৩০ বছর পর যেভাবে একসঙ্গে হলেন চার বান্ধবী

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২০ মে ২০২৪ , ০১:৩৪ পিএম


৩০ বছর পর যেভাবে একসঙ্গে হলেন চার বান্ধবী
ছবি: সংগৃহীত

‘কেন বাড়লে বয়স ছোট্টবেলার বন্ধু হারিয়ে যায়, কেন হারাচ্ছে সব, বাড়াচ্ছে ভিড় হারানোর তালিকায়।’ গানের এই লাইনটি যেন বড় হলে ছোটবেলার বন্ধুদের হারানোর এক কঠিন বাস্তবতার সঙ্গেই পরিচয় করিয়ে দেয়। এক সময়ের হাসি ঠাট্টা আনন্দের সাথিরা, বড় হতে গিয়ে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায়। তাই হয়তো বন্ধু হারানো বেশির ভাগের মুখেই কেন বড় হলাম, ছোটবেলাই ভালো ছিল এই আক্ষেপের কথাটি শুনতে পাওয়া যায়। 

তবে ডিজিটালের এ সময়ে এসে এক সময়ের হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই সহজ হয়েছে। যারা তাদের বন্ধুদের হারিয়ে ফেলেছিলেন তারা অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে তাদেরকে খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন লিপিকা ইকবাল লিপি। যিনি ৩০ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া তিন বান্ধবীকে খুঁজে পেয়েছেন।    

তারা চারজনই ছিলেন রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী। শেষবারের মতো আড্ডায় বসেছিলেন ১৯৯১ সালে এক বন্ধুর বিয়েতে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়ে, একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

সেই চার বন্ধুর একজন লিপিকা ইকবাল লিপি। সম্প্রতি বন্ধুদের খোঁজে এক ফেসবুক গ্রুপে নিজেদের একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। কলেজজীবনের স্মৃতিচারণ করে লিপি বলেন, আমাদের অনেক বন্ধুবান্ধব ছিল ঠিকই, কিন্তু আমাদের চারজনের বন্ধুত্বটা ছিল অন্যরকম। বোটানিক্যাল গার্ডেনে পিকনিকে গিয়ে ছবি তোলা থেকে শুরু করে, একসঙ্গে আড্ডা দেওয়া, খাওয়াদাওয়া, ঘুরে বেড়ানো। ক্লাসেও আমরা চারজন একসঙ্গে বসতাম।

তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর উত্তরার দিকে চলে আসি। তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন ভালো না থাকায়, ঢাকায় কম আসা হতো। বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়াও হতো না। মাস্টার্স পরীক্ষার সময়ই শেষ চোখের দেখা। পড়াশোনা, সংসার, যৌথ পরিবারের দায়িত্ব, সন্তানদের দেখভাল নিয়ে একসময় ব্যস্ত হয়ে যান লিপি। বান্ধবীদের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখা হয়ে ওঠেনি। এরই মধ্যে ২০০৯ সালে পরিবারসহ পাড়ি জমালেন আমেরিকা।

লিপি বলেন, ৩০ বছর ধরেই আমার তিন বান্ধবীকে খুঁজছি। একসময়ের হাসি আড্ডার সঙ্গী সেই প্রাণের বান্ধবীদের খোঁজ জানতে ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবিসমগ্র’ নামে পাবলিক ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিয়েছিলাম।

ওই ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, গত ৩০ বছর ধরেই খুঁজে চলেছি আমার এই তিন বান্ধবীকে। ছবির সবচেয়ে বামে বসে আছি আমি (লিপি)। আমার পাশে টুটু, তার পরে সীমা, আর সবার শেষে সানী। আমরা ১৯৯০ সালে তেজগাঁও কলেজে বিএ পাস কোর্সে ভর্তি হই। ওরা সবাই মগবাজারে থাকতো। আমি থাকতাম শেওড়াপাড়া। যতদুর জানি-বিয়ের পর সানী এলিফ্যান্ট রোডে ওর শ্বশুর বাড়িতে থাকত। আর কোনো সূত্র আমার হাতে নেই। দেশ থেকে বহুদূরে নিউইয়র্কে থাকি। ইচ্ছে হলেও সন্ধান নেওয়ার উপায় নেই ভেবে ভেবে যখন বিষন্ন ভগ্নহৃদয় হয়ে গিয়েছিলাম, আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম, তখনই এই পেজের কথা মনে হলো। আমার বন্ধবীদের কেউ, তাদের পরিচিতদের কেউ আছেন এখানে? আমাকে দিতে পারেন এদের কারো একজনের সন্ধান?’

পোস্ট দেওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই টেক্সট পান লিপি। টুটু তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ৩০ মিনিটের মধ্যে বান্ধবীর সঙ্গে কথাও হয় তার। লিপি বলেন, যাকে আমি ৩০ বছর ধরে খুঁজছি। তার সঙ্গে ১০ মিনিটের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। এরপর একে একে বাকি দুজন সানী এবং সীমাকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে খুঁজে পাওয়া গেল। 

অবশেষে ৩০ বছর পর ভিডিওকলে দেখা হলো চার বান্ধবীর। একসঙ্গে সবার দেখা হলেও এখনও কেউ কাউকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগটা হয়ে ওঠেনি। জানুয়ারিতে লিপি দেশে ফিরবেন। তখন দেখা হবে তাদের চার বান্ধবীর।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission