ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার পুনর্গঠনে সেনাবাহিনীর সহায়তা দাবি বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৪, ১১:২৭ পিএম
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৪, ১২:০১ এএম
ছবি: সংগৃহীত

নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করে অন্তর্বর্তী সরকার পুনর্গঠনে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা দাবি করেছে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।

আগামী পাঁচ বছরকে জাতীয় সন্ধিক্ষণ ঘোষণা করে ড. ইউনূস ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ্জামানের নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠনেরও প্রস্তাব তুলে ধরা হয় আলোচনা সভায়। প্রস্তাবনায় প্রধান বিচারপতি, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, নাগরিক ও রাজনীতিকদেরও সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়।

বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ফজলুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আমিনুর রহমান মজুমদার। এতে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. আবদুল্লাহ আল ইউসুফ (অব.) ও লে. কর্নেল এস এম আইয়ুব (অব.)।

অনুষ্ঠানে সিপাহী-জনতার ঐক্যে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ছয় দফা প্রস্তাবনায় রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা কাঠামোতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

প্রথম দফায় সেনাবাহিনীকে বর্তমান সংবিধান বাতিল করে ডক্টর ইউনূসের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতি শাসিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে সর্বাত্মক সহায়তা ও নিরাপত্তা প্রদান করতে বলা হয়।

দ্বিতীয় দফায় একটি শক্তিশালী জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করতে বলা হয় যার চেয়ারম্যান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাষ্ট্রপতি ড. মুহম্মদ ইউনূস ও ভাইস চেয়ারম্যান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান হবেন। প্রস্তাবনা অনুসারে, এই পরিষদে প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রী পরিষদ সচিব, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান, পুলিশ প্রধান, গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিক ও নাগরিকরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের আলোকে পুরাতন সংবিধান বাতিল এবং ফ্যাসিবাদী দল ও সংগঠনকে নিষিদ্ধ করবে।

তৃতীয় দফায় নতুন সংবিধান প্রণয়নে দ্রুত গণপরিষদ গঠন ও নির্বাচন পরিচালনা এবং পরবর্তীতে দ্রুত সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা প্রদান তত্ববধান করার প্রস্তাব রাখা হয়।

চতুর্থ দফায় দেশের আর্থিক খাতের নিরাপত্তা তথা ব্যাংক, স্টকএক্সচেঞ্জ, আমদানি ও রফতানির লেনদেন সামরিক বাহিনীর মনিটরিং ও তত্ত্বাবধানে হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

পঞ্চম দফায় দেশের সকল উপজেলা পর্যন্ত স্থায়ীভাবে সেনা মোতায়েন করে সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গি হামলাসহ জননিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুতে তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়। এক্ষেত্রে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সহায়তা নিতে সেনাবাহিনীকে পরামর্শ দেওয়া হয়।

ষষ্ঠ দফায় সেনাবাহিনী, জনপ্রশাসনসহ রাষ্ট্রের সর্বত্র ফ্যাসিবাদের দোসর, দুর্নীতিবাজ ও দেশবিরোধীদের চিহ্নিত করে তাদের শূন্যপদে সাবেক দেশপ্রেমিক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রদান করতে প্রস্তাব রাখা হয়।

প্রধান অতিথি ড: আমিনুর রহমান মজুমদার বলেন, মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী সময়ে যখন মানুষ খেতে পায়নি তখন শেখ পরিবারের লোকেরা সোনার মুকুট মাথায় দিয়েছেন। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবিপ্লব এবং এর ধারাবাহিকতায় আসে ৭ নভেম্বর।

আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, একজন উপদেষ্টা বলেছেন আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যবাহী দল। রক্তের দাগ শুকায়নি অথচ উনি এসব কথা বলছেন। আরো কয়েকজন এসব কথা বলেছেন। এতে শহীদদের আত্মা শান্তি পাবেনা। অসুস্থ, পঙ্গুদের খবর কেউ নেয়না, তারা বসে বসে এ সমস্ত কথা বলে।

ঐক্য বজায় রেখে প্রেশার গ্রুপ হিসেবে সক্রিয় থাকতে ছাত্রদের পরামর্শও দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ সাবেক আহ্বায়ক। না হলে অশুভ শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডক্টর আব্দুল্লাহ আল ইউসুফ (অব:) বলেন, বাংলাদেশের পরনির্ভরশীল মানসিকতা দূর করতে হবে। ভারতীয় আধিপত্যবাদ দূরীকরণে সেনাসহ যাবতীয় বাহিনীর সংস্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, বড় একটি দলে স্বৈরাচারকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা ছাড়তে হবে। নির্বাচনের আগে দেশকে সংস্কার করে নিতে ওই দলকে অপেক্ষা করতে হবে। তারা নিজেদের সংস্কারে কেন মনোযোগী হচ্ছে না? তারা কি আগের স্বৈরাচার স্টাইলে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়?

লে. কর্নেল এস এম আইয়ুব (অব.) বলেন, সামরিক বাহিনীকে আজিজ কিংবা শফিউর প্রতিনিধিত্ব করেনা। সেনাদের মাঝে স্বাধীনতা ও দেশপ্রেম রয়েছে। কঠোর নজরদারির মাঝে আমাদের হাত-পা বাঁধা ছিল। তবে সুযোগ পেয়ে আমরা সেই দেশপ্রেম প্রকাশ করেছি জুলাই বিপ্লবে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার মুসতাসীম তানজীর, নাগরিক পরিষদ আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, রাশেদুর রহমান, জাতীয় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক ডা. জহিরুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক ডা. নাবিল আহমদ, সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহবায়ক সানোয়ারা খাতুন প্রমুখ।

আরটিভি/এসএইচএম/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নতুন বছর উপলক্ষে দেশবাসীকে জামায়াতের শুভেচ্ছা
খ্রিস্টীয় নতুন বছর-২০২৫ উপলক্ষে দেশ-বিদেশের সবাইকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দলের প্রচার বিভাগের মুজিবুল আলমের পাঠানো ও কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিবৃতিতে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমি দেশবাসীকে নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।  তিনি আরও বলেন, বিদায়ী ২০২৪ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং স্মরণীয় বছর। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ ফ্যাসিস্ট সরকারের হাত থেকে মুক্তি লাভ করে। আমি গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আগামী বছর গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে। একটি জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও মানুষের প্রত্যাশানুযায়ী সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের সুফল দেশবাসী অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। আরটিভি/একে/এআর
নতুন বছর উপলক্ষে দেশবাসীকে জামায়াতের শুভেচ্ছা
বিএনপি নেতা আবু নাছেরের মৃত্যু
বিএনপির বিশেষ সম্পাদক আবু নাসের মোহাম্মদ ইয়াহিয়া মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক শোকবার্তায় বলেন, আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াহিয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের নিকট সুপরিচিত ছিলেন। নিজ এলাকায় বিএনপিকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে তিনি নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে গেছেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদার, সজ্জন ও বিনয়ী স্বভাবের মানুষ।  তিনি বলেন, ইয়াহিয়ার মতো আদর্শনিষ্ঠ ও নীতিবান রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছি। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকার্ত পরিবারবর্গ, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা। আরটিভি/এফএ/এআর
বিএনপি নেতা আবু নাছেরের মৃত্যু
ছাত্রশিবিরের নতুন সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম
২০২৫ সেশনের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সদস্য সম্মেলনে ভোটের ভিত্তিতে তাকে সভাপতি নির্বাচন করা হয়। শিবিরের সংবিধান অনুযায়ী নবনির্বাচিত সভাপতি পরবর্তী সময়ে সেক্রেটারি জেনারেল মনোনয়ন দেন। সেই অনুযায়ী ২০২৫ সেশনের জন্য কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাদ্দামকে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি হিসেবে মনোনয়ন করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় সদস্য সম্মেলন শুরু হয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ওসমানের পিতা এই সম্মেলন উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দুটি সেশনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উন্মুক্ত সেশন ও দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কার্যকর সেশন অনুষ্ঠিত হয়। জাহিদুল ইসলাম ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ছাড়াও কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক, কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ’তে পড়ছেন জাহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক, কেন্দ্রীয় প্লানিং অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট সম্পাদক, কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। নুরুল ইসলাম সাদ্দাম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এইচআরএম বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। আরটিভি/এফএ/এআর
ছাত্রশিবিরের নতুন সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম
এক হলো গণঅধিকার পরিষদের বিভক্ত দুই গ্রুপ 
২০২১ সালের অক্টোবরে গণঅধিকার পরিষদ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন নুরুল হক ও তার সমমনা ব্যক্তিরা। দলটির আহ্বায়ক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন রেজা কিবরিয়া। তবে ২০২৩ সালে তিনজন নেতাকে অব্যাহতির ঘটনায় দলের নেতৃত্ব নিয়ে রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুরের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে পাল্টাপাল্টি অব্যাহতির ঘটনায় বিভক্ত হয়ে যায় গণঅধিকার পরিষদ। এবার সেই বিভেদ ভুলে এক হলো দুই গ্রুপ। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন দুই গ্রুপের নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, গণঅধিকার পরিষদের অপর পক্ষের সদস্য সচিব ফারুক হাসানসহ উভয় পক্ষের কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় নুরুল হক নুর বলেন, ৫ আগস্টের ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর সবাই এক হয়েছিলাম। যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, গত ৫ মাসে সে ঐক্যে কিছুটা ফাটল ধরেছে। আমরা ডিসি নিয়োগ নিয়ে জটিলতা দেখলাম। সচিবালয়ে আগুনের ঘটনা ঘটলো। এসব দিক বিবেচনায় জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, গণঅধিকার পরিষদের ভাইয়েরা আলাদাভাবে কাজ করছিল। আজ থেকে আমরা এক হয়ে কাজ করবো। কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে এ নেতৃত্ব। এ আন্দোলনে তাদের অনেক ত্যাগ রয়েছে। জাতির প্রয়োজনে আবারও আমরা এক হয়ে গেলাম আজ থেকে। সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, এখন অনেক অফিস থেকে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। গণঅধিকার পরিষদ সব সাংবাদিকদের পাশে থাকবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিগত সরকারের আমল প্রেসক্রিপশন দেওয়া হতো কী বলতে, কী লিখতে হবে এসব নিয়ে। নতুন বাংলাদেশের আয়না হিসেবে কাজ করতে হবে সাংবাদিকদের। জাতির জন্য নতুন সংবালাদেশের পাশে থাকবে সবাই। ফারুক হাসান বলেন, নানা দল এসেছে দেশে। তারা অন্যদের ওপরে চেপে বসেছে। তরুণদের ভূমিকার কারণে স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়েছে। সবার সমান সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে নিকৃষ্ট ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটিয়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। কোনো বিভাজনের মধ্যে পড়ে তরুণরা যেন কারও শিকার না হন। ২০১৮ সালে প্রতিটি স্কুল-কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে যায় আমাদের আন্দোলন। মাঝে বেশ কিছু মতানৈক্য হয়ে দুটি গ্রুপ আলাদাভাবে পথ চলছিলাম। আমরা আলাদাভাবে কাজ করলেও সবার মাথায় একটা মত ছিল, তা হলো গণঅধিকার পরিষদ। সাধারণ জনগণের মাঝেও এ ফিল ছিল। তাদের মূল্যায়ন করতে আমরা এক হয়েছি। উল্লেখ্য, মূলত ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠেছিল রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদ।  আরটিভি/এমএ/এআর
এক হলো গণঅধিকার পরিষদের বিভক্ত দুই গ্রুপ 
ইংরেজি বর্ষবরণে শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে দেশ-বিদেশের সবাইকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) তার ফেসবুক পোস্টে এ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি। তারেক রহমান লেখেন, ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে দেশ-বিদেশের সবাইকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। কামনা করি- সবার জীবনে ইংরেজি নববর্ষ অনাবিল আনন্দ, সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনুক। শুভ নববর্ষ। তিনি বলেন, অতীতকে পেছনে ফেলে সময়ের চিরায়ত আবর্তনে নববর্ষ নতুন বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত। পুরোনো বছরের ব্যর্থতা, গ্লানি, হতাশাকে ঝেরে ফেলে নবউদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায় নববর্ষ। নতুনকে বরণ করা মানুষের সহজাত প্রবণতা। নতুন বছরে আমরা দেশের সামগ্রিক রূপান্তরের একটি পর্বে উপনীত হতে পারবো বলে আশা রাখি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার বার্তায় আরও লেখেন, অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আসুন আমরা রাষ্ট্র ও সমাজে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একযোগে কাজ করি। আমরা এমন একটি জাতি নির্মাণের প্রত্যাশা করছি, যেখানে প্রত্যেকটি নাগরিকই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেকের কণ্ঠ স্বাধীন থাকবে। এ বছরটি এখন আমাদের মনে জাগরূক হয়ে থাকবে মন্তব্য করে বিএনপির এ শীর্ষ নেতা বলেন, এ বৎসরের বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা, ছাত্র-জনতার আত্মদান এবং অধিকার হারানোর যন্ত্রণা আগামী বৎসরে আমাদের একদিকে যেমন বেদনার্ত করবে আবার অন্যদিকে নতুন উদ্যমে শান্তি, সম্প্রীতি ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনায় আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করবে। আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হবে-জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সমূহ শক্তিশালী করা ও অর্থনীতির পুনরুদ্ধারসহ বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনে একযোগে কাজ করা বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশে অজস্র রক্তঋণে অর্জিত গণতন্ত্রের প্রয়োগ ও অনুশীলনে আমাদেরকে তৎপর হতে হবে দাবি করে তারেক রহমান বলেন, গণবিরোধী পরাজিত শক্তি এতদিন জনগণের সকল অধিকারকে বন্দি করে রেখেছিল। এমতাবস্থায় সকল গণতান্ত্রিক শক্তির মিলিত প্রচেষ্টায় বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করতে হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবশেষ বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে জাগায় প্রাণের নতুন স্পন্দন, নতুন আশা ও নতুন সম্ভাবনা। অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। চির দিনের জন্য দূর হয়ে যাক সব অন্যায়-উৎপীড়ন, নির্যাতন। খ্রিস্টাব্দ বিশ্ব পরিমণ্ডলে প্রাত্যহিক জীবনযাত্রায় অবিচ্ছেদ্য হয়ে মিশে আছে। তাই তো নতুন বছরকে বরণ করতে বিশ্বব্যাপী চলে বর্ণাঢ্য উৎসব। হৃত গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সংগ্রামী মানুষকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। আরটিভি/এএইচ  
ইংরেজি বর্ষবরণে শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান
আরও পড়ুন
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা প্রকাশ
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন
জি নিউজের সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট: প্রেস উইং ফ্যাক্টস
মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনই আসল সরকার: প্রধান উপদেষ্টা