ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ভোটের মাঠে সক্রিয় ৯ জোট, আসছে আরও

সিয়াম সারোয়ার জামিল, আরটিভি অনলাইন

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৬:২৫ পিএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরগরম জোটভিত্তিক রাজনীতি। আদর্শগত বিরোধ থাকলেও নির্বাচনী ইস্যুতে গাঁটছড়া বাঁধছে দলগুলো। ইতোমধ্যে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে ৯টি রাজনৈতিক জোট। জোটগুলো হলো বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল, জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন ৫৯ দলীয় জোট, ড. কামাল হোসেন ও বি চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, সিপিবির নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোট, ৪ দলীয় প্রগতিশীল জোট, ইসলামি গণতান্ত্রিক জোটে ৭ দল, এনপিপির নেতৃত্বে ১০ দল, নাজমুল হুদার নেতৃত্বে ৩১ দল। এছাড়া আরও কিছু ছোট দল জোট গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখেই এ ধরনের জোট গড়ার রাজনীতি শুরু হয়েছে। বড় দলগুলোর পাশাপাশি ছোট দলগুলোও ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করতে জোটের রাজনীতিতে শামিল হওয়ার কথা ভাবছে। তবে জোটের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। দলটি এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সরকারে ছিল। পরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট করে বিগত মেয়াদে কমবেশি লাভবান হয়েছে। বর্তমানে দলটি সরকার ও বিরোধী দলে রয়েছে। আবার এরশাদ আছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদে। নানাভাবে সুবিধা নেয়া ছাড়াও কয়েকজন মন্ত্রিত্বও পেয়েছেন।

জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট আসলে কী করবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে একাধিক রাজনৈতিক জোট নিয়ে দর কষাকষির শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে তৃতীয় শক্তি হিসেবে নতুন জোটগুলো যে জোটকে সমর্থন দেবে তারাই ক্ষমতায় যেতে পারে এই হিসেবেই মাঠে নেমেছে ছোটদলগুলো। যদিও ইতোমধ্যে ১৪ দল, ২০ দলীয় জোটে ও এরশাদের জোটও আসন বণ্টনসহ নির্বাচনকালীন ইস্যুতে ইতোমধ্যে দর কষাকষি শুরু করেছে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার আরটিভি অনলাইনকে বলেন, জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। যে কোনো জোটেই যেতে পারে জাতীয় পার্টি। তবে এখনও শেষ কথা বলার সময় আসেনি। তফসিল ঘোষণার পরে সিদ্ধান্ত হবে একক নির্বাচন করবো নাকি জোটে থাকব। সময় বলে দেবে আমরা কোন জোটে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেব।

তিনি বলেন, আমাদের জোটে আরও একাধিক রাজনীতিক দলের যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।

জোটের মাঠে এখন সবচেয়ে সক্রিয় গণফোরামের সভাপতি ড কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় আছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ তার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। এতে যুক্ত বিএনপিসহ আরও কয়েকটি ডানপন্থী দল যুক্ত হয়ে রাজনীতির মাঠে নিজেদের গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছেন। শেষ পর্যন্ত এই জোটের কী হবে তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। তবে ড. কামাল ও বি চৌধুরী দুজনেই এই ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

এসব বিষয়ে গণফোরামের সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী আরটিভি অনলাইনকে বলেন, দেশের দুই বৃহৎ রাজনৈতিক জোটের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একাধিক রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে পৃথক আরেকটি জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। এজন্য আমরা বিএনপিকে লিখিতভাবে জামায়াতকে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছি। তিনি বলেন, এটি হচ্ছে নির্বাচনকালীন আদর্শিক জোট।

এদিকে, সিপিবি-বাসদের সঙ্গে বাম মোর্চার ৬ দল যুক্ত হয়ে গত জুলাইয়ে গঠিত হয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এই জোটে সিপিবি- বাসদ ছাড়াও আছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাসদ (মার্কসবাদী) ও ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ। এ জোটের ভোট ব্যাংক সমৃদ্ধ না হলেও রাজনীতিতে পুরোনো এই খেলোয়াড়েরা গুরত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন। বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সম্বনয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আমরা আওয়ামী লীগ-বিএনপির মেরুকরণের বাইরে বাম বিকল্প গড়তে চাই। সেই লক্ষ্যেই এ জোট কাজ করে যাচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আপাতত চেয়ারপারসনের মুক্তি, একইসঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছি। এগুলোর সমাধান হলে পুরোদমে নির্বাচনী মাঠে নামব। তিনি আরও বলেন, জোট ভোটের রাজনীতিতে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন। সময় এবং পরিস্থিতির ওপর বিবেচনা করে শেষ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এছাড়া ভোটের মাঠে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট এলায়েন্স (বিএনএ) নামে বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বে থাকা একটি জোট আত্মপ্রকাশ করলেও তেমন সক্রিয় না। এই জোট এরশাদের জাতীয় পার্টির জোটের মধ্যে সক্রিয় আছে বলে জানা গেছে। এছাড়া শেখ শওকত হোসেন নীলুর গড়া ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিক জোটকে গড়া হলেও নিলুর মৃত্যুর পর তা এখন বেশ অনিশ্চিত।

আলহাজ মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট ও সংসদ সদস্য এমএ আউয়ালের বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ইসলামি গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া নিবন্ধিত চারটি দল নিয়ে মাঠে সক্রিয় প্রগতিশীল জোটও। জোটবদ্ধ দলগুলো হচ্ছে, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি) ও মুসলিম লীগ। এই জোট তেমন দৃশ্যমান না। তবে এসব দল ও জোটের সত্যিকার চেহারা কী হবে তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে।

জানতে চাইলে ১৪ দলের অন্যতম শরিক ন্যাপের কার্যকরী সভাপতি ও সাংসদ আমিনা আহমেদ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, যেহেতু জোটের রাজনীতির প্রভাব এখন বেশি সে কারণে শক্তিশালী জোটগুলোকে বড় দুই জোট প্রাধান্য দিতে পারে। সবাইকে সংগঠিত করতে হলে আগে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে রূপরেখা ঠিক করে মাঠে নামতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে ১৪ দলীয় জোটের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ হবে এ নিয়ে সন্দেহের কথাও জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রওনক জাহান বলছেন, বড় ইস্যুতে খুব ডান বা খুব বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো এক হতে পারে। তবে জোট গঠনের যে প্র্যাক্টিস বাংলাদেশে, ইদানীং তা খুবই অসুস্থতায় পৌঁছে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক জোট হলেও এর ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি। তবুও নির্বাচনকালীন জোটের প্রবণতা চলছে। চলমান রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় জোটের রাজনীতি অব্যাহত থাকার কথাও বললেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এই সাবেক শিক্ষক দাবি করেন, এই ছোট দলগুলোর বড় কোন ভোট ব্যাংক নেই এটা সত্য। কিন্তু দলগুলোর যে মূল নেতারা আছেন, তাদের সম্পর্কে মানুষের একটা ভালো ধারণা আছে। এখন তারা যদি বড় কোন দলের সঙ্গে জোট করতে পারেন, তাহলে নিসন্দেহে তারা বাড়তি কিছু ভোট টানতে পারবেন।

আরও পড়ুন :

এসজে/এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল মানে না। যুক্তি ছাড়াই পুনঃনির্বাচনের দাবি তোলে। এটাই তাদের ইতিহাস। বললেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডাক বাংলো বাসভবনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর শুভেচ্ছা গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এবার জাতীয় পতাকা হাতে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। যেভাবে ভোটের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। এসময় ইনু আরও বলেন, বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দেশবাসী যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আমাদেরকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব পালনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। বৈষম্য-দুর্নীতি রোধ করতে সুশাসনের জন্য আরও শক্ত হাতে কাজ করব। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরএস/পি
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে আগেই সিল মারা হয়েছিল। তাই আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এসময় প্রত্যাখ্যান শব্দটি কয়েকবার উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ২১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে। নতুন নির্বাচনের জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোতেও একই অবস্থা। অবিলম্বে এসব বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এসময় লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলে জানান ফখরুল। গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে স্থগিত রয়েছে একটি আসনের ফল। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি একটিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পেয়েছে ২৮৮টি আসনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।  পরে রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট প্রত্যাখান করে। এমসি/পি
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
আরও পড়ুন
বিকেলে ঘোষণা করা হবে বৃহত্তর ঐক্য’র রূপরেখা
একসঙ্গে আন্দোলনে নামবে বিএনপি-যুক্তফ্রন্ট-ঐক্য প্রক্রিয়া
বিএনপি কি জামায়াতকে ছাড়তে পারবে?
ঐক্যে আসতে হলে জামায়াতকে ছাড়তে হবে বিএনপির: মাহি বি চৌধুরী