ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সাড়ে ১৮ হাজার জুটি মেলানো অনন্য রেকর্ডের মালিক পাখি ভাই

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:২১ পিএম
পাখি ভাই

খুলনা নিউজপ্রিন্টে চাকরি করার সময় ১৯৬৭ সাল থেকেই ঘটকালি শুরু করেন পাখি ভাই। তবে এই ঘটকালিই যে একদিন পেশা হয়ে যাবে তা কখনই ভাবেননি। ৭৩ সালে নিজের আলসার ধরা পড়লে চাকরিতে অযোগ্য হয়ে পড়েন। তখন থেকেই ঘটকালিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন দেশের প্রথম বাণিজ্যিক ঘটক পাখি ভাই।

বাবা-মার দেয়া কাজী আশরাফ হোসেন নামে গত চল্লিশ বছরে কেউ তাকে ডাকেনি। সবাই তাকে ঘটক পাখি ভাই নামেই ডাকে। খুলনা নিউজপ্রিন্টে চাকরির সময় পাত্র পাত্রীর খোঁজে ছোটাছুটি করতে দেখে কেউ একজন একদিন বলে ফেলল ‘ওই পাখি ভাই’। আর অন্যরাও মনে করলেন যে এই ব্যক্তিটির নামই বুঝি পাখি ভাই। আর সেই থেকেই এই নামে পরিচিতি পেতে যান তিনি। তবে নামটি আশরাফ হোসেনেরও পছন্দ হয়। তাই তিনিও এর বিরোধিতা করেননি।

পাখি ভাই আরটিভি অনলাইনে বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছরের এই পেশায় এখন পর্যন্ত আমার মাধ্যমে বিয়ে হয়েছে সাড়ে ১৮ হাজারের উপর। চলতি মাসেও কয়েকটি বিয়ে হবে। আর শীতকাল চলে আসছে তখন তো বিয়ের ধুম পড়ে যাবে। একই পরিবারে ২৬টি বিয়ে এবং মা ও মেয়ের বিয়ে দেয়ার একাধিক রেকর্ডও রয়েছে আমার। এখনও অনেক পাত্রী আছে যার মায়ের বিয়ে আমিই দিয়েছি এখন মেয়ের ঘটকালি করছি। সুন্দর ডেকোরেশনে সুসজ্জিত অফিসে ৮ জন দক্ষ নারী সহকর্মীকে নিয়ে পাখি ভাইয়ের অফিস। তবে শুরুর দিকে এতো মসৃণ ছিল না পাখি ভাইয়ের জীবন। সারাদিন ঘুরে বেড়িয়ে রাতে পানি খেয়ে হোটেলে ঘুমিয়েছেন, এমন রাত তার প্রায় কাটাতে হতো। হোটেলের ভাড়া দেয়ার মতো টাকা থাকতো না প্রায়ই। মূল্যবান কিছু বন্ধকের বিনিময়ে হোটেলে থাকতে হয়েছে।

তবে জীবনের গতি পাল্টাতে থাকে ৮০ সালের পর। তখন ব্যাগ ভর্তি হয়ে উঠে পাত্র পাত্রীর ছবি ও বায়োডাটা দিয়ে। সারাদিনই ব্যস্ত সময় কাটতো পাত্র পাত্রীর বাসায় বাসায় ঘুরে। ১৯৮৩ সালের কথা। একদিন একজন ব্যাংকের ম্যানেজার বললেন যে, এভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কত দৌড়াবেন, তার চেয়ে কোনো একটি নম্বর দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন। তার কথা মতো যে হোটেলে থাকতেন সেই হোটেলের নম্বর নিয়ে ইত্তেফাকে বিজ্ঞাপন দিলেন। এরপর কয়েকদিন হোটেলে এতো ফোন আসলো যে, ১৫ দিনের মাথায় হোটেল ম্যানেজার হোটেল ছাড়তে বাধ্য করলেন।

পাখি ভাইয়ের বিপদ আরও বেড়ে গেল। বাসা ভাড়া নিলেন। কিন্তু টেলিফোন পাবেন কিভাবে? পরিচিতদের নম্বর দিয়ে কয়েকদিন বিজ্ঞাপন দিয়েছেন, কিন্তু তারাও বিরক্তবোধ করায় নিজেই টেলিফোন নিয়ে বাসা ভাড়া নিলেন। কিন্তু বেশি মানুষের আসা যাওয়া হওয়ায় সেই বাসাও ছাড়তে বাধ্য হন। ১৯৮৫ সালে ঢাকায় ইস্টার্ন প্লাজায় ৬০ হাজার টাকা অগ্রিম ও ৩ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে রুম নেন। পাখি ভাই জানান, সেই থেকে এখন পর্যন্ত ইস্টার্ন প্লাজায় বিভিন্ন ফ্লোরে ভাড়া নিয়েই আছি, তবে এখন আমার অফিস ভাড়াই দিতে হয় দেড় লাখ টাকা।

৪৫ বছরের ঘটকালি জীবনে সাড়ে ১৮ হাজারের বেশি ছেলেমেয়ের বিয়ের ঘটকালি করেছেন। কখনো নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে ঘটকালি করেছেন। তবে পেশা হিসেবে নেওয়ার পর থেকে তিনি তার প্রতিষ্ঠানে পাত্র পাত্রীর খোঁজের জন্য নির্দিষ্ট একটি ফি নেন। তবে সবার বেলায় এক রকম ফি নেওয়া হয় না। পাত্র পাত্রী খোঁজা বাবদ যে খরচ হয়, তা এ ফির মধ্যেই ধরা হয়। বিয়ে হয়ে গেলে দুই পক্ষ খুশি হয়ে যা দেন তাই নেন। তিনি বলেন, 'খরচটা উঠে আসে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর। আমার আর কোনো চাওয়া থাকে না। আমার মাধ্যমে একটি বিয়ে হয়ে গেলে আনন্দটাই বড় পাওয়া। এরপর দুই পক্ষ খুশি হয়ে যা সম্মানি দেয়, তাই নিয়ে থাকি। এটা নির্ভর করে পাত্র-পাত্রীর অবস্থার ওপর। কেউ ২০ হাজার দেয়, কেউ ৫০ হাজার। যারা কোটি টাকা খরচ করতে পারে, তারা আরও বেশিও দেয়। ঘটকালি পেশার সূত্রে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন পাখি ভাই। বিধবা পাত্রীর জন্য পাত্র খুঁজতে খুঁজতে এক সময় প্রেমে জড়িয়ে নিজেই বিয়ে করেন তাকে। তবে পরিবারের সম্মতিতে ১৭ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে করেন তিনি। প্রথম স্ত্রী বরিশালে ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে এখন ঢাকায় থাকেন।

পাখি ভাই জানান, জীবনে অসংখ্য ছেলেমেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। সে তালিকায় যেমন আছে মন্ত্রীপুত্র-কন্যা, সচিব, এমপির ছেলেমেয়ে, ব্যাংক কর্মকর্তা, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টট্যান্ট, পুলিশ কর্মকর্তা, সামরিক অফিসার, স্বল্প বেতনের চাকুরে, তেমনি এই তালিকায় রয়েছে রুপালি জগতের অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে শুরু করে খবর পাঠক-পাঠিকারাও। বিদেশ-ফেরত ছেলেমেয়ে তো আছেই।

তাকে নিয়ে ইতোমধ্যেই আল জাজিরা টেলিভিশন, বিবিসি, গার্ডিয়ানসহ দেশ বিদেশের অনেক মিডিয়ায় সংবাদ হয়েছে। এসব খবরে কখনও তাকে বাংলাদেশের লাভগুরু, সফল জুটির সাধক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এতো বেশি বিয়ের জুটি মিলিয়ে দেবার রেকর্ড বিশ্বে আর কারও আছে কিনা সে বিষয়ে কোনও মিডিয়া নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি।

---------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: pixel 4 ভারতের বাজারে ছাড়া হবে না
---------------------------------------------------------------

পাখি ভাই বলেন, দীর্ঘ এই ঘটকালি জীবনে কখনও কারও কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে এক টাকাও নেইনি। যা বলেছি সে কথা ঠিক রেখেছি। যার জন্য মানুষ আমার কাছে এসে আস্থা রাখে। কোন কাজ সততা ও পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে করলে সফলতা আসবেই। আমি জীবনে অনেক কষ্ট করেছি, কিন্তু কখনও প্রতারণা করেনি। সততার সাথে এখনও ঘটকালি করছি, যার জন্য সফলতা পেয়েছি।

তিনি বলেন, এখন ফেসবুকের মাধ্যমে অনেকেই পছন্দ করে বিয়ে করছে। যার জন্য ঘটকালির মাধ্যমে বিয়ে কিছুটা কমেছে। কিন্তু ফেসবুক বা নিজেদের পছন্দের বিয়ে বিপদে পড়ছে অসংখ্য ছেলেমেয়ে। পরিবারের সম্মতি ও ঘটকের মাধ্যস্থতায় বিয়ে হলে সেখানে ছেলেমেয়েদের বিপদে পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। যেকোনও বিয়ের বিষয়ে আমার পরামর্শ হচ্ছে ছেলেমেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রে ভালোভাবে খোঁজ খবর নিয়ে তারপর বিয়ের আয়োজন করেন। আজকাল প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে ছেলেমেয়ে উভয়েই প্রতারিত হচ্ছে। এখন আবার বেশি টাকা কাবিন দিয়ে বিয়ে করে পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিভোর্স দিয়ে সেই টাকা উঠিয়ে নেয়ার প্রবণতা খুবই বাড়ছে। এই কাবিন ব্যবসা বন্ধ করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রূপচর্চা ও রোগ নিরাময়ে নিমের তেল
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, চুল ও ত্বকের জন্য নিম তেলের বিকল্প হয় না। শুধু তাই নয়, সংক্রমণ কমানোর পাশাপাশি ত্বকের নানা রোগের প্রকোপ কমাতেও এটি দারুণ কাজে দেয়। তাই নিয়মিত ত্বক এবং চুলের পরিচর্যায় যদি নিম তেলকে কাজে লাগানো হয়, তাহলে সাধারণত যে উপকারগুলো পাওয়া যায়, তা দেখে নিন- ত্বক ফর্সা হয়ে ওঠে ত্বকের পরিচর্যায় নিমের তেল ব্যবহার করলে কোলাজনের উৎপাদন বেড়ে যেতে শুরু করে, এর ফলে স্কিন টোনের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। ত্বকের আর্দ্রতা ফিরে আসে শুষ্ক ত্বক যাদের, তারা নিয়মিত এই তেল লাগালে সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। প্রতিদিন নারকেল তেল অথবা অলিভ অয়েলের সঙ্গে নিমের তেল মিশিয়ে ভালো করে সারা শরীরে ম্যাসেজ করলে উপকার পাওয়া যাবে। ব্রণের প্রকোপ কমে নিমের তেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রপার্টিজ থাকায় এটি ব্রণের স্থানে লাগালে ব্রণের প্রকোপ কমতে থাকে। ভালো ফল পেতে কয়েক ফোঁটা নিমের তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল মিশিয়ে ব্রণের উপর লাগান। কখনোই নিমের তেল সরাসরি মুখে লাগাবেন না। ত্বকের বয়স কমে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বয়স বাড়লেও ত্বকের বয়স না বাড়ুক এমনটা যদি চান, তাহলে নিয়মিত নিম তেল দিয়ে ত্বকের ম্যাসেজ করতে ভুলবেন না যেন! এমনটা করলে বলিরেখা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে স্কিন টানটান হয়। ফলে ত্বকের বয়স কমতে সময় লাগে না। খুশকির সমস্যা দূর হয় সাধারণত ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলেই এই ধরণের ত্বকের সমস্যা হয়ে থাকে, যা নিমের তেল ব্যবহারে একদম কমে যায়। স্কাল্পের যে কোনও ধরণের সংক্রমণ কমাতেও নিম তেলের বিকল্প নেই। যে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন না কেন, তাতে কয়েক ড্রপ নিমের তেল মিশিয়ে রোজ মাথায় লাগান।  স্কিনের যত্নে কাজে আসে নিমে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপার্টিজ থাকার কারণে ত্বকের উন্মুক্ত ছিদ্র বন্ধ করতে এটি দারুণ কাজে আসে। স্কিনের যত্ন নিতে নারকেল তেলের সঙ্গে নিম তেল মিশিয়ে মুখে লাগান। নিম গাছের ভয়ে এইডস কাঁপে' – হ্যাঁ কথাটি ঠিকই পড়ছেন, নিম পাতা এইডস এর ভাইরাসকে মেরে ফেলতে অনেক সাহায্য করে। যদি বাড়িতে একটি নিমগাছ থাকে একজন ডাক্তারের চেয়ে ও বেশি কাজ করে।  shijang-O2 bubble foam * এটা আমাদের স্কিনের কেরাটিন প্রোটিনকে উজ্জীবিত করে। কেরাটিন হলো স্কিনের এমন এক প্রোটিন যা আমাদের ত্বকের কোষগুলোকে একটি আরেকটির সাথে আটকে রাখে। কেরাটিন প্রোটিন যদি কোন কারণে সতেজ না থাকে তাহলে স্কিন ধীরে ধীরে ঝুলে পড়ে এবং রিংকেল হয়।  ** একল্যান্টের O2 বাবল ফোম স্কিনের এই কেরাটিন প্রোটিনকে সতেজ করে তোলে, যার ফলে স্কিন হয় টাইট এবং স্মুথ। উপাদান  ডালিম, লিলি, বেদানা, রোজমেরি, জিঙ্ক। কাজ ওটু ক্লিনজার স্কিনকে ঝকঝকে করে দেয় কিন্তু স্কিনের ন্যাটারায় অয়েল অটুট থাকে। এটি স্কিনকে একেবারে ভেতর থেকে পরিস্কার করে। এটি স্কিন কে করে উজ্জ্বল, সতেজ, টানটান ও বয়সের ছাপও দূর করে। এস/ এমকে
রূপচর্চা ও রোগ নিরাময়ে নিমের তেল
দূরে থাকুক চোখের কালো দাগ
'চোখ যে মনের কথা বলে' বাংলা চলচ্চিত্রের কালজয়ী গানের অংশ। সুন্দর চোখ কে না চায়। কিন্তু চোখের নিচে কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল সৌন্দর্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। বেশ কিছু কারণে চোখের নিচে কালো দাগ পড়তে পারে যেমন, খাবারে অনিহা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, রাত জেগে থাকা বা ঘুম কম হওয়া, অতিরিক্ত কাজের চাপ নেয়া, বার্ধক্যজনিত কারণ, অনেক সময় সূর্যের অতি বেগুণী রশ্মির জন্য চোখের নিচে কালো দাগ হয়ে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যত্নের অভাবে ডার্ক সার্কেল'র তৈরি করে। এবার সহজ কিছু টিপস জেনে নেয়া যাক    গোলাপজল ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে তুলার মধ্যে দু ফোটা গোলাপজল নিয়ে চোখের চার পাশে লাগান। এভাবে ১৫ মিনিট ম্যাসেজ করেন। এতে চোখে কমলতা ফেরাবে এবং ক্লান্তি ভাব দূর করবে। খোসাসহ আলু বেঁটে চোখের নিচে লাগাতে পারেন। ৪ থেকে ৫দিন এই পেস্টটি ব্যবহার করতে হবে। দু’ফোটা মুধু চোখের চারপাশে ধীরে ধীরে মাখুন। কিছুক্ষণ পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটা চোখের ওপরের চামরার রোদে পোড়া ভাব দূর করতে সাহায্য করে। বরফ টুকরো নিয়ে চোখের চারপাশে ধীরে ধীরে ম্যাসেজ করুন। চোখের কালো ভাব দূর করতে বরফ ভালো উপকার দেয়। ঘুমাতে যাবার আগে চোখ বন্ধ করে চারপাশে বাদামের তেল দিয়ে ম্যাসেজ করলে ডার্ক সার্কেল কমানো য়ায। রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। রোদে চলাফেরার সময় রোদ চশমা ব্যবহার করুন। মানসিক স্ট্রেস এড়িয়ে চলুন। মনকে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করুন সবসময়।  shijang- O2 bubble foam * এটা আমাদের স্কিনের কেরাটিন প্রোটিনকে উজ্জীবিত করে। কেরাটিন হলো স্কিনের এমন এক প্রোটিন যা আমাদের ত্বকের কোষগুলোকে একটি আরেকটির সাথে আটকে রাখে। কেরাটিন প্রোটিন যদি কোন কারণে সতেজ না থাকে তাহলে স্কিন ধীরে ধীরে ঝুলে পড়ে এবং রিংকেল হয়।  ** একল্যান্টের O2 বাবল ফোম স্কিনের এই কেরাটিন প্রোটিনকে সতেজ করে তোলে, যার ফলে স্কিন হয় টাইট এবং স্মুথ। উপাদান  ডালিম, লিলি, বেদানা, রোজমেরি, জিঙ্ক। কাজ ওটু ক্লিনজার স্কিনকে ঝকঝকে করে দেয় কিন্তু স্কিনের ন্যাটারায় অয়েল অটুট থাকে। এটি স্কিনকে একেবারে ভেতর থেকে পরিস্কার করে। এটি স্কিন কে করে উজ্জ্বল, সতেজ, টানটান ও বয়সের ছাপও দূর করে। এস
দূরে থাকুক চোখের কালো দাগ
শীত মানেই নকশি পিঠা
শীত এলেই পিঠা তৈরির ধুম পড়ে। নানা স্বাদের, নানা পদের পিঠা উৎসব হয় এই সময়ে। শীতকালের বিভিন্ন পিঠার মধ্যে নকশি পিঠা খুব স্বাদের। এলাকাভেদে একে ফুল পিঠা, দোভাজা পিঠা আবার সুন্দরী পাকন পিঠাও বলে। শহরের যান্ত্রিক জীবনে বসে নকশি পিঠা খাওয়ার সুযোগ কই? তাই বলে কি পিঠা খাবেন না?  চিন্তার কিছু নেই। তাহলে জেনে নিন কীভাবে এই পিঠা বানাতে হয়। নকশি পিঠা বানাতে যা যা লাগবে  আতপ চালের গুড়া ২ কাপ, ময়দা আধা কাপ (ময়দা নিলে মথতে সুবিধা হয়), পানি ২.৫ থেকে ৩ কাপ, লবণ আধা চা চামচ, নারিকেল গুড়া আধা কাপ, তেল ভাজার জন্য। সিরার জন্য   চিনি বা গুড় এবং পানি, খেজুর কাটা অথবা টুথপিক, ধার এর খাজ কাটার জন্য পাতলা টিনের টুকরা, নতুন চিরুনি ভেঙ্গে ২/৩ দাঁত রাখতে হবে নকশা করার জন্য। যেভাবে তৈরি করবেন প্রথমেই একটি পাতিলে পানি, লবণ দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এবার চালের গুড়া দিয়ে দিন। তারপর সেদ্ধ করে ডো বানিয়ে নিন। এখন বেলন পিড়ি দিয়ে মোটা রুটি করে নিন। রুটির উপর কয়েক ফোটা তেল মেখে নিন। এবার খেজুর কাটা দিয়ে ইচ্ছেমত ডিজাইন একে নিন। কাটা দিয়ে কেটে কেটে ডিজাইন তুলে নিন। টিনের টুকরা দিয়ে চার ধারের খাজ কেটে নিন। এবার ডুবো তেলে সময় নিয়ে ভালো করে ভাজতে হবে। একবার ভেজে অনেকদিন রেখে দেয়া যায়। এটা পরিবেশন-এর আগে আরেকবার ভেজে চিনি বা গুড়ের সিরা দিতে হয়। অনেক এলাকায় খুব জনপ্রিয় এই পিঠা। নতুন জামাই, ঈদের সময় বা মেহমানদারি করতে এই পিঠার খুব কদর।  রেসিপি: পারভীন আক্তার এস/ এমকে 
শীত মানেই নকশি পিঠা
মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বড় কোনো রোগের কারণ
মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া অনেকেই এই অসুখের সঙ্গে পরিচিত। এই সমস্যায় কমবেশি অনেকেই পড়েন। খুব সামান্য খোঁচা লাগলে অথবা অকারণেই মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে অনেকেরই। কিন্তু কেন হয় এই রোগ, জানেন না অনেকেই। কেবল একটা আবছা ধারণা আছে, দাঁতের জোর বা মাড়ির জোর আলাদা হয়ে গেলে বা সেখানকার পেশী আঘাতপ্রাপ্ত হলে বুঝি এমনটা হয়! কিন্তু জানেন কি, এই সাধারণ রোগটিও ডেকে আনতে পারে হৃদরোগ, ডায়বেটিস বা ফুসফুসের মতো বড় কোনো অসুখ। এমনটাই বলছেন আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ডেন্টাল অ্যান্ড ক্রানিওফেসিয়াল রিসার্চের গবেষকরা। এই অসুখের কারণ হিসেবে বেশ কয়েকটি বিষয়কে মাথায় রাখতে বলছেন তারা। জেনে নিন কেন রক্তপাত হয় মাড়ি থেকে প্লাক নামক এক ধরনের জীবাণুর প্রভাবে এই সমস্যা হতে পারে। মাড়ির টিস্যুর স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা নষ্ট করে ধূপমান। কাজেই ধূমপায়ীদের এই সমস্যা হয়। গর্ভবতী মায়েরা হরমোনের ওঠানামার কারণে এই রোগের শিকার হন। ভিটামিন ‘সি’ ও পানির অভাব মাড়ির সমস্যা তৈরি করে। অনেকে বংশগতভাবে এই রোগের শিকার হন। গ্রিন টি মাড়ির জীবাণু তাড়াতে সক্ষম। চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতিতেই রুখে দেয়া যায় এই রোগের হানা। তেমনই কিছু সমাধান দেয়া হলো— প্রতিদিন গরম পানি লবণ মিশিয়ে তিনবার কুলকুচি করলে সাময়িক উপশম পাওয়া যায়। ভিটামিন ‘সি’ ও ভিটামিন ‘কে’ সমৃদ্ধ খাবার রাখুন প্রতিদিনের ডায়েটে। সামান্য গরম পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে থকথকে করে রাখুন। এটি মুখের ভেতরের অ্যাসিডকে নিষ্ক্রিয় করবে। গ্রিন টি মাড়ির জীবাণু তাড়ায় সহজেই। কাজেই গ্রিন টি ভেজানো জল দিয়ে কুলকুচি করলে ফল মিলবে। তবে এগুলো সবই প্রাথমিক পথ্য। ঠিক কোন কারণে সমস্যা হচ্ছে, কত দূর গড়াতে পারে রোগ; সেগুলো জানা যাবে চিকিৎসকের কাছে গেলেই। কাজেই প্রাথমিক চিকিৎসায় কাজ না হলে, রোগ পুষে না রেখে ডাক্তারের কাছে যাওয়াই উত্তম। এস/পি
মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বড় কোনো রোগের কারণ
শতাধিক দেশ ঘুরেছেন খুলনার মেয়ে আসমা
বাংলাদেশের খুলনার মেয়ে কাজী আসমা আজমেরী ২০০৯ সালে ঢাকা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশনের পর বিশ্ব দেখতে বেরিয়ে পড়েন। তিনি ইতোমধ্যে শতাধিক দেশ ঘুরেছেন। শুরুতে ভারতীয় উপমহাদেশের পর্যটকদের মতো দেশ ভ্রমণ করতে অনেক অর্থ ব্যয় হয় তার। কিন্তু পরে তিনি হস্টেলে থেকে কম খরচে ঘোরার বিষয়টি জানতে পারেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা উন্নত দেশগুলোতে ঘুরতে অনেক অর্থ ব্যয় করি কিন্তু এসব দেশের পর্যটকরা বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় কম খরচে ব্যাকপ্যাকিং করে চলে যায়। বিভিন্ন দেশের খাবারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি যেখানে যাই, সেখানকার খাবার খাওয়ার চেষ্টা করি। মঙ্গোলিয়ায় ঘোড়ার মাংস খেয়েছি। এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ার স্টেক এবং নিউজিল্যান্ডের ল্যাম্ব খুব ভালো লেগেছে। অবশ্য আমি কম খরচে ঘুরে বেড়ানোয় বেশি রেস্তোরাঁর খাবার খেতে পারি না। সংগৃহীত কম খরচে ঘোরার টিপস জানার জন্য লোনলি প্ল্যানেট বইয়ের অন্ধ ভক্ত আসমা। কারণ বইটি পড়ায় বছরে পাঁচশো ডলার অর্থ বেঁচে যায় তার। তিনি বইটি থেকে নতুন জায়গায় যাওয়ার আগে সেখানকার ভাষায় ‘ধন্যবাদ’ আর ‘কত দাম’ বলতে শিখে নেয়ার বিষয়টি জেনেছেন। আসমার বর্তমান ঠিকানা নিউজিল্যান্ড। তিনি ঘোরার অর্থ যোগাড় করতে দেড় বছর চাকরি করেন। সপ্তাহের শেষে বারটেন্ডার হিসেবে কাজ করেন। কিছু অর্থ জমিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন ছয় মাসের জন্য। ২০১৮ সালে মধ্য এশিয়ার আজারবাইজান, বৈকাল হ্রদ, রাশিয়া ঘুরতে ঘুরতে ট্রেনে তিনি পাড়ি দেন তেইশ হাজার কিলোমিটার। তিনি রাশিয়ায় খুঁজে পান এমন কিছু মানুষ যাদের কাছে গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ জানতে চাইলে, তারা সেখানে পৌঁছে দিয়ে আসেন। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে বছরে একবার কিছু দিনের জন্য বাড়ি যান আসমা। দেশে ফিরেই তিনি একটা ভালো গামছা কেনেন। তার সবসময়ের সঙ্গী গামছা, ছাতা, তিন জোড়া জুতো, মোবাইল ফোনের চার্জার, ক্যামেরা, পানির বোতল এবং এয়ার প্লাগ। সংগ্রহ: পল্লবী বন্দ্যোপাধ্যায়
শতাধিক দেশ ঘুরেছেন খুলনার মেয়ে আসমা
আরও পড়ুন
আমরা যে ডাল ভাত খাই এনবিআর জানে না: পাখি ভাই