ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফিরে দেখা ২০২৪

দেশে ক্রীড়াঙ্গনের যত আলোচিত ঘটনা

মো. সাঈদুর রহমান

প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:১৫ এএম
ছবি- সংগৃহীত

আর মাত্র ৭ দিন পরই বিদায় নেবে ২০২৪ সাল। এই বছরে সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দেশের ক্রীড়াঙ্গন। আসুন একনজরে দেখে নিই আলোচিত ঘটনাগুলো।

নির্বাচনের প্রচারণায় সাকিব আল হাসান

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন দেশসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। মাগুরা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৮৮ ভোটে জয় লাভ করেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এরপর ১০ জানুয়ারি এমপি হিসেবে শপথ নেন তিনি।

যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী হলেন নাজমুল হাসান পাপন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। এরপরই প্রথমবার ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পর ২০২৩ পর্যন্ত একজন প্রতিমন্ত্রীই ছিলেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক।

বিপিএল ২০২৪- চোখের সমস্যায় শিরোনামে সাকিব

২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি মাঠে গড়িয়েছিল বিপিএলের দশম আসর। রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন এই তারকা ক্রিকেটার। কারণ, হঠাৎ করে অনুশীলনে প্রথমবারের মতো চশমা চোখে দেখা গিয়েছিল তাকে। চোখের রেটিনায় পানি জমার কারণে ব্যাটিংয়ের সময় বল দেখতে সমস্যা হচ্ছিল তার।

যার ফলে প্রথমবার শুধু বোলিং হিসেবে খেলতে দেখা যায় সাকিবকে। প্রথম চার ম্যাচে ব্যাট হাতে কিছুই করতে পারেননি তিনি। ১০ নম্বরেও ব্যাট করেছেন তিনি। সম্পূর্ণ ফিট না থেকে ম্যাচ খেলায় ব্যাপক সমালোচনা শিকার হয়েছিলেন তিনি। স্টেডিয়ামে শুনতে হয়েছে দুয়ে। বিপিএলের মাঝেই চোখের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান এই অলরাউন্ডার।

সাকিবের ফিরে আসা

টানা চার ম্যাচ ব্যর্থতার পর বিপিএলে দুর্দান্তভাবে কাম ব্যাক করেছিলেন সাকিব। বিধ্বংসী সব ইনিংস খেলে টুর্নামেন্ট সেরা দৌঁড়ে ছিলেন। কিন্তু রংপুর ফাইনালে উঠতে না পারায় রেস থেকে ছিটকে যান তিনি। ১৩ ম্যাচে ২ ফিফটিতে ২৫৫ রান করেছিলেন তিনি। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭টি উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি।

তামিমের নেতৃত্বে প্রথম শিরোপা জয় বরিশালের

২০২৪ বিপিএলে তামিমের নেতৃত্বে মিনি জাতীয় দল তৈরি করেছিল ফরচুন বরিশাল। ভালো শুরু করলেও মাঝে ছন্দ হারালে সেমিফাইনাল খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। তবে দুর্দান্ত কাম ব্যাকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বরিশাল। আর ১৫ ম্যাচে ৪৯২ রান করে টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছিলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের তদন্ত রিপোর্ট বিতর্ক

ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে মাত্র ২টি ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ দল। দলের এমন বাজে পারফরম্যান্সের কারণ খুঁজে তিন সদস্য বিশিষ্ট্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল নাজমুল হাসান পাপনের ক্রিকেট বোর্ড। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান বিসিবির পরিচালক ছিলেন এনায়েত হোসেন সিরাজ। এ ছাড়া কমিটিতে ছিলেন বিসিবির আরও দুই পরিচালক মাহবুবুল আনাম ও আকরাম খান।

২০২৪ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনের আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলেন তদন্ত রিপোর্ট বিতর্ক। বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এই তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছিল। সেগুলো হলো দলের ব্যর্থতা, তামিম ইকবালের বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়ার কারণ এবং নাসুমের চড়-কাণ্ডের রহস্য উদঘাটন।

কিন্তু এই রিপোর্ট নিয়ে একেক সময় একেক কথা বলেছেন পরিচালকরা। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার তিন মাস শেষ হলেও তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে লুকোচুরি চলছিল বিসিবিতে। এর মাধ্যমেই দেশের একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে আকরাম বলেন, তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হলে ফেঁসে যেতে পারে কয়েকজন বোর্ড পরিচালক।

এরপরই বিসিবির সূত্রের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করা হয় বিশ্বকাপ ব্যর্থতার সঙ্গে জড়িত আছেন বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন এবং জালাল ইউনুস। যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছিল বিসিবি।

এ সময় তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে সুজন এক সাক্ষাৎকারে বিসিবির উপর ক্ষোভ প্রকাশ বলেন, আমি দেখলাম যে দুই পরিচালকের কথা বলা হচ্ছে। আমার কথা হলো, মিডিয়াতে ছোট ছোট করে তথ্য ছড়িয়ে লাভ কি। আমাদের বলে দিক, যে তোমাদের কারণে বিশ্বকাপ খারাপ হয়েছে। কিন্তু বিসিবিকে প্রমাণ করতে হবে, কিভাবে আমরা হস্তক্ষেপ করেছি। মিডিয়াকে ফুসফাস করে না বলে সংবাদ সম্মেলন ডেকে বলে দেন আমার এবং জালাল ইউনুসের জন্য বিশ্বকাপে খারাপ পারফরম্যান্স হয়েছে। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করছি, তাদের বলতে হবে কেনো তারা মিডিয়াকে এই কথা বলেছে। আর তদন্ত রিপোর্টে কে কি বলেছে দেখাতে হবে।

অথচ বিসিবি সভাপতি গত ৯ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছিলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেছিলেন, আমাকে তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান একটা রিপোর্টই দিয়েছে। এখানে কোনো পরিচালক দূরে থাক, এমন কোনো লাইনই নেই, শব্দও নেই। এরকম রিপোর্ট তো প্রতিদিনই আসে। আমাকে যে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে এখানে কিচ্ছু নেই।

এ ছাড়াও বিশ্বকাপের সময় নাসুমকে চাড় মারার বিষয়টিও অস্বীকার করে তদন্ত কমিটি। দলের সকলের সঙ্গে কথা বলে সত্যতা পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছিল বিসিবি।

যে কারণে বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়েন তামিম ইকবাল

বিশ্বকাপ দলের সদস্য না হলেও তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে হয় তামিম ইকবালকে। তাকে কেন বিশ্বকাপ দলে নেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। জানা গেছে, মূল্যায়ন কমিটির সঙ্গে তামিম নিজের মতো করে পুরো ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

বিসিবি সভাপতি ও তামিমের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির পেছনে প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের দায় খুঁজে পেয়েছিল কমিটিরা। বিসিবির একজন পরিচালক গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল, তামিম ইকবাল ও মাশরাফীর পরামর্শে হাথুরুসিংহেকে দ্বিতীয় দফায় জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। হাথুরু-তামিম জুটি শুরুতে ‘ক্লিক’ করেছিল।

কিন্তু অধিনায়ক কোচের কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা না পাওয়ায় দূরত্ব বাড়তে থাকে। আফগানিস্তান সিরিজের মাঝে পরিস্থিতি বেশি খারাপ হওয়ায় তামিম হুট করে অবসরের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে অবসর ভাঙলেও নেতৃত্ব ছেড়ে দেন তামিম। কিন্তু তামিমের অবসর নেওয়াটা ভালোভাবে নেননি কোচ হাথুরুসিংহে। তাই বিশ্বকাপের দলের এই ওপেনারকে রাখতে চাননি তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজ হার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ বুঝতে দেশটির সঙ্গে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। কিন্তু প্রথম দেখাতে বাংলাদেশকে হতাশায় ডোবায় যুক্তরাষ্ট্র। যার ফলে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হতে হয় টাইগার ক্রিকেটার।

নতুন ক্রিকেট খেলতে আসা দলটির বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ রানে হেরে সিরিজ হাত ছাড়া করে বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচে ১০ উইকেটের জয় দিয়ে সম্মানরক্ষা করে টাইগাররা।

প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা আটে বাংলাদেশ

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ৪ ম্যাচের তিনটিতে জয় তুলে নিয়ে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা আটে উঠেছিল টাইগাররা। তবে সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকলেও কাজে লাগাতে পারেনি।

জুলাই-আগস্টে আন্দোলনে খেলোয়াড়দের ভূমিকা

কোটা আন্দোলন থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন পর্যন্ত ছাত্রদের পাশে ছিলেন ক্রীড়াঙ্গনের তারকারা। সরাসরি মাঠে না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সরব ছিলেন মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, শান্ত, লিটন, মিরাজ, জামাল ভূঁইয়াদের মতো তারকারা। যা নিয়ে ব্যাপক প্রশংসাও কুড়িয়েছে তারা।

তবে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল সাকিব আল হাসান ও মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হওয়ায় ছাত্রদের উপর আঘাত আসলেও মুখ খোলেননি এই দুই ক্রিকেটার। যা ফলে ব্যাপক সামালোচনার শিকার হন তারা। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে সাকিব-মাশরাফীর ছবিতে আগুন দিতেও দেখা যায়।

সরকার পতনের পর ক্রীড়াঙ্গনের যত পরিবর্তন

ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। তার মধ্য অন্যতম হলো ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে। অন্তর্বর্তীসরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। এর আগে এই চেয়ার বসেছিলেন সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

পাপনকে সরিয়ে নতুন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ

গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন আসিফ মাহমুদ। এর ১২ দিন পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) বড় পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ একযুগ পর নতুন অভিভাবক পায় বিসিবি।

গত বুধবার (২১ আগস্ট) ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের জরুরি সভা শুরু হয়। আর সেখানেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন নাজমুল হাসান পাপন। পরে সেখান থেকেই ফারুক আহমেদকে নতুন সভাপতি করার সিদ্ধান্ত আসে। আর জালাল ইউনুসের বদলে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান নাজমুল আবেদীন ফাহিম।

সেদিন বোর্ড সভায় অংশগ্রহণ করতে মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত ছিলেন ফারুক আহমেদ ও নাজমুল আবেদীন ফাহিম। এ ছাড়া ইনাম ও মাহবুব আনামকেও দেখা গেছে। পাশাপাশি আম্পায়ার্স কমিটির সদস্য ইফতেখার আহমেদ মিঠুও যোগ দেন বৈঠকে।

অন্যদিকে, পরিচালকদের মধ্যে সভায় উপস্থিত ছিলেন আকরাম খান, সাইফুল আলম স্বপন, ফাহিম সিনহা, খালেদ মাহমুদ সুজন ও সালাউদ্দিন চৌধুরী। বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভায় পরিচালক বোর্ডের সদস্যদের অন্তত ৯ জন উপস্থিত থাকলেই চলবে।

বাফুফেতে সালাউদ্দিন অধ্যায়ের সমাপ্তি, তাবিথ আউয়ালের সূচনা

২০০৮ সালে ২৮ এপিল বাফুফে সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন দেশসেরা ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিন। সকলের প্রত্যাশা ছিল তার হাত ধরে বদলে যাবে দেশের ফুটবলের চিত্র। উন্নয়নের সিড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠবে দেশের ফুটবল। কিন্তু তেমনটা হয়নি। তার নির্বাচিত হওয়ার বছরে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬৮তম স্থানে। এরপর অবনমন হতে হতে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়ায় ১৯৭-এ। যদিও সবশেষ র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৪।

এ ছাড়াও ১৬ বছরের শাসন আমলে বিভিন্ন কারণে সমালোচনার শিকার হয়েছেন সালাউদ্দিন। কিন্তু আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট আত্মীয় হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় টানা চার মেয়াদে বাফুফের সভাপতির চেয়ারে বসেছিলেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার। কিন্তু গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ায় বদলে গেছে সব হিসাব নিকাশ।

এবারে বাফুফের নির্বাচনে লড়াই করার কথা জানালেও তোপের মুখে পড়তে হয় সালাউদ্দিনকে। তাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এরপরই সভাপতি পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন সাবেক সহসভাপতি তাবিথ আউয়াল। নির্বাচনে সভাপতি পদে ১২৩টি ভোট পেয়েছেন তিনি, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এ এফ এম মিজানুর রহমান চৌধুরী পেয়েছেন ৫ ভোট। এতে দীর্ঘ ১৬ বছর পর নতুন সভাপতি পায় বাফুফে।

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বাংলাদেশের

গত আগস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে রাওয়ালপিন্ডিতে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশের পরিসংখ্যানের খাতাটা ছিল পুরোই ফাঁকা। ১৩ টেস্টে মুখোমুখি হয়ে মাত্র একটি ড্র করেছিল বাংলাদেশ। আর বাকি ১২টিতেই হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছিল টাইগারদের। তবে প্রথম টেস্টেই পাকিস্তানকে ১০ উইকেটে হারিয়ে তাদের বিপক্ষে জয়ের খরা কাটিয়েছিল বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে টাইগারদের সামনে সুযোগ আসে পাকিস্তানের মতো বড় দলের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের।

আর সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি সাকিব-মিরাজরা। দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সিরিজ জিতেছিল টাইগাররা। শুধু পাকিস্তানই নয় বড় দলগুলোর বিপক্ষে এটির প্রথম সিরিজ জয় বাংলাদেশের। সব মিলিয়ে নবম সিরিজ জয় এটি। বাকি আটটি সিরিজ জিম্বাবুয়ে-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো ছোট দলগুলোর বিপক্ষে।

সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা ও বিদায়ী টেস্ট

পাকিস্তান সিরিজ শেষ করে ভারত সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখানে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে মাঠে নামার আগে লাল বলের ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন দেশসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। তবে মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ টেস্টটা খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই অনুসারেই সবকিছু এগোচ্ছিল।

গত ২১ অক্টোবর মিরপুরে বিদায়ী টেস্ট খেলার কথা ছিল সাকিবের। এই টেস্টে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র দুবাইতে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাংলাদেশের বিমানে ওঠার কয়েক ঘণ্টা আগে বদলে যায় সব হিসাব নিকাশ। সাকিবের দেশে ফেরা এবং লাল-সবুজের জার্সিতে খেলার বিরোধীতা করে আন্দোলন করেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি অংশ।

মূলত, আন্দোলেনের চুপ থাকা এবং আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হওয়ায় এমন তোপের মুখে পড়তে হয়েছে এই কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে। যার ফলে বিদায়ী টেস্ট না খেলে পরিবারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান তিনি।

সাবিনাদের সাফজয় এবং ছাদখোলা বাসের উদযাপন

২০২২ সালে ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে প্রথমবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এরপর ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনাও পেয়েছিলেন ফুটবলাররা। এবারে সেই দশরথ স্টেডিয়াম। প্রতিপক্ষও নেপাল। পুরোনো মঞ্চে চেনা প্রতিপক্ষকে হারিয়ে পুনরাবৃত্তির দারুণ এক গল্প লিখেছেন বাঘিনীরা। গত ৩০ অক্টোবর স্বাগতিকদের ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় সাফ জয়ের উল্লাসে মাতেন সাবিনা-তাহুরারা।

পরদিন ৩১ অক্টোবর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান সাফজয়ী ফুটবলাররা। সেখানে ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনার ব্যবস্থা করা হয়। বিমানবন্দর থেকে এক্সপ্রেসওয়ে, এফডিসি, সাত রাস্তার মোড়, মগবাজার ফ্লাইওভার, কাকরাইল, পল্টন, নটরডেম কলেজ, শাপলা চত্বর হয়ে বাফুফে ভবনে পৌঁছায় সাফজয়ী ফুটবলারদের বহনকারী ছাদখোলা বাস।

তিন শহীদের নামে স্টেডিয়ামের নামকরণ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ প্রকৌশলী বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন আবরার ফাহাদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতবিরোধী পোস্ট করায় ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এই ঘটনার প্রায় ৫ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। তবে ফাহাদকে ভুলে যাননি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা। তাই ফাহাদের নামে তার জেলার স্টেডিয়ামের নামকরণ করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। কুষ্টিয়া শেখ কামাল স্টেডিয়াম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম। গত ১৪ নভেম্বর এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।

এদিন আরও দুটি স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। দ্বিতীয়তে রয়েছে টাঙ্গাইল জেলার স্টেডিয়াম। এটির বর্তমান নাম শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম টাঙ্গাইল। এই তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গন মাঠ, ঢাকা। যার নাম রাখা হয়েছে শহীদ ফারহান ফাইয়াজ খেলার মাঠ।

বিপিএল ২০২৫ এর মাসকাট ‘ডানা ৩৬’

দেশের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১১তম আসর মাঠে গড়াতে যাচ্ছে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। তার আগে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে আসরের মাসকাট উন্মোচন করেছে বিসিবি। যেখানে স্মরণ করা হয় জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের শহীদদের এবং বিপ্লবে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের।

বিপিএলের এবারের মাসকাটের নাম দেওয়া হয়েছে ডানা ৩৬। মূলত, ডানাকে স্বাধীনতার প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। যার গড়ন, ব্যবহৃত রং ও অঙ্গভঙ্গি উপস্থাপন করে স্বাধীনতা, শান্তি, মুক্তি, তারুণ্য, প্রাণবন্ততা, উৎসব এবং সীমাহীন সম্ভাবনাকে। এখানে ‘ডানা’ শব্দটি পাখা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক।

মাসকাটটিতে ডানা বা পাখা প্রসারিত করা একটি ‘সাদা পায়রা’ যা শান্তির প্রতীক এবং প্রতিপাশে ১৮টি করে মোট ৩৬টি রঙিন পালক উপস্থাপন করে ৩৬ শে জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অবিস্মরণীয় স্মৃতিকে। যা প্রতিটি স্বপ্নবাজ, উদ্যমী, অপ্রতিরোধ্য তরুণকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অনুপ্রেরণা যোগায়।

এনসিএল টি-টোয়েন্টির যাত্রা শুরু

এতদিন দেশের ক্রিকেটের একমাত্র টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হিসেবে পরিচিত ছিল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল)। কিন্তু, এবার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারদের পাইপলাইন শক্ত করার জন্য আরও একটি টুর্নামেন্ট চালু করল বিসিবি। নতুন এ টুর্নামেন্টের নাম দেওয়া হয়েছে এনসিএল টি-টোয়েন্টি।

গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে এই টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেছেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। দেশের সাতটি বিভাগ এবং ঢাকা মেট্রোসহ নিয়ে আটটি দলকে মাঠে গড়িয়েছে এই টুর্নামেন্ট।

প্রথমবার হকি বিশ্বকাপে যুবারা

ওমানকে হারিয়ে যুব এশিয়া কাপে শুভসূচনা করেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ দল। মাঝের দুই ম্যাচ উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেলেও থাইল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবার যুব বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা; যা বাংলাদেশ হকির ইতিহাসে সর্বোচ্চ অর্জন।

আগামী বছর ভারতে অনুষ্ঠিতব্য যুব বিশ্বকাপে এশিয়া থেকে সাত দল অংশগ্রহণ করবে। স্বাগতিক ভারত সরাসরি খেলবে। বাকি ছয় দেশে চলমান জুনিয়র এশিয়া কাপ থেকে খেলার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম স্থানে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিপিএল ২০২৫ / নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ব্যাক টু ব্যাক জয় রংপুরের
ঢাকা ক্যাপিটালসকে হারিয়ে বিপিএলের ১১তম আসরে শুভসূচনা করেছে গ্লোবাল সুপার লিগের চ্যাম্পিয়ন দল রংপুর রাইডার্স। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও। সিলেটকে ৩৪ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে ব্যাক টু ব্যাক জয় পেয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের দলটি। চার উইকেট তুলে নিয়ে এই জয়ের অন্যতম নায়ক নাহিদ রানা। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) আগে ব্যাট করে সিলেটকে ১৫৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল রংপুর। জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান তুলতে পারে সিলেট। এতে ৩৪ রানের জয় পায় রংপুর রাইডার্স। চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি সিলেট। ৩ বলে ২ রান করে দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন জর্জি মানজি। তিনে ব্যাট করতে নেমে ইনিংস বড় করতে পারেননি জাকির হাসানও। ১২ বলে ১৮ রান করে বোল্ড আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি পল স্ট্রালিংও। ৫ বলে ৬ রান করে এই আইরিশ ব্যাটার আউট হলে ৪৩ রানে ৩ উইকেট হারায় সিলেট। তবে জাকের আলীকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন ওপেনার রনি তালুকদার। দুজনের ব্যাটে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে সিলেট।  কিন্তু ১৫তম ওভারে রনি তালুকদারকে বোল্ড করেন খুশদিল শাহ। এর আগে ৩৬ বলে ৪১ রান করেন রনি। পরের বলে আরিফুল হককে ডাক আউট করে রংপুরকে খেলায় ফেরান খুশদিল শাহ। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করতে থাকেন জাকের আলী। তবে ১৬তম ওভারে দ্বিতীয় বলে ২৪ রান করে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে ফিরিয়ে উল্লাস শুরু করে পেসার নাহিদ রান। এরপর তানজিম হাসান সাকিব (৩), নাহিদুজ্জামান (১) এবং শিনওয়ারি ৮ রান করে আউট হন। শেষ পর্যন্ত রিস টপলি ৫ রানে এবং আল আমিন ৩ রানে অপরাজিত থাকলেও নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান তুলতে পারে সিলেট। এতে ৩৪ রানের জয় পায় সোহান-মাহেদীরা। রংপুর রাইডার্সের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট শিকার করেন নাহিদরা। এ ছাড়াও খুশদিল শাহ ও সাইফউদ্দিন দুটি করে উইকেট নেন। আর এক উইকেট নেন কামরুল হাসান। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি রংপুর। ৭ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন ইংলিশ ওপেনার অ্যালেক্স হেলস। ৭ বলে ৪ রান করে তাকে সঙ্গে দেন সাইফ হাসান। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি আরেক ওপেনার স্টিভেন টেইলর। ১৫ বলে ১২ রান করেন তিনি। তবে ইফতেখার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন খুশদিল শাহ। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ১৬ বলে ২১ রান করে বাউন্ডারি লাইনে কাটা পড়েন এই পাক অলরাউন্ডার। ষষ্ঠ উইকেপ ইফতেখারকে সঙ্গ দেন নুরুল হাসান সোহান। দুজনের ব্যাটে ভর করে ১৬তম ওভারে ১০০ রানের কোটা পার করে রংপুর। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি লাইনে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে সোহানকে সাজঘরে ফেরান আরিফুল ইসলাম। ২৪ বলে ৪১ রান করেন তিনি। এরপর পিচে এসে বলে বলে বাউন্ডারি মারতে থাকেন শেখ মাহেদী। শেষ দিকে মাহেদী ৮ বলে ১৬ রান করে আউট হলেও ইফতেখারের ২৪ বলের অপরাজিত ৪২ রানে ভর করে ১৫৫ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়েছিল রংপুর। আরটিভি/এসআর/এআর  
নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ব্যাক টু ব্যাক জয় রংপুরের
পুলিশকে হারিয়ে জয়ে ফিরল কিংস
জয় দিয়ে বছরটা রাঙিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। বছরের শেষ ম্যাচে কষ্টার্জিত হলেও জয়ে ফিরল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বসুন্ধরা কিংস ফেডারেশন কাপ শুরু করেছিল ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে জয় দিয়ে। মাঝখানে ফর্টিস এফসির কাছে হেরেছে। আজ কিংস অ্যারেনায় নিজেদের গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশ এফসিকে ৩–২ গোলে হারিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। ঘরের মাঠে কিংস অ্যারেনায় জয়ে পেতে মরিয়া বসুন্ধরা ম্যাচের শুরুতেই গোলের দেখা পায়। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে তপু বর্মণের গোলে এগিয়ে গেলেও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি বসুন্ধরার উল্লাস। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই পুলিশ সমতা ফেরে আল আমিনের গোলে। তবে পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের ১১তম মিনিটে ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল ফেরেইরার গোলে আবারও এগিয়ে যায় কিংস। ২৫ মিনিটে গোলরক্ষক রাকিবুল তুষার ও সাগর মিয়ার ভুমিকায় পুলিশ গোল হজম করা থেকে রক্ষা পায়। ৩৪ মিনিটে রাকিবকে আরেকবার হতাশ করেন গোলরক্ষক তুষার। প্রথমার্ধের খেলা ২–১ ব্যবধানে থেকে শেষ করে দুই দল। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে স্কোরলাইন ৩–১ করেন কিংসের আরেক ব্রাজিলিয়ান জোনাথন ফার্নান্দেজ। ৫৪ মিনিটে পুলিশের আল আমিন নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান ৩–২ করে খেলা জমিয়ে তুলেছিলেন। তবে পাল্টাপাল্টি আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে কিংসকে চোখ রাঙালেও শেষ পর্যন্ত দারুণ কিছু করতে পারেনি পুলিশ। এ ম্যাচে পুলিশ হারলেও চলতি মৌসুমে দারুণ ফর্মে থাকা দলটির স্ট্রাইকার আল আমিনের ২টি গোলই নজর কেড়েছে। অষ্টম মিনিটে ঈসা ফয়সালের ক্রস থেকে আল আমিনের প্রথম গোলটি ছিল সুযোগের সন্ধানে থাকার ফল। প্রিমিয়ার লিগে ৬ গোল করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা আল আমিনের দ্বিতীয় গোলটি ছিল অসাধারণ। সৈয়দ কাজেমের ডিফেন্সচেরা থ্রু ধরে কিংসের গোলকিপার মেহেদী হাসানকে কাটাতে গিয়ে বাঁ পাশে সরে গেলেও বেশ কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে বল জালে পাঠান আল আমিন।  কুমিল্লার ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে দিনের অন্য খেলায় জয় কুমারের জোড়া গোলে বড় জয় পেয়েছে ফর্টিস এফসি। ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে তারা হারিয়েছে ৩–০ গোলে।  আরটিভি/এমএম
পুলিশকে হারিয়ে জয়ে ফিরল কিংস
সোহান ও ইফতেখারের ব্যাটে ভর করে সিলেটকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিলো রংপুর
নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে রংপুর রাইডার্স। এই ম্যাচে আগে ব্যাট করে সিলেটকে ১৫৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে নুরুল হাসান সোহানের দল। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি রংপুর। ৭ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন ইংলিশ ওপেনার অ্যালেক্স হেলস। ৭ বলে ৪ রান করে তাকে সঙ্গে দেন সাইফ হাসান। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি আরেক ওপেনার স্টিভেন টেইলর। ১৫ বলে ১২ রান করেন তিনি। তবে ইফতেখার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন খুশদিল শাহ। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ১৬ বলে ২১ রান করে বাউন্ডারি লাইনে কাটা পড়েন এই পাক অলরাউন্ডার। ষষ্ঠ উইকেপ ইফতেখারকে সঙ্গ দেন নুরুল হাসান সোহান। দুজনের ব্যাটে ভর করে ১৬তম ওভারে ১০০ রানের কোটা পার করে রংপুর। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি লাইনে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে সোহানকে সাজঘরে ফেরান আরিফুল ইসলাম। ২৪ বলে ৪১ রান করেন তিনি। এরপর পিচে এসে বলে বলে বাউন্ডারি মারতে থাকেন শেখ মাহেদী। শেষ দিকে মাহেদী ৮ বলে ১৬ রান করে আউট হলেও ইফতেখারের ২৪ বলের অপরাজিত ৪২ রানে ভর করে ১৫৫ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় রংপুর। সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে দুই উইকেট শিকার করেন আল আমিন হোসেন ও তানজিম সাকিব। এ ছাড়াও সাইমুল্লাহ শিনওয়ারি ও রিস টপলি এক করে উইকেট নেন। আরটিভি/এসআর/এআর  
সোহান ও ইফতেখারের ব্যাটে ভর করে সিলেটকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিলো রংপুর
বিপিএলে ধারাভাষ্য দিলেন বিসিবি সভাপতি
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ১১তম আসরে ধারাভাষ্যকার হিসেবে দেখা গিয়েছে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে। এই সময় ধারাভাষ্য কক্ষে বেশ কিছু সময় পার করেন তিনি।   মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) খুলনা টাইগার্স এবং চট্টগ্রাম কিংসের মধ্যকার ম্যাচের কিছু সময় ধারাভাষ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদ। এদিন ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ধারাভাষ্য কক্ষে প্রবেশ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ফারুক। এরপর কিছুক্ষণ বাংলায় ধারাভাষ্য দেন তিনি। এসময় খুলনার ছুঁড়ে দেওয়া ২০৪ রানের টার্গেট তাড়া করছিল চট্টগ্রাম। ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে বের হয়ে প্রেস বক্সে সাংবাদিকদের সাথে দেখা করেন ফারুক। সেখানে ধারাভাষ্য করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ফারুককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাকে বল-টু-বল ধারাভাষ্য করতে হয়নি। আমি একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছি।’ আরটিভি/এমএম
বিপিএলে ধারাভাষ্য দিলেন বিসিবি সভাপতি
থমাসের নো বল নিয়ে সন্দেহ, আবারও দেখতে চান কোচ তালহা
বিপিএলের তৃতীয় ম্যাচে চিটাগংকে ৩৭ রানে হারিয়েছে খুলনা টাইগার্স। এই ম্যাচের দ্বিতীয় প্রথম ইনিংসে বোলিংয়ে এসে ১ বলে ১৫ রান খরচ করে রেকর্ড গড়েছেন ওশানে থমাস। তবে তার একটি নো বলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন খুলনার কোচ তালহা জুবায়ের। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) খুলনার দেওয়া ২০৪ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হন নাইম শেখ। তবে নো বল হওয়ায় সে যাত্রায় বেঁচে গিয়েছেন। আর নো বলের ভিডিওটা টিভিতে না দেখানোই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তালহা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে খুলনার কোচ বলেন, প্রথম বলে দেখলাম উইকেট পড়েছে গেছে; তারপর দেখি যে নো বল। আমার ওই নো বল নিয়ে একটি সন্দেহ আছে। কারণ, আমি এটি রিপ্লেতে দেখতে পারিনি। এটা দেখানো উচিত ছিল। আমি এটি দেখতে চাইব। এক বলে ১৫ রান দেওয়া নিয়ে তিনি বলেন, এরকম আগে দেখিনি নো বল ওয়াইড আবার নো বল, ফ্রি হিট। আর হয়তো থমাসও শুরুটা ভালো করতে পারেনি। আর এমনিতেই ওর নো বল দেওয়ার প্রবনতা রয়েছে। জাতীয় দলের হয়েও প্রায় নো বল করতে দেখা যায়। নো বল দেওয়ার জন্য থমাসের ফিটনেসকে দায়ী করেছেন তালহা। তার ভাষ্য, আসলে ওর যে ফিটনেস সেটা পেস বোলার হিসেবে ঠিক নেই। আর নিজের ফিটনেস এবং রানিং নিয়ে হয়তো এর আগে কোনো কাজ করেনি। তাই নো বল দেওয়ার প্রবনতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তবে ১ বলে ১৫ রান এটা নতুন। নাইম ইসলামের বিপক্ষে ওশান থমাস ইনিংসের প্রথম বলেই ক্যাচ লুফে নেন তিনি। আম্পায়ারের কলে সেটা ছিল নো বল। ফ্রি-হিটের পরের বলে ছিল ডট। সেটা ছিল লিগ্যাল ডেলিভারি। এরপরেই আসে ওশান থমাসের লিগ্যাল ডেলিভারির জন্য লম্বা সংগ্রাম। নো বলে ৬ রান হজম করেছেন। এরপর দুই ওয়াইড বল। পরের নো বলে হজম করেছেন ৪ রান। ততক্ষণে চলে এসেছে ১৪ রান। স্কোরবোর্ডে ১ বলের পাশে ১৫ রান। শেষ পর্যন্ত বৈধ বল ওশান থমাস করেছেন। সেটায় ছিল ডট। তারপর ফের একটা নো-বল। সেই বলেও ক্যাচ হয়েছিলেন নাইম। দ্বিতীয়বার জীবন পান ওই এক ওভারেই। ফ্রি-হিটের পর অবশ্য নিজেকে আর বাঁচাতে পারেননি অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। বোসিস্টোর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাকে। এর আগে এক বলে ১৩ রান নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন ভারতের ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল। চলতি বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন কীর্তি গড়েছিলেন ভারতের এই ওপেনার। অবশ্য সেবার ৭ রান তিনি পেয়েছিলেন নো-বল থেকে আর ১টা ছিল ছক্কার মার। এর আগে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) এর ম্যাচে ১ বলে ১৪ রান তুলেছিলেন ওশান থমাস। আরটিভি/ এসআর  
থমাসের নো বল নিয়ে সন্দেহ, আবারও দেখতে চান কোচ তালহা
আরও পড়ুন
জুয়ার প্রচারণায় তোপের মুখে যা বললেন পিয়া জান্নাতুল
এসএসসি পাসে নিয়োগ দেবে বিসিবি
ইয়াসির ও বিজয়ের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে বড় পুঁজি রাজশাহীর
মুগ্ধ কর্নারসহ যেসব নতুনত্ব দেখা গেল মিরপুরে