেলটির মাধ্যমে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার ধরার চেষ্টায় আছে। তবে গাড়িটির দাম ও মাইলেজ বোল্টের চেয়ে কম। ৩০ হাজার ডলার দামের নিশানের গাড়িটি পূর্ণ চার্জে ১৫০ মাইল পাড়ি দিতে পারে। আগামী বছর  নিশানের আরেকটি নতুন মডেল বাজারে আসার কথা রয়েছে। এটি ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টেসলা মডেল ৩ শীর্ষ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততম বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তাদের অন্য একটি গাড়ির নাম 'মডেল ৩'। এ গাড়িটি আগামী বছর শীর্ষে থাকার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যেই টেসলার মডেল ৩ গাড়ির প্রায় চার লাখ অর্ডার পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া বিএমডব্লিউ, টয়োটা, ভক্সওয়াগনসহ বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা বৈদ্যুতিক গাড়ির মডেল নিয়ে গবেষণা করছে। এসআর
বৈদ্যুতিক গাড়ির যুগ শুরু ২০১৮ দিয়ে
বাণিজ্য মেলায় খাবারের দাম বেশি নিলে ব্যবস্থা
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় খাবারের স্টলগুলোর ব্যাপারে এবার আমরা সতর্ক। প্রতিটি খাবারের দাম নির্ধারণ করা থাকবে। প্রতিটি খাবারের মূল্য দৃশ্যমান থাকতে হবে। খাবারের দাম কোনোভাবে বেশি হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বললেন বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু। রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে মেলা প্রঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো- ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের মেলায় ১০০টি সিসি ক্যামেরা থাকছে। প্রয়োজনে আরো বাড়ানো হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে। দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধার জন্য মেলার অভ্যন্তরের রাস্তাগুলো বেশি প্রশস্ত রাখা হয়েছে। মেলার দুই প্রান্তে সুন্দরবন ইকোপার্কের আকৃতি দেয়া হয়েছে। শিশুকর্ণার করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ মেলার উদ্বোধন করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এবারের ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ভিন্ন আঙ্গিক আনার চেষ্টা করা হয়েছে। বাণিজ্য মেলার প্রধান প্রবেশদ্বার করা হয়েছে পদ্মা সেতুর আদলে। এবার মেলায় স্টল ও প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ৫৮৯টি। বড় প্যাভিলিয়ন ১১২, মিনি প্যাভিলিয়ন ৭৭। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট স্টলের সংখ্যা ৪০০টি। মেলায় থাকছে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন, ই-শপ, শিশুপার্ক, প্রাইমারি হেলথ সেন্টার, মা ও শিশু কেন্দ্র, রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্রসহ ৩২ ধরনের অবকাঠামো। মেলায় বিদেশি অংশগ্রহণকারী হিসেবে ১৭ দেশের ৪৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। মেলা চলবে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। টিকিটের মূল্য রাখা হবে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। এমসি/এসআর
বাণিজ্য মেলায় খাবারের দাম বেশি নিলে ব্যবস্থা
ফিরে দেখা-২০১৭ / ভুগিয়েছে চাল-পেঁয়াজ, অসন্তোষ বিদ্যুতে
২০১৭ এর বিদায় ঘণ্টা বাজতে আর মাত্র কয়েকঘণ্টা। এরপরই ইংরেজি ক্যালেন্ডারে শুরু হবে নতুন একটি বছর। পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায় ২০১৭ সালটি সাধারণ মানুষের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। কারণ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সারাটি বছর নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ছিল অস্বাভাবিক রকমের চড়া। সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে অতি প্রয়োজনীয় চাল ও পেঁয়াজ। এছাড়া শাক-সবজি ও কাঁচা মরিচের দাম কখনো কখনো রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতও অসন্তোষ ছড়িয়েছে।  চালে  ‘কাবু’ সাধারণ মানুষ চালের বাজারে প্রথম অস্থিরতা শুরু হয় ফেব্রুয়ারিতে। এ সময় মাঝারি মানের চাল ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকার কাছাকাছি চলে যায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার ভারত, মিয়ানমারসহ প্রভৃতি দেশ থেকে বিপুল পরিমাণে চাল আমদানি ও খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু করে। তবে সরকারের নিজস্ব ভাণ্ডারে যথেষ্ট পরিমাণে চাল মজুদ না থাকায় এর সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে চালের বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেয়া সরকারের পক্ষে আর সম্ভব হয়নি। বছর শেষের এই সময়ে এসেও চালের ঊর্ধ্বমুখী দর বহাল রয়েছে। ২০১৭ সালের শেষ সপ্তাহে খুচরা বাজারে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৫০ টাকা, মাঝারি চাল ৪৮-৬২ টাকা এবং চিকন চাল ৭০-৮৬ টাকায়। চালের যে দর বেড়েছে তা সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কথায়ও স্পষ্ট। তিনি বলেন, চালের দাম যে পরিমাণ বেড়েছে, তা অসহনীয়। সম্প্রতি বেড়ে যাওয়ার পরিমাণটা অস্বাভাবিক। মোটা চালের কেজি ৫০ টাকার ওপরে উঠে যাওয়ায় কিছু লোকের খুব অসুবিধা হয়েছে। দামটা আসলে অনেক বেড়েছে। এখনো কাঁদাচ্ছে পেঁয়াজ দাম-দরের উঠানামায় বছরের আরেকটি আলোচিত পণ্যের নাম হল পেঁয়াজ। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ছিল ২২ থেকে ৩০ টাকার মধ্যেই। কিন্তু মার্চের শুরুতে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বাড়া শুরু করে। এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দামকেই দায়ী করেন। ২২-৩০ টাকা দামের পেঁয়াজ তখন ৪০ এর ঘরে পৌঁছে যায়। এপ্রিল-মে মাসে পেঁয়াজের দর আবার কিছুটা কমে আসলেও এর পরের মাস থেকে তা আবার বাড়তে শুরু করে। পরে দাম ৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এই দর বাড়তে বাড়তে অক্টোবর-নভেম্বরে এসে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। চলতি মাসের শুরুর দিকে বাজারে পেঁয়াজের দর ওঠে ১৩০ টাকা পর্যন্ত।  শাক-সবজিতেও সেঞ্চুরি পুরোটা বছর সাধারণ মানুষের অন্যতম ভোগান্তির নাম শাক-সবজি। প্রতিকেজি ঢেঁড়শ, বেগুন, বরবটি, কাকরোল, শিম কিংবা পটলের দামও তিন অঙ্কের ঘর ছাড়িয়েছিল। চোখ রাঙালো গ্যাসের দাম বিশ্ব বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমার পর দেশে মূল্য সমন্বয়ের দাবি পূরণ হয়নি। উল্টো বছরের শুরুতেই গ্যাসের দাম সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণায় ভোক্তা মহলে তৈরি হয় উদ্বেগ। বাড়তি টাকায় বিদ্যুত ২০১০ সালের ১ মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ বছরে খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে ৭ বার বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। প্রায় দুই বছর পর গত নভেম্বরের শেষদিকে আবারো দাম বাড়ায় সরকার। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নয় বছরে এ নিয়ে আটবার বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুত পেতে এখন ইউনিট প্রতি ৩৫ পয়সা বেশি গুণতে হচ্ছে। এসআর/এ
ভুগিয়েছে চাল-পেঁয়াজ, অসন্তোষ বিদ্যুতে
২০২০ সালে বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২০ সালে হবে পূর্বাচলে।  ২০১৯ সালের মধ্যে পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার জন্য স্থায়ী নির্মাণ কাজ শেষ হবে। তবে আমরা আশা করেছিলাম ২০১৮ সালের মধ্যে এটা শেষ হবে। কিন্তু জমি কিনতে জটিলতার কারণে একটু সময় লাগছে। বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। রোববার সকালে শেরে বাংলা নগর মেলা প্রাঙ্গণে ২৩তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের মাঠে আগামীকাল সোমবার বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম এমপি, বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু। তোফায়েল আহমেদ বলেন, মেলায় মোট ৫৮৯টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়ন ১৮৯টি এবং স্টল ৪শ’টি। মেলায় ১৭টি দেশের ৪৩টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেবে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস ও দক্ষিণ কোরিয়া। তিনি আরো বলেন, মেলা চলবে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। টিকিটের মূল্য রাখা হবে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও হবে। আশা করছি বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। তারা অতীতের মতো আর ভুল করবে না। যদি ভুল করে তাহলে তাদের জন্য কোনও নির্বাচন ঠেকে থাকবে না। নির্বাচন যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। এমসি/পি
২০২০ সালে বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে
আরও পড়ুন
রংপুরে অন্যতম সেরা নির্বাচন: ইডব্লিউজি
সেরা করদাতার সম্মাননা পেলো ওয়ালটন
করদাতা ছাড়িয়েছে ৩১ লাখ
ফুটবল বিশ্বের সেরা সেলফি!