সনদ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে নড়াইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নীলুর বিরুদ্ধে। এইচএসসি পাস হয়েও নির্বাচনী হলফনামায় ভুয়া বিএ ও এমএসসি পাসের সার্টিফিকেট দাখিল করেছেন তিনি। সার্টিফিকেটগুলোকে জাল বলছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।
নিজাম উদ্দিন নড়াইল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ২০১৯ সালে। নির্বাচনী হলফনামায় নিজেকে এমএসসি পাস হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ‘আমেরিকান-বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালের এমএসসি পাসের সনদ হলফনামায় জুড়ে দেন। এতে উল্লেখ করা হয় ‘ফ্যাকাল্টি অফ হিউম্যান সায়েন্স’ থেকে তিনি ‘মাস্টার্স অব সোশ্যাল সায়েন্স’- ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
তবে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি দিয়ে সার্টিফিকেট দুটির বিষয়ে জানতে চান। চিঠির জবাবে গেল ২২ সেপ্টেম্বর ইউজিসি জানায় ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া নিজাম উদ্দিন ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে ১৯৯৪ সালে বিএ পরীক্ষায় পাস করেছেন মর্মে সনদ দাখিল করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গেল ১৯ অক্টোবর চিঠি দিয়ে জানায় ওই রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরে একই কলেজ থেকে নাজমুল বারী নামে অন্য একজন ছাত্র পাস করেছেন।
নড়াইল-১ এর সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি বলেন, নির্বাচনের সময় হলফ নামায় সম্পত্তি ও শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ এরকম অনেক তথ্য দিতে হয়। তথ্যে সে এমএসসি পাস দিয়েছেন, তখন আমি সনদপত্র যাচাই করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জরী কমিশন এর চেয়ারম্যানের বরাবর একটি চিঠি দিয়েছিলাম। তারা সনদপত্রটি যাচাই বাছাই করে বলেছে উনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেছেন সেটি আমেরিকান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি যা সরকার ২০০৬ সালে বন্ধ করে দিয়েছে।
এনিয়ে কথা বলতে নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে বারবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ও পাওয়া যায়নি।
এমন প্রতারণায় ক্ষুব্ধ জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা। এছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, এই ধরণের নেতাকে দল থেকে অপসারণ করতে হবে। এই চেয়ারম্যানের কারণে মানুষ আওয়ামী লীগকে খারাপ ভাবে দেখছে নড়াইলে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জনপ্রতিনিধিদের এমন প্রতারণায় সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন আচরণ কখনো প্রত্যাশা করা যায় না। উনি যে কাজটি করেছেন তা গণতন্ত্রের জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ।
উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী হলফনামায় অসত্য তথ্য দেয়ার কারণে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করার বিধান রয়েছে। সে কারণে তিনি অপসারিত হতে পারেন।
জিএম/এমকে




