ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

আরজি করের ৫০ জন সিনিয়র চিকিৎসকের গণ-ইস্তফা

ডয়েচে ভেলে

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৪, ১১:৫৩ পিএম
সংগৃহীত

আরজি করের প্রায় ৫০ জন চিকিৎসক গণ-ইস্তফা দিয়েছেন। কলকাতা মেডিক্যালের সিনিয়ররাও গণ-ইস্তফা দিতে পারেন।

আরজি করের সিনিয়র চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তারা সরকারের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ইস্তফাপত্র পাঠাতে পারেন। তবে তারা পরিষেবা দিয়ে যাবেন, কর্মবিরতিরও প্রশ্ন নেই। জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবিদাওয়া নিয়ে রাজ্য দ্রুত পদক্ষেপ নিক, এই বার্তা দিতে গণইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিনিয়ররা।

চিকিৎসক সংগঠন সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. সজল বিশ্বাস বলেন, এর দায় সম্পূর্ণ সরকারের। দাবিদাওয়াগুলো মিটিয়ে নিলে এরকম গণইস্তফার মতো পরিস্থিতি হতো না। আরো ডাক্তার গণ ইস্তফা দিতে পারেন। গরিব মানুষের স্বাস্থ্যের ব্যবস্থার কথা ভেবে সরকারকে এই দাবিগুলো মিটিয়ে দিতে হবে।

রাত পোহালেই দূর্গাপুজার বোধন হলেও প্রতিবাদের আঁচ রয়ে যাচ্ছে উৎসবের মধ্যে। ধর্মতলায় সাত জুনিয়র চিকিৎসকের অনশন ৬৬ ঘণ্টা পার করেছে। রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজে জুনিয়র চিকিৎসকরা ১২ ঘণ্টার প্রতীকী অনশনে বসেছেন মঙ্গলবার। এদিন আর এক দফা মহামিছিলের ডাক দিয়েছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। উৎসবের কারণে যানজটের আশঙ্কায় পুলিশ মিছিলে অনুমতি দেয়নি। যদিও কর্মসূচি থেকে সরে আসতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। বুধবার সিবিআই দপ্তর সিজিও কমপ্লেক্স ঘেরাওয়ের ডাক দেয়া হয়েছে।

কলকাতা মেডিক্যালের সিনিয়র ডাক্তারেরা বলেছেন, জুনিয়র ডাক্তারেরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। তারা রোগীদের পরিষেবা দিচ্ছেন। কিন্তু অনশনরত জুনিয়র ডাক্তারদের স্বাস্থ্য নিয়ে সিনিয়ররা খুবই চিন্তিত। জুনিয়র ডাক্তাররা যে দাবি করেছেন, তার সঙ্গেও পুরোপুরি একমত সিনিয়র ডাক্তাররা। বুধবারের মধ্যে সরকার জুনিয়র চিকিৎসকদের আলোচনায় না ডাকলে, গণইস্তফা দেবেন বলে জানিয়েছেন কলকাতা মেডিক্যালের সিনিয়র ডাক্তারেরা।

প্রথম চার্জশিট আরজি করে চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ৫৮ দিনের মাথায় প্রথম চার্জশিট দিয়েছে সিবিআই। পুলিশের হাতে ধৃত সঞ্জয় রায়কে মূল অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে।

১৩ অগাস্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। সঞ্জয়কে হেফাজতে নিয়ে লাগাতার জেরা করেছে সিবিআই। গ্রেপ্তার করার ৬০ দিনের মধ্যে চার্জশিট না দিলে অভিযুক্তের জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ঠিক পুজার মুখে আর জি করে খুনের মামলায় প্রাথমিক চার্জশিট পেশ করলো সিবিআই। আদালতে পেশ করা ৫৫ পাতার চার্জশিটে নথিভুক্ত রয়েছে ২০০ জন সাক্ষীর বয়ান।

এই চার্জশিটে বলা হয়েছে, সঞ্জয় খুন ও ধর্ষণ করেছে। অভিযুক্ত একাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে চার্জশিটে দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা। ঘটনার দিন গভীর রাতে চেস্ট মেডিসিন বিভাগের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে সঞ্জয়ের ছবি। তারপর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে চার্জশিটে। ন্যায়সংহিতার ১০৩ (১) ধারায় খুন, ৬৪ ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, অচেতন অবস্থায় ধর্ষণ করা হয়েছে চিকিৎসককে। এজন্য ন্যায়সংহিতার ৬৬ নম্বর ধারাতেও সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে সিবিআই। অপরাধ প্রমাণিত হলে এসব ধারায় অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। কমপক্ষে ২০ বছর কারাবাসের সংস্থান রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছিল, খুন ও ধর্ষণ একজন নয়, একাধিক জনের কাজ। সিবিআই চার্জশিটে অবশ্য আপাতত অন্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যদিও তদন্তকারীদের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, এই ঘটনা গণধর্ষণ নয়, এটা এখনই বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শেষ হয়নি।

সিনিয়র চিকিৎসক ডা. পুণ্যব্রত গুণ বলেন, আমরা খুব ভাল করে জানি যে প্রশাসন, কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ, সবাই মিলে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করেছে। সেই জন্য হয়তো সঞ্জয় ছাড়া কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। সিবিআই যে তদন্ত করছে, তাতে আমরা আশা করছি আরও কিছু পাওয়া যাবে। চার্জশিটে যাই থাকুক না কেন, আন্দোলন তার নিজের মতোই চলবে।

এই মামলায় তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে সিবিআই গ্রেপ্তার করেছে আর জি কর মেডিক্যালের সাবেক অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার সাবেক ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এর সঙ্গে পুলিশ যুক্ত ছিল বলে দাবি করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।

বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠে এসেছে। আর জি করের আর্থিক অনিয়মের মামলাতেও সিবিআই সন্দীপ ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত চিকিৎসক কোনো অনিয়মের কথা জানতে পেরেছিলেন বলে তাকে খুন করা হল কি, এই প্রশ্ন উঠেছে।

তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, মূল ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সিবিআই এতদিনে শুধু সঞ্জয় রায়ের নামে চার্জশিট দিল, যাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছিল কলকাতা পুলিশ। তদন্ত চলুক। হয়ত পরে অন্য নাম জুড়বে। কিন্তু আজ মানুন, পুলিশ ঠিক পথেই ছিল। সঞ্জয়ের একার পক্ষে অবাধে, সেমিনার রুমে দীর্ঘ সময় ধরে অপরাধ ঘটানো সম্ভব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

সিবিআইয়ের আইনজীবী জানিয়েছেন, যদি সঞ্জয় একাও এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকে, তার নেপথ্যে কি অন্য কারো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা প্ররোচনা ছিল, এটাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

সূত্রের খবর, এই মামলায় পরে অতিরিক্ত বা সংযোজিত চার্জশিট পেশ করবে সিবিআই। তাতে সন্দীপ ও অভিজিৎ ছাড়াও অন্যদের নাম থাকতে পারে। সিবিআইয়ের চার্জশিট নিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন অর্ণব তালুকদার বলেন, অভয়াকে যেভাবে খুন করা হয়েছে, ফরেনসিক মেডিসিনের জ্ঞান থাকা যে কেউ বুঝতে পারবে যে, ওরকম আঘাত কোনো একজনের পক্ষে করা সম্ভব নয়। সিবিআই শেষমেশ যা রিপোর্ট দিলো, তাতে আমরা একদমই খুশি নই, অত্যন্ত হতাশ। আমরা ফার্স্ট ট্র্যাক তদন্তের দাবি আরো জোরদার করছি।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দেশটির সিউল ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্তের দায়িত্বে থাকা দ্য করাপশন ইনভেস্টিগেশন অফিস ফর দ্য হাই-র‌্যাঙ্কিং অফিশিয়ালস (সিআইও) নিশ্চিত করেছে, সামরিক আইন জারিকে কেন্দ্র করে তদন্তকারীদের অনুরোধে প্রেসিডেন্ট ইউনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে সিউল ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট।   স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলো।   প্রসঙ্গত, ৩ ডিসেম্বর দেশে সামরিক আইন জারি করেছিলেন ইউন। কিন্তু জনগণ এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানালে সামরিক আইন জারির ছয় ঘণ্টার মাথায় তা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। এর জেরে ১৪ ডিসেম্বর পার্লামেন্টে তিনি অভিশংসিত হন। তাকে বরখাস্ত করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
ভারতীয় ভিসা বন্ধে ভ্রমণ খাতে বিরূপ প্রভাব 
বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা বন্ধের জেরে যশোরের বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে দুই দেশের মধ্যে একেবারে কমেছে পাসপোর্টধারী যাত্রীর চলাচল। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে উভয় দেশের ভ্রমণ খাতে। বাংলাদেশের ক্ষতির পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পে অচলাবস্থা নেমে এসেছে।   সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে ভারতে গেছেন ১৪৭১ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী। এর মধ্যে বাংলাদেশি ছিলেন ১ হাজার ১৯৪ জন, ভারতীয় ২৭৪, জাপানের ২ ও একজন নেপালের পাসপোর্টধারী ছিলেন। এছাড়া খুলনা-কলকাতা রুটে ‘বন্ধন’ রেলে যাত্রীসেবা এখনও বন্ধ থাকায় নিরাপদ যাতায়াতে বেড়েছে ভোগান্তি। তবে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভিসা সীমিত ও দু’দেশের মধ্যে রেলপথে যাত্রী সেবা বন্ধ করে দেয় ভারত।   সূত্রমতে, যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ যান চিকিৎসা ও দর্শনীয় স্থান ভ্রমণে। অন্যদিকে, যেসব ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে আসেন, তাদের একটি বড় অংশ আসেন কম খরচে মেডিকেল শিক্ষার জন্য। বর্তমানে দেশের ১০৮টি মেডিকেল কলেজে ১০ হাজারের বেশি বিদেশি অধ্যয়নরত, যাদের বেশিরভাগ ভারতীয়। এছাড়া ট্যুরিস্ট ও ওয়ার্ক ভিসায় দেশে প্রায় ১০ লাখের মতো ভারতীয় চাকরি করছেন।  বাংলাদেশ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলেও নানান অজুহাত দেখিয়ে এখনও স্বাভাবিক ভিসা প্রদান ও রেল পথে বেনাপোল-পেট্রাপোল হয়ে যাত্রী সেবা বন্ধ রেখেছে ভারত সরকার। এতে একদিকে ভিসা না পেয়ে যাত্রী যাতায়াত যেমন কমে এসেছে, তেমনি স্বাভাবিক সময়ে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর ব্যবহার করে দুদেশের মধ্যে ৮ থেকে ১০ হাজার পাসপোর্টধারী যাতায়াত করলেও এখন তা কমে দেড় হাজারের ঘরে নেমেছে।  সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রে দুই দেশেই ক্ষতির শিকার হচ্ছে। কেবল বেনাপোল রুটে ভ্রমণ খাতে ভিসা ফি বাবদ বাংলাদেশিদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় করে থাকে ভারতীয় দূতাবাস। তবে এখনও ‘বন্ধন’ রেল পরিষেবা বন্ধ থাকায় এ পথে যাতায়াতকারী পাসপোর্টধারীদের ভোগান্তি বেড়েছে।  বিষয়টি নিশ্চিত করে বেনাপোল স্থলবন্দর প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ইনচার্জ আব্দুল হাফিজ জানিয়েছেন, ভিসা স্বাভাবিক না থাকায় যাত্রী একেবারে কমে এসেছে। আরটিভি/কেএইচ
ভারতীয় ভিসা বন্ধে ভ্রমণ খাতে বিরূপ প্রভাব 
হাসপাতালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার (২৯ ডিসেম্বর) তার প্রস্টেট অপসারণের অস্ত্রপচার হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অস্ত্রপচার সফল হয়েছে এবং তিনি ভালো আছেন। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের হাদাসাহ মেডিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জ্ঞান ফিরেছে, তিনি ভালো আছেন। শনিবার নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক ঘোষণায় জানিয়েছে যে, তিনি মূত্রনালীর সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। গত মার্চে নেতানিয়াহুর হার্নিয়ার অস্ত্রপচার হয়েছিল। এর আগে, গত ২৩ ডিসেম্বর দুর্নীতি মামলায় নিজের বক্তব্য পেশ করতে আদালতে হাজির হয়েছিলেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন অবস্থায় ফৌজদারি অপরাধের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করছেন তিনি। এদিকে গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫ হাজার ৫১৪ জনে পৌঁছেছে বলে রোববার অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। চলমান এই হামলায় আরও অন্তত এক লাখ ৮ হাজার ১৮৯ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে ৩০ জন নিহত এবং আরও ৯৯ জন আহত হয়েছেন।   আরটিভি/এস
হাসপাতালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে ৩০ জন নিহত এবং আরও ৯৯ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন। গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত এক লাখ ৮ হাজার ১৮৯ জন। এ ছাড়া দখলদারদের হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। উল্লেখ্য, ইসরায়েল ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। আরটিভি/আরএ
ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। স্থানীয় সময় রোববার (২৯ ডিসেম্বর) জিমি কার্টার সেন্টার এক বিবৃতি এই তথ্য জানিয়েছে। খবর এনবিসি নিউজের। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন কার্টার। কার্টার এক মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জর্জিয়ায় নিজ শহর প্লেইনসে জীবনের শেষ সময়ের সেবাযত্নে ছিলেন। এনবিসি নিউজের তথ্যমতে, জিমি কার্টারই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি তার ১০০তম জন্মদিনে পৌঁছেছিলেন।  যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিদিন বাঁচা প্রেসিডেন্ট কার্টার। ২০০২ সালে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন তিনি। কার্টারের যাত্রা শুরু হয়েছিল জর্জিয়ার প্লেইন্সের ছোট্ট শহরে। তিনি সেখানে ১ অক্টোবর, ১৯২৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে একজন অফিসার হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের পারমাণবিক সাবমেরিন বহরের উন্নয়নে সহায়তা করেছিলেন। নৌবাহিনীতে একজন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পরকার্টার পারিবারিক চিনাবাদাম চাষের ব্যবসা চালানোর জন্য ১৯৫৩ সালে তার নিজ শহরে ফিরে আসেন। তিনি ১৯৬০-এর দশকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত রাজ্যের ৭৬তম গভর্নর হওয়ার আগে জর্জিয়ার বিধায়ক হিসাবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্টার, একজন ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান ক্ষমতাসীন জেরাল্ড ফোর্ডের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যিনি ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে রিচার্ড নিক্সন পদত্যাগ করার পরে রাষ্ট্রপতির পদে অভিষিক্ত হন। কার্টার ফোর্ডকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট হন। আরটিভি/একে
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন
আরও পড়ুন
সিদ্ধান্ত মেনে আন্দোলন প্রত্যাহার করলেন ট্রেইনি চিকিৎসকরা
মাছ ধরতে নদীতে নেমে প্রাণ গেলো শিশুর
নতুন কর্মসূচি দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন ট্রেইনি চিকিৎসকরা 
সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে চিকিৎসকদের আন্দোলন অব্যাহত