ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

মা হারালেন শিমুল মুস্তাফা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৮, ০২:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

না ফেরার দেশে চলে গেলেন নন্দিত আবৃত্তিশিল্পী শিমুল মুস্তাফার মা আফরোজ মুস্তাফা। গতকাল শনিবার (২৬ মে) দিনগত রাত ২টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

শিমুল মুস্তাফা ফেসবুক এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ তথ্য জানান। দীর্ঘদিন ধরে আফরোজ মুস্তাফা বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। রোববার বাদ জোহর গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজার পর বনানী কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে।

আফরোজ মুস্তাফা প্রায় সাড়ে নয় মাস অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর অধিকাংশ সময়ই তিনি আইসিইউ এবং লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

আফরোজ মুস্তাফা দেশের খ্যাতিমান স্থপতি ও সঙ্গীতশিল্পী মুস্তাফা খালিদ পলাশ এবং খ্যাতিমান আবৃত্তিশিল্পী শিমুল মুস্তাফার মা। ডেল ভিসতা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্থপতি ও রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী সাহজিয়া ইসলাম অন্তন মরহুমার পুত্রবধূ।

আরও পড়ুন :

পিআর/পি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
থেমে গেলো আরও একটি তুলির আঁচড়
না ফেরার দেশে চলে গেলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর। থেমে গেল তার তুলির আঁচড়। আজ শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে তিনি অচেতন হয়ে যান। পরবর্তীতে তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুপুরে ইকবাল রোডে সৈয়দ জাহাঙ্গীরের প্রথম জানাজা শেষে বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে বাদ আছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জানাজা হবে। সর্বশেষে সাতক্ষীরায় গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে দাফন করা হবে। সৈয়দ জাহাঙ্গীর ১৯৩৫ সালে সাতক্ষীরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। গ্রাম ও গ্রামীণ জীবন নিয়েই তার অধিকাংশ চিত্রকর্ম। তিনি ১৯৭৭ সালে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পকলা বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দেন। এছাড়া তিনি শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন এবং শিল্পকলা একাডেমিতে চারুকলা বিভাগ চালু করেন। তিনি দ্বিবার্ষিক এশীয় চিত্রকলা প্রদর্শনীর প্রবর্তন করেন। সৈয়দ জাহাঙ্গীর ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত্ব একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদান রাখার জন্য তিনি বেশ কয়েকটি পুরস্কার লাভ করেন। জিএ/ এমকে
থেমে গেলো আরও একটি তুলির আঁচড়
কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী আর নেই
রোদ্দুর হয়ে গেলেন অমলকান্তির কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। খবর আনন্দবাজার। বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন নীরেন্দ্রনাথ। সম্প্রতি শরীর আরও খারাপ হতে শুরু করে। কয়েকদিন আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সোমবার সকালে তার হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয়। সেই ধাক্কা আর কাটিয়ে উঠতে পারেননি কবি। কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর জন্ম ১৯২৪ সালের ১৯ অক্টোবর অবিভক্ত ভারতের ফরিদপুর জেলায়। প্রাথমিক পড়াশোনা সেখানকার পাঠশালায়। পরে ১৯৩০-এ কলকাতায় চলে যান। কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশন, বঙ্গবাসী ও সেন্ট পলস কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৫১ সালে আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন। দীর্ঘদিন তিনি ‘আনন্দমেলা’পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। কবির পাশাপাশি নীরেন্দ্রনাথ ছিলেন ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, গদ্যকার, গোয়েন্দা-গল্পকার, শিশুসাহিত্যিক, ভ্রমণ-কাহিনির লেখক, সম্পাদক ও বানান-বিশেষজ্ঞ। ছেলেবেলা থেকেই ছড়া লিখতেন নীরেন্দ্রনাথ। ১৯৫৪ সালে প্রকাশ পায় তার প্রথম কবিতার বই ‘নীল নির্জন’। তখন কবির বয়স ৩০। তার পর একে একে প্রকাশ পায় ‘অন্ধকার বারান্দা’, ‘নিরক্ত করবী’, ‘নক্ষত্র জয়ের জন্য’, ‘আজ সকালে’সহ বহু কবিতার বই। স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার, সাহিত্য অকাদেমি। ১৯৯০-এ বিশ্ব কবি সম্মেলনে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। তার লেখা কবিতা ‘অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল...’ কিংবা ‘রাজা তোর কাপড় কোথায়...’ বাঙালির কাছে রীতিমতো প্রবাদে পরিণত হয়েছে। কবিতাই ছিল তার মাতৃভাষা। তবে, খবরের কাগজে কাজ করার সুবাদে নানা রকমের গদ্যও লিখেছেন নীরেন্দ্রনাথ। পি
কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী আর নেই
অরুণ বুধাথোকির গল্প ‘বেজন্মা’।। ভাষান্তর: নুসরাত জাহান জেবিন
লাশটি খোলা মাঠে কবর দেয়া হলো। সন্ধ্যেটা সুনসান। চারপাশ জনমানবশূন্য । চাঁদের উজ্জ্বল আলোয় আকাশটা ম্লান হয়ে যাচ্ছিলো যেন। দু' হাত ঘষে, হাতের বালু ঝেড়ে ফেলে, পাশে পড়ে থাকা বেলচা তুলে মাটি সমান করার কাজে লেগে পড়লো অজয়। চিৎকার করে বললো, বেজন্মা, এটাই তোর প্রাপ্য। ধর্ষকের কবরে থুথু ফেললো সে। এমন সময় তার ফোন বেজে উঠলো। হ্যা, কাজ শেষ হয়েছে, মুখে স্বস্তির হাসি। 'ভালো করেছো, এখন কেউ দেখে ফেলার আগে তাড়তাড়ি বের হয়ে যাও সেখান থেকে।' এক অজানা কন্ঠ নির্দেশ দিলো বেলচাটা তুলে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো অজয়। ঘটনাস্থল থেকে যেতে যেতে, অজয় টুইট করলো, ধর্ষণ একটি অপরাধ এবং ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যু। # অজয়দ্যাকিলার টুইট করার পরপর অনেকেই তার জবাব দিলেন। আবার অনেকেই সেই টুইটকে ফেভরিট, রিটুইট ও কোট করলেন। কিন্তু কেউ জানলোও না, পুরো ঘটনাটাই সত্য। নতুন কেনা গাড়িটি একটি আবাসিক এলাকায় এসে থামলো। একজন গার্ড এসে অজয়কে অনুরোধ করলো যেন সে গাড়িটি পার্কিং লটের ভিতরে গিয়ে রেখে আসে। নির্দেশনা অনুসরণ করলো ও। সিড়ির কাছে পৌছাতেই একজন অচেনা লোক তার দিকে উঁকি মেরে তাকাতে থাকে। দ্রুত ক্ষুদে বার্তা পাঠায় ফোনে, 'আমি ওকে পেয়েছি, এখন কি করবো' প্রত্যুত্তর আসে, 'এদিকে ওকে চোখে চোখে রাখো। যদি কিছু সন্দেহজনক পাও, তবে আমাদের মেয়েদের থেকে একজনকে পাঠাবে।' অজয়ের পায়ের শব্দ কমে যেতেই লোকটি উধাও হয়ে গেলো। দরজার হাতল নিঃশব্দে ঘুরল, খুলল আর বন্ধ হলো।  অজয় সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে এসেছে এবং জাওয়ালখেল এ সদ্য ফ্ল্যাট কিনেছে। তার বন্ধুরা জানে যে তার বাবার পুঞ্জিভূত প্রতিষ্ঠান আছে কিন্তু তার সে প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। অজয় ফ্রিজ থেকে ঠাণ্ডা খাবার বের করে গরম হওয়ার জন্য মাইক্রোওভেনে দেয় এবং খাবার গরম হতে হতে সে টিভি অন করে। সোফায় বসে সে চ্যানেল ইএসপিএন হতে সাগরমাতা নিউজ এ পরিবর্তন করে। টিভি রিপোর্টার তাৎক্ষণিক খবরে বলেন, এটা রিপোর্ট করা হয়েছে যে এক ত্রিশোর্ধ্ব লোককে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে ধুলিখেলের জঙ্গলে। পুলিশ এখনো মৃত ব্যক্তিটির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি। ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই মাসের চতুর্থ খুন এটি।  আশ্চর্যজনক হলো যে, এ মৃত ব্যাক্তিগুলোকে আগে ধর্ষণের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হলেও, তাদের বিচার হয়নি। ওভেনটা তিনটি গুণ গুণ শব্দে করে থেমে যায়। টিভি বন্ধ। সে তার খাবারটা খায় তার বোনের কথা ভেবে। অজয়ের বোন সদ্য গ্র্যাজুয়েট হয়ে বের হয়েছিলো। হোয়াইট হাউজ ইন্টল কলেজে পড়তো। বোনের সাথে দেখা করার জন্য উন্মুখ হয়ে ছিলো সে। এটি একটি সুন্দর সন্ধ্যা ছিলো এবং অবিশ্বাস্য রকম নিখুতও ছিলো। কিন্তু ওই সন্ধ্যাই ছিলো তার বোনের জীবনের শেষ সন্ধ্যা। তার বোন তার সাথে সব কিছু নিয়ে কথা বলতো এবং সে অজয়কে তার মনমুগ্ধকর ও উৎসাহী এক লোকের সঙ্গে ডেটের কথাও বলেছিলো। অজয়ের কোনো ধারণাই ছিলো না যে ওই লোকটি কে ছিলো, কিন্তু যেহেতু সে তার বোনকে ভালোবাসতো, তাই সে তাকে অভিনন্দন জানায়। সে অজয়কে বলেছিলো যে সে নাগারকোট যাবে। সেদিন তার বোন নাগারকোটের একটি মোটেলে যায় এবং তাকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। ক্ষোভে অজয় খাবারের থালা ছুঁড়ে মারে এবং এর থেকে বেশি ভাবতে অস্বীকার করে। সে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ে এক স্বপ্নহীন ঘুমে। অজয় স্বপ্নে দেখে যে তার বোন তার নাম ধরে চিৎকার করে বলছে সাহায্য করো আমাকে ভাই! বাঁচাও আমাকে! ভোর তিনটায় পাঁচবার তার ফোন বেজে উঠে। তখন সে স্বপ্নে বিভোর। অজয় শেষে কোনোমতে ফোনটা ধরে। 'হ্যালো! কে অসময়ে ফোন করেছেন কেন?' চিৎকার করে উঠলো অজয়। 'আমি মিস্টার এ। মনোযোগ দিয়ে আমার কথা শুনুন। আমি এক বেনামি গ্রুপের সাথে একটি ওয়েবসাইট তৈরির জন্য কথা বলেছি। এটা কি নিরাপদ?' 'হ্যাঁ, এটা নিরাপদ। তুমি তো জানো, ওরা অনেক দক্ষ হ্যাকার। আর আমার মনে হয় না, নেপাল সরকারের প্রযুক্তি সম্পর্কে তেমন কোনো জ্ঞান আছে যা এই পোর্টালকে থামাতে পারবে।' 'তাহলে ঠিক আছে। রাখছি তাহলে।' জবাব এলো ওপাশ থেকে। •••••• অজয় তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে উঠে তার ল্যাপটপ খুললো। ওয়েবসাইট তৈরির কাজে লেগে পড়লো। নাম দিলো কিলিংদ্যারেপিস্টডট কম। আইপি ঠিকানা এবং সার্ভার নিরাপদ করে, বেনামে ওয়েবসাইট চালু করে। তার প্রথম পোস্টে সে লিখলো, 'এই সাইটটি ধর্ষণের শিকার সকলের জন্য, তুমি নিজের ধর্ষকের নাম লিখো আর আমরা তাকে খুন করবো।' উত্তেজনা আর আহ্লাদে সে আবার ঘুমাতে যায়। পরেরদিন সে তার ওয়েবসাইট এ ঢুকে দেখতে পায় এর মধ্যেই সে ওয়েবসাইট 50,000 হিটস পেয়ে গেছে। একটা নোট লিখলো ও। 'এই ওয়েবসাইট তৈরির কারণ হলো ধর্ষণ ও ধর্ষণের শিকারদের সমস্যা নিয়ে কথা বলা। আমাদের একটি সমাজ ও সরকার রয়েছে যা অপ্রীতিকর এবং কুসংস্কারের শিকার মানুষে ভরা। বেশ্যাবৃত্তি বৈধ করা এক জিনিস আর কাউকে জোর করে যৌন সহবাস করানো হলো এক ধরনের হিংস্রতা। পুরুষ এখন পশুর মত হয়ে গেছে এবং আমাদের এটা শেষ করতে হবে।' তার নোটগুলো দ্রুত শহরবাসীর আতঙ্কে, ভয়ে ও কৃতজ্ঞতাবোধের কারণে শহরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হলো। কাঠমন্ডুর রাস্তায় রাস্তায় মানুষ একে অপরের সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা শুরু করে। যেখানে কেউ তার এ ধরনের লেখা নির্ধারণে তাকে বাহবা দিয়েছে আবার কেউ এর বিরুদ্ধে জোর আওয়াজও তুলে দিয়েছেন। অজয় সপ্তাহের শেষ দিকে নেপাল ত্যাগ করে। সোমবার সন্ধ্যায় অজয় তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিল যেন সে কোনো বোকামি না করে বসে, যা তার পরিবারের কাছে কষ্ট ও লজ্জার কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। কিন্তু তখন তার চোখে তার বোনের ছবি ভেসে উঠে। এটা একটা স্বপ্নের মত ছিলো, যেনো তার কল্পনা। সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভেবে শেষে একটা সিদ্ধান্তে এলো। ধর্ষককে খুন করবে ভাবলো। কয়েক মাস ধরে সে সেই লোকটির কার্যকলাপ অনুসরণ করে আসছিলো। তারপর একটি পরিকল্পনা তৈরি করে। ধর্ষকের আচার আচরণ বোঝার পর, সে তাকে ফেইসবুক ও টুইটারে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে অনুসরণ করে। অজয় দ্রুত লোকটির সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করে। সে লোককে নতুন বছর পালনের পার্টিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। লোকটি রাজি হয়ে যায়।  পার্টিতে যাওয়ার পথে অজয় ইতোমধ্যে বিয়ারের বোতল নিয়ে নিয়েছিলো এবং তা থেকে একটা সেই লোককে দেয়। মিস্টার এক্স তা পান করে সাথে সাথে ঢলে পড়েন। অজয় কবরস্থানের সামনে তার গাড়িটি থামায়।  তখন অনেকটাই অন্ধকার। অজয় মিস্টার এক্স'র প্যান্টের চেইন খুলে পুরুষাঙ্গ ছিন্ন করে ফেলে। অজয় ছিন্ন করা অঙ্গটি একটি পলিথিনের ব্যাগ এ রাখে এবং তার রক্তাক্ত হাতমোজা দিয়ে লোকটির শরীরকে টানা শুরু করে। লাশটিকে ছুঁড়ে ফেলে খোদাই করা কবরে। ফিরে আসে কোনো অনুতাপ ছাড়া, নিজের হিংস্রতায় সে সন্তষ্ট। তার ভীষণ খুশি লাগছে। [নেপালে ইংরেজিভাষী এই সময়ের তরুণ গল্পকারদের মধ্যে অন্যতম অরুণ বুধাথোকি। তিনি গল্প, উপন্যাসের পাশাপাশি কবিতা লিখেও খ্যাতি পেয়েছেন। বর্তমানে ‘কাঠমাণ্ডু ট্রিবিউন’র প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষাগত কারণে থেকেছেন ভারতের হায়দরাবাদে। উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন ইংল্যান্ডে। এরই মধ্যে ৬টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি নেপালের জাতীয় দৈনিকগুলোতে নিয়মিত কলাম লিখে থাকেন। ম্যাড স্যুয়ারলে প্রকাশিত বেজন্মা গল্পটি  আরটিভি অনলাইনের জন্য অনূদিত হয়েছে।] এসজে/জেবি
অরুণ বুধাথোকির গল্প ‘বেজন্মা’।। ভাষান্তর: নুসরাত জাহান জেবিন
বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী
বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক হলেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সাবেক সভাপতি কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। আজ বৃহস্পতিবার অফিস আদেশ পাওয়ার পর তিনি যোগদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, আজই (বৃহস্পতিবার) অফিস আদেশ পাওয়ার পর আমি যোগদান করেছি। হাবীবুল্লাহ সিরাজী শামসুজ্জামান খানের স্থলাভিষিক্ত হলেন। দশ বছর দায়িত্ব পালনের পর গত মে মাসে তার মেয়াদ শেষে মহাপরিচালকের পদটি শূন্য ছিল। কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর জন্ম ১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফরিদপুরের রসুলপুর গ্রামে মাতুলালয়ে। পৈত্রিক নিবাস পাংশা, রাজবাড়ি। বাবা আবুল হোসেন সিরাজী ও মা জাহানারা বেগম। কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বাংলাদেশ প্রকৌশল ও কারিগরী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা থেকে ১৯৭০ সালে স্নাতক পাস করেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনে চাকরিজীবন শুরু করে সমাপ্তি ঘটে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে ১৯৮০ সালে। এরপর বেসরকারি চাকরি করেন। পেশাগত কাজে ১৯৮৫-১৯৮৬ সাল কাটে কুয়েত ও ইরাকে; এবং ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত মালয়েশিয়ায়। ২০০০ সালে বেক্সিমকো গ্রুপে যোগদান করেন। সবশেষ তিনি বেক্সিমকো হোল্ডিংস লিমিটেডের উপদেষ্টা ছিলেন। প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। নানা বিষয়ে গ্রন্থসংখ্যা ৬৫। এর মধ্যে কবিতা ৪১, অনুবাদ কবিতা ২, উপন্যাস ২, ছোটগল্প ১, প্রবন্ধ ৪, স্মৃতিকথা ১, ছড়া-পদ্য ১৩, সম্পাদনা ১। কবিতা অনূদিত হয়েছে ইংরেজি, ফরাসি, সুইডিস, মালয়, হিন্দি, উর্দু এবং ফার্সি ভাষায়। একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের নানা পুরস্কার এবং সম্মাননা লাভ করেন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাস্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যাণ্ড, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, কুয়েত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, ভারত ও মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন। হাবীবুল্লাহ সিরাজীর গ্রন্থাবলী কবিতা : ১. দাও বৃক্ষ দাও দিন (১৯৭৫), ২. মোমশিল্পের ক্ষয়ক্ষতি (১৯৭৭), ৩. মধ্যরাতে দুলে ওঠে গ্লাশ (১৯৮১), ৪. হাওয়া কলে জোড়া গাড়ি (১৯৮২), ৫. নোনা জলে বুনো সংসার (১৯৮৩), ৬. স্বপ্নহীনতার পক্ষে (১৯৮৪), ৭. আমার একজনই বন্ধু (১৯৮৭), ৮. পোশাক বদলের পালা (১৯৮৮), ৯. প্রেমের কবিতা (১৯৮৯), ১০. কৃষ্ণ কৃপাণ ও অন্যান্য কবিতা (১৯৯০), ১১. সিংহদরজা (১৯৯০), ১২. বেদনার চল্লিশ আঙুল (১৯৯০), ১৩. ম্লান, ম্রিয়মাণ নয় (১৯৯২), ১৪. বিপ্লব বসত করে ঘরে (১৯৯৯), ১৫. ছিন্নভিন্ন অপরাহ্ণ (১৯৯৯), ১৬. জয় বাংলা বলো রে ভাই (২০০০), ১৭. সারিবদ্ধ জ্যোৎস্না (২০০০), ১৮. সুগন্ধ ময়ূর লো (২০০০), ১৯. নির্বাচিত কবিতা (২০০১), ২০. মুখোমুখি (২০০১), ২১. তুচ্ছ (২০০৩), ২২. স্বনির্বাচিত প্রেমের কবিতা (২০০৪), ২৩. হ্রী (২০০৫), ২৪. কতো কাছে জলছত্র, কতো দূর চেরাপুঞ্জি (২০০৬), ২৫. কাদামাখা পা (২০০৬), ২৬. ভুলের কোনো শুদ্ধ বানান নেই (২০০৮), ২৭. শূন্য, পূর্বে না উত্তরে (২০০৯), ২৮. ইতিহাস বদমাশ হ’লে মানুষ বড়ো কষ্ট পায় (২০০৯), ২৯. একা ও করুণা (২০১০), ৩০. যমজ প্রণালী (২০১১), ৩১. কবিতাসমগ্র (২০১১), ৩২. আমার জ্যামিতি (২০১২), (৩৩) পশ্চিমের গুপ্তচর (২০১২), ৩৪. মিথ্যে তুমি দশ পিঁপড়ে (২০১৪), ৩৫. কবিরাজ বিল্ডিংয়ের ছাদ (২০১৫), ৩৬. শ্রেষ্ঠ কবিতা (২০১৫), ৩৭. যে শ্রেষ্ঠ একা (২০১৬), ৩৮. বডিমিস্ত্রি ফেসবুক (২০১৬), ৩৯. হাবীবুল্লাহ সিরাজীর প্রেমের কবিতা (২০১৬), ৪০. জো (২০১৭), ৪১. আমি জেনারেল (২০১৮)। অনুবাদ কবিতা :  ১. মৌলানার মন, রুমীর কবিতা (২০১৩), ২. 50 poems of Habibullah Sirajee (২০১৫)। উপন্যাস :   ১. কৃষ্ণপক্ষে অগ্নিকাণ্ড (১৯৭৩), ২. পরাজয় (১৯৮৮)। গল্প :  আয় রে আমার গোলাপজাম (২০১৭)। প্রবন্ধ : ১. দ্বিতীয় পাঠ (২০১০), ২. মিশ্রমিল (২০১২), ৩. গদ্যের গন্ধগোকুল (২০১৭), ৪. পায়ে উর্বর পলি (২০১৮)। স্মৃতিকথা :  ১. আমার কুমার (২০১০)। ছড়া-পদ্য :  ১. ইল্লিবিল্লি (১৯৮০), ২. নাইপাই (১৯৮৪), ৩. রাজা হটপট (১৯৯৯), ৪. ফুঁ (২০০১), ৫. ফুড়ুৎ (২০০৪), ৬. এই আছি, মৌমাছি (২০০৮), ৭. মেঘভ্রমণ (২০০৯), ৮. রে রে (২০১০), ৯. ছয় লাইনের ভূত (২০১১), ১০. ছড়াপদ্য (২০১২), ১১. কানাকানি (২০১৩), ১২. একে শূন্য (২০১৫), ১৩. ছড়াছড়ি (২০১৮)। পি
বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী
‘শিল্প হলো গুরুমুখী বিদ্যা, সনদের প্রয়োজন নেই’
শিল্পী আশরাফ হোসেন। যিনি তুলির ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলছেন সভ্যতা, সংস্কৃতি, দেশপ্রেম, মাতৃত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ মনুষত্বকে। দশকের পর দশক তার সাধনা ও চেষ্টা চলছে। তার চিত্রকর্ম দেশের মানুষের যেমন চিত্তকে করছে তৃপ্ত, তেমনি করছে বিদেশিদেরও। সেই ৯০ এর দশক থেকেই তার চিত্রকর্মের প্রতি বিদেশিদের ঝোঁক। বিদেশিরা তার চিত্রকর্ম দিয়ে ঘর, হোটেল বা অফিসের শোভা বর্ধনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। একইভাবে দেশের শিল্পমনা মানুষও আশরাফ হোসেনের চিত্রকর্মের মাঝে নিজেদের প্রশান্তি খুঁজে পায়। শিল্পী আশরাফ হোসেন প্রায় চার দশক ধরে একাগ্রচিত্তে ছবি এঁকে গেলেও কখনই নিজের প্রচার ও পরিচিতি প্রকাশের চেষ্টা করেননি। সব সময়ই তিনি থেকেছেন প্রচারবিমুখ। সমাজের গতানুগতিক ধরার বাইরের একজন তিনি। ‌ছোট‌বেলা থে‌কেই শি‌ল্পের প্র‌তি অনুরাগ থাকায় এক সময় প্রা‌তিষ্ঠ‌নিক শিক্ষা নি‌লেও তা শেষ না ক‌রেই চলে আসেন। তিনি ম‌নে ক‌রেন, ‌যেকোন শিল্প চর্চাই হ‌চ্ছে গুরুমুখী বিদ্যা, এখা‌নে সনদ প‌ত্রের প্র‌য়োজন নেই। তিনি মনে করেন, কর্মই বড় পরিচয়। যদি আমার কর্ম কাউকে আকর্ষণ করে, তার মনকে প্রভাবিত করে তাহলেই সৃষ্টির স্বার্থকতা। আপাদমস্তক একজন শিল্পী হতেই তার যত আয়োজন। শুধু ছবি আঁকাই নয়, ভাস্কর্য শিল্পেও আশরাফ হোসেনে খ্যাতি রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য নিয়েই তিনি কাজ করেন। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কয়েকটি ভাস্কর্যের কাজ তিনি শেষ করেছেন।   আশরাফ হোসেন বলেন, শিল্পী বিষয়টি অনেক বড়। যদিও অনেকে মনে করেন, তুলির আঁচড় দিয়ে কিছু ছবি আঁকলেই শিল্পী হওয়া যায়। বিষয়টি আসলে সেরকম নয়। শিল্পী হতে হলে তাকে রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মতত্ব, চিত্রকলা সহ সব বিষয়েই জানতে হবে। একজন মানুষ যখন মনে প্রাণে পুরোপুরি শিল্পের ভেতর ঢুকে নিজেকে খুঁজে পায়, তখনই তিনি শিল্পী হতে পারবেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশের চারুকলাগুলোতে এখন বেশ তাড়াহুড়ো করে কাজ করার প্রবণতা বাড়ছে। কম সময়ে বেশি কাজ করতে চায় সবাই। উদ্দেশ্য একটাই দ্রুত ছবি বিক্রি করে আয় করা। কিন্তু সময়ের মানদণ্ডে ছবি আঁকা যায় না। যদি অর্থ ও সময়ের মানদণ্ডে ছবি আঁকা হয় তাহলে সেখানে শিল্প থাকে না। তিনি চারুকলার সমালোচনা করে বলেন, ছবি আঁকার কয়েকটি প্রহর আছে। এই প্রহর বুঝেই ছবি আঁকতে হবে। কিন্তু দেখা যা‌চ্ছে ছাত্র ছা‌ত্রীরা এক‌টি ফটোগ্রাফ তু‌লে নি‌য়ে তা‌ দে‌খে আঁকার চেষ্টা কর‌ছে, এমনটা হ‌লে ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে প্রহর জ্ঞান হ‌বে না। প্রভা‌তের কিরণ , আর দুপু‌রের কিরণ এক নয়। এভা‌বে আঁকলে বাজা‌রে ছবি বিক্রি হতে পারে, কিন্তু মৌ‌লিক শি‌ল্পী হওয়া সম্ভব হবে না। ‌বি‌শেষ ক‌রে ল্যন্ড‌স্কে‌পের কাজ কর‌লে সেখা‌নে প্রহর জ্ঞান খুবই জরুরী, এক‌টি বিষয় ম‌নে রাখা প্র‌য়োজন, ‌ফটোগ্রাফ দে‌খে কখ‌নোই শিল্পের বিষয়টি অনুমান করা যাবে না। আশরাফ হোসেন মনে করেন, বর্তমানে পুঁজিবাদী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য শিল্পীসত্ত্বাকেও অর্ধের মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হয়। অর্থের প্রয়োজন আছে, কিন্তু অর্থের প্রয়োজন মেটানোর জন্য নানা বৈধ উপায়ও আছে। কিন্তু সেটি শিল্পকর্ম দিয়ে নয়। তিনি বলেন, আজকাল অনেক চারুকলা শিক্ষার্থী বলেন, পড়ালেখা শেষ করে বিসিএস দেব বা ব্যবসা করবো। তাহলে প্রশ্ন আসে যে, কেন তুমি এখানে? আবার অনেকে বলেন, ছবিটবি আমার আঁকা সম্ভব না। ছবিকে টবি বলা যাবে না। এতে আমাদের গাঁয়ে লাগে। আমরা ছবিতে হৃদয় দিলে লালন করি।  আশরাফ হোসেন আরও বলেন, গ্যালারি প্রদর্শনীর মাধ্যমে ছবির ব্যবসা করা নতুন আরেকটি পুঁজিবাদী প্রেতাত্বা হাজির হয়েছে, গ্যালারির ছবি বিক্রির টাকা শিল্পীর পকেটে যায় না। সেটি চলে যাচ্ছে গ্যালারির মালিকের পকেটে। তাতে শিল্পীকে আরও অসহায় করে দিচ্ছে। যদি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি শিল্পীর কাছ থেকে ছবি কেনে তাহলে এই মধ্যস্বত্ব ভোগীদের রোধ করা সম্ভব। এমকে
‘শিল্প হলো গুরুমুখী বিদ্যা, সনদের প্রয়োজন নেই’
আরও পড়ুন
এক মঞ্চে তিন শিল্পীর ‘জয় জয়ন্তী’