ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

পাঁচ দফা বন্যায় ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন, অর্জিত হচ্ছে না আমনের লক্ষ্যমাত্রা

কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২০, ০৭:২৬ পিএম
বন্যায় ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

জুন থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পর পর পাঁচ দফা বন্যায় কুড়িগ্রামের কৃষকের স্বপ্ন ভেসে গেছে। শেষ দফা বন্যায় চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলের পানিতে ডুবে পচে গেছে উঠতি আমন ধান। ফলে জেলায় চাল উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। কুড়িগ্রাম কৃষিবিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আমন চাষ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৯ হেক্টর জমিতে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫৪০ মেট্রিক টন। তবে বন্যায় আমনের ক্ষতি হওয়ায় এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় রয়েছে।

চতুর্থ ও পঞ্চম দফার বন্যায় নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চলের উঠতি আমন ধান তলিয়ে পচে নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া অধিক বৃষ্টিপাতে নষ্ট হয়ে যায় শীতকালীন সবজির আবাদ। কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগের তথ্যমতে অতি বৃষ্টি এবং শেষ দফার বন্যায় জেলায় প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর আবাদি জমি ডুবে যায়। এর মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর উঠতি আমন ধান পানিতে তলিয়ে যায়। তলিয়ে যাওয়া বেশির ভাগ আমন ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে আমন চাল উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এসব জমির আবাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের চেষ্টা চলছে।

এর আগে প্রথম থেকে তৃতীয় দফার বন্যায় কৃষকের ইরি ধান, আউশ ধান, পাট, ভুট্টা, কাউন, চিনা, তিল ও মরিচসহ সবজি জাতীয় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। জেলায় ১৭ হাজার ৫৫৬ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণরূপে বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এর মধ্যে ১১ হাজার ৬৬২ হেক্টর জমির ফসল একেবারে পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বন্যার পানি দেড়মাস স্থায়ী হওয়ার ফলে আমন আবাদের বীজতলাও পচে নষ্ট হয়ে যায়।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম থেকে তৃতীয় দফার বন্যায় আমনবীজতলা ১৪০৯ হেক্টর, আউস ধান ৫২১৭ হেক্টর, শাকসবজি ৯৫৩ হেক্টর, পাট ৯২৩৫ হেক্টর, তিল ৩০৫ হেক্টর, মরিচ ২০৫ হেক্টর, চিনা ১৪০ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানে বন্যায় ফসল হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৮ জন কৃষক। এর মাঝে ২৭ হাজার ৭৬১ জন কৃষককে সবজি বীজ সহযোগিতা দেয় কৃষি বিভাগ। এছাড়াও ১০৫টি কমিউনিটি বীজতলা, শতাধিক ভাসমান বীজতলা ও ১১২টি ট্রে বীজতলা প্রস্তুত করে আমন চারা দেয়া হয় কৃষকদের।

তৃতীয় দফা বন্যা শেষে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা এবং নিজেদের উদ্যোগে আমন চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানো চেষ্টা করে জেলার কৃষক। তবে সেপ্টেম্বরে দুই দফা বন্যা আর ভারি বৃষ্টিপাতে সে স্বপ্ন ভেসে যায় তাদের। উঠতি আমন ধান পানিতে তলিয়ে পচে নষ্ট হয়ে যায়। দফায় দফায় বন্যার কারণে ক্ষেতের ফসল হারিয়ে কুড়িগ্রামের কৃষক এখন দিশেহারা। সব ধরণের ফসল নষ্ট হওয়ায় ব্যাপক লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের। সরকারিভাবে পুনর্বাসন ও ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার দাবী কৃষকের থাকলেও সবার কাছে পৌঁছবে না প্রণোদনা।

নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভের খাষ ইউনিয়নের কৃষানী মাজিয়া বেগম জানান, প্রথম দফার বন্যায় ৪ বিঘা কাউনের আবাদ নষ্ট হয়ে যায় তার। পরবর্তীতে চড়া দামের আমন চারা কিনে ২ বিঘা জমি চাষ করেন তিনি, সেগুলোও এই বন্যায় পচে নষ্ট হয়ে গেছে। আগামী দিনগুলো কিভাবে চলবে সেই চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটে তার।

চাকাটা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল বাতেন জানান, প্রথম দফায় ১৫ বিঘা পাট একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। সেই ক্ষেতে কিছুটা আমন চাষ করেছিল তাও পানিতে তলিয়ে নষ্ট হওয়ার পথে।
বল্লভের খাষ ইউনিয়নের সবজি চাষি আতোয়ার ইসলাম জানান, ৩ বিঘা সবজির আবাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর সেই জমিতে মুলা এবং লাল শাকের চাষ করেছিলেন তিনি। পরে অতি বৃষ্টি এবং শেষ দফার বন্যায় সব শেষ হয়ে গেছে।

কেদার ইউনিয়নের আবুল হোসেন জানান, প্রথম দিকের বন্যায় বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। পরে চড়া দামে আমনের চারা কিনে রোপণ করলেও এখনো তা পানির নিচে।

কুড়িগ্রামের খামারবাড়ির উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ শামসুদ্দিন মিয়া জানান, এখন পর্যন্ত শেষ দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য কোনও প্রকার প্রণোদনা পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতে মাঠ পর্যায় কাজ চলছে। তালিকা প্রণয়ন শেষে তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে।

এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মাদারীপুরে একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগ ও তার পরিবারের নারী সদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।  বৃহস্পতিবার কালকিনি উপজেলার ডাসার থানাধীন দর্শনা বাজারে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে প্রধান শিক্ষক ও তার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদ জানানো হয়।  এ সময় বক্তারা দ্রুত এই ঘটনার সাথে জড়িত ও অভিযুক্ত ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজের বিচার দাবী করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের কমিটি করাকে কেন্দ্র করে কালকিনি উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের নারী সদস্যসহ প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরই প্রতিবাদ ও দোষীর বিচারের দাবীতে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন। উল্লেখ, ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর ইয়াবাসহ ডাসার থানা পুলিশের হাতে আটক হয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ। পরে পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। এর আগে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেফতার করে জেলার  গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রিসহ নানা অভিযোগে এনে পদত্যাগ দাবী করে একাধিকবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। তবুও টনক নড়েনি প্রশাসনের। জিএ
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়েছ। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে উপকূলীয় জেলা বরগুনায় নির্মাণ করা হয়েছে এ জাদুঘরের। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নকশার একশ’টি নৌকার অনুকরণে শুরু হল এই জাদুঘরের। বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন ৭৮ শতাংশ জমির ওপর স্থাপন করা হয়েছে জাদুঘরটি। বিশাল নৌকার আদলে তৈরি এ জাদুঘরটির দৈর্ঘ্য ১৬৫ ফিট এবং প্রস্থ ৩০ ফিট। এখানে থাকবে নৌকা গবেষণা কেন্দ্র, আধুনিক পাঠাগার, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশু বিনোদন কেন্দ্র এবং ফুড কর্নারসহ নানা আয়োজন। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টায় মহামারি করোনা প্রতিকূলতার মাঝেও মাত্র ৮১ দিনে সম্পন্ন হয় দেশের প্রথম নৌকা জাদুঘর নির্মাণের কাজ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীমাতৃক দেশের প্রধান বাহক হিসেবে হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে এই নৌকা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক বিভিন্ন অভিযানে নৌকা ব্যবহার করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে এই নৌকা। বঙ্গবন্ধু জাদুঘরটির মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন অনুকরণের নৌকার দেখা পাবে দেশের নতুন প্রজন্মরা- এমনটাই ভাবছেন স্থানীয় সচেতন মহল। জিএ 
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক হত্যকান্ডে জড়িত এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শহরের চন্ডিবের খাঁ বাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৮ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনার মুলহোতা এবং শহরের চিহ্নিত ছিনতাইকারী ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ইমন পৌর শহরের ভৈরবপুর মধ্যপাড়ার আড়াই বেপারীর বাড়ির মৃত মাসুদ মিয়ার ছেলে।  আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন।  জানা গেছে, শহরের দুর্জয় মোড়ের পূর্ব পাশে গত সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহত শ্রমিক সুনামগঞ্জের বিশম্ভপুর উপজেলার বাঘগাঁও গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে। বিয়ের মাত্র দুই মাস পর নিহত এহসানুল তার এক চাচাসহ তারা দু’জন গত দু’সপ্তাহ আগে ভৈরবে কাজের সন্ধানে এসে ছিলেন। পরে কয়েক দিন শ্রমিকের কাজ করে কিছু টাকা জমান। পরে জমানো টাকা নিয়ে গত সোমবার রাতে তারা দুর্জয় মোড় থেকে বাড়ী যাবার সময় বাসে উঠার আগে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। একই সাথে ছিনতাইকারীদের ধারালো ছুরির আঘাতে এহসানুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।  এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজিত শত শত কয়লা শ্রমিকরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ফেরিঘাট থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় প্রদক্ষিণ করে ভৈরব থানায় প্রবেশ করে। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যায় এবং কাজে যোগ দেয়।  এছাড়াও এদিন (মঙ্গলবার) রাতেই নিহতের চাচা আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দু’জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুঠোফোনে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নামে এবং প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জিএ
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুর ১১ সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঝিল এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ছুরি, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গত শনিবার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১৭ মামলার আসামি নুরুকে খুঁজতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় তার সহযোগীরা। এ সময় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় আটক করা হয় নুরুর সেকেন্ড ইন আজমকে।  আটককৃতদের মধ্যে হামলার ঘটনায় কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন আকবরশাহ থানার ওসি জহির হোসেন।   পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার রাতে আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঝিল এলাকায় সরকারী পাহাড়া কেটে আলিশান বাড়ী, সেমিপাকা ঘর, মসজিদ, এতিমখানা ও গরু-ছাগলের খামার তৈরি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে নুরুর বিরুদ্ধে। জিএ
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় চার মাস তদন্ত শেষে পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশ। তবে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তিতাস গ্যাসের অভিযুক্ত ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির নারায়ণগঞ্জ শাখার তদন্ত দল। চার্জশিটে প্রধান আসামি করা হয়েছে ওই মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর মিয়াকে (৬০)।  মামলায় প্রধান আসামি আবদুল গফুর মিয়া ছাড়াও অন্যান্য আসামিরা হলেন- সামসুদ্দিন সরদার (৬০), শামসু সরদার (৫৭), শওকত আলী (৫০), অসিম উদ্দিন (৫০), জাহাঙ্গীর আলম (৪০), শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল (৪৫), নাঈম সরদার (২৭), কাইয়ুম (৩৮), মামুন মিয়া (৩৮), আলমগীর সিকদার (৩৫), মাওলানা আল আমিন (৪৫), সিরাজ হাওলাদার (৫৫), নেওয়াজ মিয়া (৫৫), নাজির হোসেন (৫৬), আবুল কাশেম (৪৫), দেলোয়ার হোসেন, বশির আহমেদ (হৃদয়) (২৮), তানভীর আহমেদ (৪৫), আল আমিন (৩৫), আবদুল মালেক (৫৫), মনিরুল (৫৫), স্বপন মিয়া (৩৮), আসলাম আলী (৪২), আলী তাজম (মিল্কী) (৫৫), রিমেল (৩২), আরিফুর রহমান (৩০), মোবারক হোসেন (৪০) ও রায়হানুল ইসলাম (৩৬)।  তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। সিআইডি পুলিশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় তিতাসের অভিযুক্ত আট কর্মকর্তা-কর্মচারিকে আপাতত চার্জশীটে লিপিবদ্ধ করা না হলেও তাদেরকে মামলায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে  অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন পেলেই তাদেরকে আসামি হিসেবে চার্জশীটে সম্পৃক্ত করা হবে। তবে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, সিআইডি আদালত পুলিশের কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চার্জশিট জমা দিয়েছে। রোববার তা আদালতে পেশ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজ চলাকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মসজিদের অভ্যন্তরে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ থেকে স্পার্ক ও অবৈধ গ্যাস পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসের মিশ্রনে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি পুলিশ। এই বিস্ফোরণে ৩৭ জন গুরুতর দ্বগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের মধ্যে ৩৪ জন মারা যান। জিএ
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
আরও পড়ুন
ফেনীতে নেমেছে বন্যার পানি, রেখে গেছে ক্ষতির চিহ্ন
ভিয়েতনামে বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ৮৪
২০০ বছরের ইতিহাসে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে বাংলাদেশ (ভিডিও)
ভিয়েতনামে বন্যায় নিহত ১৮, ডুবে গেছে বহু ঘরবাড়ি