
ভৈরবে গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন অর্ধশত বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ দন্ত্য চিকিৎসালয়। যেখানে নেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ, ল্যাব-প্যাথলজি কিংবা দক্ষ জনবল। আবার কোনটিতে নেই সার্বক্ষণিক চিকিৎসকও। সেবাধর্মী এসব প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ টাকার টেস্টের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন রোগীরা। তবে সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান ও জরিমানা অব্যাহত রেখেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সড়ক, রেল ও নৌপথের যোগাযোগ সমৃদ্ধ শহর বন্দরনগরী ভৈরব। ফলে শহরের কমলপুর নিউ টাউন ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুইপাশে এবং ভৈরব বাজারসহ অলিগলিতে গড়ে উঠেছে অর্ধশত অনুমোদনহীন বেসরকারি চিকিৎসালয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান নানা টেস্টের ফাঁদে ফেলে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। দক্ষ জনবল না থাকায় হাতুড়ে লোকজন দিয়ে চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এসব অনিয়ম আর রোগীদের প্রতারিত হওয়ার কথা স্বীকার করলেন হাসপাতাল মালিকপক্ষও।
স্থানীয়রা বলেন, এক হাসপাতালের পরীক্ষার রেজাল্ট আরেকটি হাসপাতালে নিয়ে করালে রেজাল্ট মিলে না। অন্য আরেকজন বলেন, নেই ভালো ডাক্তার। নেই ভালো কোনো যন্ত্রপাতি। এরা জনগণের পকেট কাটার চিন্তা করে আর নিজের পকেট ভরা যায় কিভাবে এসব নিয়ে থাকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে অনুমোদনবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান ও জরিমানা অব্যাহত রয়েছে। পরিবর্তন না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ভৈরব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা বলেন, অনুমতিক্রমে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি যদি তারা পালন না করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. খুরশীদ আলম বলেন, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক স্টোরগুলোতে কোন ধরনের প্যাথলজিস্ট ও মাইক্রোবাইলোজি রেজিস্ট্রার নেই। এসব জায়গাতে রিপোর্ট করা হচ্ছে শুধু টেকনোলজিস্টের সাইনে। এ ধরনের রিপোর্টে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি রোগীদের সাথে এক ধরনের প্রতারণা।
জিএম/পি




