ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

চিনির উৎপাদন খরচ ১৮২ টাকা, বিক্রি ৬০ টাকা!

সুজিত রায়

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২০, ১১:৪২ এএম
জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেড

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের একটি প্রতিষ্ঠান দেওয়ানগঞ্জের জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেড। ময়মনসিংহ বিভাগের একমাত্র চিনির শিল্প প্রতিষ্ঠান এটি সীমান্তবর্তী জেলা জামালপুরে অবস্থিত।

বর্তমানে জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় জিল বাংলা সুগার মিলটি ১৯৫৮ সালে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সরকার যৌথভাবে গড়ে তুলে। সে সময় শিল্প প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল জিল পাক সুগার মিলস লিমিটেড।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে জিল বাংলা সুগার মিল রাখা হয়। মিলটি পূর্বাঞ্চলের একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান। এ মিলটির আঁখ মাড়াই ক্ষমতা ৭০ হাজার ৬৯০মেট্রিকটন আর চিনি উৎপাদন ক্ষমতা ৫ হাজার ১৫৩ মেট্রিকটন। বর্তমানে মিলটিতে অবিক্রীত চিনি আছে ২ হাজার ৬৭মেট্রিকটন যার মূল্য ১২কোটি ৪০ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

প্রতি কেজি চিনি উৎপাদন খরচ ১৮২টাকা আর বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে। বর্তমানে মিলটিতে কর্মকর্তা রয়েছে ৩৬ জন আর কর্মচারী ও শ্রমিক রয়েছে ৯০০জন। প্রতি মাসে বেতন পরিশোধ করতে হয় প্রায় ৯১লাখ ৭১হাজার টাকা।

এ পর্যন্ত মিলের কর্মচারীদের তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। তিন মাসে প্রায় ২কোটি ৮০লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। যথাযথ তদারকির অভাব চাষিদের প্রতি অবহেলা আর কর্মকর্তা কর্মচারীদের দুর্নীতি কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছরই লোকসান গুনছে।

লোকসানের কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। জিল বাংলা সুগার মিল প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৬২টি মাড়াই মৌসুম পেয়েছে। ৬২ মাড়াই মৌসুমের মধ্যে মাত্র ১৮টি মৌসুমে লাভ হয়েছিল। বরাবরের মত এবারো প্রতিষ্ঠানটি লোকসান দিয়েছে প্রায় ৫৫কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, মিলটির বর্তমান অবস্থা খুব খারাপ। অবহেলা, অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণেই মিলটি আজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। আঁখ চাষিদের নানাভাবে হয়রানী নিম্নমানের বীজ সারের অভাব রয়েছে। মিলে আঁখ দিলে সঠিক সময়ে সেই আঁখের মূল্য পরিশোধ করা হয় না।

আঁখ চাষিরা সঠিক সময়ে আঁখ মিলে সরবরাহ করতে পারে না। চরাঞ্চলের বালু মাটিতে আঁখ দ্রুত মরে যায়। সে সময়ে মিল কর্তৃপক্ষ অনেকটাই নীরব ভূমিকা পালন করে । এ রকম নানা ধরনের হয়রানির কারণে অনেক আঁখ চাষি আঁখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

কয়েকজন আঁখ চাষি আক্ষেপ করে বলেন মিল আমাদের সাথে সব সময় অমানবিক আচরণ করে। আমাদের বিভিন্নভাবে ঠকায়। মিলে আঁখ দেওয়ার ৬ মাস পরেও টাকা পাওয়া যায় না। আঁখের টাকার জন্য মাসের পর মাস মিলে ঘুরতে হয়।

আঁখ চাষ করে বিক্রি করার উপযোগী হতে বছর পাড় হয়ে যায়। আর এ সময়ে ওই জমিতে অন্য ফসল আসে ৩টি। অপরদিকে মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম দুর্নীতি আর চাষিদের প্রতি অবহেলার কারণে আঁখ চাষের পরিবর্তে অন্য ফসলে মনযোগী হচ্ছে। মিলের নানা রকম সমস্যার কারণে অনেক আঁখ চাষি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আঁখের পরিবর্তে অন্য ফসল চাষ করছে । এর ফলে প্রতি বছরই মিলের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয় না। আঁখের অভাবে অনেক আগেই মিল বন্ধ হয়ে যায়।

বাহাদুরাবাদ চাষি আবুল কালাম আজাদ জানান, মিল কর্তৃপক্ষ চাষিদের ব্যাপারে উদাসীন, চাষিদের ভালো-মন্দ মিল কর্তৃপক্ষ তা দেখে না। খুব আশা করে মিল থেকে বীজ নিয়ে আঁখ চাষ করেছিলাম। নিম্নমানের বীজ আর সঠিক সময়ে সার না পাওয়ায় ভাল ফলন হয়নি। সেই বীজ আর সারের দাম চড়া মূল্যে পরিশোধ করতে হয়েছে।

শ্রমিক কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রায়হানুল হক রায়হান জানান, মিল নিয়ে আমরা খুব চিন্তিত। নানা রকম সমস্যার কারণে মিল লোকসানের মধ্যে রয়েছে। মিলের লোকসানের কারণে শ্রমিকদের বেতন বকেয়া রয়েছে কয়েক মাসে। বেতন বকেয়া থাকায় মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। মিলের আভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান না হলে মিলটি কোন দিনই লাভের মুখ দেখবে না।

জিল বাংলা সিগার মিলের ব্যবস্থাপক (কৃষি) মো. মজিবুর রহমান সংবাদিকাদের জানান, জিল বাংলা সুগার মিলটি যমুনা পূর্বপাড়ের একমাত্র ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে পরিশোধনের মাধ্যমে বিক্রি করা গেলে এবং চিনি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে লোকসান কমানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

জিল বাংলা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফ আলী সাংবাদিকদের জানান, এ মিলের অবস্থা অন্য মিলের চেয়ে অনেক ভালো। কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যা আছে, এসব কারণে চাষিরা হতাশ। এসব সমস্যা মোকাবিলা করতে পারলে মিলের উন্নতি হবে ।

জিএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মাদারীপুরে একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগ ও তার পরিবারের নারী সদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।  বৃহস্পতিবার কালকিনি উপজেলার ডাসার থানাধীন দর্শনা বাজারে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে প্রধান শিক্ষক ও তার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদ জানানো হয়।  এ সময় বক্তারা দ্রুত এই ঘটনার সাথে জড়িত ও অভিযুক্ত ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজের বিচার দাবী করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের কমিটি করাকে কেন্দ্র করে কালকিনি উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের নারী সদস্যসহ প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরই প্রতিবাদ ও দোষীর বিচারের দাবীতে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন। উল্লেখ, ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর ইয়াবাসহ ডাসার থানা পুলিশের হাতে আটক হয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ। পরে পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। এর আগে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেফতার করে জেলার  গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রিসহ নানা অভিযোগে এনে পদত্যাগ দাবী করে একাধিকবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। তবুও টনক নড়েনি প্রশাসনের। জিএ
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়েছ। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে উপকূলীয় জেলা বরগুনায় নির্মাণ করা হয়েছে এ জাদুঘরের। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নকশার একশ’টি নৌকার অনুকরণে শুরু হল এই জাদুঘরের। বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন ৭৮ শতাংশ জমির ওপর স্থাপন করা হয়েছে জাদুঘরটি। বিশাল নৌকার আদলে তৈরি এ জাদুঘরটির দৈর্ঘ্য ১৬৫ ফিট এবং প্রস্থ ৩০ ফিট। এখানে থাকবে নৌকা গবেষণা কেন্দ্র, আধুনিক পাঠাগার, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশু বিনোদন কেন্দ্র এবং ফুড কর্নারসহ নানা আয়োজন। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টায় মহামারি করোনা প্রতিকূলতার মাঝেও মাত্র ৮১ দিনে সম্পন্ন হয় দেশের প্রথম নৌকা জাদুঘর নির্মাণের কাজ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীমাতৃক দেশের প্রধান বাহক হিসেবে হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে এই নৌকা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক বিভিন্ন অভিযানে নৌকা ব্যবহার করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে এই নৌকা। বঙ্গবন্ধু জাদুঘরটির মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন অনুকরণের নৌকার দেখা পাবে দেশের নতুন প্রজন্মরা- এমনটাই ভাবছেন স্থানীয় সচেতন মহল। জিএ 
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক হত্যকান্ডে জড়িত এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শহরের চন্ডিবের খাঁ বাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৮ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনার মুলহোতা এবং শহরের চিহ্নিত ছিনতাইকারী ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ইমন পৌর শহরের ভৈরবপুর মধ্যপাড়ার আড়াই বেপারীর বাড়ির মৃত মাসুদ মিয়ার ছেলে।  আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন।  জানা গেছে, শহরের দুর্জয় মোড়ের পূর্ব পাশে গত সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহত শ্রমিক সুনামগঞ্জের বিশম্ভপুর উপজেলার বাঘগাঁও গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে। বিয়ের মাত্র দুই মাস পর নিহত এহসানুল তার এক চাচাসহ তারা দু’জন গত দু’সপ্তাহ আগে ভৈরবে কাজের সন্ধানে এসে ছিলেন। পরে কয়েক দিন শ্রমিকের কাজ করে কিছু টাকা জমান। পরে জমানো টাকা নিয়ে গত সোমবার রাতে তারা দুর্জয় মোড় থেকে বাড়ী যাবার সময় বাসে উঠার আগে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। একই সাথে ছিনতাইকারীদের ধারালো ছুরির আঘাতে এহসানুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।  এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজিত শত শত কয়লা শ্রমিকরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ফেরিঘাট থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় প্রদক্ষিণ করে ভৈরব থানায় প্রবেশ করে। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যায় এবং কাজে যোগ দেয়।  এছাড়াও এদিন (মঙ্গলবার) রাতেই নিহতের চাচা আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দু’জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুঠোফোনে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নামে এবং প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জিএ
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুর ১১ সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঝিল এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ছুরি, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গত শনিবার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১৭ মামলার আসামি নুরুকে খুঁজতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় তার সহযোগীরা। এ সময় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় আটক করা হয় নুরুর সেকেন্ড ইন আজমকে।  আটককৃতদের মধ্যে হামলার ঘটনায় কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন আকবরশাহ থানার ওসি জহির হোসেন।   পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার রাতে আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঝিল এলাকায় সরকারী পাহাড়া কেটে আলিশান বাড়ী, সেমিপাকা ঘর, মসজিদ, এতিমখানা ও গরু-ছাগলের খামার তৈরি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে নুরুর বিরুদ্ধে। জিএ
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় চার মাস তদন্ত শেষে পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশ। তবে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তিতাস গ্যাসের অভিযুক্ত ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির নারায়ণগঞ্জ শাখার তদন্ত দল। চার্জশিটে প্রধান আসামি করা হয়েছে ওই মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর মিয়াকে (৬০)।  মামলায় প্রধান আসামি আবদুল গফুর মিয়া ছাড়াও অন্যান্য আসামিরা হলেন- সামসুদ্দিন সরদার (৬০), শামসু সরদার (৫৭), শওকত আলী (৫০), অসিম উদ্দিন (৫০), জাহাঙ্গীর আলম (৪০), শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল (৪৫), নাঈম সরদার (২৭), কাইয়ুম (৩৮), মামুন মিয়া (৩৮), আলমগীর সিকদার (৩৫), মাওলানা আল আমিন (৪৫), সিরাজ হাওলাদার (৫৫), নেওয়াজ মিয়া (৫৫), নাজির হোসেন (৫৬), আবুল কাশেম (৪৫), দেলোয়ার হোসেন, বশির আহমেদ (হৃদয়) (২৮), তানভীর আহমেদ (৪৫), আল আমিন (৩৫), আবদুল মালেক (৫৫), মনিরুল (৫৫), স্বপন মিয়া (৩৮), আসলাম আলী (৪২), আলী তাজম (মিল্কী) (৫৫), রিমেল (৩২), আরিফুর রহমান (৩০), মোবারক হোসেন (৪০) ও রায়হানুল ইসলাম (৩৬)।  তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। সিআইডি পুলিশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় তিতাসের অভিযুক্ত আট কর্মকর্তা-কর্মচারিকে আপাতত চার্জশীটে লিপিবদ্ধ করা না হলেও তাদেরকে মামলায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে  অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন পেলেই তাদেরকে আসামি হিসেবে চার্জশীটে সম্পৃক্ত করা হবে। তবে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, সিআইডি আদালত পুলিশের কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চার্জশিট জমা দিয়েছে। রোববার তা আদালতে পেশ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজ চলাকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মসজিদের অভ্যন্তরে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ থেকে স্পার্ক ও অবৈধ গ্যাস পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসের মিশ্রনে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি পুলিশ। এই বিস্ফোরণে ৩৭ জন গুরুতর দ্বগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের মধ্যে ৩৪ জন মারা যান। জিএ
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
আরও পড়ুন
পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রেপ্তার
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ ফওজিয়াকে প্রত্যাহার
দুর্যোগ মোকাবিলা প্রকল্পে ২শ কোটি টাকার দুর্নীতি, টিআইবি’র ১২ সুপারিশ
‘অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে ইসির বিরুদ্ধে অভিযোগ’