
চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার।
তিনি বলেছেন, ‘২০২৭ সালের জানুয়ারির বেতনের সঙ্গে কমবেশি যাই হোক না কেন সেটা যেন শ্রমিকরা হাতে পায়। আমাদের বিলম্ব করার কিছু নেই, মানসিকভাবে আমরা রেডি।’
তিনি আরও বলেন, আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই শ্রমিকেরা যেন বর্ধিত মজুরি পান, সে লক্ষ্য নিয়ে মজুরি বোর্ডে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব হবে না।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর শ্রম ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাবুল আখতার।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা বলেন, গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত মজুরিকাঠামো নির্ধারণে বর্তমান মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়, পরিবারের মৌলিক চাহিদা এবং সামগ্রিক শিল্প পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে।
এ জন্য কোনো একক বা বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত না নিয়ে দেশের সব শ্রমিক ফেডারেশন, কারখানাভিত্তিক ইউনিয়ন এবং সাধারণ শ্রমিকদের মতামতের ভিত্তিতে সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরি করা হবে বলেও জানান তারা।
সম্প্রতি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি ও চলমান অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার ছয় সদস্যের নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম শামছুদ্দিন ও আসিফ আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার ও আনোয়ার হোসাইন। নিরপেক্ষ প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের আটক এবং হয়রানির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বাবুল আখতার বলেন, মজুরি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অজুহাতে অনেক শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার দায়ে আটক শ্রমিক ও নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক মামলা ও আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, মালিক ও শ্রমিক-তিন পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা।
আরটিভি/এসএস


