ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

তিস্তার দু’পাড় ঘিরে মহাপরিকল্পনা : ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে ৫ লাখ মানুষ 

হাসান- উল আজিজ, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২০, ১১:২২ এএম
আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২০, ১১:৪৬ এএম
ছবিঃ সংগ্রহীত

বন্যা, নদী ভাঙন ও তিস্তার করাল গ্রাস থেকে রক্ষাসহ লালমনিরহাটে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৌসুমি মঙ্গা স্থায়ীভাবে দূরীকরণ লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি উদ্ধার করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দুই বছর ধরে তিস্তা নদী সার্ভে, পরিকল্পনা, ডিজাইন ও অর্থ ব্যয়ের পরিমাণসহ সকল প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন শুধুমাত্র বাস্তবায়নের পথে।

জানা গেছে, এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। লালমনিরহাট ও তিস্তা ব্যারেজ (ডালিয়া) পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীগণের দপ্তরের সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দরিদ্রপীড়িত জেলা লালমনিরহাটকে কয়েক বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে এ মহা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে তিস্তা নদীর দুপাড় পর্যটন এলাকার রূপ নিবে বলে মনে করছেন পানি উন্নয়ন বার্ডের প্রকৌশলীগণ। এছাড়াও তিস্তার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পাবে জেলার অন্তত ৫ লাখ মানুষ। ফিরে পাবে তাদের চিরচেনা বসতভিটে।

যুগ যুগ ধরে নদী খনন না করায় তিস্তা নদীর তলদেশে পলি ও বালু জমে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে উজানের পাহাড়ি ঢল ও সামান্য বৃষ্টিতে পানি প্রবাহের পথ না পেয়ে নদীর দুকুল উপচে বন্যা ও নদী ভাঙনের কবলে পড়ে সব কিছু হারিয়ে অসহায় জীবন জীবন করতে হয় এখানকার লাখ লাখ মানুষকে। প্রতি বছর তিস্তার করাল গ্রাস এখানকার অর্থনৈতিক অবস্থাকে দুর্বল করে ফেলেছে। এসব অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করে বর্তমান সরকার মহাপকিল্পনার আওতায় তিস্তা নদীর দু’পাড়ে ২২০ কিলোমিটার উঁচু গাইড বাঁধ নির্মাণ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। নদী খনন করে গভীরতা বৃদ্ধিসহ তিস্তার দু’পাড়ে গড়ে তোলা হবে হোটেল-রেস্টুরেন্ট। সরকারের এ সুদূর প্রসারী পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে তিস্তার পাড়ের দৃশ্যপট। সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান, ঘুচবে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে তিস্তা পাড়ের লাখ লাখ মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারানো তিস্তা পাড়ের লাখ লাখ অসহায় মানুষ।

তিস্তা ব্যারেজ রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে তিস্তা নদীর ড্রেজিং ও শক্ত বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

প্রতি বছর কচুরিপানার মতো এক স্থান থেকে আরেক স্থানে বাসা বাঁধলেও কোনটাই স্থায়ী নয় তিস্তা পাড়ের লাখ লাখ মানুষের। চোখের সামনে নদী গিলে খাচ্ছে তাদের বসতভিটে, ফসলি জমি ও স্থাপনা। ফলে ফসলহানিসহ দিন দিন চরম অর্থ কষ্টে পড়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় তাদের। অনেকেই রাস্তার পাশে বাঁধের ধারে আশ্রয় নিয়ে অসহায় জীবন করছেন।


তিস্তা নদী এখন জেলার জন্য অভিশাপে পরিণত হয়। বর্ষা মৌসুমে ভারত অতিরিক্ত পানি প্রত্যাহার করায় তিস্তা নদীর পানির তোড়ে জেলাবাসী দফায় দফায় বন্যার কবলে পড়ে। নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। আবার শুষ্কমৌসুমে ভারত সরকার পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে তিস্তা ব্যারেজের রিজার্ভারে পানি সংরক্ষণ করে সেচ ব্যবস্থা চালু রাখতে ব্যারেজের ৪৪টি গেট বন্ধ করে রাখা হয়। ফলে তিস্তা নদী শুকিয়ে যায়। তিস্তা পরিণত হয় মরুভূমিতে। ফলে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে অত্যন্ত অসহায় জীবনযাপন করেন তিস্তা পাড়ের লাখ লাখ মানুষ। নেমে আসে দারিদ্রতা। তিস্তা পাড়ে গৃহহীন মানুষ ঝুপড়ি ঘরে বসবাস শুরু করে। অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করতে হয় তাদের। ঘরে ঘরে দেখা দেয় অভাব।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ জেলা একদিন শিক্ষা ও সম্পদে সমৃদ্ধশালী হবে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, চায়না পাওয়ার কোম্পানি দুই বছর ধরে তিস্তা পাড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহাপরিকল্পনায় নির্মাণকৃত প্রকল্প বাস্তবায়নে নকশা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ করেছে। তারা সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা প্রাথমিক ব্যয় ধরেছে। পৃথক প্রজেক্ট আকারে পানি উন্নয়ন বোর্ড এই কাজ বাস্তবায়ন করবে। খুব শিগগির টেন্ডার প্রক্রিয়া শুর হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হলে এই জেলার বর্তমান চিত্র রাতারাতি পাল্টে যাবে।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামের বাহার মিয়া (৭০) বলেন, ‘বাহে শুনবা নাগছি (শুনতেছি) প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা হামাগগুলাক বন্যা ও নদী ভাঙা থাকি অক্ষা (রক্ষা) করতে মেলাগুলা কাম করবে। শুনিয়া হামরা খুশি হচি বাহে। আর ত্রাণ চাই না বাহে, চাই, তিস্তার বাঁধ।’

এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মাদারীপুরে একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগ ও তার পরিবারের নারী সদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।  বৃহস্পতিবার কালকিনি উপজেলার ডাসার থানাধীন দর্শনা বাজারে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে প্রধান শিক্ষক ও তার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদ জানানো হয়।  এ সময় বক্তারা দ্রুত এই ঘটনার সাথে জড়িত ও অভিযুক্ত ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজের বিচার দাবী করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের কমিটি করাকে কেন্দ্র করে কালকিনি উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের নারী সদস্যসহ প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরই প্রতিবাদ ও দোষীর বিচারের দাবীতে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন। উল্লেখ, ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর ইয়াবাসহ ডাসার থানা পুলিশের হাতে আটক হয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ। পরে পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। এর আগে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেফতার করে জেলার  গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রিসহ নানা অভিযোগে এনে পদত্যাগ দাবী করে একাধিকবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। তবুও টনক নড়েনি প্রশাসনের। জিএ
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়েছ। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে উপকূলীয় জেলা বরগুনায় নির্মাণ করা হয়েছে এ জাদুঘরের। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নকশার একশ’টি নৌকার অনুকরণে শুরু হল এই জাদুঘরের। বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন ৭৮ শতাংশ জমির ওপর স্থাপন করা হয়েছে জাদুঘরটি। বিশাল নৌকার আদলে তৈরি এ জাদুঘরটির দৈর্ঘ্য ১৬৫ ফিট এবং প্রস্থ ৩০ ফিট। এখানে থাকবে নৌকা গবেষণা কেন্দ্র, আধুনিক পাঠাগার, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশু বিনোদন কেন্দ্র এবং ফুড কর্নারসহ নানা আয়োজন। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টায় মহামারি করোনা প্রতিকূলতার মাঝেও মাত্র ৮১ দিনে সম্পন্ন হয় দেশের প্রথম নৌকা জাদুঘর নির্মাণের কাজ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীমাতৃক দেশের প্রধান বাহক হিসেবে হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে এই নৌকা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক বিভিন্ন অভিযানে নৌকা ব্যবহার করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে এই নৌকা। বঙ্গবন্ধু জাদুঘরটির মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন অনুকরণের নৌকার দেখা পাবে দেশের নতুন প্রজন্মরা- এমনটাই ভাবছেন স্থানীয় সচেতন মহল। জিএ 
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক হত্যকান্ডে জড়িত এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শহরের চন্ডিবের খাঁ বাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৮ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনার মুলহোতা এবং শহরের চিহ্নিত ছিনতাইকারী ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ইমন পৌর শহরের ভৈরবপুর মধ্যপাড়ার আড়াই বেপারীর বাড়ির মৃত মাসুদ মিয়ার ছেলে।  আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন।  জানা গেছে, শহরের দুর্জয় মোড়ের পূর্ব পাশে গত সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহত শ্রমিক সুনামগঞ্জের বিশম্ভপুর উপজেলার বাঘগাঁও গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে। বিয়ের মাত্র দুই মাস পর নিহত এহসানুল তার এক চাচাসহ তারা দু’জন গত দু’সপ্তাহ আগে ভৈরবে কাজের সন্ধানে এসে ছিলেন। পরে কয়েক দিন শ্রমিকের কাজ করে কিছু টাকা জমান। পরে জমানো টাকা নিয়ে গত সোমবার রাতে তারা দুর্জয় মোড় থেকে বাড়ী যাবার সময় বাসে উঠার আগে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। একই সাথে ছিনতাইকারীদের ধারালো ছুরির আঘাতে এহসানুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।  এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজিত শত শত কয়লা শ্রমিকরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ফেরিঘাট থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় প্রদক্ষিণ করে ভৈরব থানায় প্রবেশ করে। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যায় এবং কাজে যোগ দেয়।  এছাড়াও এদিন (মঙ্গলবার) রাতেই নিহতের চাচা আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দু’জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুঠোফোনে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নামে এবং প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জিএ
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুর ১১ সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঝিল এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ছুরি, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গত শনিবার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১৭ মামলার আসামি নুরুকে খুঁজতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় তার সহযোগীরা। এ সময় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় আটক করা হয় নুরুর সেকেন্ড ইন আজমকে।  আটককৃতদের মধ্যে হামলার ঘটনায় কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন আকবরশাহ থানার ওসি জহির হোসেন।   পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার রাতে আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঝিল এলাকায় সরকারী পাহাড়া কেটে আলিশান বাড়ী, সেমিপাকা ঘর, মসজিদ, এতিমখানা ও গরু-ছাগলের খামার তৈরি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে নুরুর বিরুদ্ধে। জিএ
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় চার মাস তদন্ত শেষে পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশ। তবে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তিতাস গ্যাসের অভিযুক্ত ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির নারায়ণগঞ্জ শাখার তদন্ত দল। চার্জশিটে প্রধান আসামি করা হয়েছে ওই মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর মিয়াকে (৬০)।  মামলায় প্রধান আসামি আবদুল গফুর মিয়া ছাড়াও অন্যান্য আসামিরা হলেন- সামসুদ্দিন সরদার (৬০), শামসু সরদার (৫৭), শওকত আলী (৫০), অসিম উদ্দিন (৫০), জাহাঙ্গীর আলম (৪০), শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল (৪৫), নাঈম সরদার (২৭), কাইয়ুম (৩৮), মামুন মিয়া (৩৮), আলমগীর সিকদার (৩৫), মাওলানা আল আমিন (৪৫), সিরাজ হাওলাদার (৫৫), নেওয়াজ মিয়া (৫৫), নাজির হোসেন (৫৬), আবুল কাশেম (৪৫), দেলোয়ার হোসেন, বশির আহমেদ (হৃদয়) (২৮), তানভীর আহমেদ (৪৫), আল আমিন (৩৫), আবদুল মালেক (৫৫), মনিরুল (৫৫), স্বপন মিয়া (৩৮), আসলাম আলী (৪২), আলী তাজম (মিল্কী) (৫৫), রিমেল (৩২), আরিফুর রহমান (৩০), মোবারক হোসেন (৪০) ও রায়হানুল ইসলাম (৩৬)।  তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। সিআইডি পুলিশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় তিতাসের অভিযুক্ত আট কর্মকর্তা-কর্মচারিকে আপাতত চার্জশীটে লিপিবদ্ধ করা না হলেও তাদেরকে মামলায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে  অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন পেলেই তাদেরকে আসামি হিসেবে চার্জশীটে সম্পৃক্ত করা হবে। তবে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, সিআইডি আদালত পুলিশের কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চার্জশিট জমা দিয়েছে। রোববার তা আদালতে পেশ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজ চলাকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মসজিদের অভ্যন্তরে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ থেকে স্পার্ক ও অবৈধ গ্যাস পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসের মিশ্রনে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি পুলিশ। এই বিস্ফোরণে ৩৭ জন গুরুতর দ্বগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের মধ্যে ৩৪ জন মারা যান। জিএ
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
আরও পড়ুন
নভেম্বরের শুরুতেই  পানি নেই তিস্তায়
গিলগিট-বালতিস্তান ভারতের অংশ: রাজনাথ সিং
গিলগিট-বালতিস্তানকে অস্থায়ী প্রদেশের মর্যাদা দিলো পাকিস্তান, দিল্লির তীব্র প্রতিক্রিয়া
হঠাৎ বন্যায় বিধ্বস্ত ফ্রান্স-ইতালিতে ৭ জনের মৃত্যু