ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সেই দুরন্ত ছেলেটিই মিশে আছে লাল সবুজে

শিশির রাজন

আরটিভি অনলাইন

প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

১.

সেই ভবঘুরে স্কুল পলাতক ছেলেটি আজ তেষট্টি বছরের পরিণত পুরুষ। ঘুমিয়ে আছে সে। আষাঢ়ের মেঘময় গোধূলি সন্ধ্যায় সে বাড়ি ফিরে এসেছে। চারদিকে পাখির কলতান । মানুষের ভিড় বাড়ছে। নিজের শেকড়ের টান আর প্রিয় মাটির গন্ধে তাঁর ঘুম আরও গাঢ় হচ্ছে। ভিড়ের মধ্যে অনেকেই যেন কিছু একটা প্রস্তুতি নিচ্ছে।

২.

গ্রামের নাম রায়পুর। শান্ত শীতল গ্রাম। তিন দিকে কংস নদ। কংসের অনুপম ধারায় গ্রামটি এক সবুজ ক্ষেত্র। আছে প্রাচীন স্থাপনা। জমিদারদের বাড়ি, মন্দির ও পুকুর ঘাট। প্রাচীন এ স্থাপনাগুলো যে কাউকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে পেছনের ঐতিহ্যময় অতীতে।

৩.

হীরেন্দ্র দত্ত মজুমদার। রায়পুর গ্রামের একজন শিক্ষক। দেশ বিভাগে পরিবারের সদস্যরা ভারতে চলে গেলেও মাটির মায়ায় তিনি পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার এক চাপা কষ্ট নিয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানেই থেকে যান। হীরেন্দ্র বাবু নির্লোভ নির্ভেজাল মানুষ। পাঁচ ছেলে সন্তানের মধ্যে তাঁর যতো চিন্তা ভবঘুরে ছোট ছেলেকে নিয়ে। বড় ছেলেরা যখন মেধার পরিচয় দিয়ে এলাকায় গ্রামেগঞ্জে বিখ্যাত। তখন কিশোর ছোট সন্তানটি পড়াশোনা বাদ দিয়ে রাখাল বালকের পেছনে ঘুরে বেড়ায়।

সারাদিন দুষ্টামিই তার কাজ। পড়ায় মন বসে না। খুব জবরদস্তি করে এ বছর নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে সে। কিশোরটির প্রকৃতিও ভিন্ন। একরোখা, জেদি। সমগ্র গ্রামেই যেন তার খেলার মাঠ। সে মুগ্ধ হয়ে কংস নদের ঢেউ দেখে। সময় কাটায় কংসের শীতল জলে। দেশ বিভাগের খড়গে ছোট হয়ে আসা পরিবারে সেই তার প্রজন্মের শেষ বংশধর। সকলের অনাবিল আদর তাকে দুরন্ত করে তুলেছে।

৪.

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ। বর্বর পাক হায়েনারা ঢাকা শহরে চালায় ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা। নিরীহ বাঙালির রক্তে ভেসে যায় ঢাকার রাজপথ অলিগলি। হায়েনাদের এ গণহত্যা ছড়িয়ে পরেছে সমগ্র বাংলাদেশে। সবুজ শ্যামল রায়পুর গ্রামটি যেন হঠাৎ করে তার জৌলুস হারিয়েছে। মানুষের মনে ভয় ও আতঙ্ক। এদিকে পাক সেনাদের বিরোধে সারাদেশে সমান তালে চলছে প্রতিরোধ।

৫.

১৯৭১ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি। পাখির ডাকে ভোরের আলোয় সবুজ গ্রামকে পেছনে ফেলে হীরেন্দ্র বাবু পরিবারের সকলকে নিয়ে ছুটে চলেছেন। গন্তব্য মেঘালয়ের রংরা এলাকা। দেশত্যাগী দলের সাথে তার অসুস্থ স্ত্রীও আছে। হঠাৎ দেখা গেলো দলের সাথে হীরেন্দ্রবাবুর সেই ভবঘুরে ছোট ছেলেটি নেই। মায়ের মন কেঁদে উঠলো। তবু বাধ্য হয়ে সেই ছেলেটিকে রেখে হীরেন্দ্রবাবুর পরিবারকে ছুটতে হলো অজানার উদ্দেশে।

৬.

‘মহান জাতির মহান নেতা- শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’ আর ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত চারপাশ। রক্তের বদলায় উন্মুখ তরুণ দল। পাহাড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে দেশমাতার মুক্তির আহ্বান। তরুণ মুক্তিযোদ্ধার দলে অস্ত্রহাতে ১৫ বছরের যে কিশোরটি আছে তিনিই শরণার্থী দল থেকে পালিয়ে যাওয়া দুরন্ত, পড়াশুনায় উদাসীন হীরেন্দ্র বাবুর ছোট ছেলে। অসুস্থ মাকে রেখে পালিয়ে এসে সে মুক্তি বাহিনীতে যোগদান করে, ট্রেনিং গ্রহণ করছে ভারতের তুরা ট্রেনিং ক্যাস্পে। যার চোখে মুখে শত্রু হত্যার প্রত্যয়। প্রিয় মাতৃভূমিকে মুক্ত করার দৃঢ় সংকল্প। ট্রেনিং শেষে সে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। প্রচণ্ড প্রতাপে যুদ্ধ করে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুড়ি এলাকায়। সবার কাছে সে আদুরে কিশোর যোদ্ধা। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন সে। জানে না তারা কোথায় আছে। আর দেখা হবে কিনা। অপেক্ষায় থাকে অসুস্থ মাকে কখন দেখবে। অবশেষে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের বিজয়। সে ফিরে আসে বাড়িতে। কিছুদিন পর আসে পরিবার। কিন্তু তার মা আর ফিরে আসেননি। যুদ্ধাবস্থায় কিশোর ছোট ছেলের চিন্তার একরাশ শূন্যতা নিয়ে ত্যাগ করেন পৃথিবীর মায়া। আর দেখা হয়নি আদুরে ছোট ছেলের সঙ্গে।

৭.

মাটির ঘ্রাণে পড়ন্ত গোধূলিতে ১৯৭১ সালের সেই কিশোর বীরযোদ্ধার নাম সুদীপ দত্ত মজুমদার। ডাকনাম বাবুল। যুদ্ধের পরে মা হারানো ছেলেটি যেন আরও উদাস হয়ে পরে। আর ভর্তি হয়নি স্কুলে। সুযোগ আসে রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র বাহিনীতে চাকরির। কিন্তু তিনিতো উদাস ভবঘুরে দুরন্ত। কোনও গণ্ডিবদ্ধ জীবন তাকে মানায় না। গ্রহণও করেননি । জীবনের অনেকগুলো বছর চলে যায়। সংসার হয়। তবু তিনি একই আছেন। শুধু গল্প বলে যান বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের। সংসারেও মন নেই। পৌষের আগুন পোহানো রাতে, বিকেলের সবুজ ঘাসে পরিবারে ছোটদের সাথে যুদ্ধের গল্প বলে যান। তুলনামূলক রাগি, একরোখা তিনি যুদ্ধের গল্প বলতে বলতে যেন ধীর স্থির দৃঢ় হয়ে যেতেন। তার চোখে মুখে ঝিলিক দিয়ে উঠতো গর্বে। কখনো অন্য বীরযোদ্ধার শহীদ হওয়ার গল্পে তার চোখ ছলছল করতো। শৈশবেই অনুভব করেছি ভবঘুরে দুরন্তপনা আর জেদি মেজাজের বাইরে তার প্রগাঢ় দেশপ্রেম।

৮.

আজ থেকে তিনি আর গল্প বলবেন না। যাবেন না গর্বিত পতাকা নিয়ে রাষ্ট্রীয় কোনও অনুষ্ঠানে। নিজের প্রতি প্রচণ্ড উদাসীন যোদ্ধাটি টেরই পাননি কখন তার শরীরে বাসা বেধেছে মরণব্যাধী ক্যান্সার। হেরে গেছেন এর কাছে। ঢাকা মেডিকেল হতে ফিরে এসেছেন প্রিয় গ্রাম, প্রিয় বাড়ির আঙিনায়, প্রিয় মাটিতে। আজ আর তার কোনও চাওয়া পাওয়া নেই। নেই সংসারের অভাব অভিযোগ। গর্বিত পতাকায় জড়ানো তার নিশ্চল দেহ। প্রিয়জনদের কান্নার বাতাস সবুজে মাটির গানে স্তব্ধতা। শেষকৃত্য প্রস্তুতি নেওয়া দলটির প্রস্তুতি সম্পন্ন। অতঃপর আষাঢ়ে তুমুল বর্ষণে বকুল গন্ধে প্রিয়মাটিতে মহাচিতায় ঘুমিয়ে পরলেন তিনি। হয়তো তিনি আসবেন জোসনা রাতে আলোর উৎসবে, বিজয় গানে। আসবেন স্বপ্নে গল্প বলতে। মিশে থাকবেন লাল সবুজের রঙে। পাহারা দিবেন প্রিয় মাটিকে। গল্পে মাতবেন সহযোদ্ধাদের সাথে, কংসের ধারায়। যারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। থাকবেন বকুল ঘ্রাণে, পুকুর পারের চির সবুজে। আমাদের হৃদয়ে শ্রদ্ধার মন্দিরে।

এজে/জেবি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পৃথিবীটাই একটা দেশ
আমরা সবাই মানবজাতি এক স্রষ্টার সৃষ্টি, এক মালিকের ফসল খাই, একই রোদ-বৃষ্টি। গরিব-ধনী সবারই রক্ত যে ভাই লাল, তাহলে কেন দ্বন্দ্বটা থাকবে চিরকাল। সাদা-কালোর বৈষম্যটা কেন করিস ভাই, স্রষ্টার গড়া সৃষ্টিতে কোনও ভুল নাই। এদেশ আমার ঐ দেশ তোমার না ভাবিয়া আমরা নেব ধরণীকে আপন করিয়া। মত্ত লোকে করব আমরা স্বর্গের বসবাস, প্রজন্মের জন্য রেখে যাব শান্তি-সুখের আবাস। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির হউক অবসান, আর নয় কোনও ভেদাভেদ হিন্দু-মুসলমান। আটটি গ্রহের একটি হলো এই ধরণী, যেখানে কোনও বিভাজন স্রষ্টা করেননি। বিশ্বজোড়া দেশ আমার এক মানবজাতি, আমরা এবার গড়ে তুলব বিশ্ব সম্প্রীতি। এই পৃথিবীর আলো-বাতাসে বেড়ে উঠেছি আমরা, ভিন্ন কোনও দেশ নেই এই পৃথিবী ছাড়া। চাই না আর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, বিশ্বভুবন দেখব আমি ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়া। আজ হোক সকলের একটিই স্লোগান, পৃথিবীটাই একটা দেশ একই মানবসন্তান। কবি: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জেবি
পৃথিবীটাই একটা দেশ
জ্ঞানের আলো পাঠাগার সম্মাননা পেলেন অরুণ কুমার বিশ্বাস
জ্ঞানের আলো পাঠাগার সম্মাননা পেলেন কথাসাহিত্যিক ও বাংলাদেশ কাস্টমস এর অতিরিক্ত কমিশনার অরুণ কুমার বিশ্বাস। কথাসাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম, কোটালীপাড়ায় এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জ্ঞানের আলো পাঠাগার। একইসঙ্গে নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য নজরুল ইসলাম হাজরা মন্নুকে জ্ঞানের আলো পাঠাগার সম্মাননা প্রদান করা হয়। জ্ঞানের আলো পাঠাগারের সভাপতি সুশান্ত মণ্ডলের সভাপতিত্বে কোটালীপাড়া পৌরসভার মেয়র হাজী মোঃ কামাল হোসেন শেখ প্রধান অতিথি থেকে তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। সম্মাননাপ্রাপ্ত দুই গুণিজন ছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক ও কবি রবীন্দ্রনাথ অধিকারী, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফরিদপুর আঞ্চলিক শাখার সভাপতি সরওয়ার হোসেন তালুকদার, শাহানা রশিদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বি এম বাবুল হোসেন, উদীচী কোটালীপাড়া শাখার সভাপতি অশোক কর্মকার, শিক্ষক আঃ রশিদ গাজী, লিটন সাহা, জি এম আরিফ প্রমুখ। সম্মাননা অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা নাচ, গান ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন। অনু্ষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক অরুণ কুমার বিশ্বাস বলেন, জ্ঞানের আলো পাঠাগারের সাথে আমার অল্পদিনের পরিচয়। তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে যতই দেখছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি। আমি সত্যিই আপ্লুত। নাট্যাভিনেতা নজরুল ইসলাম হাজরা মন্নু বলেন, জ্ঞানের আলো পাঠাগার এলাকার অসহায় দরিদ্র মানুষের শিক্ষা ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এই সম্মাননা কাজের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হাজী মোঃ কামাল হোসেন শেখ বলেন, জ্ঞানের আলো পাঠাগার কোটালীপাড়া উপজেলার একটি আলোকিত সংগঠনে পরিণত হয়েছে। দিন দিন তাদের সামাজিক কর্মকাণ্ড সকলকে আলোড়িত করছে। তারা শিক্ষা, উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। জ্ঞানের আলো পাঠাগার আজ তাদের কর্মকাণ্ডে নতুন এক দিগন্তের সূচনা করলো। শিক্ষক নেতা সরওয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, জ্ঞানের আলো পাঠাগার একটি অলাভজনক সামাজিক সংগঠন। তারা ফেসবুকের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে দরিদ্র অসহায় মানুষের জন্য শীতের সময় শীতবস্ত্র, ঈদ ও পূজায় নতুন কাপড়-খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, দরিদ্র শিশু শিক্ষার্থী জুঁইয়ের হার্টের চিকিৎসা, দশরথ দাসের ব্রেন টিউমার ও ক্যানসারের চিকিৎসা করিয়ে ইতোমধ্যে জনমনে এক আলোকিত সংগঠনে পরিণত হয়েছে। আজ এই সম্মাননা প্রদান করে সংগঠনটি উচ্চ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। পি
জ্ঞানের আলো পাঠাগার সম্মাননা পেলেন অরুণ কুমার বিশ্বাস
সাড়ম্বরে অরুণ কুমার বিশ্বাসের লেখালেখির কুড়ি বছর উদযাপন
সাড়ম্বরে উদযাপন করা হলো কথাসাহিত্যিক অরুণ কুমার বিশ্বাসের লেখালেখির কুড়ি বছর। রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) ডিটেকটিভ ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় গোয়েন্দা চরিত্র অলোকেশ রয়ের স্রষ্টার লেখালেখির কুড়ি বছর উপলক্ষে আনন্দঘন এই অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম, ‘উন্মাদ’ সম্পাদক আহসান হাবীব, কবি ও গীতিকার ড. মারুফুল ইসলাম, ছড়াকার আলম তালুকদার, খালেক বিন জয়েনউদদীন প্রমুখ। শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম বলেন, আমার দেখা স্মার্ট লেখক অরুণ কুমার বিশ্বাস। পৃথিবীজুড়ে যেমন লিওনার্দোর ‘মোনালিসা’র বিখ্যাত হাসিটা সবার ভালো লাগে তেমনি আমার কাছে অরুণের হাসিটা ভালো লাগে। আমি অরুণের মধ্যে অমিত সম্ভাবনা দেখি। আমার বিশ্বাস বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দা চরিত্র নির্মাণে অরুণ একটি নিজস্বতা বজায় রেখে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌছাবেই। কবি ও গীতিকার ড. মারুফুল ইসলাম বলেন, আমি অরুণকে চিনি ওর চাকরিজীবনের শুরু থেকে। একই বিভাগে চাকরি করলেও সবার সঙ্গে সবার কিন্তু তেমন যোগাযোগ থাকে না। কিন্তু লেখালেখির কারণে অরুণের সঙ্গে আমার এখনও সেই যোগাযোগটা অব্যাহত আছে। আমি অরুণের লেখালেখির একজন নিবিষ্ট পাঠক। আমার কাছে অরুণ এক বিস্ময়। কারণ অরুণ বিষয়-বৈচিত্রে অভিনব লেখা লিখছে। তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন পরিবারের সদস্যসহ শুভাকাঙ্ক্ষী ও প্রিয়জনেরা। সবশেষে কোটালিপাড়া সাহিত্য-সংস্কৃতি সংসদ, ঢাকার পক্ষ থেকে তার সাফল্য ও দীর্ঘজীবন কামনা করে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ডিটেকটিভ ক্লাবের পক্ষে সূচনা বক্তব্য রাখেন প্রশান্ত অধিকারী এবং সঞ্চালনা করেন রূপশ্রী চক্রবর্তী। আলোচনা শেষে সংগীত পরিবেশন করেন ভারতের জি বাংলা চ্যানেলের সারেগামাপা রিয়েলিটি শোর শিসপ্রিয়াখ্যাত সংগীতশিল্পী অবন্তী দেব সিঁথি। অরুণ কুমার বিশ্বাসের প্রথম বই ‘নেমেসিস’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৯ সালে। যদিও তার প্রথম লেখা ছাপা হয় নটরডেম কলেজের মাসিক প্রকাশনা ঢাকঢোল-এ। কবিতা, ছড়া, ছোটগল্প, উপন্যাস, গোয়েন্দা গল্প, অ্যাডভেঞ্চার ইত্যাদি মিলিয়ে ইতোমধ্যে তার ১০৭টি বই প্রকাশিত হয়েছে। শার্লক হোমস বা ওপার বাংলার ফেলুদার মতোই ‘অলোকেশ রয়’ নামে একটি পাঠকপ্রিয় গোয়েন্দাচরিত্র বিনির্মাণে তিনি বদ্ধপরিকর। গুবলু তার আরেকটি গোয়েন্দা চরিত্র, যা ইতোমধ্যে শিশু ও কিশোরদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। জলপিপি, স্পাই, অনল মিত্রের অপমৃত্যু, আলিম বেগের খুলি, অথই আঁধার, ওরা ডিটেকটিভ, গুবলু গোয়েন্দা বিপদে, ফেরিকেটে ফেরেরবাজ, চিলিংহ্যাম দুর্গে আতঙ্ক, তদন্তে ভুল ছিল, লালকুঠি রহস্য, জোহানেসবার্গে জিঘাংসা, লাশাকাটা ঘর, সিধু মামার সিন্ধুকরহস্য, অন্ধকারে আগন্তুক, তার উল্লেখযোগ্য গোয়েন্দা উপন্যাস। তার এই বইগুলো কিশোর-তরুণদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কথাসাহিত্যিক অরুণ কুমার বিশ্বাসের জন্ম ২৭ ডিসেম্বর, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার জহরেরকান্দি গ্রামে। বাবা বঙ্কিমচন্দ্র বিশ্বাস ও মা মালতী দেবী। শিক্ষক বাবা-মায়ের শাসন ও স্নেহে কেটেছে তার বর্ণিল শৈশব ও কৈশোর। তিনি নটর ডেম কলেজের ছাত্র ছিলেন। ইংরেজি সাহিত্যে সম্মানসহ মাস্টার্স করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আন্তর্জাতিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় পুনরায় মাস্টার্স করেন লন্ডনে। কলেজে পড়াকালীন তার লেখালিখির শুরু। তিনি অসম্ভব প্রাণোচ্ছল, পরোপকারী ও আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীতে শিশু-কিশোরদের জন্য লিখছেন ছড়া, গল্প, অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস, ভুতুড়ে ও গোয়েন্দা কাহিনী। পেশাগত কাজের ফাঁকে তিনি সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিয়মিত কলাম লিখছেন। শিগগিরই তাঁর প্রচেষ্টায় আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ‘ডিটেকটিভ ক্লাব’ নামে একটি গোয়েন্দাগল্প লিখিয়েদের প্লাটফর্ম। স্ত্রী ডা. তপতী মণ্ডল, দুই ছেলে অনিকেত ও অগ্নিশ লেখালেখি করেন। বলা যায় পুরো পরিবারই লেখক পরিবার। তিনি নটর ডেম কলেজ থেকে মেধার স্বীকৃতিসূচক ‘অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সেলেন্স-১৯৯৫’ এবং গতবছর ‘স্পাই’ উপন্যাসের জন্য চ্যানেল আই প্রবর্তিত এসিআই-আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ লাভ করেন। পি
সাড়ম্বরে অরুণ কুমার বিশ্বাসের লেখালেখির কুড়ি বছর উদযাপন
আজ মীর মশাররফ হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল মীর মশাররফ হোসেনের ১০৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলান লাহিনীপাড়া গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে তিনি মারা যান। সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। সাহিত্য ক্ষেত্রে মীর মশাররফ হোসেন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। গল্প, উপন্যাস, নাটক, কবিতা, আত্মজীবনী, প্রবন্ধ ও ধর্মবিষয়ক ৩৭টি বই রচনা করেছেন। সাহিত্য রচনার পাশাপাশি কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেছেন তিনি। মীর মশাররফ হোসেনের কীর্তির মধ্যে বসন্ত কুমারী, জমিদার দর্পণ, মদিনার গৌরব, বিষাদ সিন্ধু, বেহুলা গীতাভিনয়, গাজী মিয়ার বস্তানী, মোসলেম বীরত্ব ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশরাত জাহান বলেন, মীর মশাররফ হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। জেবি/পি
আজ মীর মশাররফ হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী
কজনা’র সভাপতি অলোক বসু, সম্পাদক অনিমেষ কর
দেশের অন্যতম প্রধান আবৃত্তি সংগঠন কজনা’র দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে অলোক বসু সভাপতি এবং অনিমেষ কর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। ৬ই ডিসেম্বর ২০১৯ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নিকেতনে ক’জনার কাউন্সিলে পাঁচ সদস্যের সাবজেক্ট কমিটি তাদের মনোনীত করলে কাউন্সিলরা সর্বসম্মতিক্রমে তাতে সমর্থন দেয়। এর আগ সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশ করেন অনিমেষ কর। এর ওপর আলোচনা করেন সদস্যরা। কাউন্সিলের শুরুতে বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহিত হয়।  ক'জনার কাউন্সিলে আহসান রহমান রাসেল সহ-সভাপতি, দেলোয়ারা নার্গিস সাংগঠনিক সম্পাদক, মুরশিদ মিজান রাসেল দপ্তর ও অর্থ সম্পাদক, কামরুল হাসান প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু, লুৎফুল আহমেদ লিটু, মনিরুজ্জামান বাবু, বুশরা সারাজিন ও মেহেরুননেছা ছোট। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তৌফিক রহমান, আহমেদ বদরুদ্দোজা মোস্তাক, ড. শিহাব শাহরিয়ার, ড. নিমাই মণ্ডল ও সুমনা সিদ্দিকী। উল্লেখ্য, আগামী এপ্রিলের ২৭ তারিখ ক'জনা ৩২ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে ক'জনার নতুন প্রযোজনা অলোক বসু রচিত ও গ্রন্থিত  'কমলা রঙের রোদ অথবা জীবনানন্দ' পরিবেশিত হবে।  এটি নির্দেশনার দায়িত্ব পালন করবেন তৌফিক রহমান। এছাড়া বছর জুড়ে সাড়ম্বরে মুজিব বর্ষ উদযাপন করতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে ক'জনা। এসজে
কজনা’র সভাপতি অলোক বসু, সম্পাদক অনিমেষ কর
আরও পড়ুন
জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার করতে হবে: আব্দুর রহমান
বরগুনায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্বোধন
‘রাজাকার তালিকা করতে ৬০ কোটি টাকা খরচ একটি অসত্য সংবাদ’
রাজাকারদের তালিকা তৈরি করতে ৬০ পয়সাও খরচ করিনি: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী (ভিডিও)