
সাভার উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়নের একটি স্কুলের দুটি কক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বন্যার্ত ও দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রীর শিশুখাদ্য, শুকনো খাবার ভর্তি ৪৯ বস্তা ত্রাণ এবং ১০ কেজির ৫২ বস্তা সরকারি ভিজিএফের চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পাথালিয়া ইউনিয়নের নয়ারহাট গণবিদ্যাপীঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের দুইটি কক্ষ থেকে এসব জব্দ করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একরামুল হক।
এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন, সরকারি এসব ত্রাণসামগ্রী আত্মসাতের উদ্দেশেই বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষে মজুদ করে রাখা হয়েছিলো। সময়মতো এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ না করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তারা নিজেদের পছন্দের লোকদের ত্রাণ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ান বলেন, আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের কোনও গুদাম না থাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণের জন্য আমরা নয়ারহাট গণবিদ্যাপিঠ স্কুলের দুটি কক্ষ ব্যবহার করে থাকি। ৪৯ জন ব্যক্তির লিস্ট করা হলেও তারা সময় মতো ত্রাণ নিতে আসায় সেগুলো রয়ে গেছে। যার ফরওয়াডিং আমি ইউএনও মহোদয়কে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেটাই আমরা মেনে নিব।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একরামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বন্যার্ত ও দুঃস্থদের মাঝে ত্রাণগুলো বিতরণের জন্য ত্রাণগুলো ইউপি চেয়ারম্যান রেখেছেন। তবে সেগুলো তিনি কী কারণে এতোদিন বিতরণ করেননি বা আত্মসাতের উদ্দেশে সেগুলো ওখানে রেখেছেন কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের উত্তর না দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এদিকে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা নিপা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধারকৃত সরকারি ত্রাণসামগ্রীগুলো জব্দ করা হয়েছে। গেলো সাত আগস্টের মধ্যে দুঃস্থদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করার কথা ছিলো। সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেন বিতরণ করেননি। তাকে এই অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। তারপর তার বক্তব্যে শুনে আমরা তার বিরুদ্ধে সরকারি ব্যবস্থা নেব।
জেবি




