
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করে। নিম্ন আয়ের মানুষেরা তাই টিসিবির পণ্য কিনতে ভিড় জমান। কিন্তু সিলেটে টিসিবির কর্মকাণ্ডে হতাশ সাধারণ মানুষ। এখানে পাইকারি বাজার মূল্য থেকে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছে টিসিবি।
জানা গেছে, সিলেটের পাইকারি বাজারে তুরস্ক থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। চীন থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকায়। আর দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
সিলেটের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কালীঘাটের ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। গেল সপ্তাহে তুরস্কের পেঁয়াজ ২০ টাকা, চীনের পেঁয়াজ ১৮-২০ টাকা এবং দেশীয় পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
এছাড়া টিসিবি প্রতি কেজি মসুরডাল ৫০ টাকা ও প্রতি লিটার তেল ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছে।
কিন্তু টিসিবির ডিলাররা তুরস্ক থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন। নগরীর কীন ব্রিজ মোড়, রিকাবীবাজার ও বন্দরবাজার এলাকায় টিসিবির ডিলারদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
টিসিবি’র ডিলাররা একদিকে বাজার দরের চেয়ে ৫ টাকা বেশি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন, অন্যদিকে পেঁয়াজ না কিনলে গ্রাহকদের কাছে ডাল ও তেল বিক্রি করছেন না তারা!
টিসিবির সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ইসমাইল মজুমদার বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বাধ্য হয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন টিসিবির ডিলাররা। কারণ এখন পেঁয়াজের চাহিদা কমে গেছে। আমরা ডিলারদের ১৯ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ দেই। এখন তারা তো ২০ টাকা বা এর কমে বিক্রি করতে পারবে না।’
ইসমাইল মজুমদার বলেন, পেঁয়াজের চাহিদা নেই কিন্তু ডিলারদেরকে প্রতিদিন পেঁয়াজ নিতে হচ্ছে। একদিকে তারা পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারছে না, অন্যদিকে প্রতিদিন পেঁয়াজ নিতে হয়। এখন ডিলাররা ২৫ টাকার নিচে পেঁয়াজ বিক্রি করলে তারা টিকবে না। এমনিতেই লস দিয়ে যাচ্ছে তারা। ভবিষ্যতে লাভ করতে পারবে, এ আশায় এখন লস দিচ্ছে তারা।
টিসিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, সিলেটে ৮০ জন ডিলারের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। ডিলাররা যদি পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পারে, তাহলে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হবে। এজন্য তারা গ্রাহকদের কাছে পেঁয়াজের সাথে ডাল বা তেল বিক্রি করছে।
এদিকে, টিসিবির এমন কাণ্ডে ভোক্তাদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা প্রশ্ন রাখছেন, ডাল, তেল বা পেঁয়াজ, যার যে চাহিদা, সে সেই পণ্য নেবে। এখানে ভোক্তাকে ডাল বা তেলের সাথে পেঁয়াজ নিতে বাধ্য করা হবে কেন?
নগরীর রিকাবীবাজারে নিলুফার ইয়াসমিন নামের এক গৃহবধূ টিসিবির ট্রাক থেকে ডাল কিনতে এসেছিলেন। কিন্তু তার কাছে শুধু ডাল বিক্রি করা হয়নি। নিলুফার বলেন, এ কেমন কাণ্ড বলুন! আমি তেল নেব না, ডাল নেব। অথচ তারা তেল না নিলে ডাল দেবে না! এটা তো উচিত নয়।
পি




