
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এক বিধবাকে ধর্ষণের ঘটনা শালিসের মধ্য দিয়ে ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে নারী কাউন্সিলর শিউলি নওশাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, শালিসে অভিযুক্ত খোকাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও তাকে সেই অর্থ পরিশোধ করার জন্য এক মাসের সময় দেয়া হয়েছে। শালিস মানতে ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে সাদা কাগজে সাক্ষর নিয়েছে শালিসকারীরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে বন্দরের দড়িসোনাকান্দা এলাকায় কাউন্সিলর তার নিজ বাসভবনে সালিশে বসে এই মীমাংসা করেন।
ধর্ষণের শিকার ওই নারী জানান, দড়ি সোনাকান্দা এলাকায় ভাড়া আসার পর থেকেই বাড়িওয়ালার ছেলে খোকা তাকে বিরক্ত করতো। কিছু দিন পরে সে আমাকে বিয়ের কথা বলে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। রোববার রাতে ঘরের ভেতরে ঢুকে জোর করে ধর্ষণ করে খোকা। এর সে চলে গেলে আমি বিষয়টি স্থানীয়দের জানাই। সোমবার রাতে কাউন্সিলর শিউলি আপার বাড়িতে বসে বিচার সালিশে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন তিনি। এক মাস পর টাকা দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন মাতব্বররা।
এলাকাবাসীরা জানান, রোববার রাতে ওই বিধবা নারী ঘটনাটি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর শিউলি নওশাদের শরণাপন্ন হন অভিযুক্তরা।
আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়ায় ছাত্রী ধর্ষণের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মাদ্রাসা সুপার
দেহ ব্যবসায় বাধ্য, ৯৯৯-এ ফোনে রক্ষা পেলো দুই তরুণী
দায়িত্ব পেলে ধর্ষণকে যাদুঘরে পাঠাতে চান বিদিশা এরশাদ
গৃহবধূকে সিএনজিতে তুলে রাতভর গণধর্ষণ
সোমবার রাতে নারী কাউন্সিলর শিউলি নওশাদ তার বাস ভবনে সালিশ বিচারের আয়োজন করেন। সালিশে কাউন্সিলর শিউলি নওশাদ খোকাকে ৬০ হাজার জরিমানা ধার্য করে ঘটনার মীমাংসা করেন।
কাউন্সিলর শিউলি নওশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি সালিশ করি নাই। পঞ্চায়েতের লোকজন করছে। তবে আমার বাসায় সালিশটা হয়েছে। পঞ্চায়েতের কারা উপস্থিত ছিল? এ প্রশ্ন করতেই তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে বলেন, ভাই আমি একটু পরে আপনাকে ফোন দিচ্ছি। কিন্তু পরে তিনি আর ফোন দেননি।
বন্দর থানার ওসি মো. ফখরুদ্দিন ভূঁইয়া জানান, বিধবা নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
এসএস




