
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ভূমি জটিলতায় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন নির্মাণের কাজ আটকে আছে তিন বছর ধরে। উপজেলাজুড়ে প্রায় প্রতি দিনই ঘটছে আগুনের ঘটনা। অন্য উপজেলা কিংবা জেলা শহর থেকে ফায়ার সার্ভিস যাওয়ার আগেই সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ লোকজনের সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
গেল দুই মাসে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পাহারপুর, বদলপুর, লাল মিয়া বাজার, আজমিরীগঞ্জ শহরসহ অন্তত ১৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে জেলা সদর কিংবা অন্য উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছার পূর্বেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় কোটি কোটি টাকার মালামাল ও ঘর-বাড়ি। উপজেলায় কোনও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় ইতোমধ্যে অনেক বিত্তশালী ব্যবসায়ীরাও পথে বসে গেছেন। ভূমি জটিলতার কারণে তিন বছর ধরে ঝুলছে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের কাজ। এতে করে চরম দুর্ভোগে রয়েছে দুই লাখ মানুষ। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় অনেক বড় বড় ব্যবসায়ীরা নতুন করে ব্যবসার প্রসার ঘটাচ্ছেন না ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রহমান মিয়া জানান, আগুনে আমাদের সবকিছু ছাই হয়ে গেছে। আমরা বার বার জেলা সদরে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দিয়েছি কিন্তু তারা হবিগঞ্জ থেকে আসার আগেই সব কিছু শেষ হয়েছে। আমাদের আজমিরীগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস থাকলেও হয়তো কিছুটা রক্ষা করা যেত।
আজমিরীগঞ্জ লাল মিয়া বাজারের বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম জানান, বাজারে আগুন লাগলে অন্যান্য উপজেলা কিংবা জেলা সদর থেকে ফায়ার সার্ভিস এসে দেখে সবকিছু পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় কাজেই জরুরি ভিত্তিতে আজমিরীগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস প্রয়োজন।
আজমিরীগঞ্জ বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া জানান, আজমিরীগঞ্জে ভূমি জটিলতার কারণে তিন বছর ধরে জায়গা নির্ধারণ নিয়ে ঝুলে রয়েছে। যে কারণে স্টেশন নির্মাণ করতে দেরি হচ্ছে।
আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক গোলাম ফারুক আরটিভি নিউজকে জানান, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি আজমিরীগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করা। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ হওয়ার পর জটিলতার কারণে তা হচ্ছে না। আশা করি শিগগিরই তা বাস্তবায়ন করা হবে।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মতিউর রহমান খান আরটিভি নিউজকে জানান, ভূমি অধিগ্রহণের নতুন জায়গা প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন আসলে কার্যক্রম শুরু করা হবে। আশাকরি দ্রুত সময়ের মধ্যেই অনুমোদন আসবে।
জেবি




